বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসহায় ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃ (অসহায় ভালোবাসা) _____________________________ / লেখাঃ (আরিয়ান ফারাবি) / এই তো রোজার কিছু দিন আগে নিলয় আর নীলান্দ্রীতার প্রচন্ড গরমের মধ্য দিয়ে শেষ হল ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের একজাম.. দু জনের কাছে এখন মনে হচ্ছে কোন একটা বড় ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি পেলো.. নিলয় এলাকার জমিজ মিয়ার চা ওয়ালার ছোট্ট টং টা তে বসে আছে আর নিরব নিস্তব্ধ হয়ে ভাবছে সত্যিই এই রমজান মাসটা রহমতের মাস..না হয় এই রমজান মাসে অলৌকিক ভাবে এত পরিবর্তন ঘটলো কিভাবে? কোথায় গেল সেই চৈত্রর মত প্রখর রোদ? সবই আল্লাহর রহমত। (আচমকা নিস্তব্ধ নিরবতা ভেঙ্গে নিলয়ের পকেটে রাখা ঘুমন্ত ফোনটা বেজে ওঠলো) নিলয়> হ্যালো। নীলান্দ্রীতা> তুমি এখন কোথায়? নিলয় > কেনো? পাড়ার চা ওয়ালা মামার টংগে বসে আছি। নীলান্দ্রীতা> অহ তারমানে তুমি আজকেও রোজা রাখো নি? আর তুমি সিগারেট কেনো খাও কতবার নিষেধ করছি এইসব খাবা না.. এই বাজে অভ্যাসগুলার জন্যই তুমি রোজা রাখতে পারো না..। (নিলয় নীলান্দ্রীতার কথা শুনতেছে আর অন্য দিকে সিগারেটর ধোয়াগুলাকে আকাশের দিকে মুখ করে নিষ্কৃতি দিচ্ছে) নীলান্দ্রীতা> প্লিজ তুমি আর সিগারেট খেও না,, এইসব বর্জন না করলে দিন দিন তোমার স্মৃতি শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। আগামিকাল থেকে নামাজ পড়বা রোজা রাখবা বুঝছো? (নিলয় কারো কাছ থেকে এডভাইস শুনতে মোটেও পছন্দ করে না। তাই একটু বিরক্ত হয়েই ফোনটা কেটে দিল) নীলয় আর নীলান্দ্রীতা ভিন্ন ধর্মের হলেও নীলান্দ্রীতার ইসলাম ধর্মের প্রতি যে কতটা আগ্রহ তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না..,, বেছারি নীলয় ছেলেটাকে খুব ভালোবাসে তবে মনের মত করে অবক্ত কথাগুলা নীলয়েরর কাছে প্রকাশ করতে পারে না,,, নীলান্দ্রীতার মনে নীলয়ের জন্য এত মাস এত বছর পরেও তিল পরিমাণ কমতি নেই,, ওদের সম্পর্কটা প্রায় তিন বছরের মত নীলান্দ্রীতার কোন দিক দিয়ে একটুও পরিবর্তন ঘটে নি,,,,,, ওদের সম্পর্কের শুরুর সময়টাতে নিলয়কে নীলান্দ্রীতা যে ভাবে গুরত্ব দিত যে ভাবে মন প্রাণ উজার করে ভালোবাসতো,, ঠিক সেই আগের মতই ভালোবাসে,,, সত্যিই নীলয় ছেলেটা কে খুব ভালোবাসে ইদানিং নিলয় কেমন জানি একটু বদমেজাজি হয়ে গেছে.. তবে নিলয়ও নীলান্দ্রীতাকে কম ভালোবাসে না... নিলয় ম্যাচএ থেকে পড়াশুনা আর মাস শেষে খাবারের বিল দিয়ে হাতে এক পয়সাও থাকে না... তা সত্বেও ওখান থেকে কিছু টাকা বাচিয়ে ভেলেন্টাইনস ডে তে নীলান্দ্রীতাকে একটা সোনার রিং গিফট করেছিল,, যদিও সেটা নিম্ন মানের তবে নীলান্দ্রীতার কাছে সেটা মহামূল্যবান অক্রেয়... নিলয়ের পরিবারের চেয়ে নীলান্দ্রীতার পরিবারটা অনেক সচ্ছল তবে নীলান্দ্রীতা তার মা বাবার ভালোবাসটা কখনও পরিপূর্ণ ভাবে উপভোগ করতে পারে নি। সত্যিই নীলান্দ্রীতা মেয়েটা খুব হতভাগা শিশুকালেই মা বাবা দু জন চিরতরের জন্য নীলান্দ্রীতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন, সেই ছোট্টকাল থেকে আজ পর্যন্ত নীলান্দ্রীতা তার বড় ভাইয়ের কাছেই মানুষ হয়ছে। ওর বড় ভাই নরসিংদী শহরের একজন নাম করা ব্যক্তিত্ব,,, ওনি বোনের ভালো মন্দের কথা চিন্তা করে বিয়ে করেন নি। অবশ্য নীলান্দ্রীতা আর নীলয়ের ব্যাপারটা ওর বড় ভাই টুকটাক জানতো,,, তারপর এটা নিয়ে নীলয়কে দু - একবার হুমকি দিয়েছে ওর ভাই,, কিন্তু নীলয়ও তেমন পিচু হুটবার ছেলে নয়,, নিজের ভালোবাসার জন্য সব করতে পারে,, এমন কি তার জীবন বাজি রেখে যে কোন পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতে একটুও দ্বিধাবোধ করবে না...। কিন্তু যখন এই শহরের ওলিতে গলিতে সন্ধে ঘনিয়ে রাতের কালো আভায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এই শহর তখন নীলয় আর নীলান্দ্রীতার মনে হাজারো অজানা ভয় এসে ভর করে,,, এই বুঝি (দু-জন) (দু-জন কে) হারিয় ফেললো,,, তখন মনোবল নামক তৃষ্ণায় চাতকের মত ( দু-জন) দুই দিকে ছটফট করতে থাকে,, স্রষ্টা কেনো ওদের কে ভিন্ন ধর্মীতে রচনা করলো। আমরা সবাই তো রক্তে মাংসে গড়া মানুষ নামক জীব এটাই আমাদের সত্যিকারের পরিচয় তাহলে কেনো ধর্মের দোহাই দিয়ে নীলয় আর নীলান্দ্রীতাকে এক হতে দেয় না? কেনো এত নিয়ম নীতি ? কেনো এই কুসংস্কার? এইসব ভেবেই হয়তো নীলয় আর নীলান্দ্রীতা চোখের পাতা খোলা রেখে রাতগুলো নির্ঘুমে কাটিয়ে দেয়..। আজ রাতেও তাই দু -জনের কারোর অনিয়ম ঘটলো না,,, (রাত তখন ৩:২৫ বাজে আবার নীলান্দ্রীতার ফোন) নীলয়> হ্যালো? নীলান্দ্রীতা> সেহীরির সময় হয়ছে তো ওঠো রোজা রাখবা না? নীলয়> হুম,, সবসময় নীলয় আর নীলান্দ্রীতার মনের আকাশে একটা কষ্টের কালো মেঘ এসে ভীর করে থাকে তাইতো নীলয় আর„„ নীলান্দ্রীতা যখন ফোনে কথা বলছিল মনে হচ্ছিল বুকের ভেতর পাথর চাপা এক বুক কষ্ট নিয়ে গম্ভীর গলায় বার বার দীর্ঘ শ্বাস ছেরে কথা বলছিল..। কিন্তু বুকের ভেতরের চাপা কষ্টগুলা কেউ কাউকে বুঝতে দেয় না এভাবেই অযস্র ব্যথা হৃদয়ের গভীরে পুষে এক-একটা দিন পাড় করে দেয় দু- জন...। (আজকে নীলয় রোজা রাখছে.. তাই নীলান্দ্রীতা নীলয়কে ইফতার করাবে এই উদ্দেশ্য নীলয়কে ফোন দেয় এবং চিনিশপুর কালী মন্দিরে আসতে বলে..? নীলয় নীলান্দ্রীতার ফোন পেয়ে সোজা মন্দিরে চলে যায়.. এবং মন্দিরের পাশেই সেই চিরচেনা বট গাছটার নিচে নীলান্দ্রীতা নামক তার প্রিয় মানুষটি বসে আছে... এটাওদের কাছে সবচাইতে প্রিয় একটা স্থান.. প্রায় সময় ওরা এখানে এসে বসে থাকে.. (আজও তাই) নীলান্দ্রীতা এখানে বসে থেকে সময় ব্যয় না করে.. নীলয়কে নিয়ে সরাসরি একটা রেস্টুরেন্টে চলে গেল.. এবং কিছুক্ষণ পর আজান দিল।। তারপর ওখানে ইফতারি শেষ করে দু- জন বাড়ির উদ্দেশ্য রিকশায় চড়ে রওনা দিল... কখন যে নীলান্দ্রীতার বড় ভাই ওদের কে ফলো করতে করতে ওদের রিকশার পিছু চলে আসছে তা দু- জনের কেউ টের পেল না.. টের পেলো কিছুদূর যেতেই.. হটাৎ করে নীলান্দ্রীতাকে রিকশা থেকে নামিয়ে কষে দুই গালে দুই তাপ্পড় মারলো.. তখন নীলয় বাধা দিতে গেলে পিছন থেকে নীলান্দ্রীতার ভাইয়ের গুন্ডা পান্ডা খুব গভীর ভাবে মাথায় আঘাত করে... নীলয় সেখানেই সেন্সলেস হয়ে যায়.. আর নীলান্দ্রীতাকে বাসায় নিয়ে তালাবন্ধ রুমে আটকে রাখে। আর নীলয়কে ওই এলাকার কিছু লোক পড়ে থাকতে দেখে নরসিংদী সদর হসপিটালে নিয়ে যায়... নীলান্দ্রীতার জন্য তার ভাই আগে থেকেই বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র ঠিক করে রাখে.. তাই আজকে পাত্রপক্ষ নীলান্দ্রীতাকে দেখতে আসবে.. নীলান্দ্রীতার চোখ থেকে বৃষ্টির জলের মত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জল ঝড়তেছে আজ মেয়েটার মা বাবা পৃথিবীতে বেচে থাকলে হয়তো এত কষ্ট সহ্য করতে হতো না.. সন্তানের সুখের জন্য সমাজের এইসব নিয়ম নীতিকে হয়তো ধ্বংস করে দিত তার মা বাবা..। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম দুর্দশা আজকের এই আর্তকাতর পরিস্থিতিে তার মা বাবা তার পাশে নেই..... পাত্রপক্ষের নীলান্দ্রীতাকে পছন্দ হয়ছে,,, তাই সামনের রবিবারে বিয়ে.. নীলয় তিন দিন পর সুস্থ হয়ে হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরে আসছে,, এই তিন দিন নীলান্দ্রীতার সাথে নীলয়ের কোন কথা বা যোগাযোগ হয় নি,, তাই ফোন দিয়ে নীলান্দ্রীতাকে মন্দিরে আসতে বলে.. এবং নীলান্দ্রীতা তার বাসায় শপিং এর অজুহাত দেখিয়ে নীলয়ের সাথে দেখা করতে মন্দিরে যায়.. নীলয়কে দেখেই নীলান্দ্রীতা জরিয়ে ধরে কাদতে শুরু করে.. নীলয়ও তার চোখের জল ধরে রাখতে পারে নি... (কিছুক্ষণ পর) নীলান্দ্রীতা> তুমি এখানে বস নীলয়.. আমি পুজো দিয়ে আসতেছি। নীলয়> চুপ করে বসে আছে .. আর নিজেকে খুব অসহায়ত্ব বোধ করছে. চোখের দুই কোনে জল জমে আছে.. নীলান্দ্রীতা পুজো দিল... এবং তার ভালোবাসা জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলো..। এখন নীলান্দ্রীতা বাসায় যাবে.. নীলয়কে ছেরে যেতে মন চাইছে না তাও বাধ্য হয়ে চলে গেল..। ওরা দু-জন দু-জনকে ছেরে কখনও থাকতে পারবে না,, এই পরিস্থিতি ওদের সম্পর্কটাকে কখনও মেনে নিবে না, তাই ওরা দু-জন বিয়ের আগের রাতে পালাবে.. অজানা অচেনা কোথাও চলে যাবে যেখানে ওরা দু-জনের ভালোবাসার দেয়াল হয়ে কেউ দাড়াবে না.. দূরে কোথাও হারিয়ে যাবে.. যেখানে ওদের স্বপ্নগুলাকে বাস্তবে রুপ দিতে পারবে... (কিছু দিন পর) আজ শনিবার নীলান্দ্রীতা বাসা থেকে পালিয়ে চলে আসছে.. নরসিংদী বাস ষ্টেশন দাড়িয়ে আছে নীলয়ের জন্য (ওই তো নীলয় আসতেছে) নীলান্দ্রীতা> এত লেট কেন করছো? নীলয়> আরে এখন কথা বলার সময় না আগে বাসে ওঠো.. তারপর দুই জন ঢাকার পথে যাত্রা করলো। কিছুপথ যেতেই ওদের বাস অন্য একটা ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়.. এবং নীলান্দ্রীতা মেয়েটার নিশ্বাস প্রশ্বাস আজীবনের জন্য থেমে যায়.. তখন নীলয়ের কোন খোজ পাওয়া যায় নি.. (অবশেষে নীলয়কে) বখাটে শর্ট ফিল্মের অভিনেতা সিয়াম আহমেদের মত পাগল বেশে সেই চিনিশপুর মন্দিরের পাশের বট গাছটার নিছে ভালোবাসার মানুষটার জন্য এক বুক কষ্ট নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়..। আবার মাঝে মাঝ একা একাই কথা বলতে দেখা যায়,,..।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অসহায় ভালোবাসা
→ স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে ভালোবাসা অসহায়
→ অসহায় ভালোবাসা
→ অসহায় ভালোবাসা
→ স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে ভালোবাসা অসহায়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now