বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটা গল্প :-
_______________
নওশাদ ইসলাম (শূন্যের প্রতিবিম্ব)
:
-----------
আরমান হুসেইন আসিফ।
ভার্সিটির ..চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
....আফিফা ইসলাম রুপকথা ..ভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের।
:
আসিফ. রুপকথা কে অনেক দিন থেকে পছন্দ করে। কিন্তুু কথা বলার সুযোগ পায় না। ভার্সিটিতে গেলে..প্রায় রুপকথার দিকে তাকিয়ে থাকে।
আসিফ অর বন্ধু কে খোঁজ নিতে বলে। বন্ধু অর নাম্বার, ঠিকানা সব জোগাড় করে দেয়।
:
রাতে ১১ টা বেজে ৪৫ মিনিট। আসিফ ভয়ে ভয়ে ফোন দেয়।
এদিকে রুপকথা আননোন. নাম্বার দেখে রিসিভ করে না।
আসিফ আর ভয়ে ফোন দেয় না।
:
পরের দিন আবার রাতে ..ফোন। এবার দুই বার ফোন দিয়েছে। আগের দিনের সাহস আর আজকের সাহস মিলে তাই দুইবার দিয়েছে।
আজকে ফোন ..রিসিভ করেছে।
-হ্যালো (রুপকথা)
-চুপ
-কে বলছেন??
-চুপ
-আরে আশ্চর্য কথা বলুন না কেন?
-জ্বি.
-কি? জ্বি ফোন করেছেন কেন?
- কেমন আছেন?
-এই কথা জিজ্ঞেস করার জন্য ফোন করেছেন রাখেন!
:
আসিফ ভয়ে কেটে দিল। বাবা কি মেয়ে। এতো রাগি কেন? দেখলে ত মনে হয় না। কি সুন্দর করে হাসে,
কিন্তুু কথায় ত ঝালের অভাব নেই।
:
:
এসব চিন্তা করতে করতে আসিফ ঘুমিয়ে পড়ে।
সকালে উঠে ভার্সিটিতে যায়। সবাই মিলে গল্প করছে।
হঠাৎ রুপকথা কে এদিকে আসতে দেখে. আসিফের মনে কিছুটা ভয় কাজ করতে থাকলো! তাহলে কি ও বুঝে ফেলেছে?
:
কিন্তুু না রুপকথা ইরার কাছে আসছে। ইরা হলো আমাদের ডিসিপ্লিন এর ছাত্রী। :
:
ইরা রুপকথা কিসব বললো। যাওয়ার সময় আসিফের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে যায়। আসিফ কিছুটা অবাক হলো। হঠাৎ আমায় দেখে হাসলো কেন??
:
রাতে আবার ফোন দিলো। কয়েক বার দেওয়ার পর রিসিভ করলো।
-হ্যালো কে বলছেন? (রুপকথা)
-জ্বি, আসলে
-মানুষের নাম জ্বি আসলে হয় এই প্রথম শুনলাম।
-না আসলে আমার নাম।
-কি হ্যাঁ না আসলে এসব বলা হচ্ছে। কি চাই? ফোন দিয়েছেন কেন?
-না এমনি, ভালো আছেন?
-হ্যাঁ আছি। রাখি বাই
:
:
কেটে দিল রুপকথা। আর ভাবছে কি ভিতু মানুষ। ভেবে হেসে দেয়।
এদিকে আসিফ কিছুটা আহত হয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমায় পরে।
:
:
:
-এই উঠো বাবু
-হ্যাঁ উঠছি সোনা।
-উঠো বলছি।
-আহ কি হয়েছে আস ঘুমাও।
:
হঠাৎ খাট থেকে পরে ব্যাথায় চিতকার দিলো।
চোখ খুলে দেখে রাকিব দাড়িয়ে আছে।
:
-দোস্ত তুই? (আসিফ)
-হারামজাদা ঘুমায় ঘুমায় কি এতো স্বপ্ন দেখিস। সোনামনা বলে ঠাইসা ধরছিস.।
-দোস্ত তুই? আমি ভাবছিলাম.
-কি তোমার রুপকথা? তোর না আজকে আমার সাথে রিয়ার জন্য গিফট কিনতে যাওয়ার কথা ছিলো।
-ওহ এরকম কোনো কথা ছিলো? আমার মনে নেই।
-আরেকটা লাথি দেবো? একলাথি তে নিচে পড়েছিস।
-তুই আমাকে লাথি মাইরে আমার সুন্দর বিবাহিত জীবনে স্বপ্ন টা ভেঙে দিলি?
-তুই যাবি না কি আরেক টা দেবো?
-আচ্ছা চল যাচ্ছি। পরে দেখতাছি তোরে আগে ভাবি।
:
:
:
মার্কেটে গিয়ে আসিফ ও রুপকথার জন্য একটা নুপুর কেনে। তারপর বাসায় চলে আসে।
:
:
রাতে আবার ফোন। কিন্তুু আশ্চর্য ব্যাপার রুপকথা নাম্বার টা ব্লক করে নাই।
:
:
রাতে ফোনে কথা হয়। আজকে আসিফ কিছুটা সাহস নিয়ে কথা বলে।
এভাবে দুজন ফ্রী হয়ে যায় দুজনে ভালো বন্ধু হয়ে যায়। কিন্তুু আসিফ অর পরিচয় টা গোপণ রাখে। অন্য নামে পরিচয় দেয়।
:
:
এভাবে বন্ধু ..আপনি থেকে তুমি, তারপর কেয়ারিং, শেয়ারিং তারপর রিলেশন। ঝগড়া, অভিমান, হাসি সব কিছু হতো। কিন্তুু আসিফ কিসের ভয়ে যেন দেখা করতে চাইতো না।
মানে দেখা করার কথা বলে না।
একদিন কথা বলার সময় রুপকথা জিজ্ঞেস করে।
-আচ্ছা তোমার আমার সাথে দেখা করতে ইচ্ছা করে না?
-হঠাৎ এই প্রশ্ন?
-না, অন্য ছেলে রা ত আগেই দেখা করার কথা বলে। অন্য রিলেশনের ভেতর আমি দেখেছি গল্পেও পড়েছি। কিন্তুু তুমি কখনো ..বল না। কেন?
-আসলে এমনি।
-কি এমনি?? আমি দেখা করতে চাই। কবে করবে বল।
-আরে দেখা করে কি হবে? সবাই ত দেখা করে। আমরা না হয়ে করলাম না। অন্য রকম প্রেম হবে।
-না আমি করবো করবো করবো। অন্য প্রেম হওয়া লাগবে না।
-আচ্ছা দেখি।
-দেখি না। ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবস। অইদিন আমরা দেখা করছি। ফাইনাল।
-কিন্তুু রুপকথা. .
-আমি কিছু শুনতে চাই না।
-আচ্ছা, দেখা করবো। খুশি?
-হ্যাঁ অনেক, ভালবাসি ..
-হুম পাগলী ..
-হ্যাঁ তোমার
:
:
এদিকে আসিফ চিন্তায় পরেছে । কিভাবে দেখা করবে? রুপকথা ত ওর আসল পরিচয় জানে না।
কিন্তুু .আসিফের ধারণা টা ছিলো ভুল। আসিফ যখন রাকিব কে রুপকথার বিষয়ে জানতে বলে। আর রাকিব যখন. .
সেটা করতে যায় তখন ভুল ক্রমে রাকিব রুপকথার বাড়ির সামনে যায়। তখন একটা ছেলেকে ধরে এবং নাম্বার চায়। আর অই ছেলেটা ছিলো রুপকথার ভাই।ছেলে টা রুপকথা কে বলে এবং রাকিব কে ধরে। এবং রাকিব সব বলে। আর রুপকথা জেনে নাম্বার দেয় আর রাকিব কে এই ব্যাপারটা আসিফ কে জানাতে বারন করে।। অর্থাৎ রুপকথা জানে যে এটা আসিফ।
আসিফ যখন বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলে তখন রুপকথা মিটি মিটি হাসে।
:
:
এদিকে আসিফ চিন্তা করতে থাকে কি করবে রুপকথা ত জানে না, জানলে কি করবে।
এমন সময় শিহাব আসে। শিহাব আর রাকিব এরা আসিফের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। শিহাব এর মনে ছিলো না যে আসিফ কে সিক্রেট টা বলা নিষেধ কিন্তুু আসিফ কে এরকম চিন্তিত দেখে মুখ ফসকে বলে দেয়। :
আর আসিফ সব শুনে খুব কষ্ট পায় যে এভাবে সবাই সব জেনেও এরকম করলো। নিজের বন্ধু রাও ..।
তাই আসিফ সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ফোন বন্ধ, বাইরে বের হয় না।
এদিকে রাতে ফোন না আসায় রুপকথা একটু চিন্তা হয়ে তাই ফোন দেয়। সারারাত ফোন দিতে দিতে সকাল হয়ে যায়। আবার ফোন দেয়।
সেই একই কথা বন্ধ।
তাই ভয়ে কান্না শুরু করে দেয় কারণ রুপকথা আসিফ কে অনেক ভালবাসে। :
শেষে রাকিব কে ফোন দেয়।
:
রাকিব সব শুনে খোজ নেয়। যখন শিহাবের কাছ থেকে সব জানতে পারে। শিহাব রাকিব আসিফের সাথে দেখা করতে গেলে আসিফ দেখা করে না। তাই অরা ভাবে রুপকথা কে নিয়ে আসবে এবার।
:
রুপকথা কেঁদেই যাচ্ছে।
আর নিজেকে দোষ দিচ্ছে। অর জন্যই আজ এসব।
:
:
তারপর ১৪ ই ফেব্রুয়ারি রাকিব, শিহাব আর রুপকথা আসিফের বাড়ি যায়।
আসিফের মা বলে ও আসিফ নাকি অনেক ভোরে বের হয়ে গেছে। কিছু বলেনি কোথায় গেছে।
:
:
:
এদিকে এই কথা শুনে রুপকথা কান্না করতে করতে বের হয়ে যায়। রাস্তায় আসার পরে রুপকথার মনে পরে যে আসিফ ওকে বলেছিল যে অর মন খারাপ কিংবা কষ্ট পেলে ভোরে একটা জায়গায় গিয়ে বসে থাকে।
রুপকথা সেখানে যায়। অবশেষে তার পাগল টাকে পাওয়া গেলো। আসিফ কে দেখে চুপচাপ গাছের নিচে বসে আছে।
:
পেছন থেকে কাঁদতে কাঁদতে ডাক দেয়।
:
:
-আসিফ ..
-আরে তুমি এখানে এলে কিভাবে? (মুখ ঘুরে দেখতে পেয়ে উঠে জিজ্ঞেস করে)
:
দৌড়ে গিয়ে রুপকথা আসিফ কে জরিয়ে ধরে। আর কান্না করছে।
আসিফ কিছু বলার আগেই. ঠাস ....!!!
আসিফের গালে হাত।
আসিফ আবার কিছু বলতে যাবে।
এর মধ্যে রুপকথা বলা শুরু করে।
-কোথায়? ছিলে? ফোন দেওনি কেন? আমরা না হয় লুকিয়েছি সব কিছু কিন্তুু তুমি নিজে যে মিথ্যা পরিচয় দিলে??
কেন মিথ্যা বলেছিলে? বল
-আমি ভয়ে ভেবেছিলাম আমার নাম শুনলে কি না কি ভাববে। তাই
-যখন সত্যি টা জানলে তখন ও ত বলতে পারতা,
-খারাপ লেগেছিল।
-লাগুক আরো লাগা উচিত। এই কয়দিন আমার কিভাবে কেটেছে জানো তুমি?
(কান্নার রোল এখনো চলছে)
-পেয়েছিত কষ্ট এইযে মারলে (অভিমান করর আসিফ)
-লাগুক আরো লাগা উচিত। বলেই জরিয়ে ধরে। আমিই মানা করেছিলাম বলতে। আমি চেয়েছিলাম তুমি নিজে থেকে আমাকে সব বল। গাধা রা কিভাবে বলবে
বুকে মুখ লুকিয়ে।
-আচ্ছা sry এখন বলছি ভালবাসি।
-আমি বাসি না। (রাগ অভিমান এর ঝুড়ি খুলেছে)
-রুপকথা তাকাও এদিকে
-পারবো না।
:
:
তারপর কাছে গিয়ে নুপুর টা সামনে ধরে।
কার জন্য? জিজ্ঞেস করে রুপকথা।
-তোমার জন্য
-সত্যিই??!
-হ্যাঁ
-পড়িয়ে দেও।
:
:
:
তারপর হাটু ভেঙে বসে নুপুর পড়িয়ে দেয়
তারপর ....
তুমি আমার কোলবালিশ হবে? ..আমার ঘুমভাঙানোর. এলার্ম হবে?
আমার. ভালবাসার উৎস বিন্দু হবে?? হবে আমার. .মন ভালো করার মেডিসিন, ..
হবার আমার হাত দুটি মায়ার বাধনে ধরে রাখার. প্রান প্রিয় লক্ষি বউ?
-সব হবো লক্ষি বউ হতে পারবো না।
-তাহলে?
-দুষ্ট বউ হবো আর জেদী বউ, রাগী বউ . আর ..
-আরও??
-হ্যাঁ ..
-হাহা হা আচ্ছা তারপর বল ..
::
:
:
:
অসমাপ্ত একটা গল্পের সমাপ্ত টানা হলো
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now