বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তবুও ভালোবাসি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X তিনঘন্টা থেকে ল্যাপটপের সামনে বসে আছি। আমার নীল সাদা দুনিয়াটায় খুঁজে পাওয়া সাদাকালো নামটার পাশে একটা সবুজ দাগের আশায়। যে নামটার পাশে মোটামুটি ২৪ ঘন্টা সবুজ কালিটা লেগেই থাকে হঠাত্‍ দুই দিন থেকে নামটা আবার উধাও। আর এই নামের দেখা না মিলা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে!! হঠাত্‍ আম্মুর ডাকে হুঁশ ফিরলো। "কিরে আজ কি খাওয়া দাওয়া কিছু লাগবে নাকি ওই যন্ত্রটাই পেট ভরাবে?" "আম্মু আসছি"! "কি যে পাইছিস ওই যন্ত্রটায়, ২৪টা ঘন্টা হা করে তাকিয়ে থাকিস, ওইটার ও তো একটু রেস্ট দরকার"। "কই আর সারাক্ষণ? মাত্রই না বসলাম ক্লাস থেকে এলাম"। "থাক আর তর্ক করতে হবেনা, তাড়াতাড়ি খেয়ে আমাকে উদ্ধার কর"। আসলে আম্মুর কোন কথাই আমি শুনছিলাম না। মাথায় একটা জিনিসই কাজ করছিল, কি হল ছেলেটার? পুরো তিন তিনটা দিন থেকে কোন খোঁজ নেই। কোন বিপদ আপদ হল না তো?? ধূর কেন যে সেদিন রাগ করে ফোন নাম্বারটা ডিলিট করলাম। মাথাটায় একটা চিনচিনে ব্যাথা। খাবারগুলো গলায় গিয়ে আটকে যাচ্ছে। হঠাত্‍ মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। আরে আমি কি গাধা!! চ্যাট হিস্ট্রি ঘাটলেই তো নাম্বার পাবো। খাওয়া শেষ না করেই উঠে গেলাম। ওদিকে আম্মু চিল্লাচ্ছে কেন খাওয়াটা শেষ করলাম না। "নাহ, এই মেয়েকে নিয়ে আমি আর পারিনা। সারাটা ক্ষণ যে কোন দুনিয়ায় থাকে বুঝিনা"। আমি রুম থেকে উত্তর দিলাম, "আমার খাওয়া শেষ, মাথাটা ধরে আছে"। প্রায় ঘন্টাখানিক ঘাঁটাঘাটি করে নাম্বারটা উদ্ধার করলাম। কাঁপাকাঁপা হাতে নাম্বারটা ফোনে তুলেই একটা ভয় নিয়ে ডায়াল করলাম। যা ঘটলো তারজন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। নাম্বারটা আনরিচেবল!! আবারও অজানা ভয়ে বুকটা কেঁপে উঠলো। আমি জানি আমার অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নাই। হুট করে উধাও হয়ে যাওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা চুপচাপ বসে থেকে কথা না বলে আমাকে জ্বালানো, ব্যাপারগুলোতে আমার ১ বছরে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কই প্রতিবারই তো আমি একই কাজ করি, বসে বসে টেনশন করি, আর কেঁদে কেঁদে বালিশ ভিজাই। ছেলেটা এমন জানিই, তারপরও কেন এমন পাগলামি করি বুঝিনা।ভালবাসার আরেক নামই বুঝি পাগলামি!!! না না এবারের সময়টা একটু বেশিই.... তনয়!!! ওর সাথে আমার প্রথম কথা এই ফেসবুকেই। সচরাচর অপরিচিত কাউকে এড দেইনা। কেন তনয়কে এড করেছিলাম আজও জানিনা। তারপর ভালই কথা হত ফেসবুকের মাধ্যমে। কথার ফাঁকে কখনযে ওকে ভালবাসে ফেলেছি বুঝিনি। কেন ভালবাসি জানিনা। ভালবাসতে কোন কারন লাগে না!!!! যদিও জানিনা তনয় আমাকে আদৌও ভালবাসে কিনা। তবুও ভালবাসি.... এসব আবোল তাবোল ভাবতেই বহুকাঙ্খিত নামটি ভেসে উঠলো। কি করব কি করবনা ভাবতে ভাবতেই "জয়ীইইইইই" আমি খুবই স্বাভাবিকভাবে, "হুম বল" "কেমন আছিস?" "ভাল, তুই?" "অনেক ভাল" "ও আচ্ছা" "জানিস লাস্ট তিন দিন আমার লাইফের বেস্ট দিন ছিল। আমার একটা ফ্রেন্ড আছে না রাজীব, ওদের একটা বাংলো আছে সাভারে, ওই বাড়িতে আমি এই তিন দিন একা ছিলাম, কারো সাথে কোন যোগাযোগ ছিল না। অন্যরকম অনুভূতি, নিজের মাঝে হারিয়ে যাওয়া। মা তো এদিকে টেনশন করে অস্থির।" "ও তাই" "হ্যাঁ রে, মাকে নিয়ে আর পারিনা। তুই ই বল আমি হারিয়ে যাব নাকি?" "না না তা হারাবি কেন? তোর মা তো মানুষ তাই একটু টেনশন করে আরকি!! তোর মত উন্নতমানের ছাগল নাতো।" "আরে এখানে টেনশনের কি আছে?" "তনয়, এখানে টেনশনের অনেক কিছুই আছে, যা বোঝার ক্ষমতা আল্লাই তোকে দেননি।" "আচ্ছা না দিক, বাদ দে। তোর খবর বল।" "এইতো চলে যাচ্ছে দিনকাল।" আমি দিন দিন বুঝছি তনয় আমার ধরাছোঁয়ার বাইরের মানুষ। ও কারো ভালবাসার বাঁধনে বেঁধে যাওয়ার মত না। তবু আমার ভালবাসা প্রতিদিনই বেড়েই চলছে। "জয়ী, তোরও কি টেনশন হয়েছিল?" হঠাত্‍ আমার মাথাটা ফাঁকা হয়ে গেল। মাথাটা কেমন ঘুরছে, কিছুটা এলোমেলো ভাবে কাঁপা হাতে লিখলাম, "নাতো, কিসের টেনশন। তোর জন্য!! আমি কেন টেনশন করবো?" "আরে আমি তো মজা করছিলাম।" তনয়ের কাছে আমি আর আট দশটা বন্ধুর মতই, যাদের সাথে ও সারাদিন আড্ডা দেয় ঘুরেফিরে আর ফেসবুকে জমিয়ে গল্প করে। আর বন্ধুদের কাছে কাঠখোট্টা আনরোম্যান্টিক হিসেবে পরিচিত আমি কখন যেন তনয়ের হেয়ালিপনা আর খামখেয়ালির মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। হঠাত্‍ই বললাম "তনয়, আমাকে আর কত জ্বালাবি এভাবে, বলতো?" "আজীবন" আবারও বুকটা কেঁপে উঠলো। কেউ যেন হাতুড়ি পিটাচ্ছে। খুব সাবধানে আবেগটাকে লুকিয়ে বললাম, "তোর জ্বালানি সহ্য করার জন্য কে বসে থাকবে? সামনের মাসে আমার বিয়ে (ডাহা মিথ্যা কথা)।" খুব যে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, হ্যাঁরে আমি সারাজীবন তোর যন্ত্রণা সহ্য করতে রাজি, শুধু এক টুকরো ভালবাসা দিস। "বিয়ে!! কবে কোথায়? বর কই! আমাকে তো কিছুই জানালি না। তোর বিয়েতে কিন্তু আমি কবজি ডুবিয়ে খাবো। আর তোর বিয়ের পর তোর বরকে সহ জ্বালাবো।" প্লিজ তনয় একবার বলনা, তোর বিয়ে তো হবে আমার সাথে। তুই হবি আমার টুকটুকে বউ। তখন তোকে ২৪ ঘন্টা জ্বালাবো আর অনেক অনেক ভালবাসবো, তুই ভালবাসার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে যাবি।।। না তনয় কখনোই তা বলবে না। তনয়কে এসব মানায় না। তনয় হারিয়ে যাবে। হঠাত্‍ একদিন উদয় হবে জয়ীকে ভালবাসতে শিখাবে...আবার হারিয়ে যাবে। হয়তোবা কোন অলস বিকেলে ফুটপাতে এলোমেলো হাঁটার সময় তনয়ের সাথে জয়ীর দেখা হয়ে যাবে। জয়ীর চোখের কোণে জল দেখে তনয় বুঝবে না এটা ভালবাসার জল। বলবে, "তোর চোখে জল, কুটো পড়েছে বোধয়।" হয়তো কোন এক সন্ধায় দামি গিফট নিয়ে এগাল ওগাল হাসি নিয়ে জয়ীর বিয়েতে আসবে..... এসব ভাবতে ভাবতে চোখ থেকে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। এটা কি ভালবাসার জল নাকি না পাওয়ার ব্যাথার......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৬৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তবুও...ভালোবাসি...
→ তবুও ভালোবাসি
→ তবুও ভালোবাসি.
→ তবুও ভালোবাসি
→ তবুও ভালোবাসি
→ "সিনিয়র তাতে কী তবুও ভালোবাসি"
→ তবুও ভালোবাসি তারে (পর্ব 2)
→ তবুও ভালোবাসি তারে (পর্ব 1)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now