বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তার সাথে আবার আমার দেখা হয় যেদিন বেয়াইন তার বোনকে নিতে এসেছিল অর্থাৎ বউ ভাতের দিন। নারী সাধারণত লজ্জাশীল হয় কিন্তু বেয়াইনকে দেখে আমার সে ধারণাটা পাল্টে যায়। সে আমাকে দেখে অনেকটা উচ্চস্বরে বলে উঠল ''ঐ হাতুরীওয়ালা এদিকে আসুন"। আমি বিস্মিত হয়ে পড়ি। না শুনার ভান করে চলে যায়। কিছুটা সামনে যেতেই আরেকটু জোড়ে আবার বলে উঠল
- ঐ বয়ড়া হাতুরীওয়ালা এদিকে আসুন।
আমার বিস্ময়ের পরিমাণ তখন হিমালয়ের চূড়াই পৌছে। অবস্থার দুরবস্থা দেখে তার ডাকে সাড়া দেই। দুই ডাকেই বাড়ির মেহমানরা আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। অপরিচিত লোকগুলো হয়ত ভাববে আমি কোন কাঠমিস্ত্রি। এখনও যদি সাড়া না দেই তখন দেখা যাবে যে আরো অপমানকর কিছু বলে ফেলেছে। আমি কাছে যেতেই গোখরো সাপের মত ফোস করে উঠল,
- কানে কি কম শুনেন?
- কম শুনলে কি আপনার ডাকে সাড়া দিতাম?
- তাহলে প্রথম ডাকে আসেননি কেন?
- আমি বুঝতে পারেনি যে আপনার মাথার তার ছিড়া।
- কি! এত্ত বড় কথা। মেহমানদের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে?
- আপনি তো বেয়াইন। একটু রসিকতা করাই যেতে পারে।
- হয়েছে হয়েছে আর রসিকতা করতে হবেনা। যান গিয়ে একটা পাখার ব্যাবস্থা করুন।
- পাখা কেন?
- দেখছেন না বিদ্যুৎ চলে গেছে। ঘেমে ঘেমে আমার কি অবস্থা হয়েছে আপনার চোখে পড়েনা?
- পড়ে তো, খুব পড়ে। মুখের আটা ময়দা সব ধুয়ে মূছে যাচ্ছে। তাছাড়া যে হাতির শরীর! একটু চর্বি গলে গেলে তেমন কিছু হবেনা।
- অভদ্র একটা! বেশি কথা বলে!! যান সামনে থেকে।
আমি হাসতে হাসতে চলে এলাম। তার রাগান্বিত মুখটা দেখে খুবই পৈশাচিক আনন্দ পেয়েছিলাম।
সন্ধ্যার দিকে বেয়াইন তার বোনের সাথে চলে গেল, সাথে আমিও গেলাম। নতুন জামায়ের নাকি বউয়ের বাড়িতে গিয়ে আড়াই দিন বেড়াতে হয়। একেতো নতুন জামাই, দ্বিতীয়ত অপরিচিত জায়গা আর অপরিচিত মানুষ তাই ভাই আমার একলা না গিয়ে ছোট একটা দল গঠন করে নিয়ে গেল। আর সেই দলে আমাকেও ঢুকিয়ে দিল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now