বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)।। ১ম অংশ

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান R.H (dangeor-virus) (০ পয়েন্ট)

X হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলতেন, ইয়েমেনের দিক থেকে আল্লাহর রহমতের সুগন্ধি বাতাস ভেসে আসছে বলে অনুভব করছি। আল্লাহর রহমতের এ সুগন্ধি বাতাস হল একটি পবিত্র আত্না, পুষ্পিত হৃদয়। তাঁর নাম হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ) । স্বনামধন্য এক তাবেয়ী। রাসূলে করীম (সাঃ)-এর যুগে তিনি জীবিত ছিলেন কারণ দেশে তথা ইয়েমেনে। অথচ নবী-মুস্তফা (সাঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হয়নি কোনদিন। এক আশ্চর্য ঘটনা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে ঘিরে প্রথমত এক গুচ্ছ সোনালি মানুষ তাঁর জীবন ও ধর্মকে বর্মের মত রক্ষা করেছেন। জীবনে জীবন যোগ করেছেন। ক্রমশ আত্ননিবেদিত মানুষের সংখ্যা বিপুলভাবে বেড়ে যায়। তাঁর নৈতিক বিপ্লবের ডাকে সাড়া দিয়ে অসংখ্য হৃদয়-স্পন্দিত আবেগে ইসলামের পতাকাতলে এসে দাঁড়ায়। ইসলামি আন্দলনে শরিক করতে সক্ষম হন। এক বছরের মধ্যে এ সংখ্যা দাঁড়ায় চার হাজারে গিয়ে। অনুগামীদের সংখ্যা কী দ্রুতভাবে বৃদ্ধি পায়, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বিদায় হজ্জ। আমরা দেখেছি, এ হজ্জে যাঁরা অংশগ্রহন করেন, তাঁদের সংখ্যা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার থেকে চল্লিশ হাজার পর্যন্ত। বাইরে যখন জন-জাগরনের বিপুল কলোচ্ছ্বাস, তখন নীরবে, নিবিড় গোপনে একটি মানুষ তাঁর হৃদয়-মন সর্বস্ব মহানবী-জীবনে সঁপে দিয়ে গভীর গূঢ় সাধনায় মগ্ন। আরব-মরুর আকাশে দেদীপ্যমান সূর্যের আলোকরশ্নি আত্নসাত করে দিনে দিনে তিনি জ্যোর্তিময় হয়ে উঠেছেন লোকচক্ষুর আড়ালে। মানুষ তাঁর খোঁজ রাখেনি, বনান্তরালে সুবাসিত ফুলের মতো তিনি ফুটে উঠেছেন। আর সে সুরভি সেখানে পৌঁছাবের কথা সেখানে ঠিকই পৌঁছেছে। মহানবী (সাঃ)-এর অপাপবিদ্ধ হৃদয়ে সে সুগন্ধী বাতাস পুলক-চঞ্চল আবেগে ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহর সে রহমতকে উপলব্ধি করতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দেরী হয়নি। আর অন্তরচক্ষু দিয়ে তিনি তাঁর পরমপ্রিয় আত্নীয়কে খুব স্পষ্ট করে দেখে নিয়েছেন। হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)-এর প্রতে ইঙ্গিত করে অবশেষে রাসূলে কারীম (সাঃ) একদিন তাঁর সাহাবায়ে কেরামকে বলেন, তোমরা জেনে রেখো, আমার এমন একজন ভক্ত আছেন, যিনি শেষবিচারের দিনে রাবী ও মোজার-এর ছাগপালের পশম-সংখ্যা তুল্য পাপী মানুষদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। সবাই অবাক! কে, কে তিনি, এমন সৌভাগ্যবান পুরুষ? নবী কারীম (সাঃ) বললেন, তিনি আল্লাহর এক প্রিয়জন- হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)। তিনি কি আপনাকে দেখেছেন? না। চর্মচক্ষু দিয়ে দেখেননি। তবে দেখেছেন তৃতীয় নয়ন দিয়ে। তিনি যদি আপনার এতই গুণমুগ্ধ, তাহলে আপনার সমীপে উপস্থিত হন না কেন? আল্লাহর নবী (সাঃ) বললেন, তার দু’টো কারণ আছে। প্রথম, আল্লাহ ও আল্লাহর নবীর প্রেমে তিনি এমনই বিভোর যে, তাঁর কোথাও যাওয়ার অবসর নেই। আর দ্বিতীয় কারণ হল, তিনি শরীয়তের নির্দেশ পালনে নয়ত নিরত। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধা মা আছেন। তিনি অন্ধ। ওয়ায়েস কারণী ছাড়া তাঁকে দেখার আর লোক নেই। মায়ের ভরণ-পোষণ, দেখা-শোনা, সেবা-পরিচর্যা ইত্যাদি যাবতীয় দায়-দায়িত্ব তাঁকেই বহন করতে হয়। আবার রুজি-রোজগারের জন্য তাঁকে উটও চরাতে হয়। আলোকিত অনুচরবর্গ অবাক হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কথা শুনতে থাকেন। এমন একটি মহিমময় মানুষকে দেখার ইচ্ছা পুষ্পিত লতার মতো বেড়ে উঠে। তাঁরা বলেন, তাঁর সাথে কি আমাদের দেখা হবে না? না, পার্থিব-জিবনে তোমাদের সাথে তাঁর দেখা হবে না। হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, আপনিও জিবনে তাঁকে দেখতে পাবেন না। তবে উমর ও আলীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হবে। অতঃপর তিনি ওয়ায়েস কারণীর দৈহিক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করলেন। তাঁর সমস্ত শরীর অপেক্ষাকৃত লোমে ঢাকা। আর দু’হাতের বামদিকে একটা করে সাদা দাগ আছে। অবশ্য তা শ্বেতী রোগ নয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)।। ৪য় অংশ
→ হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)।। ৩য় অংশ
→ হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)।। ২য় অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now