বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার
অনুবাদ:অনীশ দাস অপু
পর্ব--৩
------------------------------
'ক্ষতগুলো সেলাই করেননি?ওখান থেকেই ঝরছিল রক্ত।'
'আমি ওর ঘাড়ে কোনও দাগ টাগ দেখিনি,' বিস্মিত গলায় বললেন ডাক্তার।'বুঝতে পারছি না ছেলেটা এত রক্ত হারাল কিভাবে?'
'টেড কি এখন ভালো আছে?' জিজ্ঞেস করল সিন্ডি।
'এখনও খুব দুর্বল।' জবাব দিলেন পেইন।হাত রাখলেন দরজার হাতলে।বেরুবেন।'ওর সূর্যের আলোও সহ্য হচ্ছে না।ওর সাথে কথা বলার সময় জানালা টানালা খুলো না যেন।'
শেষ কথাটা শুনে তড়াক করে লাফ দিল ওয়াচ এবং স্যালির কলজে।
ওরা ঢুকল টেডের ঘরে।
ওদেরকে দেখে বিছানায় উঠে বসল টেড,হেলান দিল বালিশে।
প্রথম দর্শনে ওকে মনে হলো সামান্য ক্লান্ত।তবে ভালোভাবে লক্ষ করলে বোঝা যায় ওর চোখ এখনও টকটকে লাল,রক্ত দেয়া সত্ত্বেও ত্বক থেকে ম্লান,ফ্যাকাসে ভাবটা দূর হয়নি।ঘর অন্ধকার। জানালা বন্ধ।এবং ঘরটি আশ্চর্য রকম শীতল।
ওদেরকে কথা বলার সুযোগ দিয়ে চলে গেলেন ড. পেইন।
'কেমন বোধ করছো এখন?' উদ্বেগ নিয়ে জানতে চাইল স্যালি।তুলে নিল টেডের হাত।স্পর্শে শিউরে উঠল।কী ঠান্ডা হাত! কেমন ঘোর লাগা চোখে ওর দিকে তাকাল টেড।
'ভালো,' দুর্বল গলায় জবাব দিল সে।
'তোমাকে খুবই বিশ্রী লাগছে,' মন্তব্য করল স্যালি। 'কী হয়েছিল?'
টেড স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্যালির দিকে, যেন এই প্রথম দেখছে ওকে।
'মানে?' জিজ্ঞেস করল সে।
'তোমার এত রক্ত ক্ষরন হলো কীভাবে?' জিজ্ঞেস করল স্যালি।
'তোমার ঘাড়ে বা কে কামড়ে দিল?'
টেড পলকহীন চোখে তাকিয়েই আছে স্যালির দিকে।
'তুমি কি বলছো কিছুই বুঝতে পারছি না,' বলল ও।
'গত রাতের যা ঘটনা কিছুই মনে নেই তোমার?' জিজ্ঞেস করল ব্রাইস।
'না,' নিরাসক্ত কন্ঠ টেডের।
'টেনিস কোর্টে যে হুড়মুড় করে পড়ে গিয়েছিলে,মনে আছে?' জানতে চাইল অ্যাডাম।
'না,' জবাব দিল টেড।
'তাহলে কি মনে আছে তোমার?' প্রশ্ন করল ওয়াচ।
'বললামই তো কিছুই মনে নেই আমার,' জবাব দিল টেড।
'শেষ কোন স্মৃতিটি মনে পড়ছে তোমার?' সহজে হাল ছেড়ে দেবার পাত্রী নয় স্যালি।
শীতল শোনাল টেডের কন্ঠ।'তোমরা আমাকে এসব প্রশ্ন করছো কেন?'
'আমরা শুধু বোঝার চেষ্টা করছি তোমার কি হয়েছে,' বলল সিন্ডি।'
এখনও ধরে আছে হাত।'তোমাকে নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা হচ্ছে।'
'দুশ্চিন্তা করতে হবে না,' আবেগ শুন্য গলায় বলল টেড।
'আমি ভালো আছি।'
'তুমি ভালো নেই,' বলল স্যালি,এগিয়ে এল কাছে।
'তোমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কারন তোমার শরীর থেকে প্রচুর রক্ত ঝরেছে।' সামনে ঝুঁকে টেডের ঘাড় পরীক্ষা করল। ' তোমার ঘাড়ের দাগগুলো কই?'
'তুমি কী বলছো কিছুই বুঝতে পারছি না,' বলল টেড।
'বুঝতে তো পারবেই না,' বলল স্যালি। হঠাৎ বিছানা থেকে নেমে পড়ল ও, চলে এল জানালার সামনে।ঝট করে খুলে দিল জানালা।ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠল টেড। মূহুর্তে শরীরটাকে গুটিয়ে বলের মত করে ফেলল সে, মাথার ওপর টেনে দিল কম্বল।
'স্যালি?' চেঁচাল সিন্ডি। ' জানালা বন্ধ করো।ড. পেইন কী বলেছেন,শোনোনি। টেডের জন্য সূর্যের আলো এখন ক্ষতিকর। '
জানালা বন্ধ করে দিল স্যালি।ফিরে এল বিছানায়। ধীরে ধীরে মাথার ওপর কম্বল সরাল টেড।তাকাল চারপাশে। তার লাল টকটকে চোখ জোড়া জ্বলছে রাগে।তবে পাত্তা দিল না স্যালি। 'বুঝতে পেরেছি' ধরনের একটা ভঙ্গি ফুটেছে চেহারায়।
'আমাদের টেড বাবু সূর্যের আলো সইতে পারো না কেন?' শান'ত গলায় জিজ্ঞেস করল ও।
কথা বলে উঠল ওয়াচ। 'টেড,আমরা আজ চলি।তুমি বিশ্রাম নাও।পরে আবার দেখা হবে,কেমন?'
টেড রাগ দমন করার কিংবা বলা যায় লুকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছে।
'তোমরা আবার যখন আসবে আমি তখন এখানে থাকব না,বলল সে।'
সিন্ডি ওর হাতে চাপড় দিল।'বিশ্রাম নাও এবং সুস্থ হয়ে ওঠো।'
ওয়াচের তারা খেয়েই যেন দলটা দ্রুত ত্যাগ করল ঘর।
হাসপাতালের হলওয়েতে এসে ওরা মুখ খুলল।
'ও ভ্যাম্পায়ার হয়ে গেছে,' জোর গলায় বলল স্যালি। 'তাতে কোনো সন্দেহ নেই।যত দ্রুত সম্ভব একটা কাঠের গোঁজ বানিয়ে ওর কলজে ফুঁড়ে দিতে হবে।তারপর কাটব ওর মাথা এবং মুখে পুরে দেব রসুন।তারপর শরীরটা চুবিয়ে রাখব পুকুরে।' দম নেয়ার জন্য বিরতি দিল সে। 'আমি ভ্যাম্পায়ার একদম সহ্য করতে পারি না।'
সিন্ডিকে দেখে মনে হলো স্যালির কথা শুনে সে খুবই শকড হয়েছে।
'কী বলছো তুমি?'
' হাস্যকর একটা কথা বললে তুমি,' বলল অ্যাডাম। ' টেড অসুস্থ।
ব্যস,এর বেশি কিছু নয়। আমরা ওর কলজের মধ্যে কিছু ঢোকাতে যাচ্ছি না।'
'তুমি সত্যি অদ্ভুত একটা মেয়ে,' ভর্ৎসনা করল সিন্ডি।
অনিচ্ছা সত্ত্বে যেন বলল ওয়াচ, 'আমার ধারনা স্যালি ঠিক কথাই বলেছে।'
অ্যাডাম এবং সিন্ডি অবাক হয়ে তাকাল ওর দিকে।অস্বস্থি নিয়ে ওয়াচ বলল, ' তবে এখনি টেডের হৃদপিন্ডে গজাল ঢোকাতে বলছি না আমি।তবে ওর আচরনে ভ্যাম্পায়ারের পরিস্কার কিছু লক্ষণ ফুটে উঠেছে।কপালে ভাঁজ পড়ল সিন্ডির। 'যেমন?'
'টেড এখনও ভ্যাম্পায়ার হয়নি,' বলল ব্রাইস। ' মানে পুরোপুরি ভ্যাম্পায়ার বনে যায়নি।তবে ভ্যাম্পায়ার হতে চলেছে।হয়তো আজ রাতেই শহরের অর্ধেক মানুষের রক্ত খেতে বেরিয়ে পড়বে।'
' অন্যরা আক্রান্ত হওয়ার আগেই ওকে ধ্বংস করে দেয়া শ্রেয়,' উদাস গলায় বলল স্যালি।
'কিন্তু আমরা টেডের সঙ্গে স্কুলে যাই,' বলল সিন্ডি। 'আমরা ওকে হত্যা করতে পারি না।'
(চলবে)
@নেকরে মানব
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now