বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার যে মেয়ের সাথে বিয়ে হয়েছিল সে দেখতে অনেকটা হাতির মতো।ওজন নিম্নে নব্বই তো হবেই।বিয়েটা বাবার ইচ্ছেতেই হয়েছে।কি দেখে যে এই মেয়েকে আমার জন্য পছন্দ করলো আমার মাথায় আসে না।মাকে কত করে বললাম আমি ওই মোটিকে বিয়ে করবো না।মা শুনলোই না,উল্টো শুনিয়ে গেল এমন লক্ষি মেয়ে নাকি আজকাল পাওয়াই যায় না।হুম যায় না তো,এমন মোটা মেয়ে আসলেই পাওয়া যায় না।
রাগে কষ্টে মরেই যাচ্ছিলাম।কোথায় আমার পছন্দ স্লিম ফিগারের সুন্দরী ললনা।আর এ কি জুটলো কপালে!!
আমি কিভাবে মুখ দেখাবো বন্ধুদের সামনে!!
অনেক সাহস সঞ্চয় করে বাবার সামনে দাঁড়ালাম,কিন্তু ভয়ে মুখ দিয়ে একটি শব্দ বের হলো না।
ভাগ্যের সামনে অসহায় হয়ে এই বিয়ে করলাম।
প্রথম রাতে নিজের রুমে ডুকে নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।এমনিতেই মোটা,ভারী শাড়ি পড়ায় যেন আরো বেশি মোটা লাগছে।সেদিন খুব কান্না আসছিল কিন্তু ছেলে বলে কাঁদতে পারিনি।
ও বলাইতো হলো না ওর নাম মিতু।মিতু না রেখে মটু রাখলেই পারতো!
তবে একটা কথা না বললেই নয় মেয়েটার চোখ অনেক সুন্দর।কান্নাকাটি করায় চোখ ফুলে লাল হওয়ে যেন আরো মায়াবী লাগছিল।
সেদিন ওর সাথে কোন কথা বলিনি।রাগে গজগজ করতে করতে বালিশ নিয়ে এক পাশে ফিরে শুয়েছিলাম।মিতু কিছু বলেনি,উঠে গিয়ে শাড়ি বদলে শুয়ে পড়েছিল যদিও ঘুমায়নি।চাপা কান্নার আওয়াজ শুনেও কিছু বলিনি আমি।আজ যদি ও কালো হত তাও মেনে নিতাম ,এমন মোটা মেয়ে কখনোই পছন্দ ছিল না আমার।
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো কুরআন তিলওয়াত শুনে।বাবা-মা কে হাত করতে কী পামটাই না দিলো!!
মা তো আমার খুশিতে পঞ্চমুখ।সবার জন্য সকালের নাস্তা বানিয়ে ডাকতে এসেছিল কিন্তু না ডেকেই চলে গেল।
পরে আমার ছোট ভাই নিলয় আমাকে ডেকে তুললো।ধীরে ধীরে আত্মীয়স্বজনরা চলে গেল।তিনদিনের দিন মা বললো মিতুকে নিয়ে ওর বাবার ওখানে যেতে।আমি না পারতে নিয়ে গেলাম।মিতুর ফ্যামিলি খুব জামাই আদর করলো।কিন্তু আমি কিছুই উপভোগ করতে পারছিলাম না।খুব অস্বস্তি লাগছিলো,ওদের আদর পাওয়ার যোগ্য আমি না।
মিতুদের বাড়িতে যে ক'দিন ছিলাম ওর সাথে কথা বলতে হয়েছিল।
বাসায় ফেরার পর টুকটাক কথা হতো।প্রয়োজনের বাইরে কিছু বলতাম না।এ কয়েকদিনে ও সবাইকে খুব আপন করে নেয়।শুধু আমি ছাড়া।ও হয়তো বুঝতে পারতো ওকে আমি পছন্দ করিনা।
অবশ্য মা ও বিষয়টি খেয়াল করতো।আমাকে অনেক বোঝায় কিন্তু মন বদলাতে পারে না।আমি ইচ্ছে করেই বাসায় দেরিতে ফিরতাম।ভাল লাগতো না বাসায়।
আমার প্রয়োজনীয় সব কিছু হাতের কাছেই পেতাম।মিতু আমাকে দেখলে রুমে আসতো না।আমি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আসতো আবার ঘুম থেকে উঠার আগে চলে যেত।ও খেত কিনা কোন খোঁজ আমি নিতাম না।এভাবে প্রায় চার মাস কেটে যায়।একদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মিতুকে দেখলাম।এ কয়েকদিনে মেয়েটি কেমন যেন হয়ে গেছে।চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে,মোটু মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে।
ওর এমন চেহারা দেখে মন খারাপ হয়ে যায়।ছাদে গিয়ে বসে অনেক্ষন ভাবলাম।আমি হয়তো মিতুকে খুব বেশিই কষ্ট দিয়ে ফেলছি।রাতে এগারোটায় রুমে ফিরি।মিতু আমায় দেখে চলে যাচ্ছিলো আমি ওকে আটকালাম।ও খুব অবাক চোখে আমার দিকে তাকালো,আমি ওর চোখের কালিতে আমার ভুলটা দেখছিলাম।খুব বেশি অনুতাপের আগুনে জ্বলছিলাম।মিতু আমার চোখে তাকায়নি সেদিন।আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম খেয়েছে কিনা।ও ছলছল চোখে অন্যদিকে তাকিয়ে বললো,"নাহ রাতে খাইনি,সন্ধ্যায় নাস্তা খাওয়ায় খিদে নেই।"
আমি বললাম,আমার খিদে পেয়েছে চলো খাবার দাও"।
ও কিছু না বলে টেবিলে খাবার দিয়ে চলে যাচ্ছিল আমি ওকে বললাম"পাশে বসো,একা খেতে পারি না"
ও বসলো।আমি বললাম>>
>>মাছটা ভাল হয়েছে।
>>(চুপ,,,,)
আমি এক লোকমা নিয়ে ওর দিকে এগিয়ে দিলাম,ও খেতে চায়নি।আমি রাগ করার অভিনয় করে উঠে যাচ্ছিলাম মিতু আমায় বসতে বললো।ও আমার লোকমাটা মুখে তুলেছিল ঠিক তবে খেতে পারেনি।অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।আমি খুব বেশি ভয় পেয়ে যাই,মা-বাবাকে ডাকি।এম্বুলেন্সকে ফোন করে ওকে নিয়ে হাসপাতালে যাই।ডাক্তার বললো ঠিকমত খাওয়া-ধাওয়া না করায় ও দূর্বল হয়ে পড়েছে,রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাবে।বাবা আমার আর মায়ের উপর খুব রেগে যায়।মিতু যে ঠিকমত খেত না সেটা মা ও জানতো না।ও না খেয়ে স্লিম হতে চেয়েছিল।নিজের প্রতি রাগ আরো বেড়ে যায় আমার।আমি মিতুকে আমার অযোগ্য ভেবেছি,অথচ আজ নিজেকে মিতুর অযোগ্য মনে হচ্ছে।
ওকে বাসায় নিয়ে আসি।মিতুর বাবা-মা খুব রাগ করে,ওকে নিয়ে যেতে চায় তাদের কাছে কিন্তু মিতু যায়নি।ও সব দোষ নিজের ঘাড়ে নেয়।আমি মিতুর চোখে তাকাতে পারতাম না।খুব ছোট মনে হতো।ওকে আমি দুপুরে ফোন করে জিজ্ঞাসা করতাম খেয়েছে কিনা।।ও খুব অবাক হতো।
আমি ধীরে ধীরে ওর প্রেমে পড়ে যাই।ওর হাসি,ওর চোখ,ওর ঘন কালো চুল।এসব যেন আগে চোখেই পড়েনি কিংবা সেই চোখ আমার ছিলো না।
আমার এই মটু বউটাকে মায়াবতী মনে হতে শুরু করলো।আমি ওকে হারাতে চাইনা।ও যেমন তেমনভাবেই ভালবাসি ওকে।
আসলে আমার ধারণা ভুল ছিল।বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়েও মনের সৌন্দর্য অনেক জরুরি।
আর সেটা আমি মিতুর মাঝে খুঁজে পেয়েছি।
লিখাঃ Mariyam_Jannat
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now