বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
। অত্যন্ত মেধাবী ওঅসাধারণ জ্ঞানী। নাম হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল(রা)। তবে স্বভাবে ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ওদিনহীন। হযরত জাবাল (রা) অতি সাধারণজীবনযাপন করতেন। তাঁর চলায়, কথাবার্তায়বাহুল্য বলতে কিছু ছিল না। জাঁকজমক ও চাকচিক্যতিনি মোটেও পছন্দ করতেন না। কোন রকমে চলতেপারলেই তিনি খুশি হতেন।একদিনের এক ঘটনাশাম দেশের ফাহলে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল।রোমান খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধেরজন্য এগিয়ে এলো। এখন বসে তো আর থাকা যায়না। তাই মুসলিম বাহিনীও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিনিলো। মুসলমানদের ত্বরিত প্রস্তুতির খবর শুনেরোমানরা ঘাবড়ে গেল। রোমানরা ভাবল,মুসলমানদের সাথে এখনই যুদ্ধ করা সমীচীন হবেনা। তাই রোমান সেনাপতি সন্ধি ও সমঝোতারপ্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এলো।মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন হযরত আবুউবাইদা (রা)। অত্যন্ত দক্ষ ও বীর সেনাপতিহিসেবে তিনি সবার কাছে পরিচিত। সুনিপুণ যুদ্ধবিশারদ হিসেবেও আবু উবাইদার নাম সর্বত্রআলোচিত হতো।আর হযরত মুয়াজ? তিনিও ছিলেন দক্ষ সেনানায়ক।তবে একজন পারদর্শী কূটনীতিক ছিলেন তিনি।জ্ঞান, বুদ্ধি ও পরিকল্পনা রচনায় তাঁর সুনাম ছিলসর্বজনবিদিত।তাই সেনাপতি আবু উবাইদা (রা) রোমানদের সাথেআলোচনার জন্য হযরত মুয়াজের নাম ঠিককরলেন। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা) সময়মত রোমানসেনাছাউনিতে গিয়ে হাজির হলেন। দুঃসাহসী মুয়াজ(রাঃ) বীরদর্পে সেনা ছাউনিতে পা রাখলেন। তাঁবুরজাঁকজমক ও চাকচিক্য দেখে তিনি খানিকটা বিস্মিতহলেন। তাঁবুতে বিছানো হয়েছে সোনালি কারুকাজকরা গালিচা। দেখে মনে হলো, এটা যেন এক বাদশাহীবালাখানা। একজন পদস্থ রোমান সৈনিক হযরতমুয়াজকে নিয়ে একটি অনিন্দ্য সুন্দর আসনেবসালো।তবে এসব বিলাসি হযরত মুয়াজের মোটেও পছন্দহলো না। তাই তাঁর চোখে-মুখে বিরক্তির ভাব ফুটেউঠলো। তিনি বললেন,: দেখুন ভাই, আমি এসব রাজকীয় শয্যা পছন্দ করিনা। কারণ, দরিদ্র মানুষকে শোষণ করেই এমন দামিআসন বানানো হয়েছে। একথা বলেই তিনি মাটিরওপর বসে পড়লেন।হযরত মুয়াজের অবস্থা দেখে খ্রিষ্টানরা তোহতবাক। তারা বলল,: আপনি এক মহান ব্যক্তি। আপনি দেশেরনামিদামি লোক। চারিদিকে আপনার যথেষ্ট সুনাম।অনেকেই আপনাকে সম্মান করে। আমরাও আপনাকেঅসম্ভব সম্মান করি। তাই সম্মানজনক স্থানেইআমরা আপনাকে বসাতে চাই। অথচ আপনি তাপরিহার করলেন?রোমান সৈন্যের কথা শুনে হযরত মুয়াজ (রা) মুচকিহাসলেন। তারপর তিনি বললেন,: শোন সেনারা! তোমরা আমাকে অনেক বড় বলেজানলেও আমি কিন্তু মোটেও তা নই। আমি অতিসাধারণ ও নগণ্য একজন মানুষ মাত্র। অত সম্মানও চাকচিক্য আমার প্রয়োজন নেই। আর তাইমাটিতে বসতেও আমার অসুবিধা নেই।হযরত মুয়াজের কথা শুনে খ্রিষ্টানরা তো হতবাক।তারা বলল,: কী অবাক কথা বলছেন আপনি! আপনি তো অনেকবড় মাপের মানুষ। আপনি মোটেও সাধারণ ব্যক্তিনন। তাই মাটিতে বসা আপনাকে মানায় না। মাটিতেতো বসবে দাসেরা।খ্রিষ্টানদের কথায় মুয়াজ (রাঃ) আরেকবারহাসলেন। তিনি মনে মনে বললেন, তোমরা জান না,এ মুয়াজই আল্লাহ একজন দাস। আর এই দাসেরকোনো বিলাসিতা নেই। এবার হযরত মুয়াজ (রা)দৃঢ়তার সাথে বললেন,: হ্যাঁ ভাই, তোমরা ঠিকই বলেছ। মাটিতে বসাদাসশ্রেণীর লোকদেরই কাজ। সমাজে ওরা ছোট, তাইওরা মাটিতে বসে। আমিও আল্লাহর এক দাস। তাইমাটিতে বসতে পারায় আমি ধন্য হয়েছি।মুয়াজের মুখে নিজেকে দাস বলায় খ্রিষ্টানরাআরেকবার হতবাক হলো। তাই তারা অবাক বিস্ময়েমুয়াজের মুখের দিকে অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে রইল।তাদের বিস্ময়ের ঘোর কাটে না। মুয়াজের প্রতিতাদের কৌতূহল আরো বেড়ে গেল।: আপনি যদি দাসই হোন, তা হলে আপনার চেয়েওমর্যাদাবান ব্যক্তি কি আপনাদের মধ্যে আরোকেউ আছে? -খ্রিষ্টানদের একজন জিজ্ঞেস করল।: কী বলছ তোমরা? আমি মর্যাদাবান? কে বললতোমাদের? অবাক বিস্ময়ে প্রশ্ন করলেন হযরতমুয়াজ।: মুসলমানদের মধ্যে আমি সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আমারমতো অধম আর কেউ নেই। মুয়াজ আবারোজানালেন।এবার খ্রিষ্টানদের বিস্ময় আরো একধাপ বেড়েগেল। মুয়াজের কথাবার্তা শুনে তারা বেশ ভাবনায়পড়ে গেল। মুসলমানদের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়েতারা চিন্তিত হলো। মুয়াজের আচরণ ও উদারতাতাদের মনকে নাড়া দিলো। তারা আরো ভাবনায়পড়ল মুসলমানদের সাহস ও বীরত্ব নিয়ে। ফলেরোমানদের মনে অজানা এক ভয়ের উদ্রেক হলো।তারা ভাবল, এই মুয়াজই যদি একজন সাধারণ মানুষহোন, তাহলে মুসলমানদের না জানি আরো কতঅসাধারণ মানুষ আছেন! এমন অসাধারণ ওখোদাভীরু মুসলিম বাহিনীর সাথে লড়াই করা মানেতো সাক্ষাৎ মৃত্যু। এদের সাথে যুদ্ধে জয়লাভেরচিন্তা করাও বোকামি। তাই রোমানরা মুয়াজেরসাথে সন্ধিস্থাপন করাকে শ্রেয়তম কাজ বলে মনেকরল। ফলে ভয়ানক যুদ্ধের আশঙ্কা কেটে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now