বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার পর্ব--৯

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার অনুবাদ:অনীশ দাস অপু পর্ব--৯ ---------> বন্ধুদের মিথ্যে বলেছে সিন্ডি ম্যাকে।মিথ্যা বলার কারন তার মনটা অত্যন্ত নরম।টেড টেনকে সে না দেখে থাকতে পারছিল না।সে বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, সোজা হাঁটা দিল হাসপাতালে। তবে হাসপাতালে ঢুকেই ক্লাস মেটের সঙ্গে দেখা করা গেল না।অপেক্ষা করতে হলো।সন্ধ্যার পরে এল শ্যারন নামের সেই নার্সটি। সে সিন্ডিকে টেডের রুমে নিয়ে গেল। 'বেশিক্ষণ কিন্তু কথা বলা যাবে না,' সতর্ক করে দিল নার্স। ' ও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।' 'আজ সকালে ওকে যেমনটা দেখে গিয়েছিলাম এখন কি তারচেয়েও খারাপ দশা?' উদ্বেগ নিয়ে জানতে চাইল সিন্ডি। হাসল নার্স।ভারী মিষ্টি তার হাসি। 'না। সকালের চেয়ে সে ভালো আছে।' ' বাহ্,' খুশি হলো সিন্ডি।টেড যদি সুস্থ হয়ে ওঠে তো বুঝতে হবে ও আসলে ভ্যাম্পায়ার নয়।ভ্যাম্পায়ার হলে রক্তের অভাবে টেড আরো অসুস্থ হয়ে পড়ত।দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল সিন্ডি। বিছানায় বসে বই পড়ছে টেড।ওকে বই পড়তে দেখে পেশীতে ঢিল পড়ল সিন্ডির।ভ্যাম্পায়াররা নিশ্চয় বই পড়ে না। তবে টেডের ঘর অস্বাভাবিক ঠান্ডা। হয়তো হিটিং সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেছে, ভাবল সিন্ডি। টেড বই থেকে মুখ তুলল।ওকে দেখে হাসল। ওর হাসিটা সুন্দর। সাদা ঝকঝকে দাঁত। বইটা বিছানায় রেখে দিল টেড।সিন্ডিকে ইশারায় ডাকল তার পাশে বসার জন্য। 'হ্যালো', বলল ও।'তুমি এসেছো খুব খুশি হয়েছি।' সিন্ডি পা বাড়াল বিছানায়।'কেমন আছো?' 'আগের চেয়ে ভালো। ' 'কিন্তু চেহারাটা বড্ড ফ্যাকাসে লাগছে।' কাঁধ ঝাঁকাল টেড।'আমার শরীর থেকে অনেক রক্ত ঝরেছে,সিন্ডি।সুস্থ হতে সময় লাগবে।' বিছানায় চাপড় দিল।'এখানে এসে বসো।' 'ধন্যবাদ,' বিছানায় বসল সিন্ডি।ঝকঝকে চোখে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল টেড।এখনও লাল তবে আগের চেয়ে স্বচ্ছ।কেমন যেন সম্মোহনি চাউনি। ' সারাদিন কি করলে আর?' জিজ্ঞেস করল টেড। ' কী?' চোখ পিটপিট করল সিন্ডি। 'তুমি আর তোমার বন্ধুরা এখান থেকে যাবার পরে কি করেছো?' ওয়্যারহাউজের কথা পরিস্কার মনে করতে পারল না সিন্ডি।কেন মনে পড়ছে না ভেবে নিজেরই অবাক লাগল। 'তেমন কিছু না,' আবছা গলায় বলল ও।'ঘুরাঘুরি করে বেড়ালাম আর কী।' মৃদু তবে গমগমে কন্ঠে বলল টেড। 'বিশেষ কিছু করোনি?' জিজ্ঞেস করল সে। 'না।' 'বিশেষ কোথাও যাওনি?' 'না,' বলল সিন্ডি। সামনে ঝুঁকে এল টেড।ওর চোখ দুটো বড়বড় লাগল। ' তুমি ঠিক বলছো সিন্ডি?' তোতলাচ্ছে সিন্ডি।'আ-আমরা ট্রাম্পেলে পুরানো ওয়্যারহাউজটাতে গিয়েছিলাম।' 'ওখানে গিয়ে কী করলে?' কথাটা ওকে বলতে ইচ্ছে করছে না সিন্ডির।ভ্যাম্পায়ারদের আগুনে পুড়িয়ে মারার দৃশ্যটা মনে করতে চায় না ও।টেডকে বলতেও চাইছে না।সিন্ডি টেডের ওপর থেকে চোখ সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করল।পারল না।টেড যেন ওকে সম্মেহন করে ফেলেছে।ওর চোখ এমন গভীর আগে কখনও লক্ষ করেনি সিন্ডি। 'কিছু না,' জবাব দিল সিন্ডি। আরও কাছে চলে এল টেড।হাঁ করল মুখ।ওর দাঁত দেখে চমকে গেল সিন্ডি।সাধারন মানুষের চেয়ে বেশি দাঁত কেন টেডের মুখে। 'সেই কিছু না টা কি শুনি,' বলল টেড।যেন আদেশ করা হলো। ' ওয়্যারহাউজের ভেতরে গিয়েছিলাম আমরা,' জবাব দিল সিন্ডি টানাটানা গলায়। ' ওয়্যারহাউজের ভেতরে ঢুকে কী করলে?' ' চারপাশে চোখ বুলাচ্ছিলাম,' বলল সিন্ডি। ' কী খুঁজছিলে?' ' তুমি জানতে চাইছো......?' ' বলো?' গর্জে উঠে টেড। সিন্ডির দম কেমন বন্ধ হয়ে আসতে চাইছে।নড়াচড়াও করতে পারছে না।যেন বিছানার সাথে পেরেক মেরে আটকে দেয়া হয়েছে শরীর। টেডের প্রশ্নের জবাব যেন ওকে দিতেই হবে,এছাড়া উপায় নেই। ' আমরা ভ্যাম্পায়ার খুঁজছিলাম,' বলল সিন্ডি। টেডের মুখের হাসি চওড়া হলো,'পেয়েছিলে খুঁজে?' ' হ্যাঁ।' ' ক'টা?' ' বলতে পারব না।একটা পেয়েছিলাম।তবে,, ,,' ' তবে কী?' ' আমাদের ধারনা ওখানে আরো ছিল।' ইতস্তত করল সিন্ডি।সে এ প্রশ্নের জবাব দিতে চায় না।মনে হচ্ছে জবাব শুনলে রেগে যাবে টেড।ওকে রাগিয়ে দিতে ভয় লাগছে সিন্ডির।সে টেডের দৃষ্টি থেকে নিজের চোখ কিছুতেই সরাতে পারছে না। ' আমরা ভ্যাম্পায়ারটার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেই,' অবশেষে জবাব দিল সিন্ডি। দপ করে নিভে গেল টেডের মুখের হাসি।'অমন কাজ করলে কেন?' 'কারন ওটা ছিল একটা দানব,' বলল সিন্ডি।'আমরা ওটাকে ধ্বংস না করলে ওরা আমাদেরকে শেষ করে দিত।' শিরদাঁড়া টান টান করে সরে গেল টেড।এখনও স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সিন্ডির দিকে। 'তুমি জানো আমি কে?' জিজ্ঞেস করল টেড। আবছা মাথা নাড়াল সিন্ডি। 'আমি একটা দানব সিন্ডি,' বলল সে। ঢোক গিলল সিন্ডি,' না।' ' হ্যাঁ। সত্যি কথাই বলছি আমি।তুমি এই হাসপাতালের ঘরে একটা দানবের সঙ্গে আছো।' টেড বন্ধ জানালায় তাকাল।বাইরে থেকে কোনো আলো আসছে না।খসখসে গলায় সে যোগ করল। ' একটা ভ্যাম্পায়ারের সাথে তুমি বসে আছো।এর অর্থ জানো?' মাথা নাড়াল সিন্ডি। 'তুমি ভ্যাম্পায়ার হতে পারো না।' ' কুৎসিত হাসি ফুটল টেডের মুখে।' 'কেন হতে পারি না?' 'কারন তুমি আমার বন্ধু। আর আমি তোমার বন্ধু।আমি এখানে বন্ধু হিসেবে এসেছি।' সিন্ডির দিকে সরে এল টেড। 'এখানেই ভুল করেছো,সিন্ডি।' ভ্যাম্পায়ারদের কোনো বন্ধু নেই।থাকতে পারে না।তাদের কেবল ভৃত্য এবং ভিক্টিম থাকে।তুমি কোনটা হতে চাও?' কথা বলতে গিয়ে সিন্ডি লক্ষ করল মুখ খুলতে পারছে না সে।ভয়ের চোটে গলা শুকিয়ে গেছে।সে বুঝতে পারছে মস্ত বিপদে আছে।বুঝতে পারছে তার এখুনি ছুটে পালানো উচিত। কিন্তু পারছে না ওই চোখ জোড়ার জন্য। সিন্ডি অকষ্মাৎ বুঝতে পারল ওই শয়তান চোখ তাকে সম্মোহিত করে ফেলেছে। ' আমি কিছুই হতে চাই না,' ফিসফিস করল সিন্ডি।'আমি বাড়ি যেতে চাই। মাথা নাড়াল টেড বিদ্রুপের ভঙ্গিতে। 'এখন যে আর বাড়ি ফেরা যাবে না,সিন্ডি।আজ রাত থেকে তুমি আর বাড়ি ফিরতে পারছো না।অন্তত নিজের চেনা বাড়িতে।তুমি কি জানো আমার বাবা-মা আমাকে ভ্যাম্পায়ার বানিয়েছে।আমি পালাবার চেষ্টা করেছিলাম।কিন্তু তার আগেই সর্বনাশ যা হবার হয়ে গেছে।এজন্যই তোমরা ওদেরকে বাড়িতে পাওনি।তারা হয়তো বাড়ির বেযমেন্টে শুয়ে ঘুমাচ্ছে।' সিন্ডি বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করল। টেড খপ করে ওর হাত চেপে ধরল।কী শক্তি গায়ে। ' আমাকে ছেড়ে দাও,' গুঙ্গিয়ে উঠল সিন্ডি। ' পারবো না।' 'প্লিজ,' অনুনয় করল সিন্ডি।'আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না।' মুচকি হাসল টেড।'কিন্তু আমি তোমার ক্ষতি করবো।তবে আগে আমার প্রশ্নের জবাব চাই।কী হতে চাও তুমি?' সিন্ডির গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছে।কিছুই বলল না সে। টেডের চোখ এখন তার মুখের মতই বড়।যেন সিন্ডিকে জ্যান্ত গিলে খাবে। সে আরও এগিয়ে এল।ঠান্ডা নিশ্বাস পড়ল সিন্ডির মুখে। 'তুমি কি চাও আমি তোমার রক্ত শুষে এখানে মেরে ফেলি?' জিজ্ঞেস করল টেড। 'তাহলে একদিক থেকে ভালোই হবে।আর যন্ত্রনা পোহাতে হবে না।নাকি তুমি আমার মত ভ্যাম্পায়ার হতে চাইছো?' চোখ বুজল সিন্ডি। অঝোরে কাঁদছে।'আমি কিছুই চাই না।' খনখনে গলায় হেসে উঠল টেড।সিন্ডি টের পেল টেডের মুখ ওর দিকে এগিয়ে আসছে,গলায় তীক্ষ্ণ নখ গেঁধে গেল। ' তোমাকে আমি মারব না,' সিন্ডির কানে ফিসফিস করল সে। 'তোমাকে আমি অমর করে রাখবো।' সিন্ডির গলার নরম চামড়ায় ফুটল টেডের ধারাল দাঁত। সুই ফোঁটার মত ব্যথা টের পেল সিন্ডি। নাকে ভেসে এল রক্তের গন্ধ। তারপর গভীর একটা পর্দা গ্রাস করল ওকে। (চলবে) @নেকরে মানব


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now