বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার
অনুবাদ:অনীশ দাস অপু
পর্ব--৪
অ্যাডাম সিন্ডিকে সান্তনার ভঙ্গিতে বলল,' কেউ কাউকে হত্যা করতে যাচ্ছে না।'সব কিছুর একটা ব্যাখ্যা থাকে।ওয়াচ তোমাদের কি করে ধারনা হলো টেড ভ্যাম্পায়ার? '
কাঁধ ঝাঁকাল ওয়াচ।' ভ্যাম্পায়ার হওয়ার সমস্ত চিহ্নই ওর মধ্যে ফুটে উঠেছে।গত রাতে ওর ঘাড়ে ক্ষত দেখেছি আমরা।অথচ কামড়ের দাগ আজ মিলিয়ে গেছে বেমালুম।সে সূর্যের আলো সইতে পারে না।' বিরতি দিল সে।
'ওর সঙ্গে আমাদের দেখা হওয়ার আগে কোনো ভ্যাম্পায়ার ওর ওপর হামলা করেছিল।তখন সাঁঝের আঁধার ঘনিয়েছে।'
'কিন্তু ভ্যাম্পায়ারটা এল কোত্থেকে?' জিজ্ঞেস করল অ্যাডাম।
'সিনেমা হলে যে ভ্যাম্পায়ার মেয়েগুলো কাজ করে এটা বোধহয় তাদের কারো কান্ড,' বলল স্যালি।
ওয়াচ বলল,' ওই মেয়েগুলো ভ্যাম্পায়ার সাজার ভান করে মাত্র।তবে ওরা ভ্যাম্পায়ার নয়।আমি ভাবছি টেডের মত আরো কতজন শহরে ভ্যাম্পায়ারের হামলার শিকার হয়েছে।'
'অন্তত দু'জনের কথা আমরা জানি,'ড. পেইন দুই রোগীর উদাহরন টেনে বলল ব্রাইস। 'ওদেরকে কোথায় রাখা হয়েছে জানা দরকার। '
'ঠিক বলেছো,'বলল ওয়াচ। 'তবে দিনের আলো থাকতে থাকতে ভ্যাম্পায়ারদের লুকানো আস্তানা খুঁজে বের করা জরুরী।সূর্য ডুবে গেলে আমরা আর ওদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবো না।'
'এক মিনিট,' বলল অ্যাডাম। 'আমার কিন্তু বিশ্বাস হয়না শহরে সত্যি ভ্যাম্পায়ার আছে।'
'তাহলে টেডকে পরীক্ষা করে দেখো,' বলল ওয়াচ।'রসুন নিয়ে ওর ঘরে ঢোকো। দেখো সে কী কান্ড করে?'
'কিংবা আয়নায় ওর প্রতিবিম্ব পড়ে কি না তাও দেখা যায়,' পরামর্শ দিল স্যালি।
'ওর ঘরে একটা আয়না আছে দেখেছি,' বলল সিন্ডি।ওদের কথা সে বিশ্বাস করতে পারছে না।পা বাড়াল টেডের ঘরে।'আমি আয়না ধরবো ওর সামনে।প্রমান করে ছাড়বো তোমরা ভুল ভাবছো।
ওকে থামাল অ্যাডাম। 'দাঁড়াও।
আমি তোমার সঙ্গে যাবো।'
'কেন?' জিজ্ঞেস করল সিন্ডি। 'ও তো অসুস্থ। ও আমার কিছু করতে পারবে না।'
'ও যদি ভ্যাম্পায়ার হয়ে থাকে,তোমাকে খুন করে ফেলবে,' গম্ভীর গলায় বলল স্যালি। 'কিংবা তারচেয়েও খারাপ কিছু ঘটতে পারে তোমার কপালে।'
'আমরা দু'জনে মিলে ওকে পরীক্ষা করব,' বলল অ্যাডাম সিন্ডিকে।সাবধানে খুলল টেডের ঘরের দরজা।
টেড শুয়ে আছে বিছানায়।ঘুমাচ্ছে।মুখের একটা পাশ চাদর দিয়ে ঢাকা।অ্যাডাম এবং সিন্ডি নিঃশব্দে চলে এল খাটের অপর পাশে।এখানে একটা আয়না আছে।আয়নায় অ্যাডাম এবং সিন্ডিকে দেখা গেল।তবে টেডের মুখ আয়না থেকে অদৃশ্য।
'ওহ, না?' গুঙিয়ে উঠল অ্যাডাম।
'ওর মুখ দেখা যাচ্ছে না কারন মুখটা চাদর দিয়ে ঢাকা,' ফিসফিস করল সিন্ডি।
'পুরোপুরি ঢাকা নয়,' অ্যাডামও ফিসফিস করল। 'ওর চুল অন্তত দেখা যেত।'
'তুমি কি ওদের কথা বিশ্বাস করছো?' বলল সিন্ডি।
'বিশ্বাস করা শুরু করেছি,' বলল অ্যাডাম।
সিন্ডি বলল,'কিন্তু আমরা টেডকে হত্যা করতে পারি না।'
'আমি বলিনি যে আমরা ওকে হত্যা করব,' বলল অ্যাডাম।
'এসো। বেরুই।'
অন্যরা অপেক্ষা করছে হলওয়েতে।
'আশা করি তোমাদের সন্দেহ দূর হয়েছে,' বলল স্যালি।লক্ষ্য করছে ওদের অভিব্যক্তি।
'এ দিয়ে কিছুই প্রমান হয় না,' দ্রুত বলল সিন্ডি। 'তোমরা ওর বুকে গজাল ঢুকাতে পারো না।'
'আমি ঢুকাব,' বলল ব্রাইস।
'ও রক্ত চোষা,' বলল স্যালি। 'ওকে মরতেই হবে। আজ হোক আর কাল হোক।'
চেহারায় অন্ধকার ঘনাল সিন্ডির। ' তোমরা খুব নিষ্ঠুর।'
ওয়াচ বলল,' যারা টেডকে ভ্যাম্পায়ার বানিয়ে দিয়েছে তাদেরকে আগে খুঁজে বের করতে হবে।এবং সেটা সূর্য ডুবে যাবার আগেই।'
'কিন্তু ওরা কোথায় লুকিয়ে থাকতে পারে?' জিজ্ঞেস করল অ্যাডাম।
'অন্ধকার, গোপন কোনো জায়গায়,' বলল স্যালি। 'আর স্পুকসভিলে এরকম জায়গার অভাব নেই।'
' আগে ড. পেইনের সঙ্গে একটু কথা বলি,' বলল ব্রাইস।
'তার দুই রোগী সম্পর্কে খোঁজখবর নেই।ভ্যাম্পায়াররা কোথায় লুকিয়ে থাকতে পারে সে ব্যাপারে হয়তো কোনো ক্লু দিতে পারবেন।'
সবাই ব্রাইসের পরামর্শ মেনে নিল।
ড. পেইনকে পাওয়া গেল হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে। তিনি মাইক্রোস্কোপে ঝুঁকে রক্তের নমুনা পরীক্ষা করছিলেন। হয় টেডের অথবা তাঁর সেই আগের দুই রোগীর রক্ত।ও্যাডামদের এরকম মনে হওয়ার কারন ডাক্তার ওদেরকে দেখে কেমন যেন চমকে গেলেন।
'তোমাদের এখানে আসা উচিৎ হয়নি,' বললেন তিনি।
' আমরা আপনার কাছে কয়েকটি জিনিস জানতে এসেছি,' বলল ওয়াচ। 'জবাব পেলেই চলে যাবো।' মাইক্রোস্কোপের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, কি পরীক্ষা করছেন?'
' তোমাদের বন্ধুর রক্তের নমুনা,' কপালে ভাঁজ পড়ল ডাক্তারের,মাইক্রোস্কোপের আইপিসে চোখ রাখলেন আবার।
' তার রক্ত অস্বাভাবিক রক্ত।'
' এর কারন সে ভ্যাম্পায়ার,' স্বাভাবিক গলায় বলল স্যালি।
ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন পেইন। 'তার রক্ত সাধারন মানুষের মত নয়,ব্যস।'
' মানে?' জিজ্ঞেস করল ওয়াচ।
' টেডের রক্ত এমনভাবে ডেভেলপ করেছে যে সে যে কোনো ভাইরাস কিংবা ব্যাক্টেরিয়াধ্বংস করে দিতে পারে।তার রক্ত খুব দ্রুত জমাট বাঁধতেও সক্ষম।তাছাড়া - ওর রক্তে লবন বলে কিছু নেই।' ডাক্তারকে কেমন হতভম্ব লাগল।
' কিন্তু রিক্তে লবন না থাকলে তো বেঁচে থাকা সম্ভব নয়,' বলল ব্রাইস।
' ভ্যাম্পায়াররা তো টেকনিক্যালি বেঁচে নেই,' বিড়বিড় করে বলল স্যালি।
' আপনি ওর রক্ত পরীক্ষা করছেন কেন?' জিজ্ঞেস করল ওয়াচ।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন ডাক্তার। 'আমি কিছু প্রশ্নের জবাব খুঁজছিলাম।আমার অন্য দুই রোগীর রক্তের নমুনা আমি সংগ্রহ করতে পারিনি।'
' কেন পারেননি?' জিজ্ঞেস করল ব্রাইস। ' তারা গেছে কোথায়?'
' গত রাতে চলে গেছে। মাঝ রাতে।কাউকে বলে যায়নি।'
' এরা কারা?' প্রশ্ন করল ওয়াচ।
' দুঃখিত,' বললেন ড. পেইন।' ওদের নাম বলা যাবে না।'
' ওদের খুঁজে পেতে চাইলে নাম বলুন,' বলল স্যালি। ' আমরা ওদের খুঁজে বের করব।অন্তত ওদের ভালোর জন্যেও নামগুলো বলুন।'
এক মূহুর্ত ভেবে নিয়ে ড. পেইন বললেন,' ঠিক আছে ওদের নাম বলছি আমি।তবে একটা শর্ত আছে- ওদেরকে হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।ওদের কিছু টেস্ট করব।ওরা যেভাবে সুস্থ হয়ে চলে গেল,আমি রীতিমত তাজ্জব বনে গেছি।'
'আমার ধারনা টেডও আজ রাতে একই ঘটনা ঘটাবে,' বিড়বিড় করে বলল স্যালি।
' ওর কথা শুনেও না শোনার ভান করল ড. পেইন।'
স্যালি ভ্যাম্পায়ার নিয়ে যেসব মন্তব্য করেছে,তিনি তা বিশ্বাস করেননি। অবশ্য তিনি হাসপাতালের চার দেয়ালের বাইরের খুব কমই খবর রাখেন।তবে দুই রোগীর নাম বলে দিলেন ডাক্তার : ক্যাথি মেলন এবং ডারেল ফ্রেজার।সাথে সাথে একটা বিষয়ে দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে দিল ওয়াচ।তবে কথাটা ডাক্তারের ল্যাবরেটরির বাইরে এসে।
' টেড,মেলন এবং ফ্রেজাররা সবাই ট্রাম্বেলের পুরানো ওয়্যারহাউজ এলাকায় থাকে,' বলল ও। ' ওটা শহরের উত্তরে,পাহাড়ের রাস্তাটার ধারে।ওয়্যারহাউজটা বহুদিন ধরে পরিত্যক্ত।তবে এক সময় ফোম রাবারের ফ্যাক্টরি ছিল ওটা।দিনের বেলা ভ্যাম্পায়ারদের লুকিয়ে থাকার জন্য ওর চেয়ে ভালো জায়গা হয় না।
সায় দিল স্যালি। ' আর ওরা রাতের বেলায় বেরুলে, দলে যদি ভারী না হয়,খুব একটা দূরেও যাবে না।আমি নিশ্চিত ওরা ওখানেই লুকিয়ে আছে।'
'টেড গত রাতে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগে বিড়বিড় করে কী বলেছিল মনে আছে?' বলল ওয়াচ। ' কী এক রানি শাটোরের কথা বলেছিল।এই রানিই হয়তো ভ্যাম্পায়ারদের নেত্রী।'
' একটা প্লান করা দরকার,' বলল ব্রাইস। ' আমরা মন চাইল আর ওয়্যারহাউজে ঢুকে পড়লাম - এমনটা করলে হবে না।তাহলে আর ওখানে থেকে বেঁচে ফিরতে পারবো না।আমাদের জোগাড় করতে হবে হোলি ওয়াটার,ক্রুশ,রসুন,সাদা গোলাপ,গজাল- ভ্যাম্পায়াররা ভয় পায় এরকম সব জিনিস।'
' সাদা গোলাপে ওদের ভয় কেন জানি না,' বলল স্যালি।
ওদের কথা বার্তা পছন্দ হচ্ছে না সিন্ডির।' আমরা ওয়্যারহাউজে ঢুকলাম আর ওখানে যারা ঘুমাচ্ছে তাদের সবার বুকে কাঠের গোঁজ ঢুকিয়ে দিলাম- এটা একটা কথা হলো?' ওরা তো উদ্বাস্তু ও হতে পারে।ঘরবাড়ি নেই।'
' স্পুকসভিলে বাম ছাড়া আশ্রয়হীন মানুষ আর একটিও নেই,' বলল স্যালি। ' যারা ছিল তাদের সবাইকে শয়তানগুলো ধরে খেয়ে ফেলেছে।'
' সিন্ডি,' ধৈর্য নিয়ে বলল ওয়াচ,' আমরা আগে নিশ্চিত হয়ে নেব ওরা সত্যি ভ্যাম্পায়ার কি না।তবে আমার ধারনা ব্রাইস ঠিক কথাই বলেছে।আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়াই উচিৎ। 'আমরা এখন ব্রাইসের বাড়ি যাব।ওর যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রয়োজনীয় অস্ত্র তৈরি করে নেব।'
' আমার বাসায় কাঠের অভাব নেই,' বলল ব্রাইস।
ওয়াচ বলল,' সিন্ডি,আমরা চাই না তুমি আর টেডের সঙ্গে দেখা করো।'
সিন্ডি অস্বস্থি নিয়ে বলল,' তোমরা ওকে মারবে না তো?' এ নিয়ে দশবার প্রশ্নটি করল সে।
' ও আর আগের টেড নেই।কাজেই ব্যাপারটা তোমার মেনে নেয়া উচিৎ,' বলল স্যালি।
' ওকে আমরা মারব না যদি না ও আমাদেরকে মারতে আসে,' বলল ওয়াচ।
সিন্ডি বলল,' ও তো কারো ক্ষতি করেনি।'
' এখনও করেনি,' গম্ভীর গলায় বলল স্যালি।
(চলবে)
@নেকরে মানব
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now