বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।। ।।
লেখিকাঃ শরিফা ফারিহা ইসলাম
.
-আগেই বলেছিলাম এখানে ঐরকম আয়না পাবেনা।
কোন দোকানে কি দেখেছে কে জানে......
.
-না না আমি এই অ্যান্টিকের দোকানটাতেই দেখেছি;
দোকানদার আসুক আর একটু দেরি করি...
.
-আহা! সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে তো!আর কতক্ষন থাকবো এখানে? মরিয়া হয়ে বললো লুবা।
.
কথা বলতে বলতেই একটা লোককে হেটে আসতে দেখা গেল।দেখেই ভয় লাগলো লুবার।মুখটা কেমন এবড়ো-থেবড়ো।
এক বার তাকালে দ্বীতিয়বার তাকাতে ইচ্ছেই করবেনা।
.
-ঐতো দোকানদার …বলে কেয়া ছুটে গেল লোকটার কাছে।
.
-আংকেল কালকের ঐ আয়নাটা দেন তো,এই যে টাকা
.
কুৎসিত হাসি দিয়ে বললো," অভিশপ্ত জানার পরেও নিলেন?"
.
-কিসের অভিশপ্ত!! ওসব থাকেই এখনকার আধুনিক সময়ে ওসব বিশ্বাস করা পুরোই পাগলের প্রলাপ....
.
দোকানদার আয়নাটি প্যাকেট করে দিয়ে দিল।
আয়নাটি দেখতে বিভৎস পাশাপাশি অদ্ভুদ রকমের!
কেয়া কেন এরকম একটা আয়না নিল ভাবতেই অবাক লাগছে লুবার।
.
আয়নাটা মনে হয় অনেক পুরোনো।
আয়নার ফ্রেমটা দেখতে সোনালী।
সবার উপরে এবং নিচে এক জোড়া বিচ্ছুর ছবি ;একে অপরের দিকে মুখ করে আছে।
এর চার কোণায় চারটি মানুষের মাথার খুলির আদলে একটা শেপ এবং
প্রত্যেকটার দু চোখে দুটো করে নীল রঙের উজ্জ্বল পাথর বাসানো।
.
একবার ফ্রেমটা সাক্ষাত দেখলেই যে কারো মেরুদন্ড বেয়ে ঠান্ডা শিহরণ বয়ে যেতে পারে।
যাই হোক আয়নাটি কিনতে চড়া দামও দিতে হয়েছে কেয়াকে।
.
গাড়িতে চড়ার পরে কেয়াকে জিজ্ঞেস করলো লুবা:
.
-কি রে ঐ লোকটা আয়নাটাকে অভিশপ্ত বললো কেন?
.
-ওহ ওসব বলবেই। বিক্রির জন্য আর কৌতুহল বাড়ানোর জন্যে...
.
-কিন্তু তোকে তো বলল তুই জানিস … তোকে কি বলছিলো?
.
-ধুর ওসব কথা আবার তুলছিস?!
.
-বলনা শুনিই একটু …কৌতুহল তো আর চেপে রাখতে পারছি নাহ…
.
-আচ্ছা যাই হোক সংক্ষেপে বলি …
লোকটা বলছিলো আয়নাটা নাকি অনেক …অনেক পুরোনো একটি অভিশপ্ত রাজপরিবারের আয়না।
সে রাজপরিবারটা নাকি ড্রাকুলার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলো।
আর সর্বশেষ বাড়িতে যে মেয়েটি ছিলো সে মারা যাওয়ার আগে এই আয়নাটা ছিল আর এটা ছিলো তার খুব প্রিয় আয়না।
তারপর থেকে নাকি এই আয়নায় যে মুখ দেখে সেই এই অদৃশ্য ভ্যাম্পায়ারের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে রক্তশূন্যতায় মারা পড়ে।কি গাঁজাখুরি গল্প তাই নারে?!
একটা আয়না নাকি মানুষ মারে হা হা হা!
.
-তুই বিশ্বাস করিসনা তাহলে?
.
-তোর কি এই ঘটনা শুনে বিশ্বাস হয়েছে?(অনেকটা অবজ্ঞার সুরে বললো সে)
.
-ঠিক বলতে পারবোনা কতটুকু সত্য! তবে এটুকুই বলতে পারি এটা কেনা তোর ঠিক হয়নি…
.
-যাহ যাহ হিংসে হয় তাই নাহ?
.
-নারে হিংসা নয়। তুই বুঝবি নাহয় পরে।
বলে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে তুললো লুবা নিজ মুখে।
.
পুরো শরীর কাঁপছে তার মনে হয় পালিয়ে যেতে পারলেই বাঁচে…
.
রাতে ঘরে ফিরে এসে আয়নাটাকে বসালো সে তার নিজ রুমে।বাহ খুব সুন্দর মানিয়েছে তোহ!!!নিজে নিজেই বলে উঠে কেয়া।
এমন সময় আয়নায় ভেসে উঠে একটি ফ্যাকাশে মুখ। বিভৎস আর রক্তশূন্য,লাল চোখ দুটো জ্বল জ্বল করে জ্বলছে,মুখটিতে কুৎসিত হাসি। আবার হঠাৎ করেই মিলিয়ে গেল অবয়ব টি আয়না থেকে।
.
কেঁপে উঠলো কেয়া। পরক্ষনেই সামলে নিলো নিজেকে। ধুর কি ভুল ভাল দেখছে কে জানে।
রাতে সে যখন ঘুমাতে গেল তখন নিজেকে একবার আয়নায় দেখে নিলো।
.
মনে মনে আয়নার অনেক প্রশংসা করলো কেয়া।আহ কি সুন্দর আয়না।সুন্দর আয়নায় নিজেকে হঠাৎ করেই বড্ড সুন্দরী লাগছে দেখতে।মাথার খুলির আদলের চোখের নীল পাথর গুলো হঠাৎ করেই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
.
হঠাৎ কেয়ার মনে হলো পিছনে কেউ আছে।চরকির মতো ঘুরে দাঁড়ালো সে। নাহ কেউ নেই। আয়নাটা বসানোর পর কেমন যেন লাগছে কেয়ার।
মনের মধ্যে একটানা কেউ চিৎকার করে বলছে,"কেয়া তুমি অনেক বড় ভুল করলে কেয়া……অনেক বড় ভুল…"
.
কেয়া তাতে আমল দিলো না। সেই রাতে সে শুয়ে পড়লো।
.
গভীর রাতে কেয়ার ঘুম ভেঙে গেল। সে নিজের অজান্তেই আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।আয়নায় একটি অদ্ভুদ আর বিভৎস অবয়ব।কিন্তু সেটা দেখেও ভয় লাগলো না কেয়ার।
কেন যেন এক অতল ঘোরের সমুদ্রে ভাসছিলো সে।
.
ঘোরের মাঝে সে বুঝতে পারলো কেউ তার কাঁধের কাছে মুখ আনলো।একরাশ বোটকা গন্ধ ঘিরে ধরলো তাকে।তার পর তার মনে হলো কিছু তার শরীর থেকে কিছু উঠে যাচ্ছে কোথাও।আস্তে আস্তে চৈতন্য হারিয়ে ফেললো কেয়া।
.
পরদিন সকালে কেয়া নিজেকে আবিষ্কার করলো আয়নার সামনে পড়ে থাকা অবস্থায়। গলার কাছে ভীষণ যন্ত্রনা, মনে হয় কেউ সুঁচ ফুঁটিয়ে দিয়েছে।মাথাটা ভীষণ ভারী ভারী মনে হচ্ছে তার।
.
সূর্যের আলো কেন যেন সহ্য করতে পারে না সে।শুধু কাঁচা মাংস খেতে ইচ্ছে করে তার।সন্ধ্যা হতেই পিপাসা পায় তার। প্রচন্ড রক্ত পিপাসা।
সে সময় এক রকম দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হওয়ার মতো অবস্থা হয় তার। গলায় গরম রক্তের স্পর্শ না পেয়ে ছটফট করতে থাকে কেয়া।
.
প্রথমদিন তার পোষা বেড়ালটাকে আচ্ছামতো রক্ত শুষে খেয়েছে।এক ফোঁটা রক্তও অবশিষ্ট নেই।
কিন্তু পরদিন সে কি করবে চিন্তা করতে থাকে …
হ্যা পেয়ে গেছে তার বান্ধবী লুবা…সহজেই কেয়াকে বিশ্বাস করবে লুবা…
লুবাকে অনুষ্ঠানের কথা বলে বাড়িতে আনাবে সে……
.
-কিরে লুবা কেমন আছিস রে?
.
-কেমন আবার আয়না কেনার পর থেকে আয়না নিয়েই পড়ে থাকিস…
(বলতে গিয়ে গলা কেমন যেন কেপে উঠলো লুবার)
.
লুবা কি দেখে যেন একটু সরে বসলো কেয়ার থেকে…
.
-কিরে সরে বসলি যে?
.
- না এমনি…মানে গরম লাগছেতো তাই আরকি…
(কিন্তু লুবার মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ)
.
কেয়ার আর সইছে না।কিন্তু তাকে ধৈর্যধারণ করতেই হবে।এছাড়া উপায় নেই…
.
- জানিস কালকে আমার চাচাতো বোনের বার্থডে?
.
-তাই নাকি?তো সেলিব্রেট করবিনা?
.
-আরে ওটার কথাই তো বলছি ;
.
-তো কবে সেটা?
.
-আজকে আসিস বাড়িতে।সবাই মিলে অনেক মজা হবে।
.
এভাবে এই সেই কথা বলে লুবাকে অনেকটা স্বাভাবিক করতে পেরেছে কেয়া।ও অনেকটাই অস্বাভাবিকতা কাটিয়ে উঠেছে।হঠাৎ লুবা বললো,
.
-কেয়ায়া,দোস একটা কথা বলবো?
.
-হ্যা হ্যা বল…
.
-দোস তোর কোনো সমস্যা হয়নি তো আয়নাটা কেনার পর?
.
-আরে নাহ কোনো সমস্যাই হয়নি।ঐটা নিয়ে আমাকে আর বাজাসনা তোহ।
(এক রাশ বিরক্তি ফুঁটে উঠলো কেয়ার চোখেমুখে)
.
-আচ্ছা ঠিকাছে…(ভয়ে ভয়ে বললো লুবা)
.
সেদিন সন্ধ্যা। ওহ আর তর সইছে না।কখন লুবা আসবে……কখন…
হঠাৎ কলিংবেলের শব্দ ছুটে গিয়ে দরজা খুললো সে।
.
দরজা খুলে দেখে কাজের মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।
লুবাকি আজ আসবে না?
.
অপেক্ষায় থাকতে চাইলোনা কেয়া কাজের মেয়েটাকে দিয়েই সেদিন রাত কাবার করলো সে।
.
প্রতিরাতেই সে আয়নায় গিয়ে দাঁড়ায়।নীল পাথরটা উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠেছে। অপেক্ষা করছিলো সে মেয়েটা কখন আসবে।
.
গভীর রাতে আসলে সেই মেয়েটা তাকে বলে এর পর সে কাকে খুন করবে।
আর সম্মোহিতের মতো কেয়াও তাই করে।
তার ইচ্ছাকে যেন কেউ চালনা করছে শক্ত ভাবে ……
.
ধীরে ধীরে পুরো পরিবারের সবাইকে খেয়ে শেষ করে কেয়া।
কাছের বন্ধু বান্ধব গুলোকেও।
কিন্তু এখন কাকে খুঁজবে সে?
রক্তপিপাসা কামড়ে ধরেছে তাকে।
চকচকে ছুড়ি দিয়ে কেটে ফেলে তার হাতের শিরা।
রক্ত!রক্ত! খেতে থাকে। নিজের শরীরের গরম রক্ত……
শেষকরে দিলো নিজেকেও……
আয়নায় সেই মেয়েটি হাসছে।
পরবর্তী শিকারের অপেক্ষায়……………
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now