বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার
অনুবাদ:অনীশ দাস অপু
পর্ব--১১
--------->
'একটা ক্লু সে আমাদেরকে দিয়েছে,' বলল ওয়াচ।'ডাইনি বলেছে আমরা কল্পনাও করতে পারি না এমন কোনো জায়গায় রানী শাটোর লুকিয়ে থাকতে পারে।'
' সে এটাও বলেছে রানী আমাদের ওপর প্রতিশোধ নেবে,' বলল অ্যাডাম।'এ হামলা তারই প্রমান।আমরা যাই কিছু করি না কেন আগে সিন্ডির কাছে যাবো।রানী হয়তো সিন্ডির পেছনে ইতিমধ্যে কাউকে লেলিয়ে দিয়েছে।'
' হতে পারে,' সায় দিল ওয়াচ।
কিন্তু সিন্ডিকে বাসায় পাওয়া গেল না।ওর মা বললেন সিন্ডি সারাদিন একবারও বাড়ি ফেরেনি।শুনে আতংক বোধ করল দলটা।ওরা বাড়ির বাইরে মিটিং-এ বসল।
' রানী হয়তো ওকে ইতিমধ্যে বন্দি করে ফেলেছে,' বলল স্যালি।
' আমার তা মনে হয় না,' অন্যমনস্ক সুরে বলল অ্যাডাম।'সিন্ডির মা বললেন তাঁর মেয়ে নাকি বাড়িই ফেরেনি।তার মানে সে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পর এদিকে আর আসেনি।কিন্তু সিন্ডি তো কথার বরক্ষেলাপ করার মিত মেয়ে নয়। সে আমাদেরকে মিথ্যে বলেছে একটি মাত্র কারনে-সে এমন কিছু করতে চেয়েছিল যাতে আমাদের সমর্থন পাবে না জানত। '
' ঠিকই বলেছো,' বলল ওয়াচ। ' ও নির্ঘাত টেডের কাছে গেছে।'
' ওই পিচ্ছিল ভ্যাম্পায়ারটা?'জিজ্ঞেস করল স্যালি।' কিন্তু কেন?'
' কারন তার এখনও বিশ্বাস টেড ভ্যাম্পায়ার নয়,' জবাব দিল অ্যাডাম।'বারবার ওর জীবননাশের হুমকি দেয়া ঠিক হয়নি।'
'আমি কখনো ওর জীবননাশের হুমকি দেইনি,' বলল স্যালি।একটু থেমে যোগ করল, একবার /দু'বার অবশ্য দিয়েছিলাম।কিন্তু তোমরা জানো ও এখন ভ্যাম্পায়ার হয়ে গেছে।সকাল বেলাতেই সুযোগ থাকতে থাকতে ওকে হত্যা করা উচিত ছিল।'
' কী করা উচিত ছিল তা নিয়ে এখন তর্ক করে লাভ নেই,' বলল ওয়াচ।
' দেরি হওয়ার আগেই জলদি হাসপাতালে যাওয়া দরকার।'
'কী জানি ইতিমধ্যে দেরি হয়ে গেছে কি না,' বলল ব্রাইস।
ওরা হাসপাতালে চলে এল।আগের মতই পরিত্যক্ত লাগল ভবন।ফ্রন্ট ডেস্কে আজ নার্সও নেই।ওরা হলওয়ে ধরে ছুটল।ভয়ে ধুকপুক করছে কলজে।সিন্ডির কী জানি কী হয়েছে? ওরা লাথি মেরে খুলে ফেলল দরজা।
টেডের বিছানা খালি।
চলে গেছে টেড।
তবে সিন্ডি আছে ঘরে।
মেঝের এক কোনায় বসে রয়েছে।
রক্তের পুকুরের মধ্যে বসে আছে সিন্ডি।ওদের দিকে তাকাল ভয়ংকর দৃষ্টিতে।
মৃদু গুঙিয়ে উঠল সিন্ডি।ওর ঠোঁট টকটকে লাল।
' হাই,' মোটা গলায় ডাকল সিন্ডি।
চোখের পলকে ওরা ছুটে এল সিন্ডির পাশে। না, কথাটা ঠিক বললাম না।অ্যাডাম এবং ওয়াচ দৌঁড়ে এল সিন্ডির কাছে।ব্রাইস এবং স্যালি নিরাপদ দূরত্ব রেখে দাঁড়াল।দু'জনেরই কোমড়ের বেল্টে কাঠের গোঁজ।ওদের চোখের দিকে তাকালে যে কেউ বুঝতে পারবে ওই জিনিস সিন্ডির ওপর প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না স্যালি এবং ব্রাইস।
' সিন্ডি।' হাহাকার করে উঠল অ্যাডাম।'কী হয়েছে তোমার?'
মাথা সামান্য কাত করে আছে সিন্ডি।স্থির দৃষ্টি অ্যাডামের দিকে।ওর চোখের সাদা জমিনে ফুটে আছে লাল শিরা।অ্যাডাম বুঝতে পারছে না সিন্ডি সত্যি ওর দিকে তাকিয়ে আছে কি না।ওকে হয়তো চিনতে পারছে না।
' জানি না,' বিড়বিড় করল সিন্ডি।
' টেড কী এখানে ছিল?' জিজ্ঞেস করল ওয়াচ। 'ও তোমার কিছু করেছে?'
ওয়াচের দিকে অলস চাউনি ঘুরে গেল।
চেহারা দেখে মনে হলো ওয়াচকে বোধহয় চিনতে পারেনি সিন্ডি।
' টেড,' বিড়বিড় করল সিন্ডি,এখনও কাত করে রেখেছে মাথা।
' না টেড।'
ওয়াচ হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করল সিন্ডির থুঁতনি, টেনে তুলল মাথা।
সিন্ডির ঘাড়ে দাঁতের রক্তাক্ত দাগ।
' ও ভ্যাম্পায়ার হয়ে গেছে,' আতকে উঠল স্যালি।
' ওকে মেরে ফেলতে হবে,' বলল ব্রাইস।
' আমরা সিন্ডিকে মারব না,' ধমকে উঠল অ্যাডাম,কন্ঠে বেদনা।'ও আহত হয়েছে।ওর সাহায্যের দরকার।'
এগিয়ে এল ব্রাইস,হাতে কাঠের গোঁজ।
'ও এমনি এমনি আহত হয়নি,টেড ওকে ভ্যাম্পায়ার বানিয়েছে।ওকে মেরে না ফেলল ও আমাদেরকে হামলা করবে।'
ওয়াচ তাকাল ব্রাইসের দিকে।'ওর শিরায় ভ্যাম্পায়ারের রক্ত থাকতে পারে তবে এখনও পুরোপুরি ভ্যাম্পায়ার হয়ে যায়নি।ওকে আমরা সুস্থ করে তুলতে পারব।এখনও আশা আছে।'
'কোনো আশা নেই,' যন্ত্রনাকাতর গলায় বলল ব্রাইস।সে ওদের চেয়ে সিন্ডিকে কম ভালোবাসে না।'আমাদেরকে বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।সিন্ডি এখন ওদের একজন। মেরে ফেললেই বরং ওর প্রতি দয়া দেখানো হবে।'
কদম বাড়াল স্যালি।'না,ওকে আমরা মারব না।'
ব্রাইস ঘুরল ওর দিকে।'তুমি জানো এখানে কী ঘটেছে।যা ঘটেছে আমরা এখন আবার তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারব না।'
'তাই বলে ওকে আমরা জানে মেরে ফেলতে পারি না,' বলল স্যালি।
' আমাদের কিছু একটা করা দরকার।' সে ব্রাইসের হাত স্পর্শ করল।
ব্রাইস মাথা নামিয়ে ফেলল।
'কিন্তু কী করব বুঝতে পারছি না,' বলল ও।' শুনেছি ভ্যাম্পায়ার একবার কাউকে কামড়ে দিলে শরীর থেকে ওই দূষিত রক্ত আর বের করা যায় না।'
অশ্রুসজল চোখে সিন্ডির দিকে তাকিয়ে আছে অ্যাডাম।সে উদভ্রুন্ত দৃষ্টিতে ঘরের চারপাশে তাকাচ্ছে।কাউকে চিনতে পারছে না।ওর গালে হাত বুলিয়ে দিল অ্যাডাম।অসম্ভব ঠান্ডা গাল।ঘরটাও প্রচন্ড শীতল।
' ও একদম ফ্যাকাসে হয়ে গেছে,' বিড়বিড় করল অ্যাডাম।
মাথা দোলাল ওয়াচ।টেড ওর শরীরের অনেকখানি রক্ত শুষে নিয়েছে।' চোখ বুজল সে, ডুবে গেল গভীর ভাবনায়।তারপর চোখ মেলে চাইল সিন্ডির দিকে।' মানুষের স্বাভাবিক রক্তের ট্রান্সফিউশন ভ্যাম্পায়ার হওয়ার ট্রান্সফরমেশন থেকে সিন্ডিকে হয়তো রক্ষা করতে পারবে।'
লাফ দিয়ে উঠল অ্যাডাম।'দারুন আইডিয়া।তুমি সত্যি একটা জিনিয়াস,ওয়াচ।হা
সপাতালে রক্তের অভাব নেই।একটা ডাক্তার ডেকে আনো জলদি।'
হাত তুলে ওকে থামিয়ে দিল ওয়াচ।ট্রান্সফিউশন আইডিয়া হলো সাময়িক। এই উন্মাদনা বন্ধ করতে হলে রানী শাটোরকে খুঁজে পেতেই হবে।সিন্ডিকে কাজে লাগিয়ে আমরা হয়তো তার খোঁজ পেতে পারি।'
'কিন্তু সিন্ডির দিকে ইঙ্গিত করল।'ওকে দেখো।কেমন একটা সম্মোহিত অবস্থার মধ্যে আছে সিন্ডি। যেন সম্মোহন করা হয়েছে।রানি হয়তো জাদুবিদ্যার সাহায্যে দূর থেকে ওর মন নিয়ন্ত্রন করছে।অ্যান টেম্পলটন তো বললই শাটোর তার সবগুলো ভ্যাম্পায়ারকে নিয়ন্ত্রণ করছে।'
' হ্যাঁ,' বলল অ্যাডাম।'শাটোর তাদের বস।'
'কিন্তু এতে সুবিধা কী?'
জিজ্ঞেস করল ব্রাইস।'রানী শাটোর হয়তো জেনে গেছে আমরা এখানে আছি।'
'সিন্ডির সম্মোহিত অবস্থা কাজে লাগিয়ে আমরাও উল্টো জানতে পারব রানি শাটোর এখন কোথায় আছে।' ওয়াচ বলল।
' কিন্তু কিভাবে?' জানতে চাইল স্যালি।
'দেখছি,' বলল ওয়াচ।ফিরল সিন্ডির দিকে।'সিন্ডি,তোমার চোখ বন্ধ করো।'
সিন্ডি বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে এক মূহুর্ত তাকিয়ে থাকল ওয়াচের দিকে তারপর বুজল চোখ।
(চলবে)
@নেকরে মানব
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now