বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাল ২০১৭ ২রা ফেব্রুয়ারি.....
এস এস সি পরীক্ষা দিতে এসেছি । প্রিপারেশন মোটামোটি..
এখন আমি দোতলার বারান্দা থেকে নিচের দিকে হা করে তাকিয়ে আছি । ভাবতেছেন কেন হা করে তাকিয়ে আছি । আরে মানুষ হয়ে পরি দেখা ভাগ্যের ব্যাপার না ? আমি তো এখন পরি দেখতেছি । হলুদ পরি । বুঝতেই পারতেছিনা এটা মানুষ নাকি পরি । আমার চোখের পলক পড়ছেনা । আমি শুধু তাকেই দেখতেছি । হলুদ ড্রেসে মেয়েটাকে একদম হলুদ পরির মতো লাগতেছে । হঠাৎ মেয়েটার সাথে আমার চোখাচোখি হল । আমিতো হা করে তাকিয়েই আছি । মেয়েটা অবাক হয়ে গেল আমার এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে । মেয়েটা হাত দিয়ে ইশারা করতেছে । মনে হয় এটাই বলতেছে যে
-এই যে মিস্টার..কি দেখেন ? হুমম
-পরি দেখি পরি (মনে মনে)
-দাড়ান আসতেছি ..আপনার মজা দেখাবো...(মনে মনে)
*
তারপর মেয়েটা সেখান থেকে চলে গেলো । একি মেয়েটা দেখতেছি সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতেছে । খাইছে আমারে । মনে হয় মজা দেখাতে আসতেছে । এই সুযোগ বাবা সাগর পালা এখান থেকে । দৌড়ে গিয়ে নিজের সিটে চুপ করে বসে থাকলাম । আহহ কি ভদ্র আমি । কোনো মেয়ের দিকে তাকাচ্ছি না । এমন ভাব করে বসে আছি যেন আমার থেকে ভদ্র আর কেউ নেই । হঠাৎ মনে হলো আমার পাশে কোনো এক মেয়ে বসলো । আমিতো দেখছিনা । আমার মাথা নিচ দিকে । একটু আড় চোখে তাকিয়ে দেখলাম মেয়েটার গায়ে হলুদ ড্রেস । আল্লাহ বাচাও আমারে এটা দেখি ওই মেয়েটা । কি করি এখন । চুপচাপ নিচ দিকে মাথা করে বসে আছি । মনে হয় আজকে মেয়েটা আমার বারোটা বাজাবে ।
-বাহহ এখন তো দেখতেছি খুব ভদ্র হয়ে বসে আসেন ।
-জ্বি আমাকে বলতেছেন
-নাহহ একটা অভদ্র ছেলে কে বলতেছি ।
-ওওও আচ্ছা
-নাম কি
.....
-কি হলো
-আমাকে বলছেন
-জ্বি আপনাকেই বলতেছি
-কিন্তু আমি তো অভদ্র না ।
-সেটা আমার বুঝা হয়ে গেছে ।
-নিশ্চুপ..
-আমার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিলেন কেন
এই সেরেছে রে..এখন কি বলব । ধরা পড়ে গেছি
-কি হলো বলুন
-আপনার দিকে তাকাইনি তো..আপনার পাশে একটা ছেলেকে দেখছিলাম ।
-ছেলেকে দেখার কি আছে
-একটা কারণ আছে বললে বিশ্বাস করবেননা ।
-কি কারণ
-আরে ছেলেটা দেখতে হুবহু আমার মতো । তাই হা করে ভাবতেছিলাম । আমার কি জমজ ভাই ছিল নাকি । মনে হয় মেলায় গিয়ে হারিয়ে গেছিলো
-আপনি তো মহা ফাজিল
-এখানে ফাজিলের কি দেখলেন । কোথায় আমার হারিয়ে যাওয়া ভাইকে খুজে দিবেন । তা না করে উলটো আমার উপর চোটপাট করছেন ।
-আচ্ছা হ্রামি তো আপনি
-ভালো হচ্ছে না কিন্তু
-কি ভালো হবে হুমম..মিথ্যা সিনেমার কাহিনী শুনাচ্ছেন আমাকে ।
-শুনিয়েছি বেশ করেছি
-আপনি আর আমার সাথে কথা বলবেন না ।
-আমার বয়েই গেছে আপনার সাথে কথা বলতে ।
-চুপ
-চুপ টু
*
পরিক্ষা শুরু হয়ে । আল্লাহর রহমতে সবই কমন পড়ছে । কিন্তু একি কিছুই তো মনে করতে পারছি না । সব দোষ এই মেয়েটার । ওর জন্যই সব ভুলে গেছি । কিন্তু এখন কি করবো । এদিকে ওই মেয়ে দেখছি ঠিকমতো সব লিখে যাচ্ছে ।
-হ্যালো আমরা কি বন্ধু হতে পারি
-না পারিনা
-প্লিজ এরকম করবেন না । পরিক্ষার তো হলে স্টুডেন্টই স্টুডেন্টকে দেখবে তাইনা ।
-কথা না বলে বলে যা লিখতেছি তাই লিখেন
-থ্যাংক ইউ....
*
পরিক্ষা শেষে হল থেকে বের হয়ে আসলাম ।
-দোস্ত এক্সাম কেমন দিলি
-আর কইস না দোস্ত..২ বছর লেখাপড়া করে পরিক্ষা দিতে এসেছি । কমন পড়ছে বাট সাইড কমন দিয়ে লিখতে হলো ।
-মেয়ে নাকি ছেলে
-ওই যে ওই মেয়ে
-ওরে আল্লারে এতো সুন্দর মেয়ে । আমিতো এখুনি ওই মেয়ের উপর ক্রাস খামু...
-হ্রামি আমি তিন ঘন্টা আগে খাইছি...
-কিছু বলতে পারছস
-হুহু..খালি ঝগড়া করেছি ।
-আচ্ছা মেয়েটা রে পটাইয়া ফেল
-পটবে তো
-চেষ্টা কর
-আচ্ছা
*
-এই যে আপনার নাম কি..
-পরি..আপনার
-জ্বীন..হিহিহিহিহিহি
-আস্তে হাসেন মুখে মাছি ঢুকে যাবে ।
-আচ্ছা আমরা একই ক্লাসে তো পড়ি । তাহলে আমার তুমি করে বলতে পারিনা ।
-হ্যা পারি
-আচ্ছা বাই পরের এক্সামে আবার দেখা হবে ।
-নামটা বলে যাও
-সাগর ।
*
বাসায় চলে আসলাম । সবসময় শুধু পরির কথা ভাবতেছি । এতো সুন্দর কেন । ওর কথা ভাবতে ভাবতে দিন কাটে রাত কাটে । লেখাপড়া লাঠে উঠেছে । পড়া শুনা তো কিছুই হলোনা ।পরের পরিক্ষা দিতে আমার চলে গেলাম । আবার ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছি । একটু পর দেখি কে যেন পেছন থেকে কলার ধরে টানতেছে ।
-এই ছাড় তো
-কি করো
-দেখতেছিস না । পরিকে দেখতেছি
-কিন্তূ পরি তো এখানে
-এখানে মানে কোথায়...একি পরি তুমি এখানে ।
-হুমম এখানে
-আচ্ছা ভিতরে চলো
-চলো
আজকেও পরির দেখে দেখে সব লিখেছি । এভাবেই ওর সাথে দেখা হতো কথা হতো । এভাবেই দিন যেতে লাগলো । আমিও আস্তে আস্তে পরির প্রতি দুর্বল হয়ে পরলাম । মনে মনে ভাবলাম ১৪ই ফেব্রুয়ারি পরিকে প্রোপজ করবো । কিন্তু হলনা । সাহস পেলাম না । ওর কথা চিন্তা করতে করতে লেখাপড়া তো কিছুই হয়না । ভাবলাম শেষ পরিক্ষার দিনে যেভাবেই হোক পরিকে মনের কথা টা বলব । এভাবেই চলতে চলতে একদিন সেই অন্তিম মূহূর্ত চলে আসলো । আজকে পুরো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি । কিন্তূ ভাগ্য আমার সহায় না । আমার এক্সাম শেষ করার আগেই ও এক্সাম শেষ করে বাসায় চলে গেলো । আমার আর বলা হলো না ।
পরিক্ষা শেষ করে রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করছি ।
রেজাল্ট পেলাম । খুব ভালো না ।কলেজে ভর্তি হলাম ।
আজকে প্রথম ক্লাস । ক্লাস করলাম । ভালোই লাগলো । হঠাৎ হলদে পরিকে দেখতে পেলাম । তার মানে পরিও এখানে ভর্তি হয়েছে । ইয়াহহহ মামা জিইত্তা খেলা । চান্স পাইছি আর হাতছারা করমুনা । ডাক দিলাম....
-হলুদ পরি আমাকে চিনতে পেরেছো
-না তো কে আপনি
হায় আল্লাহ মাইয়ডা কয় কি
-আরে আমি সাগর । ওই যে পরিক্ষার হলে তুমি আমার সব দেইখা লিখেছিলা
-ওওও..এইবার চিনতে পারছি..আর কি বললা তুমি..আমি তোমার দেখে লেখেছি নাকি তুমি আমার দেখে লেখেছো ।
-ওই একই কথা ।
-পরি একটা কথা বলি ।
-হুমম বলো
-আমাকে তোমার জ্বিন বানাইবা
-মানে
-আই লাভ ইউ..হি হি হি হি হা হা হা হা
-ঠাসসসস
-এটা কি হলো
-কিছুই হয় নাই এখন হবে
-কি হবে
-দাড়া আমার জ্বিন কে ফোন দিতাছি..ও কে জানিস
-কে
-পুলিশ
-ওরে বাবারেএএএএএএএএএ
-হ্যালো জ্বিন...ধেত্তেরি..রাজু তুমি কোথায়
সাগর তুই পালা বেচে থাকলে অনেক মেয়ে পাবি । চাচা আপন প্রান বাচা । দে দৌড়.......এই লজ্জা কোথায় রাখবো বলেন । কলেজের প্রথম দিনেই জ্বিনের থুক্কু পুলিশের দৌড়ানি ...কেমনডি লাগে .....
কয়দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে .....ভাবতেছি খালার বাসার চলে যাবো........
এই যা আপনাদের তো বলে দিলাম..আপনারা আবার জ্বিন কে বইলেন না যে আমি খালার বাসার যামু.....
আর আমার জন্য দোয়া করেন আমি যেন ওই জ্বিনের হাতে ধরা না পড়ি....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now