বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গাজায় আমি কেয়ামত দেখেছি
ছোট মেয়েটিরঝাঁজরা দেহে ক্ষতেরহিসাব নেই। বুক, পেট, পিঠএমনকি মলদ্বারে ছোট ছোট গর্ত।পোড়া গন্ধ। আট বছরের এইবাচ্চা মেয়েটি কি বাঁচবে?ঈশ্বরের দয়া যে, অপারেশন শেষেওতার জীবন বেঁচে আছে। গাজার আলশিফা হাসপাতালে আমি কিছুদিনধরেই এমন অপারেশন করছি। ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে র সবধরনের রোগী প্রতিদিনবৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের অধিকাংশইশিশু বা কিশোর। আর আছে নারী।এমন অসংখ্যরোগী আমাকে প্রতিদিনইদেখতে হয়। যাদের বেঁচে থাকারকথা নয়। অথচ বেঁচে যায়-ডেইলি মেইলে প্রকাশিত একপ্রতিবেদনে এভাবেই যুদ্ধকবলিতগাজার চিত্র তুলে ধরেছেন লন্ডনেরখ্যাতনামা চিকিৎসক ডেভিড নট।বর্তমানে তিনি গাজার আলশিফা হাসপাতালে সেবা করছেন।২০ বছর ধরে তিনি রেডক্রসেরস্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকহিসেবে বসনিয়া, ইরাকেওচিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। কিন্তুএতনির্মমতা, এতনিষ্ঠুরতা তাকে কোনো যুদ্ধেইদেখতে হয়নি। আর তাই মানবিকদায় থেকেই গাজার বাস্তবচিত্রতুলে ধরেছেন তার এই লেখায়...গত সপ্তাহের ভয়াবহতা আমারকাছে মনে হয়েছে কেয়ামতের দৃশ্য।ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে রকেটআছড়ে পড়ছে। সাগরে নৌবহর,রাস্তায় ট্যাংকেরপাশাপাশি এফ-১৬ আক্রমণ।চারদিকে শুধু বোমা বিস্ফোরণেরশব্দ। এই দৃশ্য বর্ণনা করা সম্ভবনয়। হলিউডের টম ক্রুজের সিনেমারচেয়েও ভয়ংকর চিত্র। সোজা কথায়-গাজায় আমি কেয়ামত দেখেছি।কোথাও কেউ ঘুমাতে পারছে না।প্রতিটি বেড, প্রতিটি ঘর,প্রতিটি ভবন দুলে দুলে উঠছে।আমার মনে হয়েছিল এইরাতে আমি মারা যাব। আলশিফা হাসপাতালে এখন পৃথিবীরসবচেয়ে আর্তনাদ আহাজারি আরচিৎকার। কোনো সুস্থ মানুষ এইপরিবেশে শ্বাস নিতে পারে না।তবুও সব অপারেশন চলছে।চিকিৎসা বন্ধ নেই। একজনডাক্তারকে চিকিৎসা করতে হলে পরিবেশেরপ্রভাব থেকে তাকে সম্পূর্ণ মুক্তথাকতে হবে।চারপাশে কী হচ্ছে দেখার দরকারনেই।তোমাকে সেবা করে যেতে হবে।অন্যথায় রোগী কিছুই পাবে না।গতকাল বিকালে শোনা গেলহাসপতালেও বোমা পড়বে।আমরা বোমার আতংক নিয়েওঅপারেশন করছি। বুকের মধ্যে ঠকঠক শব্দ উঠছে। তবু আমরা অন্যেরপ্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছি।শরীরের অঙ্গ স্বাভাবিক করারকাজকরছি। দুই দিন আগের কথা। মাত্র২০ মিনিটে ১৪০ জন রোগী এল।মেঝেতেই তাদের অপারেশন করছি।২৫ বছর বয়সী একজন যুবকবোমারআঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। ছয়ঘণ্টা ধরে তার সার্জারি করেছি।কিন্তু ইনটেনসিভ কেয়ারে সে হঠাৎমারা গেল। আমি মানসিকভাবে বড়আঘাত পেলাম। আরেকজন রোগীরদুইহাত এবং ঘাড়ের এক পাশ বোমায়উড়ে গেছে। প্রতি মুহূর্তে একেকরকম সার্জারি করছি। কিন্তু মনেরঅবস্থা কিছুতেই ভালো হচ্ছে না।যুদ্ধবিরতির সময় ফিলিস্তিনরেডক্রিসেন্ট সোসাইটি একশ লাশনিয়ে এসেছে। এদের অনেকেইআটদিন ধরে মরে পড়ে ছিল।বাতাসে পচা গন্ধ ছড়িয়েছে। এসবকথা লিখে কোনো লাভ নেই।হয়তো আগামীকালআরেকটি কেয়ামতঅনুষ্ঠিত হবে। আবার নারী ও শিশুরমৃত্যু। ক্ষত-বিক্ষত দেহেরআর্তনাদ।আজ আমার মনে হচ্ছে যদি আমারদেশেও এমন বর্বরতা চলত? আমারস্ত্রী-সন্তানরা ও যদি এমনহতো?সে হিসেবে হয়তো বেঁচেই গেছি!আমি বিয়ে করিনি। আমার পরিবারনেই। আমি এভাবেইসেবা করে জীবন পার করতে চাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now