বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"আমার বউ নিলিমা"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X কি হলো আর কতক্ষণ লাগবে তোমার? (আমি) . এইতো হয়ে গেছে।(নিলিমা) . আমার বউ নিলিমা ৫ মাস হয়েছে বিয়ে করেছি। এইতো হয়ে গেছে বলছে কিন্তু তার পরও দেখবেন ১ঘন্টা লাগবে। যাই হোক মেয়েদের সাজগোছ সময় লাগবেই। এখন নিলিমার বোন মানে আমার শালিকার বিয়ের দাওয়াতে আজকেই আমাদের যেতে হচ্ছে। আমি রেডি হয়ে গেছি প্রায় ১ ঘন্টা হয়ে গেছে কিন্তু উনার রেডি হওয়ার নাম নেই। এখন কিছু বলতে গেলেই ঝগড়া শুরু হবে তাই চুপচাপ বসে আছি। ঝগড়াটে বউ বুঝতেই পারছেন কেমনে সামাল দেই। একটু পরপর ঝগড়া শুরু হয় আর উনি ঝগড়া করতে ও পারে অবশ্য ঝগড়াটা আমার ভালোই লাগে দিনশেষে অনেক আদর, ভালোবাসা পাই। কথায় আছে কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। . যারা রাগী বেশি তাদের ভালোবাসা ও বেশী সেটা আমার বউকে দেখেই বুঝতে পেরেছি। কিন্তু রাগ করার সময় যা করে তখন চিন্তা করি কেন বিয়ে করছিলাম আর যখন আদর, ভালোবাসা দেয় তখন মনে হয় এমন বউ কয়জনে পায়। যাক বউয়ের সাজগোছ শেষ জোরে একটা নিশ্বাস নিলাম। . _তোমার সাজগোছ হয়েছে না আরেকটু করবা? (আমি) _ কথাটা ভেঙাইয়া বললা কেন? (নিলিমা) - ভেঙাইয়া বললাম কই? তোমার কপালে টিপ টা লাগানো হয়নি তাই বলছি। শুধু শুধু আমায় ভুল বুঝো। . - অহ্, তাহলে ঠিক জায়গায় লাগিয়ে দাও। . - হুম,, এদিকে আসো। . - দেখো তো এখন সব ঠিক আছে কি না? . - হুম,, সব ঠিক . - এক মিনিট তুমি এত সাজগোছ করছো কেন?? . - এমা শ্বশুড় বাড়িতে গেলে তো আরো সাজগোছ করা লাগে আমি তো সামান্য সাজগোছ করেছি। . - বেশী সাজগোছ করলে মেয়েরা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবে তাই তুমি এত সাজগোছ করে যেতে পারবে না। . - তুমিও তো অনেক সাজগোছ করেছো তোমার উপর ও তো ছেলেরা তাকিয়ে থাকবে। . - আমার উপর তাকিয়ে থাকলে সমস্যা নাই আমি কাউকে পাত্তা দিমু না আর তোমাকে আমার হারে হারে চেনা মেয়ে দেখলেই তাকিয়ে থাকো। তোমার উপর তাকিয়ে থাকলে তুমি ও তাকিয়ে থাকবা তখন তোমাদের মধ্যে প্রেম ভালোবাসা হয়ে যাবে তাই। . - আমার উপর তোমার একটুও বিশ্বাস নাই? . - আচ্ছা যেতে পারবা কিন্তু কোনো মেয়ের দিকে তাকাতে পারবা না। . - আচ্ছা তাকাব না। . এইরকম বউ কয়জন পায়? . বাসা থেকে বের হলাম। তারপর বাস স্টেশনে গেলাম। দুইটা টিকিট কেটে বাসে উঠলাম। জানালার পাশে উনি মানে আমার বউ আর আমি পাশে বসলাম বসে থাকতে থাকতে একটা সময় খুব বিরক্ত লাগে তাই একটু দাঁড়ালাম। গাড়ি চালানো অবস্থায় দাঁড়ালে কি হয় বুঝতেই পারছেন। পাশের সিটে বসা ছিল একটা মেয়ে তার সিটের উপর পড়ে গেলাম। যাত্রীরা সবাই হাসাহাসি করতেছে আর এই মেয়েটাও। আমি তো বোকা হয়ে গেছে তারপর নিজের জায়গায় এসে বসলাম। এই মেয়েটা একটু পরপর আমার দিকে তাকাচ্ছে এই বিষয়টা আমার বউ লক্ষ করছে এক পর্যায়ে আমার বউ মানে নিলিমা মেয়েটার তাকিয়ে থাকা দেখে বিরক্ত হয়ে আমাকে জানালার পাশে বসতে দিলো আর ও আমার জায়গায় বসলো। নিলিমার চোখ দেখে বুঝলাম খুব রেগে আছে ভাগ্যিস শশুড় বাড়ি যাচ্ছি তা নাহলে বাসায় গেলে ঝগড়া নিশ্চিত। যাই হোক আমাদের গন্তব্যে প্রায় পোঁছে গেছি। . আজ অনেকদিন পর শশুড় বাড়িতে আসলাম। সবকিছুই আগের মতই আছে। এইতো আমার সামনে শশুড়,শাশুড়ি তাদেরকে সালাম করে ঘরে ঢুকলাম। শালিকা এসে বললো। . -দুলাভাই কেমন আছেন? (শালিকা) . এতক্ষণ ভালো ছিলাম না এখন ভালো আছি।(আমি) . - দুলাভাই আপনি কিন্তু সেই আগের মতই একটু ও পাল্টেন নাই। . - এসব কি বলো শালিকা? পালটে গেলে তো তোমার বোন আমারে আস্ত রাখবে না। . -বুবু কি আপনারে মারে নাকি?? . -ধুর জামাইকে কি বউ মারে?? একটু ঝগড়া করে আরকি . -দুলাভাই বুবু কিন্তু সেই রাগী। . -আচ্ছা তুমি তো এত রাগী না তাহলে তোমার বোন এত রাগী কেন?? . -সব মানুষ তো এক না দুলাভাই। একেকজন একেকরকম। - কাল তোমার বিয়ে কেমন লাগছে তোমার কাছে? . -ভালো লাগছে আবার খারাপ ও লাগছে। . আজ নাহয় কাল মেয়েদেরকে বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়ি যেতেই হবে এটাই নিয়ম। . পাশ থেকে শুনা যাচ্ছে নিলিমার আওয়াজ। কি কথা হচ্ছে তোমাদের? আমি বললাম অনেকদিন পর আসলাম তাই শালিকা জিজ্ঞেস করতে আসছে। এত কথা কিসের? (নিলিমা) . -দেখছো তোমার বোন আমাকে সন্দেহ করে। (আমি) . -থাক দুলাভাই বাদ দেন। বুবু আপনাকে অনেক ভালোবাসে তাই সন্দেহ করে। সেই সন্দেহ করে যে আপনাকে অনেক অনেক ভালোবাসে। বুবু চায় না আপনি অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথা বলুন। (শালিকা) . সেটা আমিও জানি অনেক ভালোবাসে আমায়, আমিও অনেক ভালোবাসি। . - আমি লুকিয়ে তোমাদের সব কথা শুনেছি। (নিলিমা) . - কি শুনেছো?(আমি) . আসলে আমি তোমার উপর বেশী রাগ করি আর তুমি কিন্তু আমার উপর একদম রাগ করো না। আজ থেকে আর কোনোদিন তোমার সাথে রাগ,অভিমানও করবো না, তুমি যা বলবা তাই হবে। কথা গুলো বলতে বলতে নিলিমা ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। . ঝগড়া করলে যেমন খারাপ লাগতো তার চেয়ে বেশি খারাপ লাগছে নিলিমার মুখখানা দেখে। নিলিমার মুখ দেখে আমার খুব খারাপ লাগতেছে তাই একটা অভিনয় শুরু করলাম। একটা রিংটোন বাজিয়ে কলটা রিসিভ করে কথা বলা শুরু করলাম। . - হ্যালো রিয়া কেমন আছো?তোমাকে খুব মিস করি। কি আমাকেও তুমি মিস করো। জানো এই কথা টা শুনার পর আমার অনেক ভালো লাগছে। (আমি) . এদিকে দরজায় কান পেতে কথা শুনতেছে আমার বউ নিলিমা। তার মন ভালো করার জন্যই এই অভিনয়। . হঠাৎ দরজায় জোরে একটা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে আসলো নিলিমা। নিলিমার চোখ দেখে আমি সত্যিই খুব ভয় পেয়ে গেছি। . - অই কুত্তা রিয়া কে? নাম্বার দে রিয়ার, কত বড় সাহস আমার জামাইয়ের সাথে প্রেম করে।(নিলিমা) . - তুমি না বলছো আমার সাথে আর রাগ করবা না।(আমি) . আমি তোর সাথে রাগ করমু, গালাগাল করমু, আদর করমু, যা মন চায় তাই করমু। আগে তুই রিয়ার নাম্বার দে। . কিসের নাম্বার কিসের রিয়া? . একটু আগে কার সাথে কথা বললি?? . আরে আমি তোমার মন ভালো করার জন্য একটা ফাইজলামি করছি। . কিইইইই। . ফাজিল……..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now