বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখাঃ AhNaaF Hayder Ishaan
-স্নিগ্ধা! রেগে আছো?
-আমি রাগলে আপনার কি?
-ইশ তুমি দেখছি সত্যিই রেগে আছো।
-না আমি তো রাগতে পারি না। আমি তো মানুষ না, একটা আত্মা। আমি কিভাবে রাগ করবো? নাকি আপনার উপর রাগ দেখানোর অধিকার নেই আমার?
-অবশ্যই অধিকার আছে আমার উপর রাগ দেখানোর। কিন্তু কেন রাগ করেছো না বললে রাগ ভাঙ্গাবো কিভাবে?
-আপনি কালকে আসেননি কেন? আপনার তো আহামরি কোনো কাজ নেই যে আসতে পারবেন না। আমি জানি আমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আসেননি।
-আমারো তো সারাক্ষণ তোমার আশেপাশে থাকতে ইচ্ছে করে। কালকে সারাদিন তুমি ঘুমিয়ে ছিলে তাইতো আমায় দেখতে পাওনি। আমি প্রতিক্ষণ তোমার পাশে বসে ছিলাম।
-আপনি এমন কেন? যা কিছুই হউক দোষটা আমারই দিবেন। আপনি আমায় জাগাননি কেন?
-হাহাহা.... হয়েছে আর রাগ করতে হবে না। আমি ভুল করেছি। ক্ষমা করতে পারবে না?
স্নিগ্ধা মৃদু হেসে বলে,
-আপনার সাথে কি রাগ করে থাকা যায় নাকি। এত চালাক রে বাবা! কি করে রাগ ভাঙ্গাতে হয় ভালো করেই জানে।
-স্নিগ্ধা.....
স্নিগ্ধা ভয় জড়িত কণ্ঠে বলে,
-মায়ের গলা না...?
-হাঁ,উনি তোমার রুমে আসছেন।
-তো আপনি বোকার মত এইভাবে বসে আছেন কেন? কোথাও লুকিয়ে পড়েন। না হলে মা আপনাকে রুম থেকে বের করে দিবে।
-উঁহু। তোমাকে এত ভয় পেতে হবে না। তুমি ছাড়া আমাকে কেউ দেখতে পারবে না।
-কেন? পারবে না কেন?
-কারণ অবাস্তব কাউকে সাধারণ দৃষ্টিতে দেখা যায় না। তাকে দেখার তীব্র আকর্ষণ থাকতে হবে মনের মধ্যে। তবেই দেখতে পাবে শুধু।
-তারমানে আপনার জন্য আমার মনে তীব্র আকর্ষণ কাজ করে? কিন্তু কেন?
স্নিগ্ধার রুমে এসেই বলেন,
-স্নিগ্ধা! কার সাথে কথা বলছিস?
-কই.... কেউ না মা।
-আচ্ছা বাদ দে। ঔষধ খেয়েছিস?
-ইয়ে... মানে... মা...
-বুঝতে পারছি খাওয়া হয়নি। আয় আমি খাইয়ে দেই।
-আচ্ছা মা একটা প্রশ্ন করি?
-হাঁ কর।
-আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?
-আরে না রে বোকা মেয়ে। তুই পাগল হতে যাবি কেন? তুই আমার লক্ষ্মী মেয়ে।
-তাহলে আমাকে ঔষধ খাওয়াও কেন?
-হিহিহি.... ঔষধ কি পাগলদের খাওয়ায় নাকি? তুই এখন অসুস্থ তাই ঔষধ খেতে বলেছে ডাক্তার।
-আচ্ছা মা আরেকটা প্রশ্ন করি?
-কর রে পাগলি মেয়ে কর।
-বাবা মারা গেছেন অনেকদিন হল। তুমি কি মাঝেমাঝে বাবাকে দেখতে পাও? বাবা কি তোমাকে দেখা দেয়?
স্নিগ্ধার মা কপাল কুঁচকে গভীর ভাবে তাকান তার দিকে। আবার নিজেকে দ্রুত স্বাভাবিক করে বলেন,
-দেখ মা, মরা মানুষ কখনো কাউকে দেখা দিতে পারে না।
-কে বলেছে তোমাকে? মরা মানুষের দেখা দেয়া খুব সহজ। ওরা যখন ইচ্ছে যেখানে ইচ্ছে দেখা দিতে পারে।
-স্নিগ্ধা অনেক রাত হয়েছে। ঔষধটা খেয়ে লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়।
স্নিগ্ধা এইবার কলেজে পড়ছে। ছোট বেলা থেকেই সে অস্বাভাবিক। কারো সাথে তেমন মিলামেশা করা হয়ে উঠেনি। সারাদিন বই নিয়েই পড়ে থাকে। গার্লস স্কুল & কলেজেই তার পড়ালেখা। এমন কি তার কোনো ছেলে কাজিন নেই। তাই ছেলে সঙ্গ কখনো পায়নি। একটা ছেলে বন্ধু কিরকম হতে পারে সেটা ওর জানা ছিল না। এমন কি নয় কোনো স্বপ্নের পুরুষ।
হাতে গুনা কয়েকজন মেয়েদের সাথে ভাব হয়েছে। সে পড়ালেখায় ভালো তাই ঐ মেয়েগুলা নিজে থেকেই তার সাথে কথা বলতো,মিশার চেষ্টা করতো। স্নিগ্ধা ছোটবেলা থেকেই একা একা থেকেই অভ্যস্ত। কলেজে উঠার পর একদিন স্নিগ্ধা বুঝতে পারলো একটা ছেলে প্রতিদিন তাকে দেখার জন্য ছুটির সময় ওদের কলেজের পাশের রাস্তায় বাইক নিয়ে বসে থাকতো। ব্যস্ত রাস্তায় যখন ছেলেটা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতো তখন স্নিগ্ধার মনে হত ছেলেটার বুঝি লজ্জা বলতে কিছু নেই। এইভাবে সরাসরি তার দিকে তাকায় কিভাবে?
স্নিগ্ধা প্রতিদিন ছেলেটার পাশ দিয়ে চলে যেতো তবু ছেলেটা কখনো ডেকে কথা বলার চেষ্টা করতো না। এইভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর স্নিগ্ধার মনে হল, হয়ত ছেলেটার লজ্জা আছে। তাই কিছু বলতে পারে না। যদিও ওর চোখের দিকে তাকালে বুঝা যায় সে কিছু বলতে চাচ্ছে। গাধা লোকটা বলে না কেন কিছু?
স্নিগ্ধার মা তাকে ঔষধ খাইয়ে রুম থেকে চলে যাওয়ার পর ওর কল্পনার লোকটি বলে,
-আমি বরং এখন যাই....।
-যাই মানে? আমি আজ সারারাত আপনার সাথে গল্প করবো বলে ঠিক করেছি আর আপনি যাই বলছেন?
-স্নিগ্ধা, তোমাকে ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে। তুমি কালকের মতো আবার ঘুমিয়ে পড়বে। ঔষধের প্রভাব যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ আমি তোমার কাছে আসতে পারবো না।
-সেটা আমি সন্দেহ করেছি। তাইতো আজকে ঔষধ খাইনি। মুখের এক পাশে রেখে দিয়েছিলাম। হিহিহি.......
-ঔষধ খাওনি?
-না...আমি ঠিক করেছি আর ঔষধ খাবোই না। তাহলে তো আপনি সবসময় আমার কাছে থাকতে পারবেন।
-তা ঠিক, তাহলে এখন সারারাত কি করবে?
-আপনার সাথে গল্প করবো।
-কি গল্প?
-আচ্ছা আমার বাবা মারা যাওয়ার পর মাকে দেখা দেয়নি তবে আপনি আমাকে দেখা দিচ্ছেন কেন?
-তোমার বাবা কোনো অতৃপ্তি নিয়ে মারা যাননি। যেসব আত্মা অতৃপ্তি নিয়ে মারা যায় শুধু মাত্র তারাই ফিরে আসে।
-আপনার অতৃপ্তি কি ছিল?
-এখনো বুঝতে পারছো না তুমি?
স্নিগ্ধা একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে লোকটির নিরীহ চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ।
তারপর আবার বলে,
-আচ্ছা বলেন তো সেদিন কি আপনি আমাকে প্রপোজ করতে এসেছিলেন?
-হাঁ, অনেকদিন ধরেই তোমাকে শুধু দেখেই যাচ্ছিলাম। গভীর ভাবে তোমার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম আমি। সেদিন ঠিক করেই এসেছিলাম। হয় তোমাকে পাবো না হয় হারাবো। তবু আমার মনের কথাটি বলে দিবো।
-আমারো তাই মনে হচ্ছিল। যখন আপনার সামনে দিয়ে যাবো আমার পা কাঁপছিল। কেমন যেন অন্যরকম এক অজানা অনুভূতি কাজ করছিল। আপনার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল আপনি আজকে আমায় থামিয়ে দিয়ে কিছু বলবেন।
-হাঁ,আমি অপেক্ষায় ছিলাম। তুমি আমার পাশ দিয়ে যখন যাবে তখন তোমায় আটকিয়ে মনের কথাটি বলে দিবো।
-আপনার মুখটি হাসি হাসি ছিল। দেখে আমারো খুব ভালো লাগছিল। হঠাৎ মুখটায় মেঘের ছায়া পড়লো। আপনার মুখে কেমন একটা আতঙ্ক দেখতে পেলাম। বাইক থেকে নেমে আমার দিকে ছুটে এসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দিলেন... ছাড়িদিক সেই কি হৈচৈ শুরু হল। আশেপাশের লোকজন সবাই ছুটে এসে জড়ো হতে লাগলো। আমি.... আমি কিছুই পরিষ্কার ভাবে ভাবতে পারছিলাম না। ঠিক কি হয়েছে বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
-তুমি আমার দিকে তাকিয়ে রাস্তায় হেঁটে আসছিলে। বুঝতে পারোনি আনমনে মাঝ রাস্তার দিকে চলে যাচ্ছিলে। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম তোমার পিছনে একটা গাড়ি দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে। দৌড়ে গিয়ে তোমাকে সরিয়ে দিলাম। কিন্তু নিজেকে পারিনি, গাড়িটি ধাক্কা মেরে চলে গেলো। নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল। ভালবাসার মানুষকে বাঁচানোর জন্য নিজেকে বলিদান। মরার আগে তোমার এই মায়াবী মুখ দেখেই মৃত্যু হল।
স্নিগ্ধার চোখে অশ্রু দ্বারা শুরু হয়ে যায়। ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকে।
-আপনি আমাকে একটিবার জড়িয়ে ধরবেন? আপনাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে খুব ইচ্ছে করছে।
-এটা যে সম্ভব নয় স্নিগ্ধা! আমার কোনো শরীর নেই। আত্মাকে ছুঁয়া যায় না, উপলব্ধি করতে হয়।
-তাহলে কি আমাদের প্রেম সম্ভব নয়?
-সম্ভব। আমাদের প্রেমটা হবে অশরীরী প্রেম। যে প্রেমে শারীরিক মিলন সম্ভব নয়।
-আর আমি যদি তোমার কাছে চলে আসি? নিবে না আমাকে....?
সকালবেলা স্নিগ্ধার মা তার রুমে গিয়ে স্নিগ্ধার লাশ আবিষ্কার করেন। তার জন্য একটা ছেলে মারা গেছে এই ধাক্কাটা স্নিগ্ধা সামলে নিতে পারেনি। মানুষিক ভাবে ব্যাপক প্রভাব পড়ে তার উপর। সেই ছেলেটিকে সে তার কল্পনায় নিয়ে আসে। একা একা কথা বলতো অদৃশ্য কারো সাথে। তার মা তাকে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার মেডিসিন দিলেও স্নিগ্ধা ঔষধ খেত না ঠিকমতো। সেটা ওর মা খেয়াল করেননি। যার জন্য অল্প বয়সে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সে চলে গেল তার কল্পনার লোকটির কাছে।
এক অশরীরী প্রেমের সৃষ্টি করতে........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now