বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি ইরফান।একটা পাবলিক ভার্সিটিতে
চান্স পেয়েছি।আজ নতুন বাসায় উঠলাম।
মালপত্র আনার সময় দেখলাম ফুটফুটে একটা
মেয়ে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে।হাতে
একটা টেডি বিয়ার।কাছে ডাকতেই এক ছুটে
নিচে চলে গেল।মনে হয় নিচতলায় থাকে।
কয়েকদিন বেশ ব্যস্ত থাকায় মেয়েটার কথা
প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।সেদিন ভার্সিটি
থেকে বাসায় ফিরে দেখলাম সোফায় বসে
টিভি দেখছে।ওর মা সম্ভবত পরিচিত হবার
জন্য এসেছেন।আমার মায়ের সাথে গল্প
করছেন।আমি সালাম দিলাম।মেয়েটাকে
ডাকলাম।এবার পালাল না।মেয়েটার সাথে
কথা বললাম।বেশ মজার।মেয়েটার নাম মোঽনা।
এখন কেজি ১ এ পড়ে।
কয়েকদিন পর ভার্সিটি যাচ্ছি দেখলাম মোঽনা
মায়ের সাথে স্কুল থেকে ফিরছে।আমাকে
দেখতেই ফোকলা দাতে মুখ ভেঙচি দিল।
আমিও হেসে দিলাম।
বিকেলে বাসায় ফিরে রেস্ট নিচ্ছিলাম।
কিছুক্ষণ পর মোঽনা আসল।আশে পাশে ঘুর ঘুর
করতে লাগল।ডাকলাম ওকে।কোলে এসে বসল।
কয়েক দিনে বেশ ভাব জমে গেছে কিনা।
-কেমন আছ মোঽনা সোনা?
-ভাল।
-খাওয়া দাওয়া করেছ?
-হুম।
মোঽনা কিছুক্ষণ চুপ থেকে হাসি হাসি মুখে বলল
-তোমাকে আমার খুব ভাল লাগে।
-তাই নাকি?
-হুম।
-তো এখন কি করবা?
-তোমাকে বিয়ে করব!!
আমি ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবিনি ও এইরকম কিছু
একটা বলবে।তবে বেশ মজা পেয়ে গেলাম।
-কিন্তু আমিতো তোমাকে বিয়ে করবনা
-কেন?
-তুমি এখনো পিচ্চি
-নাহ। এই দেখ আমি তোমার চেয়ে বড়!
(চেয়ারে উঠে দেখাল)
-আচ্ছা ঠিক আছে।তোমাকে বিয়ে করলাম।
এবার কি করতে হবে?
-চকলেট দাও
এতক্ষণে বিয়ে রহস্য পরিষ্কার।
-আচ্ছা দিব।এখন তো আমার কাছে চকলেট
নেই।কাল তোমার জন্য চকলেট নিয়ে আসব।
-এখনি দিতে হবে
-এখন চকলেট পাব কোথায়
-দোকান থেকে কিনে দাও
-কাল দিব বললাম না
-এখন দাও
মোঽনা চুল ধরে টানাটানি করতে লাগল।বাধ্য
হয়ে উঠে দাড়ালাম।এবার হাত ধরে ঝুলে
আছে।
-আরে বাবা যাচ্ছি তো
-আমিও যাব
-আচ্ছা আসো
-কোলে নাও
-পারবনা
এক দৌড়ে মাকে ডেকে আনল।
-আম্মু দেখনা আমাকে বিয়ে করে এখন আর
কোলে নিচ্ছেনা
.বিচ্ছু মেয়েটা ভাবীর সামনে বেশ লজ্জায়
ফেলে দিল।ভাবী হেসে বলল
-তোমাকে খুব জ্বালাতন করছে দেখছি
-না ভাবী।ভালই লাগছে
-বেশি প্রশ্রয় দিয়োনা।মাথায় উঠবে।
.অগত্যা ওকে কোলে নিয়েই বের হলাম।
একসময়
ওকে কোলে নিয়ে বের হওয়াটাও একটা রুটিন
হয়ে গেল।
.সেদিন বাসায় কিছু বন্ধু এসেছিল।যথারীতি
মোঽনাও হাজির।ও এসেই আমার কোলে বসল।
তারপর বলল
-আজকে ঘুরতে যাবেনা?
-না ছোট আপু ।আজকে আমার বন্ধুরা এসেছে।
-আমাকে আপু ডাকলে কেন?
আমি ইঙ্গিতটা বুঝলাম।বন্ধুদের সামনে যদি
ওকে বউ বলি তাহলে ওরা আমার ইজ্জতের
ফালুদা বানিয়ে দেবে।কথা কাটাতে বললাম
-আচ্ছা চল তোমাকে চকলেট কিনে দিচ্ছি।
.
.
কিন্তু বন্ধুরা ছাড়লনা।
-তোমার নাম কি আপু?
-আমার নাম মোঽনা।তোমরা আমাকে ভাবী
বলবে।
বন্ধুরা ভালই টাস্কি খেল।আর আমি কপাল
চাপড়াচ্ছি।
-ইরফান তোমার কি হয়?
-ও আমার বর!
-ওহ মাই গড!!ইরফান তোমাকে বিয়ে করেছে?
মোঽনা দ্বিগুণ উৎসাহে বলতে শুরু করল
-হুম।ওর সাথে আমি ঘোড়া ঘোড়া খেলি।ও
আমাকে প্রতিদিন বেড়াতে নিয়ে যায়।চকলেট
কিনে দেয়।
সেদিন বন্ধুরা ওর সাথে অনেক মজা করল।
পরদিন ভার্সিটিতে ঢুকতে না ঢুকতেই একটা
আওয়াজ কানে আসল "জামাই আসছে !!জামাই
আসছে!!"ওরা পারলে আমাকে কাধেই তুলে
ফেলে।বন্ধুদের ভালবাসার আধিক্যে
ব্যাপারটা পুরো ভার্সিটি জেনে গেছে।
সেদিন বেশ খুশি মনে বাড়ি ফিরছিলাম।মোঽনার
জন্য চকলেট নিলাম।বাসার সামনে আসতেই
দেখলাম কেমন যেন থমথমে পরিবেশ।বাসায়
তালা দেওয়া।মোঽনারাও নেই।তবে ওদের বাসায়
তালা নেই।ড্রয়িং রুমে টেবিলটার গ্লাস
ভেঙে গেছে।ফ্লোরে সামান্য রক্তের দাগ।
অজানা আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠল।ভাবীকে
কল দিলাম।মোবাইলটা ঘরেই বেজে উঠল।এবার
মাকে কল দিতেই
-বাবা তুই তাড়াতাড়ি মেডিকেল চলে আয়..
এটুক বলে মা ফোন রাখলেন।বুকটা ধপধপ
করছে।কোনরকম মেডিকেল পৌছলাম।গিয়ে
জানতে পারলাম মোঽনার মা যখন বাথরুমে তখন
মোহনার বাবার সাথে দেখা করতে দুজন লোক
আসে।মোঽনা দরজা খুলে দেয়।ওরা সুযোগ
বুঝে
মোঽনার মাকে বাথরুমে আটকে রেখে
মোঽনাকে
রেপ করে।মোঽনা এখন ইমার্জেন্সিতে।ক
াউকে
দেখা করতে দেওয়া হচ্ছেনা।শুনার পর মনে হল
আমার মাথায় কেউ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত
করেছে।পুরো পৃথিবীটাই অন্ধকার লাগছিল।
মোঽনার বাবা-মা পাগলের মত কান্নাকাটি
করছে।আধ ঘন্টা পর দেখা করতে দেওয়া হল।
ওর মা মোঽনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।আমি
যেতেই একটা মলিন হাসি দিল।সেই হাসিতে
কোন প্রাণ ছিলনা।ছিল একরাশ কষ্ট।আমাকে
প্রায় শোনা যায়না এমন কন্ঠে বলল
-আমার চকলেট কই?
অনেক কষ্টে কান্না চেপে ওকে চকলেট
ধরিয়ে দিয়ে বললাম
-তুমি খুব দ্রুত সুস্হ হয়ে উঠবে।তারপর আমরা
একসাথে বাড়ি ফিরব।
সেদিন মোঽনা আমাদের সাথেই বাড়ি
ফিরেছিল।তবে লাশ হয়ে।জীবনে কখনো এত
কাঁদিনি যতটা সেদিন কেঁদেছিলাম।মনটা
সেদিন পৃথিবীর প্রতি ঘৃণায় ভরে গিয়েছিলো।
মানুষ এতটা নিচ হয় কিভাবে।একটা বাচ্চা
মেয়ের সম্ভ্রমেরও নিশ্চয়তা নেই।
জানি,লোকগুলো ধরা পড়বে ঠিকি কিন্তু দুদিন
পর আবার ছাড়া পেয়ে যাবে।শুধু মোঽনারাই আর
ছাড়া পাবেনা কারণ তারা যে ওপারে চলে
গেছে!ওপার থেকে তো ছাড়া পাওয়া যায়না!
উৎসর্গ-নাম না জানা আরো হাজারো মোঽনাকে
যারা পৃথিবীটাকে মোঽনার আচড়ে রাঙিয়ে
তোলার আগেই নরপশুদের পাশবিকতার শিকার
হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now