বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুবনজয়ী

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhat Hossain (০ পয়েন্ট)

X বিকাল ৩টা..... == আশিক কে ডাক দেও তো। (ম্যানেজার) == জ্বী স্যার। (অফিস পিওন) . আমি তখন অফিস ফিল্ডে কাজ করছিলাম। হঠাৎ একটা কণ্ঠে শুনতে পেলাম আমার নাম। কিন্তু এমন সময় আমাকে এতো জোর দিয়ে কে ডাকতে পারে? আর যেই ডাকুক, ডাকার তো কারন আছে বলে দেখছি না। ভাবান্তর মনে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলাম আরিফ ভাই ডাকছে। == কি ব্যাপার, এমন করে ডাকতেছো কেনো? (আমি) == ম্যানেজার ডাকে তোমাকে (আরিফ) == এখন (অবাক ভাবে) == হু, বললো তাড়াতাড়ি আসতে। == আচ্ছা যাও, আসতেছি আমি। == তাড়াতাড়ি আইসো। == হু অকে। . এমনিই আছি যন্ত্রণায়। তার উপর আরেক প্যারা। বাসায় তাড়াতাড়ি যাবো বলে ভাবলাম, আর এমন সময় ম্যানেজার এর ডাক। নিশ্চই তার কোন একটা কাজ আমাকে ঘুচিয়ে দেবে, অসহ্য। . হাত পায়ের ধুলোবালি পরিষ্কার করে ম্যানেজারের রুমে গিয়ে----- == স্যার আসবো? (আমি) == আরে আশিক, ভিতরে আসো। (স্যার) ভিতরে এসে দাড়াতেই..... == দাঁড়িয়ে কেনো? আরে বসো বসো। (স্যার) কাহানি বুঝলাম না, এতোটা খাতির আজ, কি মতলব? == জ্বী স্যার। . স্যার দেখি চুপচাপ কি যেন রাজ্যের কাজ নিয়ে পরলেন। আর আমার এদিকে মাথায় রাগ চড়তেছে। কোথায় হাতের কাজ গুলি করে বাসায় যাবো, সবাই মিলে ইফতার করবো, মনে হয় না এই ব্যাটার জন্য পারবো। এবার তিনি মুখ খুললেন == আশিক। == স্যার বলুন। == তোমাকে একটা কাজ দিবো, করতে পারবে? == কি কাজ স্যার? == এই টাকাটা ধরো। == কিসের জন্য স্যার? (টাকা হাতে নিয়ে) == আমার বাসা তো চিনোই। তুমি তোমার বাসায় যাওয়ার পথে আমার বাসায় কিছু ফল ফলাদি কিনে দিয়ে যেও। (জানতাম তার পার্সোনাল কাজ দিবে) == কিন্তু স্যার, তাহলে তো আমার বাসায় পৌছতে দেরি হয়ে যাবে। == একটু সেক্রিফাইজ করো, আজ নাহয় দেরি হোক। == কি আর করার, আচ্ছা আসি স্যার। == আচ্ছা আসো। (হাসি দিয়ে) . তার কক্ষ থেকে বের হয়ে মনে মনে কিছু বকুনি দিলাম তারে। ইচ্ছামত বকেছি, আমাকে তার নিজের কাজ আমার উপর চাপিয়েছে বলেই বকেছি। হ্যা বকেছি, বেশ করেছি। হাতের বাকী কাজ গুলি করার কথা ছিলো, কিন্তু এখন সেটাও করবো না, শোধ নিবো শোধ। . নাহ্, এসব কি ভাবছি? কাজে ফাঁকি দেয়া মোটেই ভালো কাজ না। ফাঁকিবাজদের কেউ ভালো চোখে দেখেনা। আমি কেনো ফাঁকি দিবো, রোজা রেখেছি তো কি হয়েছে? গায়ে যথেষ্ট পরিমাণে বল আছে এখনো। যাই বাকী কাজ গুলি করে কমপ্লিট করি। . . কাজ শেষ, অফিস থেকেও বের হয়ে এসেছি। এখন আমার উদ্দেশ্য একটি, কয়েক জাতের ভালো মানের ফলের দোকান। অফিসের সামনের বাজারে এসে বেশ কয়েকটা ফলের দোকান ঘুরলাম। কিন্তু ভালো কোন ফল চোখে পরছে না। প্রতিটা ফলের মধ্যেই ফরমালিন নামক স্লো পয়জম যে মিশানো রয়েছে সেটা ফলের চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। . নাহ, এই বাজারে ভালো ফল পেলাম না। তাই হতাশ মনে ফিরে যাচ্ছি। আর স্যারকে ফোন করে বলে দিবো ""স্যার, অনেক খুজেও ভালো ফল পাচ্ছি না। তাই কিনি নি। আমি আমার বাসায় চলে যাচ্ছি"" . যেই ভাবা সেই, স্যারকে ফোন দিয়ে বললাম। স্যারও যেতে বললেন। কথা শেষ করে বাজারের মূল ফটক দিয়ে যখন বের হচ্ছি, ঠিক তার ডান পাশে দেখলাম এক ৭০ঊর্ধো বয়স্ক এক চাচা কিছু পাকা আম নিয়ে বসে আছে। হাটতে হাটতে তার কাছে গেলাম-- == চাচা, আমের কেজি কত? (আমি) == কি বাপজান! হুনিনাই (চাচা) == জিগাইলাম আমের কেজির দর কত কইরা? == বাপ বেশি না, মাত্র ৪০ ট্যাহা কেজিতে দিয়েন। == এতো কম!! (অবাক হয়ে) যেখানে অন্যান্য সব দোকানে ৭০/৮০ টাকা কেজি, আর আপনার কাছে মাত্র ৪০ টাকা। == বাবা, হেরা তো কিন্না আইনা আবার বেচে। আমি তো কিন্না আইনা বেঁচি না। আমি আমার গাছের আম পাইড়া আনি। == তাই বলে এতো কম দামে ছেড়ে দিবেন? == বাবা, আমার তো কোন পুজি খরচ হয় নাই, খালি দুইডা প্যাট চললেই অয়য়। == চাচা, আপনার বাড়িতে কে কে আছেন? == (একটা দীর্ঘশ্বাস দিয়ে) আমি আর আপনের চাচি ছাড়া কেউ নাই। == আপনার ছেলে মেয়ে? == হাহাহা (রহস্যময় হাসি) == কি হলো, হাসছেন কেনো? == তারা থাইকাও নাই বাবা। (মাথা নিচু করে) == সন্তানাদি কয়জন আপনার? আর কোথায় তারা? == আমার ২ মাইয়া এক পুলা। মাইয়ারা জামাই বাড়ি। আর পুলা নিজেই বিয়া কইরা আলাদা কুনোজাগায় থাকে। == এর মানে বাড়িতে এখন আপনি আর চাচি থাকেন, আর কেউ না? == হ বাবা, আগেই তো কইলাম। দুই বুড়াবুড়ির চুলাচুলির সংসার এমনেই কাইট্টা যায়। (মৃদু হাসির সাথে) . চাচার কথাগুলি থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে তারা (চাচা-চাচি) কতটা কষ্টে দিন পার করছে। অভাবের মধ্যে দিয়ে টেনেচলা তাদের দুজনার সংসার। ছেলেমেয়েরা খরচ দেয় না, নেয়না তাদের কোন খোজ। কি আর করতে পারে এই বৃদ্ধা বয়সে এসে। গায়ে নেই কোন জোর, যেই জোরের তারতম্যে ভারি কাজ করতে পারবে। কি আর করবে? কয়দিন পর হয়তো খবর পাবো অজানায় হারিয়ে গেছে তারা। . ashisash78 . আম ছিলো প্রায় ৫ কেজির মত। যার দাম এসে দাড়ায় ২০০ টাকা। চাচাকে বললাম----- == চাচা, আমগুলি মাপেন তো, কত কেজি আছে দেখি। == আইচ্ছা বাবা, মাপতেয়াছি। == আর এই নেন, টাকাটা আগে ধরেন। চাচা হাতে টাকাটি নিয়ে বললো----- == বাপজান, এত বড় টেকার ভাঙতি নাই তো আমার কাছে। == আচ্ছা আমি দেখতেছি, আপনি আম মাপেন। == আইচ্ছা . চাচা আম মাপতেছে, আর আমি পাশে দাঁড়িয়ে কিছু ভাবতেছি। আমার ভাবনার আকাশ ছেদ করে চাচা ডেকে বললো----- == বাপজান, সারে চাইর কেজি হইসে। == দাম কত হলো? == ১৮০ টাকা বাবা। == আমটা দেন হাতে। == (ব্যাগে আম ভর্তি করে) এই নেও বাবা। আর আমার কাছে তো হাজার টাকার ভাঙতি নাই। == বাকী টাকা গুলি রেখে দেন। == কি কও, না বাবা, এইডা হয় না। == কেন হয় না? == আমি নিমু না বাবা! == আমি আপনার ছেলের মত। আপনার ছেলে টাকা দিলে আপনি টাকা নিতেন না? == (চাচা নিরব) == চাচা, না করবেন না। টাকাগুলো রাখেন প্লিজ। == আচ্ছা বাবা, ছেলে দিসে মনে কইরাই নিলাম। কিন্তু কথা আসে একটা!! == কি কথা চাচা? == তুমি আমার বাইত লও। আজকা চাচা-চাচির লগে ইপতারি করবা। == কিন্তু চাচা, == না বাবা, আমি তোমার কথা শুনছি, তুমিও আমার কথা শুনবা। == আচ্ছা চাচা, আমিও না করলাম না, চলেন == (চাচার মুখে এক পশলা হাসি) আমি তাইলে মালামাল গুলা গুছাই, তুমি বাবা ইকটু দাড়াও। == আচ্ছা . . কিছু কিছু মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে কিছুই প্রয়োজন হয় না। শুধু প্রয়োজন একটু আন্তরিকতার। কিছু কিছু মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার আনতে কিছুই লাগে না। শুধু দরকার তার কথায় একটু সাড়া দেয়ার। কিছু কিছু মানুষের ভুবনজয়ী দুঃখ কাটাতে কিছু নানা শুধু প্রয়োজন তার আবদার পূরন করা। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now