বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
crazy lover **
একটু ভালবাসা দিবেন?
-না,পারবো না,
-কেন ?
-একটু দিতে পারবো না,
-তাহলে?
-অনেক বেশি দিতে পারবো,
-তবে সবচেয়ে বেশি দিতে হবে,
-সেটা পারবো না,
-এবার কিন্তু কাদবো?
-আরে পাগলী তুমি যতটা
ভালোবাসো আমায় তার
চেয়ে বেশি ভালোবাসা কারো
পক্ষে সম্ভব না,
-আমি জানি না,আমার অনেক
ভালোবাসা চাই,,,তা না
হলে
কিন্তু--------- --------
হইছে হইছে আর কাদতে হবে না
আপনার,কথায়
কথায় শুধু কান্নাকাটি করা আপনার।
এই বলে দিয়া
কে
বুকে জড়িয়ে নিল রিশান।মেয়েটা
যে কি,শুধু শুধুই
কান্নাকাটি করে সব সময়।এই সব
সামান্য ফান
গুলাকে ও
সিরিয়াসলি নিয়ে নেয়।।।।।।।
,
,
রিশান ভাবতেছে দিয়ার মত একজন
যে তার
জীবনে আসবে সেটা ভাবাই যায়
না।সব জেনে
শুনে কয় জন আর বিষ পান করে?অবশ্য
যারা সুইসাইড
করতে যায় তারা জেনে শুনেই বিষ
পান করে।
অনেকে হয়ত ভাবতেছেন এখানে
বিষ পান করার
মত কি আছে?হ্যা এটা অনেক টাই
বিষ পান করার
মতই,দিয়া যখন রিশান এর সাথে
পরিচিত হয় তখন
থেকেই জানে রিশান অনেক
খারাপ ছেলে।কিন্তু
তাও রিশান কেই ভালোবাসে
সে।।।।।
,
প্রথম যেদিন প্রপোজ করে দিয়া
রিশান কে-
,
-আমি তোমার যোগ্য না দিয়া,তুমি
ভুল করতেছ,
-আপনার জন্য আমি হাজার ভুল করতে
পারি,
-আমি অনেক খারাপ ছেলে তো
-খারাপ হলেও আপনি আমার,ভালো
হলেও আপনি
আমার,।
-আমার জীবনের কোন নিশ্চয়তা
নেই,কবে
যেন কে মেরে ফেলে,এই জীবনে
এসো
না,পরে একা কাদতে হবে,
-যতদিন বেচে আছেন ততদিন আমার
থাকতে
পারবেন না?,
,
,
এই কথাটা শুনার পর রিশান আর কিছু
বলে নি,সে
জানে
এর পর মেয়েটাকে আর কিছু বললেও
লাভ নেই।
যে মেয়ে সব জেনে এভাবে ভালো
বাসতে
পারে তাকে অন্য কিছু বলে বুঝানো
যাবে না।আর
এমন একটা মেয়েকে পাশে পেলে
হয়ত
জীবনটা আবারো সুন্দর হয়ে যেতে
পারে।এই
ভেবে দিয়ার হাতে হাত
রেখেছিল রিশান।
,
,
এতটা সময় চলে গেছে তবু দিয়ার
ভালোবাসা কমে
নি,সবাই বলতো সময় বেড়ে যাওয়ার
সাথে সাথে
ভালোবাসা কমে যায়।কিন্তু
দিয়ার বেপারে
উল্টাটা
হয়েছে,তার ভালোবাসা কমে নি
বরং আগের
চেয়ে অনেক গুন বেড়ে গেছে।
,
,
কালকে রিশান এর জন্মদিন,দিয়া
জানে যে জন্মদিন
কিন্তু এমন ভাব করে আছে যেন ও
কিচ্ছু জানে
না,এজন্য অবশ্য রিশানের মন খারাপ
একটু,তার
জন্মদিন
অথচ দিয়া বেপার টা জানেই না।
,
,,
রাত বারোটা,
দিয়া অনবরত রিশানের মোবাইল এ
কল দিয়ে
যাচ্ছে,কিন্তু রিশান ফোন টা
রিসিভ করতেছে না।
রিশান অন্যকারো সাথে কথা
বলতেছে।প্রতিবার
ফোন বাজার পর না ধরাতে দিয়ার
রাগ প্রচন্ড
আকারে বেড়ে যাচ্ছে।দিয়ার সব
গুলা দিক ভালো
থাকলেও একটা বেপার এ সে
অতিরিক্ত করে
বলে রিশান মনে করে।দিয়া তার
কোন প্রিয়
জিনিসের ভাগ কাউকে দিতে
পারবে না।সেটা শুধু
তার
ই থাকবে,।যেমন রিশান,রিশানের
ভাগ সে কাউকে
দিতে পারবে না,দিয়ার ভাষায়
রিশানের সব কিছু
দিয়াকে
ঘিরে থাকতে হবে।
,
,
রিশান মোবাইল এ তার আব্বু আম্মু আর
ভাইয়ার সাথে
কথা বলতেছিল,প্রতিবছ র প্রথম উইস
গুলো সে
তার পরিবারের লোকদের থেকেই
পেয়ে
থাকে।অনেক গুলো মিস কল দেখে
দিয়াকে
ফোন দিল রিশানঃ-
,
-সরি দিয়া
-শুভ জন্মদিন,কাল বিকালে দেখা
করো
এই বলে দিয়া ফোন রেখে
দিল।,তারপর আর দিয়ার
ফোন অন করা হয় নি সারা দিন।
রিশান বুঝতে
পারছিল
যে দিয়া খুব রাগ করছে,কিন্তু বুঝেও
কোন লাভ
নেই।
,,
বিকালে দিয়ার সাথে দেখা
করতে গেল রিশান,যে
মেয়েটা সব সময় হাসিখুশি থাকে
সে আজ গম্ভীর
হয়ে আছে।দিয়ার হাতেj একটা গিফট
এর প্যাকেট,,
সেটা দিয়া রিশান কে দিল।তারপর
রেস্টুডেণ্ট এ
খাবারের অর্ডার দিল।হঠাৎ কোথায়
থেকে যেন
রিশানের সব ফ্রেন্ড রা এসে
হাজির হলো।
রিশানকে এখন তাদের সাথে
যেতে হবে।দিয়া
কে বলে ওরা জোর করেই রিশান কে
নিয়ে
গেল।রিশান যাওয়ার সময় দিয়ার
দেয়া গিফট টা
ভুলে
রেখেই চলে গেল।।
,
,
রিশান নিজেও যেতে চায় নি
কিন্তু না করার মত
উপায়
ছিল না।কারন যে বন্ধুরা সেই
ছোটবেলা থেকে
তার সাথে আছে,তার প্রতিটি
জন্মদিনে তার সাথে
বিকাল টা পার করেছে আজ যদি
জিএফ এর দোহাই
দিয়ে না যায় তবে বন্ধুদের সাথে
অন্যায় করা
হবো।এই সব ভেবে আর কিছু বলতে
পারে নি।
,
দিয়া একা বসে আছে তার
তাকিয়ে তাকিয়ে
দেখতেছে রিশান এর রেখে যাওয়া
গিফট টা,,,,,,,
সত্যই তো রিশানের কাছে দিয়ার
কোন মুল্য ই
নেই।যদি সামান্য মুল্য থাকতো তবে
এভাবে আর
কস্ট দিয়ে ফেলে যেতে পারতো
না।অনেক
প্ল্যান ছিল আজ দিয়ার,কিন্তু কিচ্ছু
হলো না।
,
,সারা রাত রিশান ট্রাই করলো
দিয়া কে কল করার
জন্য,কিন্তু আবারো ফোনটা
অফ,,,,বেপার
না,কালকে বিকালে দিয়াদের
বাসায় গিয়ে খোজ
নিলেই হবে।পরদিন বিকালে
দিয়াদের বাসায়
গিয়ে
দেখে তালা মারা।কোথাও নেই।
পাশের বাসার
একজনকে ওদের কথা জিজ্ঞাসা
করলে বলে দিয়ারা
চলে গেছে আজ সকালেই।কথাটা
বিশ্বাস করতে
পারে না রিশান,তারপর লোকটি
রিশানকে একটা
চিঠি
দেয় রিশান কে।দিয়া নাকি এটা
দিতে বলছে
রিশান
কে।
,
চিঠিতে লেখা"আমি আমার
রিশানকে কারো সাথে
শেয়ার করতে পারবো না,কাছে
থাকলে হয়ত
দেখতে হবে অন্যদের সাথে শেয়ার
করা টা,তাই
দুরে সরে যাচ্ছি।সারা জীবন
ভেবে নিব আপনি শুধু
আমার ই"
,
,
চিঠিটা পড়ে নিজেকে ক্ষমা
করতে পারতেছে না
রিশান।রিশান সত্যই অনেক খারাপ।
সে দিয়ার যোগ্য
কোন দিন ছিল না,আর কোন দিন
হতেও পারবে না।
,
এরপর রিশান আর দিয়ার কোন দিন আর
দেখা হয় নি।
রিশান নিজেকে এখন দিয়ার মত
করে গড়ে
নিয়েছে।দিয়া থাকার সময় সে যে
সব কাজ করতে
বলতো সেসব কাজ এখন ঠিক মত করে
যাচ্ছে।
যাতে দিয়ার সাথে দেখা হবার পর
বলতে পারে
"দেখো দিয়া আমি তেমন ই হয়েছি
যেমন তুমি
চেয়েছিলা,প্লিজ ফিরে এসো
দিয়া"
,
যদি রিশান আগের থেকেই এমন হতো
তবে আজ
একা থাকতে হতো না।দিয়াকে
হারিয়ে বুঝেছে
রিশান কাকে সে হারিয়েছে !!!
,
,
দিয়া নিজেও এখন বুঝতেছে তার
এমন করা ঠিক হয়
নি।কোন মানুষ কখনো কারো একার
হতে পারে।
রিশানদের উপর তার বাবা মা,ভাই
বোন,ফ্রেন্ড
সবার ই
অধিকার আছে।সবাইকে নিয়েই
থাকতে হয়।সবার
জায়গা টা আলাদা।তার উচিত শুধু
নিজের জায়গা টুকু
কেই
নেয়া।
,
,
কয়েক বছর পর,
আজ দিয়া আর রিশান এর বিয়ে হয়ে
গেল।বাসর ঘরে
গিয়ে দেখতে পেল দিয়া রেগে
আছে,আবার কি
হলো বুঝতে পারছে না রিশান,
দিয়া চি ৎকার করে বলতেছে
-এখানে কোল বালিশ কেন?
-কেন আবার?আমি তো এটাকেই বুকে
থাকি,
-তাহলে আমি কোথায় থাকবো?
-পাশের বালিশে
দিয়া এবার পাশের বালিশ আর
কোল বালিশ টা ছুড়ে
ফেলে দিল,তারপর রিশানের বুকে
এসে মাথা
রাখলো আর বললো"এখানে মাত্র
একটা বালিশ
থাকবে,আর আমি আপনার বুকে মাথা
রেখে
থাকবো,আমার বালিশ লাগবে
না,আপনার বুকটাই
আমার
জন্য বালিশ।
,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now