বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘড়ি টা নিজের মতো করে টিকটিক টিক করে যাচ্ছে।
অনিন্দিতা পাশে তাকালো। আনাফ ঘুমাচ্ছে, আস্তে করে উঠে বারান্দায় গেলো ও।
বারান্দায় জোছনার আলো চারপাশে! কোথাও কোনো আওয়াজ নেই!! চারপাশে এক স্নিগ্ধ আলো
মনে হচ্ছে যেনো পুরো পৃথিবীটা নিস্তব্ধ! সবাই ই গভীর ঘুমে! ইয়াহ,এখন ই সময় প্ল্যানটাকে বাস্তবায়ন করার...!!
অনিন্দিতা আস্তে করে আলমারি খুলে ড্রয়ার টা খুললো,ভেতরে কিছু কাগজ পত্র দেখা যাচ্ছে আবছা আলোতে!
এসব কাগজে কি লেখা তা কেউ না জানলেও ও জানে। এগুলো ডিভোর্স পেপার।
অনিন্দিতা হঠাৎ কুচিকুচি করে কাগজ গুলো ছিড়ে বাহিরে ফেলে দিলো। সেগুলো উড়তে উড়তে একসময় ছড়িয়ে পড়লো মাটির সবখানে..!!
সে তারপর আবার ঘুমিয়ে গেলো মনে শান্তি নিয়ে। যাক! সমস্যা নেই আর!
.
.
.
অনিন্দিতা ঘুমিয়ে আছে, পাশে আনাফ..হঠাৎ করে আনাফ চোখ মেলে তাকালো।পাশ ফিরে দেখে অনিন্দিতা ঘুমিয়ে আছে..
আনাফ উঠলো।আস্তে করে আলমারির ড্রয়ার খুলে কাগজ গুলো খুজতে লাগলো ..কি ব্যাপার,কই গেলো সেগুলা!
আনাফ পুরো ড্রয়ার তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পেলোনা!! অনিন্দিতার ভ্যানিটি ব্যাগেও খুজে দেখলো! নাহ!! নিশ্চয়ই অনিন্দিতা যত্ন করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে,তার মানে ডিভোর্স হবে ই! কোনোমতেই বাঁধা দেয়ার উপায় নাই!!
আনাফ এর মন খারাপ হলো।ও বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো।কি সুন্দর বাতাস চারপাশে!! ..... আকাশে বড় থালার মতো একখানা চাঁদ ঝুলে আছে,অনেক আগে অনিন্দিতা আর আনাফ এভাবেই চাঁদ দেখতো,কতোদিন যে চাঁদ দেখতে দেখতে বারান্দাতেই ঘুমিয়ে গিয়েছে দুজন তার হিসেব কি আর আছে!! হাহা,আবার একবার,আনাফের মুখের উপর তেলাপোকা উড়ে বসাতে ওর ঘুম ভেংগে যায় আর উঠে যায় দ্রুত,এদিকে অনিন্দিতার ঘুম ও ভেংগে যায়,সে কি অবস্থা এক তেলাপোকা নিয়ে!
আনাফ হাসলো। হঠাৎ করে মনে পড়ে গেলো সব,নাহ,অনিন্দিতার সাথে তো সব শেষ হবে,আর কিছুই নেই করার! অনিন্দিতা আর থাকতে চায় না ওর সাথে।
আনাফ রুমে গিয়ে শুয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ আগের কথা চিন্তা করলো,তারপর ঘুমিয়ে পড়লো।
.
.সকালে অনিন্দিতা ঘুম ঘুম চোখে টেবিলে যা দেখলো তাতে ও পুরো অবাক হয়ে গেলো! পড়িমড়ি করে উঠে গেলো! ডিভোর্স পেপার রাখা!! আনাফ আবার এনেছে!
আনাফ হঠাৎ রুমে ঢুকে অনিন্দিতা কে জেগে থাকতে দেখে বললো,
"কাগজ অনেক খুজে ও পেলাম না,তাই আবার আনতে হলো!
অনিন্দিতার মন খারাপ হলো খুব!! আনাফ অনিন্দিতা কে দেখে ভাবলো অনিন্দিতা আর থাকতেই চাচ্ছেনা ওর সাথে! তাড়াতাড়ি মুক্তি চায়! কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চলে গেলো অফিসে!
.
.
.
রাতের বেলা আনাফ ঘুমানোর পর অনিন্দিতা আবার উঠলো বিছানা ছেড়ে! তারপর ড্রয়ার খুললো! কাগজ টা শুয়ে আছে ড্রয়ারে. আনাফের দিকে তাকিয়ে অনিন্দিতা এক ঝটকায় কাগজ টা নিয়ে কুচি কুচি করে ফেলে দিলো জানালা দিয়ে! সেগুলোর দিদিকে তাকিয়ে থাকলো! তারপর মনে অনেক শান্তু নিয়ে শুয়ে পড়লো!
আনাফ ও এদিকে উঠলো কিছুক্ষণ পরেই..ড্রয়ার খুলতেই দেখে যে নাই কাগজ! কি ব্যাপার! কই গেলো!
আনাফ ভীষণ অবাক হলো! অনিন্দিতা কি আবারো অন্য জায়গায় রেখে দিলো ! ও কি টের পেয়ে গেলো যে আমি ফেলে দিতে চাই!
আনাফ অনেক খুজে ও পেলো না কাগজ টা!
বারান্দায় অনেক্ষণ মন খারাপ করে বসে রইলো! ওর ভাগ্য ই খারাপ... এতো করে চাচ্ছে সম্পর্ক টা টিকিয়ে রাখতে,কিন্তু,,,,, নাহ! পারছেনা! পারবে ও না!
কিছুক্ষণ পর আনাফ খাটে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো!.
সকাল বেলা,
অনিন্দিতা ঘুম থেকে উঠে হলরুমে ঢুকেই দেখে যে এডভোকেট হামিদুর রহমান এসে বসে আছে সোফাতে, পাশে ই আনাফ।
আনাফ হঠাৎ অনিন্দিতা কে বিমর্ষ মুখে দেখে বলে উঠলো
"কই অনিন্দিতা,এইযে এডভোকেট হামিদুর রহমান সাহেব এসেছেন, ডিভোর্স পেপার গুলো আনো...
অনিন্দিতার মেজাজ খারাপ হলো। বাহ,আনাফ কতো উতলা ডিভোর্সের জন্য! নতুন বউ আনার শখ কতো!
অনিন্দিতা থমথমে গলায় বলে উঠলো-" আমি জানি? পেপার কই তুমি জানো!"
আনাফ অবাক হয়ে বললো-"কিভাবে? কাল তো ফেল.....মানে কাল তো দেখলাম না ড্রয়ারে! কোথায় কাগজগুলো?" ( ভুলে "ফেলে দিতে গিয়ে " কথাটা মুখ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলো, !)
অনিন্দিতা মনে মনে খুশি হলো। আর পাবেই বা কিভাবে! দ্যা গ্রেট অনিন্দিতা তো সেগুলো ছিড়ে বাতাসে ভাসিয়ে দিয়েছে কুচিকুচি করে!
আনাফ ও এদিকে শান্তি পেল! যাক তার মানে অনিন্দিতা কিছুই জানেনা! পেপার গুলো হারিয়ে ফেলেছে! আর একটা দিন তো থাকবে টিকে।
আনাফ এর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। এডভোকেট সাহেব এদিকে দুইজন এর কান্ড দেখে তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেছে..একটা দরকারী কাগজ সামলে রাখতে পারেনা কেউ! তিনি তার ৪০ বছরের এ জীবনে এতো আজব দম্পতি আর দেখেননি! আর যে কি কি দেখবেন!
এডভোকেট সাহেব চলে গেলেন।এদিকে অনিন্দিতা ও রুমে চলে গেলো। নিজের উপর অনেক গর্ব হচ্ছে তার,কি সুন্দর করেই না ফেলে দিলো কাগজ গুলো!! আর আনাফ! ও আবার সেগুলো খুঁজতে আসছে! হাহ পাবেইনা আর!
হঠাৎ আনাফ আসলো।. অনিন্দিতা মুখ গম্ভীর করে ফেললো,ভাব এমন যেনো খুব ই বিরক্ত আনাফের উপর। ????
আনাফ -"অনিন্দিতা চিন্তা করোনা, কাগজ জোগাড় করে এনেছি আবার,রাগ করার কিছু নেই, আমি জানি তুমি আর এ বন্ধনে থাকতে চাও না,তাই মুক্ত করে দিচ্ছি"
অনিন্দিতা অবাক হয়ে আনাফের দিকে তাকালো.হাতে আবার ডিভোর্স পেপার।
অনিন্দিতার ইচ্ছে করলো কাগজ গুলো নিয়ে আনাফের মাথায় বারি দিতে! এই লোক এর সমস্যা কি! আজব!
আনাফ এদিকে মনে মনে আল্লাহ কে ডাকছে,প্লিজ আল্লাহ। অনিন্দিতা যেনো মানা করে দেয়,, আল্লাহ অনিন্দিতার মন টা গলিয়ে দাও আল্লাহ! আমি ওকে ছাড়তে চাই না আল্লাহ প্লিজ!
কিন্তু হায়,আনাফ এর দোয়া কবুল হলো না। অনিন্দিতা কাগজ টা নিলো হাতে। এবার কলমের পালা...
অনিন্দিতা ডেস্ক থেকে কলম নিয়ে আসলো।মনে মনে দোয়া করে চলেছে,যেনো কালি না থাকে..!!
এদিকে আনাফের ও এক ই দোয়া।দুজনের যখন কোনো এক বিষয়ে দোয়া থাকে,তখন সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই সে দোয়া কবুল করেন..এখন ও তাই ই হলো।সাইন করতে গিয়ে অনিন্দিতা দেখলো কালি ই নেই কলমে..
মন টা খুশিতে নেচে উঠলো দুজনের ই।কিন্তু পরক্ষণেই আনাফ মন খারাপ ভাব করে অনিন্দিতা কে বলে উঠলো।
আহা,আরেকটা কলম এনে দিচ্ছি,ওয়েট!"
অনিন্দিতা এ কথা শুনে বলে উঠলো -"আচ্ছা,"
কিন্তু মনে মনে ভীষণ রেগে গেলো।আনাফ এতো তাড়াতাড়ি ওকে ছাড়তে চাচ্ছে! শয়তান লোক!! খারাপ লোক! আচ্ছা! ছাড়ুক! ওর কি!!
আনাফ পকেটে হাত দিলো বিসমিল্লাহ বলে।কিন্তু হায়,কলম বাবাজী ঠিক ওর পকেটে বসে আছে..!!
অনিন্দিতা-"কি ? দাও কলম!"
আনাফ কাঁপা কাঁপা হাতে কলম বের করে দিলো..আজ আর নিস্তার নেই!! এ সম্পর্ক শেষ হবেই আজ! বাঁচাতে পারলো না আনাফ!
এদিকে অনিন্দিতার মন চিৎকার করে কাঁদছে।মন বারবার বলছে
"প্লিজ আনাফ আমাকে থামাও,আমি সাইন করতে চাই না!"
কিন্তু না।আনাফ থামালো না,অনিন্দিতা সাইন করলো।এখন আনাফের পালা...
আনাফ কাগজ নিলো। চোখ ঝাপসা হয়ে গিয়েছে ওর..চশমার ফাঁক দিয়ে ঝাপসা চোখে অনিন্দিতার দিকে তাকালো..অনিন্দিতা অন্য দিকে তাকিয়ে আছে।
আনাফ বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে সাইন করে দিলো....
অনিন্দিতা চোখের পানি আড়াল করে তাকিয়ে দেখলো আনাফ সাইন করে ফেলেছে!!
আনাফ এর মনে একটু আশা ছিলো,যে হয়তো অনিন্দিতা একটু হলেও চায় না ডিভোর্স দিতে..কিন্তু না। ওর ধারণা মিথ্যা!!
সাইন করার পর আনাফ কাগজ টা নিয়ে আবার আগের জায়গায়,মানে ড্রয়ারে রেখে দিলো..কাল যাবে একবারে কাগজ নিয়ে..সব শেষ অবশেষে।
অনিন্দিতা চলে গেলো ছাদে।আনাফ অফিসে।দুজন এর মনে এক ই চিন্তা, কেউ ই কাওকে ছাড়তে চায় না। কিন্তু মুখ বলে অন্য কথা!
.
.
.
রাত্রি প্রায় ৩ টা বাজে...নিস্তব্ধ চারপাস!
অনিন্দিতা আস্তে করে চোখ মেললো।পাশে আনাফ ঘুমিয়ে আছে । ওর মন খুব খারাপ! ও চাচ্ছে না যে সম্পর্ক টা ভাংতে! আবার কিছু বলতে ও পারছেনা! কিছু একটা করতেই হবে!
হঠাৎ অনিন্দিতা উঠে গিয়ে আলমারি খুললো খুব সাবধানে। ক্যাঁচ করে আওয়াজ হলো! এ
আওয়াজে ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি অনিন্দিতা তাকালো আনাফের দিকে।
নাহ ... ঘুমিয়ে আছে! টের ই পায়নি।
অনিন্দিতা ড্রয়ার খুলে কাগজ টা বের করলো, ছিড়ে কুচি কুচি করে ফেলে দিলো বারান্দা দিয়ে। যাক আর সমস্যা নেই! আনাফ আর কাগজ পাবে না! আবার ওও আনতে ও পারবেনা! অনিন্দিতা মনে
শান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
.
.
.
.
.
.
.
.সকালে অনিন্দিতা উঠে দেখে যে আনাফ নেই কোথাও..ও ভীষণ অবাক হলো।কই গেলো আনাফ!
আবারো কি!!
অনিন্দিতা রাগে ঝড়ের বেগে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। রান্নাঘরে গিয়ে থ হয়ে গেলো।
আনাফ রান্নাঘরে...ব্রেকফাস্ট বানাচ্ছে...!
আনাফ অনিন্দিতা কে দেখে বলে উঠলো
"ডিভোর্স পেপার টা তো পেলাম না।"
অনিন্দিতা মনে মনে হাসলো আর ভাবলো
"পাবে কিভাবে! সেগুলো তো এখন বাহিরের মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে!
আনাফ অনিন্দিতা এর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, " পাওয়ার সম্ভাবনা ও নেই,কেননা
লাল চুড়ি পড়া এক জোড়া শুভ্র হাত সেটি প্রতিরাতেই কুচি কুচি করে ফেলে দেয় বারান্দা দিয়ে..."
সাথে সাথে অনিন্দিতা চমকে গেলো.. নিজের হাতের দিকে তাকালো, লাল চুড়ি পড়ে আছে ও!! তার মানে......!!!!!
অনিন্দিতা কিছু বলার আগেই আনাফ হাসতে হাসতে বলে উঠলো
"অবশ্য এতে অনেক খুশি ই হয়েছে একজনকারণ সে এটা না করলে বাধ্য হয়ে অন্য কাওকেই এটা করতে হতো..!!"
অনিন্দিতা অবাক হয়ে বললো -"কে করতো!! তুমিইইইই?"
আনাফ অনিন্দিতার দিকে তাকালো।
তারপর বললো
-"হুম আমি ইইইইই!"
.
.
........Moumita Sikder
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now