বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কথাগুলো একদম সত্য

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X আমি সুন্দরী মেয়ের পিছনে ঘুরে যে সময়টা নষ্ট করতেছি সেই সময়টা আমি ফিরে পাবো না সত্যি। কিন্তু একদিন এমন হবে এই স্মৃতি নিয়ে আমি নিরবে হাসির কারন খুঁজে পাবো। যা কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব না। এলাকার সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েকে প্রেমের ফাদে ফেলে তাকে নিয়ে রুমডেট করে, বন্ধুদের সামনে বুক উচু করে যখন আমি বলি, শালীর দেমাগ ভেংগে দিছি। এতে করে যে আমি পৈচাশিক আনন্দ পাচ্ছি, সেই আনন্দ একদিন আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। যখন শুনবো, আমার স্ত্রী, আমার বোন এমন কারো ফাদে পড়ে নিজের সর্বশ্ব বিলিয়ে দিয়েছে। আজ যে মেয়েটি তোমাকে অবহেলা করে অপমান করে রাস্তার মাঝে ছুড়ে দিয়েছে। তুমি যখন সাফল্যের উচ্চ শিখরে থাকবে, তখন সেই মেয়েটির কথা ভেবে নিজেই আনন্দিত হবে, আর লজ্জাকাতর মুখ নিয়ে বলবে কতটাই না বোকা ছিলাম। কোটি কোটি অবৈধ টাকার পাহাড় তৈরি করে যে ভোগ বিলাসিতার জীবন তুমি অতিবাহিত করতেছো। একদিন সেই টাকা তোমার কাছে বিষ হয়ে দাঁড়াবে। যখন তুমি তোমার মেয়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট এ দেখবে দুটো কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গেছে কিন্তু তোমার কোটি টাকার বিনিময়ে তোমার মেয়ের জীবন বাচাতে একটি কিডনির ব্যবস্থা তুমি করতে পারোনি। বড় বড় ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে সমাজ সেবার নাম করে যে অর্থ আর আভিজাত্য তুমি বানিয়েছো, তা সব কিছুই মুল্যহীন হয়ে যাবে, যখন তুমি জানতে পারবে, আর কয়েক ঘন্টার মধ্যে তোমার মৃত্যু হবে। সবাই তোমার সম্পত্তির ভাগ বসাতে এসেছে কিন্তু কেউ আসেনি তোমার মৃত্যুকে আপন করে নিতে। তখন বার বার মনে হবে, ইশ যদি সব দিয়েই আর মাত্র একদিন এই রংগিন পৃথিবীটা দেখতে পেতাম। আমি একটি ছোট মেয়ের বিশাল বড় গল্প জানি, গল্পটি ছিলো এমনি। মেয়েটি সর্বদা স্বপ্ন দেখতো তার এক প্রেমিক হবে, সে তাকে অনেক ভালোবাসবে। কিন্তু মেয়েটি যখন জানতে পেরেছিলো, ছেলেটিকে তার পরিবার মানবে না, আর ছেলেটিও যথেষ্ট উপযুক্ত নয় তার ভরণ পোষন করার। তখন মেয়েটি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে যায়। পরবর্তীতে ছেলের মাঝে জেদ আসে, সে বড়লোক হবে অনেক বড়লোক হবে আর লোভী মেয়েকে শায়েস্তা করবে। ১০ বছর পর যখন ছেলেটি কোটি টাকার মালিক হয়ে মেয়েটির বাসায় যায়। তখন সে জানতে পারে মেয়েটি আর বেচে নেই। তার মৃত্যুর কারন জানতে চাইলে তার পরিবার জানায়, যখন ছেলেটি ব্যবসা শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই চালান ডুবিয়ে রাস্তায় নেমে আসে তখন মেয়েটি তার দুটো কিডনি এক বড় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেয়, এবং শর্তনামায় উল্লেখ থাকে, আমার ভালোবাসার মানুষ ব্যবসায় লস করে পথে নেমে এসেছ। তার অনেক বড় স্বপ্ন অনেক বড় হবে। তার ব্যবসা নতুন করে শুরু করতে যা যা লাগবে তাকে যেন তাই দেওয়া হয়। পরে ছেলেটির মনে পড়ে ব্যবসায় লস হবার পর, তার কোম্পানীর সব শেয়ারগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইটি ফার্ম সবচেয়ে উচ্চতর মুল্য দিয়ে ক্রয় করেছিলো তারপর ছেলেটিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছেলেটি ঝর ঝর করে দুচোখের পানি ছেড়ে দিয়ে "হেমা বলে চিৎকার করলো" কিন্তু হেমা তো সেই কবেই তাকে জীবনের উচ্চতর স্থানে পৌছে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছে। হেমার একটি ছোট চিরকুট তার মা ছেলেটিকে দিলো সেখানে লেখা ছিলো "শাস্তি দিতে এসেছো প্রতারনার, দেখোনা আজ তোমার চারদিকে শুধুই ভালোবাসা রয়েছে, এত ভালোবাসা রেখে এই প্রতারক কে কেনইবা মনে রেখেছো? আমি তো তোমাকে আজো ভালোবাসি আর আমি এটাও জানি তুমি আমাকে আজো হয়ত ঘৃনা করবে, তোমাকে না জানিয়ে চলে গেছি বলে" আমাদের জীবনের মোড় আমরা নির্ধারন করিনা। আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করে। আমাদের জীবনে কি হবে, কার দ্বারা উপকার, কার দ্বারা সাফল্য হবে তা আল্লাহ ঠিক করেন। আমাদের হাতে কিছুই থাকেনা, শুধু আমরা অনুভব করি সে আমার জন্য এই করেছে, সে আমাকে ধোকা দিয়েছে। কিন্তু খারাপের মাঝে ভালো, ভালোর মাঝে খারাপ আমাদের বোঝার সাধ্য খুবই কম। শেষ ব্যাঞ্চের ছাত্র যদি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী হতে পারে। এসিড আক্রান্ত মেয়ে যদি সমাজ পরিবর্তন করতে পারে, তাহলে আমাদের মনের নোংরা বিচার গুলো খুব সহজেই মুছে ফেলা যায়, শুধুমাত্র আমি সৎ হয়েই চলতে চাই প্রতিজ্ঞা করলে। আমার এত কিছু বলার কারন কি? তা হয়ত অনেকেই বুঝতে পারেন নি? একজন মানুষের জন্য আমরা সমগ্র মানুষকে দোষারোপ করি। সে মেয়ে হোক কিংবা ছেলে। আমরা তার অন্তর ঘেটে দেখতে পারিনা। দিন দিন আমাদের সমাজে যেভাবে পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মহত্যার হার বেড়েছে। কে কয়টা প্রেম করেছি যেভাবে প্রতিযোগীতা হয়। কাকে নিয়ে রুমডেট করছি তার ভিডিওতে কত ভিউয়ার্স হবে, এসব নিয়ে যত চিন্তা করি। তার একভাগ চিন্তা যদি আল্লাহর নেয়ামতের জন্য করতাম আমাদের পৃথিবী এমন হতো না। অন্যরকম সুখের পৃথিবী হতো। একটি মেয়েকে খুব সাধারন ভাবে ভালোবাসা যায়, যদি ভালোবাসা পবিত্র হয়। খুব সাধারন ভাবেই সুখ নিয়ে আসা যায়, যদি ভরসা এক আল্লাহর উপর থাকে। বাবা মা ভাই বোন সবাইকে নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হওয়া যায়, যদি ইসলাম মোতাবেক জীবন গঠন করা হয়। এই সুন্দর জীবন ছেড়ে কেউ আত্মহত্যা, অপকর্ম, নারীদের সাথে জেনা করতে চান, করতেই পারেন। তার জন্য ধ্বংস নিশ্চিত। আসুন ভালোবাসি, ইসলামকে, ভালোবাসি সংস্কৃতিকে, ভালোবাসি ভালোবাসার মানুষ কে। ভালোবাসা মানেই পবিত্র, আল্লাহর সাথে বান্দার, পিতামাতার সাথে সন্তানের, স্ত্রীর সাথে স্বামীর ভালোবাসা যেভাবেই নিন না কেন, ভালোবাসা কিন্তু পবিত্র। পবিত্র ভালোবাসা নিয়েই জীবন গড়ুন, নিজেও ভালো থাকুন অন্যকেউ ভালো রাখুন। আর অপেক্ষা করুন্য এই ষাট বছরের জীবনকে ছেড়ে অন্তিম জীবন পরকালের। । লেখা: Tashriq Intehab


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now