বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টুং টুং

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মোবাইলের টুং টুং শব্দে মাঝ রাতের এত মজার ঘুম টা ভেঙ্গে গেলো। কি ব্যাপার সোহানা আজ এত রাতে কেনো ফোন দিলো। ঘুম কাতুরে মেয়ে একটা, কখনো তো এত রাতে ফোন দেয় না আজ কি মনে করে ফোন দিলো এই অসময়ে? -হ্যালো মিস সোহানা আজ এত গভির রাতে কি মনে করে আমায় স্বরণ করলে? -ইকটু তোমার বাসার বারান্দায় আসবে? -এখন?? -প্লিজ যাও না -হুম আসলাম বলো -দেখো মায়াবি চাঁদটা আমাদের দুজনকেই দেখছে। আর বলছে... -কি হলো কথা বলছো না কেনো? -........ সোহানা কোন কথা বলতেছে না। কান্নার শব্দ পাচ্ছি মনে হয়। কি ব্যাপার কি হয়েছে ওর -ওই পাগলি এত রাতে কান্না করতেছো কেনো? কি হয়েছে তোমার বলবে তো। -..... -এত কান্না করছো কেনো ওই কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখেছো? -হুম -কি এমন স্বপ্ন দেখলে যার জন্য কান্না করতে হবে -না বলবো না, তুমি শুধু বলো আমাকে ভুলে যাবে না তো কখনো? -আরে ধুর বোকা মেয়ে আমি কেনো তোমাকে ভুলে যাবো বলো? কখনোই ভুলে যাবো না। এবার বলো তো কি দেখেছো স্বপ্নে? -স্বপ্নে দেখি একজন আমাকে এসে বলতেছে, তুমি নাকি ২ বছর পরে বিয়ে করবে তারপরে বিদেশ যাবে। শুনে আমার খুব খারাপ লাগলো,চোখ দিয়ে জল পড়ছে।PLZ আমাকে ভুলে যেও না, ওই ভুলে যাবে না তো ??? -তোমাকে কি ভুলে যাবার জন্য ভালোবেসেছি বলো? -তাহলে আজকে জোৎসনা রাতের চাঁদ কে সাক্ষী রেখে বলো তুমি আমাকে কক্ষনো ভুলে যাবে না আমায় সারা জীবন ভালোবাসবে? -ওই চাঁদ সাক্ষী রাখ আমি আজ বলে দিচ্ছি আমি সোহানাকে কোনদিন ভুলে যাবো না।সারা জীবন শুধু ওকেই ভালোবাসবো। -...... -আবার কান্না কেনো চাঁদ কে সাক্ষী রেখে বললাম তো ভুলে যাবো না। এবার ফোনটা রেখে আবার লক্ষি মেয়ের মত ঘুমিয়ে পরো তো -ঠিক আছে ঘুুমাচ্ছি। কিন্ত যা বললে সব মনে থাকে যেনো -ওকে বাবা আচ্ছা যা বলেছি সব মনে থাকবে আমার মনে না থাকলে আমার পাঠানো মেসেজ যেমন করে তুমি মনের মাঝে স্কিনসট রেখে দাও তেমন করেই আমার এখন বলা কথাগুলো মনের মাঝে রেকর্ড করে রাখো। কখনো আমি ভুলে গেলে তুমি মনে করে দিও। আর আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী এই চাঁদের কাছে এসেই আমার নামে বিচার দিও। -তোমার আর বলতে হবে না সব মনের মাঝে সংরক্ষণ করে রেখেছি। পালাবে কোথায় দেখে নিবো। মাসুম অনেক ভালোবাসি তোমায়। ......... সোহানার সাথে আমার প্রায় ৭ বছরের সম্পর্ক ছিলো।আমি আর ও খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। আমি ওকে অনেক পছন্দ করতাম কিন্তু কোনদিন ওকে এই কথাটা বুঝতে দিতাম না। মেয়েটাও আমাকে অনেক ভালোবাসতো কিন্তু কোনদিন মুখফুটে বলতো না। একদিন আমি সাহস করে নিজে থেকেই ওকে আমার মনের কথাগুলো বলে দিতেই ওর মনের সব কথা জানতে পারলাম। ও আমাকে আমার ভালোবাসার আগে থেকেই ভালোবাসে কিন্তু কোনদিন সাহস করে বলতে পারে নি। তখন বুঝলাম এটা সত্যিই যে 'মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না' তারপরে থেকেই চলছে আমাদের সম্পর্ক। সোহানা অনেক সহজ সরল একটা মেয়ে।বলতে গেলে একদম অবুঝ। ও কেনো যেনো সারাক্ষণ আমাকে হারিয়ে যাবার ভয় করে। আর ইকটু কথার হেরফের হলেই কান্নাকাটি জুরে দেয়। ও আমার সব কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। আর এতেই বুঝতে পারি ও আমাকে ভালো না বাসলে কোনদিন আমার এত কথা শুনতো না। তাই আস্তে আস্তে আমিও ওকে গভির ভাবে ভালোবেসে ফেলি। যেদিন প্রথম ওকে আমার ভালোবাসার কথা বলেছিলাম সেদিন ও যা পাগলামো করেছিলো তা মনে হলে আজো হাসিও পায় আবার পাগলির জন্য দুঃখ ও পায়। প্রথম দিন থেকেই বলতো মাসুম আমার কেনো যেনো মনে হয় আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলবো। তাই সাহস করে ভালোবাসার কথা বলিনি। বন্ধু হয়ে থাকতে চেয়েছি সারাটা জীবন।কিন্তু আজ মনে হচ্ছে বড় ভুল করে ফেললাম।আমি আর কিচ্ছু জানতে চাই না বুঝতে চাই না। আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি i love you এইতো মনে হয় সেদিন এর কথা, অথছ কথাটা ও আমাকে বলেছিলো প্রায় ১৭ বছর আগে। তখন মনে হতো আমি দুনিয়ার সবচেয়ে সুখি ব্যাক্তি এতো হাজারো সুন্দর মানুষের ভিড়ে আমার মতো এক হ্যাংলা ছেলেকে ও ভালোবেসেছে। আমার চাইতে আর কে বেশি সুখি? ....... কিন্তু যার ভাগ্যই খারাপ কার কপালে সুখ বেশি দিন টিকে না। মাঝ পথে এসে আস্তে আস্তে আমি বুঝতে শুরু করলাম ওর ধারনাই ঠিক ছিলো। হয়ত ওকে আমি সারাজীবনের জন্য আপন করে পাবো না। পারিবারিক আর্থিক নানা রকম সমস্যার কথা চিন্তা করে ওর সাথে মেসেজিং করা কথা বলা সব কমিয়ে দেই। মেসেনজারে মেসেজে বেশি কথা হতো। মাঝে মাঝে অনলাইনে আসলেই দেখতাম ওর ৮০+ করে মেসেজ। ওর একটাই রাগ কষ্ট কেনো আমি ওর সাথে আগের মতো করে কথা বলছি না। ওর একটা কথাতে পিলে চমকে গিয়েছিলো যখন ও মেসেজ এ বলেছিলো -শুনো মাসুম জানি না কেনো তুমি আমার সাথে কথা বলতে চাও না। জানি না কি অন্যায় করেছি আমি। আমাকে কি ক্ষমা করে দেয়া যায় না?? যদি আমার সাথে কথা না বলো তবে আমার কাছে অনেকগুলো ঘুমের বড়ি আছে। সবগুলো একবারে খেয়ে চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে পরবো। আমি বর্তমান ভবিষ্যত কিচ্ছু দেখতে চাই না। আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি শুধু তোমাকেই চাই। কথাটা মনে থাকে যেনো। কি মনে করে আমিও ভবিষ্যত এর চিন্তা ভুলে গিয়ে আবার আগের মতো করেই আমাদের সম্পর্কটা চালিয়ে যাই। ... -কি ব্যাপার সোহানা তোমার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে কেনো?? -কেনো এমন হয়ে আছে জানো না? -কি হয়েছে তোমার? -বাড়িতে আমার বিয়ের কথা চলছে। বাবা মা চায় আমাকে বিয়ে দিয়ে তারাতারি বিদায় করে দিবে। জানি না কথাটা শুনে মনের মাঝে কত বড় ঝড় বয়ে গেলো। কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না -তুমি কি বাড়িতে আর কয়টা বছর পড়াশোনার উছিলা দিয়ে বিয়েটা আটকায় রাখতে পারবা না? আমার পড়াশোনা শেষ করে একটা চাকরি নিয়েই তোমাদের বাড়িতে প্রস্তাব পাঠাবো। -আমি বাবা মায়ের মুখের উপরে কোনদিন কোনো কথা বলিনি আজো পারবো না। আমায় ক্ষমা করে দিও রে। আমি কোনদিন তোমায় ভুলে যেতে পারবো না। কান্না ভেজা চোখে আমার সামনে থেকে চলে গেলো ও। আমি শুধু তাকিয়ে থেকে ওকে দেখছি আর ভাবছি হয়ত এটাই আমাদের শেষ দেখা। দু চোখ দিয়ে পানি পরছে। জানি না চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে গালের যেদিক দিয়ে গরিয়ে পরছে সেদিক দিয়ে মনে হচ্ছে ফুটন্ত গরম পানির ধারা বয়ে চলছে সেদিনের পরে থেকে ওর পাশে থেকে আর কোন ফোন পাই নি। কোনো মেসেজ ও পাই নি। আমি অনেক ফোন দিয়েছি কোনো সারা আসে নি। কোনো মেসেজের রিপ্লেও আসে নি। যে মেয়েটা কথায় কথায় i love you বলতো সে মেয়েটা যাবার সময় ও কথাটা বলে গেলো না আমাকে। খুব ইচ্ছা করে ওর মুখে থেকে একবার শুনি কথাটা। কিন্তু আমার ইচ্ছে টা ইচ্ছেতেই পরে রইলো। ....... ওর বিয়ের আজ প্রায় ১০ বছর চলছে ও এখন অন্যের ঘরের বউ। ওকে দেখি না কতদিন হয়ে গেলো। কোন কথাও হয় নি আর। যার সাথে ৭ টা বছর নিয়মিত কথা হতো কত গল্প হতো। সে মেয়েটা আজ দিব্বি সুখেই নিজের সংসার গোছাতেই ব্যাস্ত। ও কি আমাকে মনে রাখছে? ওর কি মনে পরে রাতের পর রাত জেগে দুজনের সাজানো কত স্বপ্ন ছিলো। কি করে বিয়ে করবো, বিয়ের পরে কি করবো,বাসর ঘরে সারা রাত দুজনে গল্প করে কাটিয়ে দিবো,বিয়ের পরে দুজনে কোথায় থাকবো, কেমন করে সংসার করবো, এসব কি আর ওর কখনো মনে পরে? এসব স্বাজানো স্বপ্ন হয়ত আজ সে তার স্বামীকে দিয়ে পুরণ করে নিচ্ছে। এখন হয়ত ও অনেক ব্যাস্ত থাকে আমাকেও ভুলে গেছে।আজো ওর জন্য সেই সিম নাম্বারটা চালু রাখি। কখনো কোনো অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসলেই বুকের মাঝে খোচা দিয়ে উঠে। এইত বুঝি সোহানা ফোন করেছে। কোন মেসেজ এলেই সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ বক্স চেক করি, কিন্তু না ওর কোন ফোন বা মেসেজ কিছুই আসে না। ....... ডায়েরির শেষ পাতায় হঠাৎ ফোটা ফোটা করে পানি পরছে। মনের অজান্তেই দু চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। ভালোবাসা সত্যই বড় অদ্ধুত। কেউ ভালোবেসে কাউকে আপন করে পেয়েও তাকে কষ্ট দেয়। আবার কেউ আপন করে ভালোবেসেও তাকে কখনো আপন করে পায় না। ডায়রিটায় আমার জীবনের অনেক কিছুই লিখে রাখা। মাঝে মাঝে যেদিন আকাশের চাঁদ টা পুরো পৃথীবি আলোকিত করে দেয় সেদিন চাঁদের আলোতেই ডায়রির সেই পাতাগুলোতে চোখ বুলিয়ে স্বরন করি আমার জীবনের প্রথম অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প। জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে একটা মায়া অনুভব হয়। কোন এক অদৃশ্য গভির আবেগের মায়া। যেনো নেশা ধরে যায়। চাঁদ টা আমার মতই হয়তো তার ভালোবাসার মানুষ করে হারিয়েছে।তার জন্য যখন পুরো পৃথীবির মানুষ গভির ঘুমে আচ্ছন্ন,তখন সে তার বুকের সমস্ত ভালোবাসা উজার করে পৃথীবির বুকে ছরিয়ে দিয়ে তার মত অভাগা রাত যেগে থাকা মানুষ দের সাথে তার ভালোবাসার দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। জানো সোহানা আজো তোমায় মিস করি। খুব মনে পরে তোমার সাথে কাটানো সময়ের কথা। সেদিনের মতো করে আজো আমি জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকি আর মনে মনে ভাবি তুমি যেখানেই থাকো না কেনো এই এক চাঁদের আলোর নীচেই তো দুজনে থাকি। জানো সোহানা আজো তোমায় ভুলে যাই নি আমি এই চাঁদ কে জিঙ্গাসা করে দেখো আমি আজো তোমায় কতটা ভালোবাসি। সবাই যখন গভির ঘুমে বিভর তখন আমি নিরবে চিৎকার করে আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী এই চাঁদের কাছে তোমার নামে অভিযোগ করি 'ওই চাঁদ প্লিজ বলে দে না ওকে,আমি আজো ওকে কতটা ভালোবাসি আর ও যেনো শুধু শেষ একবারের জন্য হলেও বলে যায় আমাকে, মাসুম অনেক ভালোবাসি তোমায় '


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ টুং টুং

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now