বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার পর্ব--১২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার অনুবাদ:অনীশ দাস অপু পর্ব--১২ . . ওয়াচ সিন্ডির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,' সিন্ডি,আমি চাই তুমি যা দেখছো সব আমাদের জানাবে।' সিন্ডি ধীরে ধীরে কথা বলতে লাগল।যেন ও নয়,ওর ভেতর থেকে অন্য কেউ কথা বলছে। ' আমি লাল দেখতে পাচ্ছি,' বলল ও। ' আর কী দেখতে পাচ্ছো?' জিজ্ঞেস করল ওয়াচ। ' ঠান্ডা।' 'ঠান্ডা মানুষ আবার কেউ দেখতে পায় নাকি?' প্রশ্ন করল স্যালি। ' শশশ।' ওয়াচ স্যালিকে ইঙ্গিত করল কথা না বলার জন্য।'তুমি কি ঠান্ডা কোনো জায়গায় আছো?' ' হ্যাঁ।' 'জায়গাটা কোথায়?' 'জানি না।' 'তুমি ওখানে কেন গিয়েছো?' জিজ্ঞেস করল ওয়াচ। 'রক্ত।' ' ওখানে রক্ত আছে?' 'হ্যাঁ।' 'কার রক্ত।' 'জানি না।' 'ওখানে মানুষের লাশ আছে?' 'না।' 'জায়গাটা কী বড়?' 'না।' 'কোনো ঘর?' 'হ্যাঁ।' ' এবং ঘর বোঝাই রক্ত।' 'হ্যাঁ।' 'রক্ত কী প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং বোতলে?' 'হ্যাঁ।' 'আমরা এখন যেখানে আছি জায়গাটা কী তার আশেপাশে?' 'হ্যাঁ।' 'রানী শাটোর কী এখানে আছে?' এ প্রশ্ন শোনা মাত্র হুট করে খুলে গেল সিন্ডির চোখ,একটা লাল আছে দেখা গেল ক্ষনিকের জন্য।তার গলা ভারী এবং ভয়ংকর শোনাল,কটমট করে তাকাল ওয়াচের দিকে। 'তোমাকে বলা যাবে না।' চেঁচিয়ে উঠল সে। ওয়াচ সিন্ডির আগুন ঝরা চোখে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল,চোখের একটা পাপড়ি পর্যন্ত কাঁপল না। 'চোখ বোজো সিন্ডি।বিশ্রাম নাও,' মৃদু গলায় বলল সে।সিন্ডির পেশীতে পড়ল ঢিল। অন্যরা প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাল ওয়াচের দিকে। ' শাটোর কী সিন্ডির হয়ে কথা বলল?' জিজ্ঞেস করল ব্রাইস। ' হ্যাঁ,শেষের দিকে।' জবাব দিল ওয়াচ। ' ইস,বেচারা মাঝপথে বাঁধা পেল,' আফসোস করল স্যালি। 'নইলে এতক্ষনে জেনে যেতাম রানী কোথায় আছে।' মায়াভরা চোখে সিন্ডির দিকে তাকাল ওয়াচ।বেচারি ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে।যেন বাতাস থেকে অক্সিজেন টানতে পারছে না।ওয়াচ বলল,' সিন্ডি যা বলার যথেষ্ট বলেছে।আমি এখন জানি রানী শাটোর কোথায় আছে।' ' কোথায়?' সমস্বরে প্রশ্ন করল সবাই। 'এই হাসপাতালে,' বলল ওয়াচ। 'কী?' আঁতকে উঠল ওরা। 'হাসপাতালে ব্লাড ট্রান্সফিউশনের জন্য ব্যাগ ভর্তি রক্ত রাখা হয়,' বলল ওয়াচ। 'আর রক্তের তেষ্টা মেটানোর জন্য শাটোর এর চেয়ে ভালো জায়গা কোথায় পাবে?তাছাড়া সিন্ডির বর্ণনার সঙ্গে হাসপাতাল মিলে যায়।সিন্ডি বলেছে একটি ঠান্ডা ঘরের কথা।যেখানে বোতল আর ব্যাগ ভর্তি রক্ত আছে।কিন্তু মানুষের লাশ নেই।ভ্যাম্পায়াররা শীতল জায়গা পছন্দ করে।আর হাসপাতালই তাদের উপযুক্ত স্থান।যেখানে ঠান্ডা আছে এবং হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় রক্ত।আমি নিশ্চিত শাটোর ঘাপটি মেরে রয়েছে এখানেই। ব্রাইস কোমড়ের বেল্ট থেকে খুলে নিল কাঠের গোঁজ।'চলো, ওকে ধরি।' ' এত জলদি নয়,'বলল ওয়াচ।'আমি হাসপাতালটা একটু ঘুরে দেখব আগে।' 'কেন?' জিজ্ঞেস করল অ্যাডাম। ওয়াচ সিন্ডির ঠান্ডা বাহু চেপে ধরল। ' একটি অপ্রত্যাশিত অস্ত্রের জন্য,' জবাব এল। ওয়াচ টেডের হাসপাতালের ঘর থেকে বেরিয়ে এল।তবে অস্ত্র খুঁজল না সে।সোজা ঢুকল ড্রাগ লকারে।এখানে সারিসারি ওষুধ এবং সুই সাজানো।অ্যাডাম বন্ধুর দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।ওয়াচ কিছু ওষুধ এবং ইনজেকশনের সুই নিয়ে ফিরে এল টেডের ঘরে।ওদের জন্য অন্যরা অপেক্ষা করছিল।সিন্ডি এখনও বোধশূন্য দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে।তবে মাঝে মাঝে জিভ দিয়ে চাটছে ঠোঁটের রক্ত।ওটা টেডের রক্ত জানে ওরা। ওরা চোখ ঘুরিয়ে নিল। সিন্ডিকে নিয়ে কী করবে এখন সে ব্যাপারে একটা সিন্ধান্ত নেয়া দরকার।স্যালি এবং ব্রাইস সিন্ডিকে হাসপাতাল রুমে রেখে যেতে পক্ষপাতী। সবাই এখন ব্যস্ত থাকবে রানীর খোঁজে। 'কিন্তু ফিরে এসে সিন্ডিকে এখানে পাবো কি না কে জানে,' বলল অ্যাডাম। 'আমাদের সঙ্গে থাকার চেয়ে এখানেই ও নিরাপদে থাকবে,' বলল ব্রাইস। কিন্তু অ্যাডাম সিন্ডিকে একা রেখে যেতে ঘোর বিরোধী। ওর ভয় সিন্ডি হয়তো ঘোরের মাথায় হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পড়বে।আর খুঁজে পাওয়া যাবে না ওকে।অনেকক্ষণ তর্কাতর্কির পরে ঠিক হলো সিন্ডিকে ওরা সঙ্গে নিয়ে বেরুবে। ' আমরা ওকে সঙ্গে নেবো,' বলল ওয়াচ।'ও আমাদের বন্ধু, ভালো হোক বা খারাপ হোক। ' তোমার জীবনের সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্তটা আজ নিলে, ওয়াচ,' বলল স্যালি। ওরা সিন্ডিকে নিয়ে বেরিয়ে পরল টেডের ঘর থেকে।পা বাড়াল হাসপাতালের হলওয়েতে।ওরা ফ্রিজারের খোঁজ করছে।ওখানে হাসপাতালের রক্ত রাখা হয়।অবশ্য ফ্রিজারের সন্ধান পেতে দেরি হলো না।তবে দরজা বন্ধ। 'মহিলা হয়তো কেটে পড়েছে,' দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করল স্যালি। ' আমার তা মনে হয় না,' দরজায় চোখ রেখে বলল অ্যাডাম।সে ধরে রেখেছে সিন্ডিকে। সিন্ডি বারবার অ্যাডামের ঘাড়ের দিকে তাকাচ্ছে লোভাতুর দৃষ্টিতে। মাঝে মাঝে অ্যাডামের চুলে হাত বুলিয়েও দিচ্ছে।অ্যাডাম ওকে অগ্রাহ্য করার ভান করছে তবে ভেতরে ভেতরে সে যথেষ্ট নার্ভাস।স্যালি আর ব্রাইস সিন্ডিকে নিয়ে আসতে চায়নি যদি সিন্ডি কাউকে কামড়ে দেয়।অ্যাডাম যোগ করল,' আমার ধারনা এখানে অশুভ কিছু একটা আছে।' (চলবে) @নেকরে মানব


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now