বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রাণত্যাগ করে জান্নাতবাসী হন

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X ষষ্ঠ হিজরীততে নবী করীম (সাঃ) চৌদ্দশত সাহাবীকেনিয়ে ওমরা আদায় করবার ইচ্ছায় পবিত্র মক্কা শরিফগমন করেছিলেন। মক্কাবাসী কাফেরগণ একে নিজেদেরজন্য অপমান মনে করে মুসলিম কাফেলাকে বাধা প্রদানকরতে উদ্যত হল। ফলে হুজুরে পাক (সাঃ)বিখ্যাতহোদায়বিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করতে বাধ্যহলেন। সাহাবাগণ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। হুজুর পাক(সাঃ) মক্কাবাসীদের প্রতি লক্ষ্য করে যুদ্ধের ইচ্ছাপরিত্যাগ করে সন্ধির চেষ্টা চালালেন। যুদ্ধের জন্যসাহাবাদের যে কোন প্রকার প্রস্তুতি ও বীরত্ব সম্পর্কেঅবগত হওয়া সত্ত্বেও হুজুর আকরাম (সাঃ) কাফেরদেরএতটুকু খাতির করলেন যে, তাদের সব ক'টি শর্ত মেনেনিলেন। যদিও এই অপমানজনক শর্তাবলী মেন নিতেসাহাবাগণ রাজী ছিলেন না তবুও অবনত মস্তকে হুজুরেপাক (সাঃ) এর কথা মেনে নিলেন এবং ওমর (রাঃ) এর মতবাহাদুরও অবশেষে সন্ধি পত্রে সম্মতি প্রদান করলেন ।সন্ধির অন্যতম শর্ত এই ছিল যে, কাফেরদের মধ্যে কোনব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে মদীনায় হিজরত করলেমুসলমানগণ তাকে মক্কায় ফেরত পাঠাতে বাধ্য হবে।পক্ষান্তরে মুসলমানদের মধ্য হতে কেউ ধর্ম ত্যাগ করেমক্কায় চলে গেলে কাফেরগণ তাকে ফেরত দিবেনা।সন্ধিপত্র এখনও পূর্ন লেখা হয়নি এমন অবস্থায় হযরত আবুজান্দাল (রাঃ) যিনি সবে মাত্র ইসলাম গ্রহণ করেছেন,যদ্দরুন অমানবিক নির্যাতন ভোগ করতেছিলেন। তিন হাতপা শিকলে বাঁধা অবস্থায় মুসলমানদের সৈন্যদলে এইভরসায় এসে পৌছলেন যে, হয়ত এতে তাঁর দুঃখ কষ্টেরকিছুটা উপশম হবে। এই আবু জান্দালের পিতা 'ছুহায়েল'সন্ধিপত্র সম্পাদনের জন্য মক্কাবাসীদের তরফ থেকেউকিল ছিলেন। (ছুহায়েল (রাঃ) মক্কা বিজয়ের দিনইসলাম গ্রহণ করেছিলেন) তিন তাঁর পুত্রকে সজোরে চড়মারলেন এবং মক্কায় পাঠাবার দাবী জানালেন। হুজুর(সাঃ)এরশাদ করলেন, এখনও চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর হয়নিসুতরাং সেই মোতাবেক আমল করা আমল করা কোন জরুরীনয়। কাফেরগণ এতে জিদ ধরে বসলো। হুজুরে পাক(সাঃ)বললেন, লোকটাকে আমি দান স্বরুপ চাচ্ছি কিন্তুএতেও তারা রাজী হলো না। আবু জান্দাল (রাঃ)চিত্কার করে বলে উঠলেন, আমি কতটুকু দুঃখ-কষ্টেরভেতর দিয়ে তোমাদের দরবারে পৌছিছি, হায় !এখন কিকরে আবার শত্রুদের হাতে ফিরে যাব। হুজুর (সাঃ)তাঁকেস্বান্তনা দিয়ে বললেন, বেটা ধৈর্য ধর, অতি সত্বরইনশাল্লাহ্ তোমার জন্য রাস্তা খোলে যাবে। ঐ সময়মুসলমানদের মানসিক অবস্থা কি হয়েছিল তা একমাত্রআল্লাহ্ ই জানেন।সন্ধিপত্র পূর্ন হবার পর আবু বাছির (রাঃ) নামক একসাহাবী ইসলাম গ্রহণ করে মদীনায় গিয়ে পৌছলেন।তাকে ফেরত পাবার জন্য কেফেরগণ দুজন লোক মদীনায়পাঠাল। হুজুর (সাঃ) এর ওয়াদা মোতাবেক আবু বাছীর(রাঃ) কে তাদের হাতে সোপর্দ করলেন। তিনি আরজকরলেন, হুজুর! আমি ইসলাম গ্রহণ করে আসলাম আর এখনআবার আমাকে কাফেরদের কবলে পাঠাচ্ছেন? তিনি ঐকাফেরদ্বয়ের সাথে মক্কা রওনা হলেন ।পথিমধ্যে তিনিএকজন সাথীকে বললেন, বন্ধু !তোমার তরবারিখানি তোবড়ই চমত্কার মনে হচ্ছে? সৌখিন লোক সামান্য কথাতেইমেতে উঠে। লোকটি সঙ্গে সঙ্গে তরবারিখানা খাপ হতেবের করে হযরত আবু বাছীর (রাঃ) এর হাতে দিয়ে বলল,দেখ ভাই! আমি এটা অনেক বার শত্রুর উপর পরিক্ষাকরেছি। আবু বাছীর (রাঃ) তলোয়ার খানা হাতে নিয়েতার উপরেই পরিক্ষা চালালেন।দ্বিতীয় কাফির এই হত্যাকান্ড দেখে ভাবল এবার নিশ্চয়তাঁর পালা। তত্ক্ষনাৎ দ্বিতীয় কাফির দ্রুত ছুটে মদীনায়গিয়ে হুজুরে পাক (সাঃ) এর বললেন, হুজুর! আমার সাথীকেমেরে ফেলেছে, এখন আমার পালা। ঠিক এইসময় হযরত আবুবাছীর (রাঃ)ও সেখানে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন,হুজুর! আপনি আপনার ওয়াদা পূর্ন করেছিলেন কিন্তুআমার সাথে তাদের তো কোন চুক্তিপত্র নেই। এরাআমাকে আমার দ্বীন হতে ফেরাবার চেষ্টা করেছিলসেই জন্যই আমি তাঁর সাথীর সাথে এরূপ করেছি। হুজুর(সাঃ) উত্তরে বললেন, এযে যুদ্ধের উষ্কানিমূলক কথা,যদি এই ব্যাক্তির কোন সাহায্যকারী খাকতো?আবু বাছীর (রাঃ) বুঝতে পারলেন এখনও কেও তাঁর জন্যআসলে তাকে অবশ্যই মক্কায় যেতে হবে। তাই তিনিমদীনা ত্যাগ করে সমুদ্র উপকূলীয় একটি নিরাপদ স্থানেআশ্রয় নিলেন।এই সংবাদ শুনে মক্ক শরীফ হতে গোপনে হযরত আবুজান্দাল (রাঃ) ও তাঁর সাথে মিলিত হলেন। এই ভাবে যেকেও নতুন মুসলমান হতো তাঁরা তাঁদের সাথে এসে যোগদিত। এই ভাবে কয়েকদিনের মধ্যে তাঁরা একটি ছোটখাটদলে পরিণত হল। কিন্তু নির্জন জনমানবহীন শূন্য প্রান্তরেখাওয়া পরার ব্যাপারে তাঁরা এক ভীষণ সমস্যার সম্মুখীনহলেন।কিন্তু যে সমস্ত অত্যাচারী কাফেরদের জুলুমে তাঁরাদেশ ত্যাগ করতে ব্যাধ্য হয়েছিলেন তাদেরসিরিয়াগামী কাফেলা এই পথ দিয়েই যাতায়াত করত,তারা ঐ সমস্ত কাফেলা লুন্ঠন করে নিজেদের জীবিকারব্যবস্থা করতেন। শেষ পর্যন্ত মক্কার কাফেরগণ অত্যন্তচিন্তিত হয়ে হুজুরে পাক (সাঃ) এর খেদমতে লোকপাঠিয়ে নেহায়েত মিনতি সহকারে প্রার্থনা জানালযেন তিন আত্নীয়তার বন্ধনের দিকে চেয়ে উক্তজামায়াত কে ডেকে পাঠান এবং ব্যবসায়ীকাফেলাওয়ালাদিগকে বিপদ মুক্ত করেন। বোখারীশরিফে বর্ণিত আছে ,হুজুর (সাঃ) এর অনুমতি পত্র যখনতাদের কাছে পৌছিল তখন আবু বাছীর (রাঃ)মৃত্যুশয্যায়শায়িত ।মাহবুব নবী (সাঃ) এর পত্রখানা হস্তগত হওয়ারসাথে সাথেই তিনি প্রাণত্যাগ করে জান্নাতবাসী হন।সোর্সঃ হেকায়াতে সাহাবা বা ছাহাবাদের কাহিনীসৌজন্যেঃ জাবেদ ভুঁইয়া


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now