বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ওপাশ থেকে হ্যালো শব্দটা ভেসে আসতেই বুঝতে পারলাম যে কে ফোন করেছে । এই কন্ঠটা যে আমার অনেক চেনা । গত কয়েকটা বছর এই কন্ঠ আমার রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলো । হৃদয় মস্তিষ্ক যেখানেই বলি না কেন সবখানেই এই কন্ঠ এবং এই কন্ঠের মালকিনের মুখটা সেঁটে আছে । কিন্তু হঠাত্ করেই যেমন তার আগমন ঠিক তেমন করেই তার প্রস্থান । আমি কিছু বলতে পারি নি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি সয়ে গেছি । কিভাবে এতো সহজে গত দুবছর অনুপস্থিতে তারে ভুলে যাই ?
ঘোর কাটিয়ে ফোনের জবাব দিলাম -
আমি - এতো বছর পর আবার হঠাত্ করেই যে !
মেয়েটা - কেমন আছেন ?
আমি - আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো ! [মোটেও সত্য না]
মেয়ে - কিন্তু আমি ভালো নেই !
আমি - ভালো ! আর কিছু বলবে ?
মেয়ে - তাড়া আছে বুঝি ? বউ ডাক দিয়েছে [মেয়েদের কথা বের করে নেওয়ার টেকনিক এগুলো !]
আমি - হুহ বউ ! বিয়ে করেছিলাম মারা গেছে !
মেয়ে - কিভাবে মারা গেলো ? কিহইছিলো ওনার ? অনেক ভালোবাসতেন তাঁকে ? আপনার এখন কি অবস্থা ? [এক নিশ্বাসে কথাগুলো বললো]
আমি - হুম জীবনের চেয়ে বেশী ভালোবাসতাম । তবে এখন আর বাসি না । মেয়েটার মরণ হয়েছে দুবছর আগে ! তবে বাস্তব জগত্ হয় নয় হয়েছে আমার হৃদয় গভীরে খুব গোপনে ! আমি তার স্মৃতি হাঁতড়ে এখনো অনেক ভালো আছি খুব ভালো আছি !
ফোনটা কেটে গেলো !
.
আমি জানি মেয়েটা বুঝতে পারছে যে আমি ওকেই ভালোবাসি এখন পর্যন্ত ও আমার সাথে যাই করুক না কেন । এটাও জানি এখন মেয়েটা কাঁদছে নিরবে হয়তো জোরেও ! তবে কাঁদছে । কাঁদার জন্য হয়তো মেয়েটার মায়া ভরা মুখটা লাল হয়ে গিয়েছে । হয়তো চোখের কাজল ধুয়ে কয়েকটা ধারা সৃষ্টি হয়েছে । কাঁদুক তাতে আমার কি ?
কি সহজভাবে বললাম কথাটা আমি ? আমিই বললাম তো নাকি আমার ভেতর থেকে কষ্ট পেয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া অন্তর্জামীটা বিদ্রোহ করে বলে উঠলো ? অথচ একটা সময় মেয়েটার কান্নাই আমার ভালো লাগার চরমসীমা ছুঁয়ে যেত । নানান অযুহাতে চেষ্টা করতাম তাকে কাঁদানো লাভ স্বরুপ পেতাম একটু শান্তি একটু ভরসা যে যাক আম্মার পর এমন একটা মানুষ আছে যে আমার জন্য কাঁদে ।
কিন্তু এখন ঐরকম মনে হচ্ছে না কেন ?
অনেক কিছু হয়েছে যা আমায় বিরত রাখার চেষ্টা করছে ঐগুলো থেকে ।
বিরতই থাক !
.
পরের দিন বিকেলে -
আবার ঐ নাম্বার থেকে ফোন । কি করবো না করবো করতে করতেই ফোন ধরলাম । মেয়েটাকে এভয়েড করার ক্ষমতা আমার কোন কালেই ছিলো না !
মেয়ে - কি করছেন ?
আমি - কিছু না ! আবার ফোন করছো কেন ?
মেয়ে - কেন ফোন করলে কি অসুবিধা ?
আমি - অনেক অসুবিধা ! যাইহোক কি বলবে বলো আমি অনেক ক্লান্ত একটু রেস্ট নিবো !
মেয়ে - আপনাকে অনেক দেখার ইচ্ছা করছে ! একবার আসবেন প্লীজ ! আমি ঐ শহরেই আছি !
আমি - কত সহজেই বলে ফেলে কথাগুলো ! কিন্তু আমি যখন চেয়েছি একবার দেখা হোক তখন তুমি বারে বারে আমার চাওয়াটাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছো ! আমার পক্ষে আর সম্ভব নয় ।
মেয়ে - আমার ভুল হয়ে গিয়েছে । অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি আপনাকে দূরে ঠেলে দিয়ে । আমায় মাফ করে দেন !
আমি - ভুলটা অনেক প্রকার হয় কিন্তু তুমি সবগুলোতেই প্রদক্ষিণ করেছ । আমি মানব মহামানব নয় । হলে ক্ষমা করে দিতাম । আমায় আর ফোন দিও না দিলে তুমি আগে যে কাজটা বারে বারে করতে তা করবো মানে নাম্বারটা চেন্জ করে ফেলবো । ভালো থাকবে দোয়া করি অনেক ভালো !
.
বলেই ফোনটা কেটে দিয়েছিলাম । কারণ মেয়েটার কান্না শুনার ক্ষমতাটা আমার আর নেই ! কান্না শুনে আবার হয়তো গলে যেতাম মোমের মতো । মেয়েদের এইক্ষমতা ব্যাপক ধরনের । কত ছেলে যে এই অদৃশ্য মায়া বলে বারে বারে বিদ্ধস্ত হয়েছে তা আমার জানা নেই । তবে আমি যে আর ঐ মায়ার জালে পা দিচ্ছি না এটা ঠিক । আমি এতোদিন একা থেকে নিজের মধ্যেই একটা শহর গড়ে তুলেছি । সেই শহরে আলোর ছড়াছড়ি নেই জানি নেই ঠিকরে পড়া চাঁদের আলো তবে সেই শহরটাতে বাস করা আমি নামের একটা মানবের রয়েছে বাঁচার আকুতি । অন্ধকারে পথ ভুল করে সে চলে যায় অন্য পথে তবে সে চলতে চায় পূর্বে মতো থেমে না থেকে । সেই শহরে আমি আর তোমার মতো কোন মায়াবতী চাই না যাদের কাজ হচ্ছে মায়ার ছলে সব কিছু কেড়ে নিয়ে অন্ধকার দুনিয়ায় ছেড়ে দেওয়া !
আমি আমার শহরটাকে যত্ন করে গড়ে তুলেছি । মিথ্যা দিয়ে নয় সত্যের যেখানে জয়জয়কার । তুমি সেখানেই চলে যাও যেখানে আমার সুখ গুলো নিয়ে বন্ধক দিয়ে আবার এখানে এসেছ ।
আমার ভেতর গড়ে ওঠা শহরটাতে এখন শুধু আমার অধিকার রয়েছে । এখানে আমি হাসবো কাঁদবো রং নিয়ে আঁকবো শব্দ নিয়ে খেলা করবো যা ইচ্ছা তাই করবো কেউ বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না এতে । কষ্ট দিয়ে গড়া একএকটা ইমারতের গায়ে প্রতিদিন আমি পদচিহৃ রাখবো । প্রতিটা রাস্তায় সুখের ফোয়ারা ছোটাবো নিজেকে আর কোন কিছু থেকেই বঞ্চিত রাখবো না । অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়ে যেন বলি আমি আরো অনেক খানি এগোতে চাই নিঃশব্দে নীরবে যেন কেউ আমার চলার শব্দে নীদ্রা ভঙ্গ না হয়ে আমার ছোট খাটো সফলতা দেখে উল্লাস করুক ।
কারণ তো আগেই বলেছি এই শহরটা আমার তাই সকল আবেগ অনুভূতিগুলোও একান্তই আমার ।
.
লেখক - ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now