বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#বি:দ্র : একটু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন ১৪ তম পর্বের সাথে ১৫তম পর্ব দেয়া হয়েছে।
নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার
অনুবাদ:অনীশ দাস অপু
পর্ব--১৬ (শেষ)
------------->
এখন ওর শরীরে অ্যাডামের রক্ত ঢোকানো হবে।ফার্স্ট এইড চিকিৎসা ভালোই জানে ব্রাইস।সে ব্লাড ট্রান্সফিউশনের কাজ শুরু করে দিল।পুরোটা সময় কালো সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকল সিন্ডি।লোনা পানি দেখেও তার কোনো ভাবান্তর ঘটেনি।কিছুক্ষণ রক্ত দেয়ার পর রীতিমত দুর্বল লাগতে থাকল অ্যাডামের।ঝাঁ ঝাঁ করছে কান।ওর চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে দেখে শিরা থেকে সুই বের করে ফেলল ব্রাইস অ্যাডামের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও।অ্যাডাম চাইছিল আরেকটু রক্ত দেয়া হোক সিন্ডিকে।
'না,' বলল ব্রাইস।'যথেষ্ট হয়েছে।তুমি বেহুদাই নিজেকে হত্যা করছো।রক্ত দিয়েও সিন্ডির কোনো পরিবর্তন দেখছি না।'
'কিন্তু...........'
'তর্ক করো না,' বলল স্যালি।সিন্ডির হাত থেকে খুলে ফেলেছে সুই।টের পেলেও কিছু বলল না সিন্ডি। স্যালি বলল,' আমার ভয় করছে।তোমার লোনা পানির তত্ত্ব শাটোরকে বাধা দিতে পারবে বলে আমার মনে হচ্ছে না।'
জেটির প্রবেশ পথে একটা শব্দ শুনতে পেল ওরা।
ঘুরে তাকাল।ভ্যাম্পায়াররা আসছে।
সংখ্যায় কয়েক ডজন।সবার সামনে শাটোর।
যেন পিশাচের একটা দল- সবার চোখে লাল আলো জ্বলছে।
'তুমি বোধহয় ঠিকই বলেছো,' বিড়বিড় করল অ্যাডাম। 'এখন কী করি?'
'আমরা শেষ,' হতাশ গলায় বলল ব্রাইস।
লাফিয়ে উঠল স্যালি। 'ওর সঙ্গে কথা বলে দেখি।ওকে বোঝানোর চেষ্টা করি ওর মা খারাপ ছিল বলে তার মানে এই নয় যে আমাদের সবার রক্ত চুষে খেতে হবে।'
'বুদ্ধি মন্দ নয়,' বলল অ্যাডাম।
ওকে শাটোরের দিকে পা বাড়াল, সিন্ডিসহ।সিন্ডিকে দেখে মনে হচ্ছে সে এখনও শাটোরের সম্মোহনের কবল থেকে মুক্তি পায়নি।রক্ত দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।সিন্ডির চোখেও লাল আভা জ্বলজ্বল করছে।শাটোর তার দল নিয়ে এগিয়ে আসছে।পনের মিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে পড়ল সে।শিষ্যদের হুকুম দিল 'থামো।' তারপর সে একাই এগিয়ে এল।শাটোরের পরনে রূপালি আলখেল্লা। গলায় রূপোর নেকলেসে বড় একখন্ড রুবি ঝুলছে।শীতল আলোয় জ্বলজ্বল করছে।শাটোর বেশ দ্রুতই ঘুমের ওষুধের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।ওয়াচ এখনও নাক ডাকছে।শাটোরের মুখে ভয়াল হাসি।
'তোমরা লুকোবার জন্য বাজে একটা জায়গা বাছাই করেছো,' বলল সে।
সিন্ডির দিকে ইশারা করল,' তোমাদের বোঝা উচিৎ ছিল ওর সাহায্যে তোমাদের হদিস আমি বের করে ফেলব।'
'আমরা জানতাম,' বলল অ্যাডাম।
শাটোর হাত তুলে ডাকল,' সিন্ডি, এসো।'
ঘোরের মধ্যে থেকে যেন কদম বাড়াল সিন্ডি।
'সিন্ডি,না', চিৎকার করল অ্যাডাম।
সে সিন্ডিকে বাধা দেবার চেষ্টা করল কিন্তু সিন্ডি ওকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল।ওর গায়ে অনেক জোর।
সিন্ডি পাশে গিয়ে দাঁড়াল।শাটোর এবং সিন্ডির পেছনে নিশ্চয় মূর্তির মত দাঁড়িয়ে রয়েছে ভ্যাম্পায়ারের দল।ভ্যাম্পায়ারের রানী ওদের দিকে এক নজর বুলিয়ে ফিরল অ্যাডামের দিকে।
'ওরা চাইছে তোমরা ওদের দলে যোগ দাও,' বলল শাটোর।
'আমাদেরকে মেরে ফেলো,' বলল অ্যাডাম। 'ভ্যাম্পায়ার হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। '
হাসল শাটোর। 'ভ্যাম্পায়ার হলে অনেক শক্তি পাবে।আর সামনের দিন গুলোতে অনেক শক্তিশালী ভৃত্যই আমার দরকার।'
অ্যাডাম হঠাৎ ওয়াচের হাত খামচে ধরল।ওকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চলল জেটির কিনারায়।
'অ্যাডাম।চেঁচাল স্যালি।কী করছো তুমি?'
অ্যাডাম কটমট করে তাকাল শাটোরের দিকে।
'তোমাদের দলে যোগ দেয়ার চেয়ে সাগরে ডুবে মরব তাও ভালো,' বলল ও।
ব্রাইসও এসে দাঁড়াল অ্যাডামের পাশে। 'তোমরা আমাদেরকে পাবে না।'
ফিসফিস করল স্যালি,' সাগরে কিন্তু হাঙর আছে।'
অ্যাডাম দৃঢ় গলায় বলল,' আমাদেরকে তোমরা ভ্যাম্পায়ার বানাতে পারবে না।'
শাটোর বিস্মিত চোখে দেখছে ওকে।
তার মুখের পাতলা হাসি প্রশস্ত হলো।
'তোমরা ব্লাফ দিচ্ছো,' বলল সে। 'সাগরে ঝাঁপ দেয়ার সাহস তোমাদের হবে না।'
'আমরা কোনো কিছুতেই ভয় পাই না,' বলল অ্যাডাম। 'কারন আমরা সত্যিকারের হিরো।আজ হয়তো তোমাদের কাছে পরাজয় বরন করতে হলো তবে আমাদের আত্মার পরাজয় ঘটবে না।এ জিনিসটি আমাদের কাছ থেকে তুমি কেড়ে নিতে পারবে না,' থামল অ্যাডাম। 'লাফ দিতে রেডি তুমি,ব্রাইস?'
'রেডি।'
'রেডি,' জবাব দিল ব্রাইস।
'স্যালি?'
স্যালি বলল ভাবছি।'
শাটোর বলল, 'আমি জানি তোমরা কাজটা করবে না।কারন তোমরা ভীতু।তোমরা মরনশীল মানুষ।
তো -ম -রা.........'
শাটোর তার কথা শেষ করতে পারল না।
তার রূপালি আলখেল্লার বুকের কাছটা হঠাৎ রক্তাক্ত হয়ে গেল।আর্তনাদ করে উঠল শাটোর।
ওর পেছনে দাঁড়িয়ে আছে সিন্ডি।পেছন থেকে গোঁজ ঢুকিয়ে ভ্যাম্পায়ার রানীর কলজে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে।
আঁতকে উঠল ভ্যাম্পায়ারের দল।
ঘুরল শাটোর। অবাক দৃষ্টিতে দেখছে সিন্ডিকে। ভ্যাম্পায়ার রানীর মুখ দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত ঝরছে।
'তুমি এ কাজ করতে পারলে?' কাতরে উঠল সে।
মানুষের গলায় কথা বলে উঠল সিন্ডি।
'অ্যাডামের রক্ত আমাকে তোমার সম্মোহন থেকে মুক্ত করেছে,' ওর ভালোবাসা আমাকে বাঁচিয়েছে।আমি কাউকে কোনোদিন হত্যা করিনি।কিন্তু তোমাকে করেছি।কারন তোমার মধ্যে কোনো ভালোবাসা কিংবা মমতা নেই।'
শাটোর বুক থেকে গোঁজ খুলে নেবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো।তার বুক থেকে হড়হড় করে রক্ত বেরুচ্ছে।কালো রক্ত।তার শক্তি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে আসছে।
'কিন্তু আমি তোমার রানী,' চেঁচিয়ে উঠল সে।
'তুমি আমার দুঃস্বপ্ন,' বলল সিন্ডি। ভ্যাম্পায়ার রানীকে প্রবল একটা ধাক্কা দিল।ডিগবাজি খেয়ে সাগরের কালো পানিয়ে পড়ে গেল শাটোর।
সঙ্গে সঙ্গে লাল আলো এবং আগুনের একটা বিস্ফোরণ ঘটল।
আকাশে নিক্ষিপ্ত হলো বাষ্প এবং ধোঁয়া।
একটা চিৎকার মিলিয়ে গেল বাতাসে।
হঠাৎ ভ্যাম্পায়ারের দল যেন সংবিৎ ফিরে পেল।আকস্মিক মানুষে রূপান্তর ঘটছে তাদের।সবার চোখ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল লাল আলো।এদের একজন সাদা দাঁড়িওয়ালা এক লোক দলটা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এগিয়ে এল সামনে।তার চোখে জল।সে সিন্ডির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।সিন্ডির ফ্যাকাসে চামড়া আবার স্বাভাবিক হয়ে গেছে।চাউনিতে মানবিক আবেগ।সাগর জলে তাকিয়ে তার চোখ টলমল করে উঠল।
'আমি ওকে মারতে চাইনি,' বলল সিন্ডি।
মাথা দোলাল বৃদ্ধ।তার পাশে এসে দাঁড়াল অন্য লোক গুলো।বৃদ্ধ তাদের দিকে একবার তাকাল তারপর মুছে ফেলল নিজের চোখের অশ্রু।কথা বলে উঠল সে।গম্ভীর, সদয় কন্ঠ।
'আমি চেয়েছিলাম অনন্তকাল বেঁচে থাকুক সে,' বলল বৃদ্ধ। 'এবং ওটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভুল।অনেক আগেই ওকে থামিয়ে দেয়া উচিত ছিল আমার।'
'কিন্তু পারেননি কারন আপনি ওকে ভালোবাসতেন,' বলল অ্যাডাম।
মাথা দোলাল বৃদ্ধ।'আমি ওকে আমার সমস্ত অন্তর দিয়ে ভালোবাসতাম।'
'আপনি কি জাই?' জিজ্ঞেস করল স্যালি।
'আমি জাই,' বলল বৃদ্ধ।তাকিয়ে আছে খলবলে কালো জলে।ওখানে শাটোরের চিহ্নমাত্র নেই।ছাই পর্যন্ত ভাসছে না।জাই বলে চলল, 'আমি এখন কেউ না।জাদুর মায়ার অবসান ঘটেছে।সবগুলো ভ্যাম্পায়ার মানুষ হয়ে গেছে।' আবার সিন্ডির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল আদর করে।
'তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ।'
বৃদ্ধ জাদুকর, চলে যাবার জন্য ঘুরে দাঁড়াল।
'কোথায় যাবেন এখন?' পেছন থেকে ডাকল অ্যাডাম।
থমকে দাঁড়াল জাই।মাথা ঘোরাল।
'জানি না,' বলল সে।
চলে গেল জাই।তার সঙ্গে বাকিরাও।শুধু্ থেকে গেল একজন - টেড।
এদিকে ওয়াচের ঘুম ভেঙ্গেছে। সে উঠে বসল।টেড এগিয়ে গেল সিন্ডির কাছে।ওর পিঠে হাত রাখল।ক্ষমা প্রার্থনার ভঙ্গিতে বলল,' দুঃখিত।আমি তোমাকে ভ্যাম্পায়ার বানিয়ে দিয়েছিলাম।'
'ওটা কিছু না,' বলল সিন্ডি। 'এজন্য তোমার ওপর আমি রাগ পুষে রাখিনি।সবাই যে ভালো আছি এতেই আমি অনেক খুশি…
সমাপ্ত।
@নেকরে মানব
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now