বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সন্তানের প্রতি ভালবাসা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান muntasir al mehedi (০ পয়েন্ট)

X সকালে রোগীর ফাইল নিয়ে দৌড়াদৌঁড়ির এক ফাঁকে এক বৃদ্ধ আমার হাত জড়িয়ে ধরল। -আপনি আমার মেয়েকে এত ভাল করে দেখসেন,পায়ের ব্যথা কমাইসেন আমি আপনার জন্য অনেক দোয়া করসি মা। আমি একটা হাসি দিয়ে আবার ছুটলাম। হঠাৎ মনে পড়ল সপ্তাহ দুই কী তিন আগে এক রিকশাওয়ালাও আমার জন্য হাত তুলে দোয়া করেছিল। একই রকম কন্ঠ!! সন্ধ্যা সাতটার কাছাকাছি ছিল সময়টা। আমি রিকশায় উঠার পর থেকেই কিছুক্ষন পর পর শুনি রিকশাওয়ালা আহাজারি করছে,ও আল্লাহ তুমি দয়া করো। ও আল্লাহ একটু রহম করো!! একটা ফেরেশতা পাঠাও! ও আল্লাহ! গন্তব্য বলেছিলাম সদর হাসপাতাল। হঠাৎ পিছন ফিরে লোকটা বলে উঠল,আপা আপনি কি ডাক্তার? -হ্যা। -আপা, ওও আপা আমার বউয়ের সিজার হইসে। আপনাদের হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ দিসে। রামুত আছে। মায়ের ইনফেকশন। বাচ্চাকে দুধ দিতে নিষেধ আছে। মায়ের এন্টিপায়োটিক শেষ হবে দুইদিন পর। তারপর দুধ খাওয়াতে পারবে। বাচ্চার জন্য একটা টিনের দুধ কিনতে দিসে। আমি রিকশা চালাইতে আসছি এখানে। পাঁচশ নব্বই টাকা একটার দাম। আমার একশ টাকাও জমেনাই। আপা, আমার হাত দেখেন। আবছা অন্ধকার ছিল। একটু আলো আসতেই লোকটা রিকশা থামিয়ে আমাকে হাত দেখাল। আমি দেখলাম। দুইহাতে কালো দাগ পড়ে গেছে। হাত দেখানর পর লোকটা ফের রিকশা চালাতে চালাতে বলে চলল -আপা,আমার দুধের বাচ্চাটা না খেয়ে আছে। রামু যাইতেই পঞ্চাশ, রিকশা জমা দিতে একশ। আমি সারাদিন নাখেয়ে আছি। বউয়ের ওষুধ কিনে একটা টাকাও নাই। ও আপা। আমি রিকশায় বসে একজন সদ্যজাত পিতার কন্ঠ শুনছিলাম,তার আকুতি, অকৃত্রিম চোখের পানি। সন্তানের জন্য হাহাকার! চারপাশে এত বস্তাপঁচা অভিনয় আর মিথ্যার ছড়াছড়ি দেখতে দেখতে আজকাল কাউকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়! তারপরেও আমার শুধু মনে হলো এই কন্ঠ,চোখের পানি মিথ্যা না। এটা যদি অভিনয় হয় তাহলে এই ছেঁড়া শার্ট,হাতে কড়া পড়ে যাওয়া দরিদ্র রিকশাওয়ালাকে অস্কারের উপর কিছু থাকলে সেটা দিতে হতো! -আপা,আমার বাচ্চা নাখেয়েই মারা যাবে! এমনিতে শ্বাস কষ্টও আছে। নীল হয়ে গেসিল একবার। রিকশা চালাতে চালাতেই লোকটা হাউমাউ করে কাঁদছে! আমি এবার নরম সুরে বললাম,আপনি কাঁদবেন নাতো ভাই। রিকশা চালান সাবধানে। আমি আপনাকে ওই টিনটা কিনে দিচ্ছি। এমনে রিকশা চালালে একসিডেন্ট করবেন! চোখ মুছেন! আমার লিখতে না চাওয়া এই বাস্তব গল্পের পরের অংশটুকু ছিল অদ্ভুতরকম ভাল লাগার। আমি আমার ছোট্ট জীবনে এতটা খুশি হতে আর কাউকে দেখিনি। . -আল্লাহ তোমার শুকরিয়া। আপা আমি আপনার জন্য আমার শরীরের সব রক্ত দিয়া দেব। আপনার পা টা দেন। একটু ছুঁইতে দেন। -আরে পা ছুঁতে হবেনা। রিকশা চালান। আপনার মেয়ের নাম ঠিক করসেন? -না আপা। -মেয়ে দেখতে কার মত হইসে? -মার মত একদম! -আমি একটা নাম দিয়ে দিই? -আপনি দিবেন? দেন আপা!!! -মেয়ের নাম রাখবেন জাহান। ঠিকাসে? -আমি এই নাম মুখস্ত করতে করতে যাব। আল্লাহর কসম আপা। -আর একটা কথা দিতে হবে! -আপা কী কথা? জান দিয়ে দিব আপনার জন্য! -মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে পারবেন না। পড়াশোনা করাবেন। অনেক পড়াশোনা করাবেন। যে রক্ত আমার জন্য বেঁচতে চাইসেন সেই রক্ত বেঁচে পড়াশোনা করাবেন! - ও আল্লাহ তুমি আসলেই রহমানুর রাহিম! আল্লাহর কসম! জাহান রাখলাম। আমার মেয়ের নাম জাহান। আল্লাহর কসম আমি আপনাকে কথা দিলাম! আমার মেয়েকে রক্ত বেঁচে পড়াশোনা করাব। সদর হাসপাতালের সামনের একটা দোকান থেকে জাহান এর জন্য দুধের টিন কেনা হলো। বরাবর পাঁচশ নব্বইটাকা। লোকটা গায়ের ময়লা গামছা দিয়ে টিনটা মুছল। যত্ন করে এমনভাবে বুকে আঁকড়ে ধরল যেন সেটায় সাত রাজার সম্পদ আছে। একজন বাবার ছলছল চোখের কৃতজ্ঞ দৃষ্টি,ঠোঁটে কান্নামাখা হাসি দৃশ্যটা এত সুন্দর করে মনে দাগ কেটে গেল আমার! বাবা কখনো গরীব হয়না,ধনী হয়না,অপরাধী হয়না, রিকশাওয়ালা হয়না,ডাক্তার হয়না,শিক্ষিত হয়না,অশিক্ষিত হয়না। বাবা মানে শুধুই বাবা। তারপর থেকে আমার খুব মন খারাপ হলে আমি একজন বাবাকে দেখি। দশ বছরের এক আদরের রাজকন্যাকে রিকশায় করে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আমার খুব মন খারাপ হলে ভাবি, হঠাৎ একদিন বাসে আমার পাশের সিটে ভার্সিটি পড়ুয়া এক মেয়ে। -নাম কী তোমার? -জাহান। -বাড়ি কই? -কক্সবাজার। -বাবা কী করেন? -আগে রিকশা চালাত। আমি এখন আর চালাতে দিই না। -তোমার মা ভাল আছে? -আছে। -একটু কাছে সরে আসোতো মেয়ে তোমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেই। -আপনি কে? -আমি কেউনা। তোমার বাবাকে আমার হয়ে একটা থ্যাংকিউ বলবে। ঠিক আছে? মেয়েটা কী বুঝল কে জানে! মিষ্টি করে একটা হাসি দিল। হাসিটা নিশ্চয়ই ওর মায়ের মত! তাইইতো হওয়ার কথা!! . - বিকেল চড়ুই


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now