বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়ানক অভিজ্ঞতা-৮

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Monzur Morshed (০ পয়েন্ট)

X ১৯৯১ সাল ফাল্গুন মাসের শেষের দিক। গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি একা একাই। সদর ঘাট থেকে লঞ্চে চেপেছি। বুড়িগঙ্গা তখন বুকে টলমল পানি ধারণ করে জীবিত। আকাশে চাঁদ তখনো উঠেনি, তাই নদীর ঝিরি ঝিরি বাতাস আর লঞ্চের পানি কেটে যাওয়ার শব্দ উপভোগ করছিলাম। ঘন্টা খানেক বাদে রাজ্যের ঘুম আমাকে মাতাল করে দিলে কেবিনে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ মানুষের হৈচৈ শিশ আর হাত তালিতে ঘুম ভেঙে যায়। চোখ ডলতে ডলতে বাইরে এসে দেখি মায়াবী জোছনায় চারদিকটা কেমন যেন রহস্যপুরী হয়ে উঠেছে। নদীর কোন কূল কিনারা না দেখতে পেয়ে বুঝলাম পদ্মার বুকে ভেসে যাচ্ছি। অনেকগুলো লঞ্চ কেমন জানি আনমনে ভেসে যাচ্ছে নিজের পথে। মানুষের হৈচৈয়ের কারণ খুজতেই দেখলাম অপর পাশে আরকটা লঞ্চ আমাদেরটার সাথে প্রতিযোগীতা করছে। একবার আমাদেরটা এগিয়ে যায় তো আরেক বার ওটা। হাড্ডা হাড্ডি গতির লড়াই শেষে পদ্মার বুক চিরে আমাদেরটাই এগিয়ে যায়। আমাদের ঘাটে লঞ্চটি ভোর পাঁচটায় পৌছার কথা থাকলেও প্রতিযোগীতার কারণে চারটার কিছু আগে পৌছে যায়। লঞ্চ ঘাট থেকে আমাদের গ্রাম প্রায় দুই কিলো। পুরোটাই পায়ে হাটার পথ। অনেক লোক নামল। তাই তাদের সাথেই হাটা শুরু করলাম। কেউ ডাইনে যায় কেউ বায়ে এভাবে কমতে কমতে রইলাম তিন জন। চাঁদ মামা তখন নির্জীব হয়ে দিগন্তের কাছাকাছি ঝুলে আছে। পথি মধ্যে সংগী হিসেবে একটা কুকুরও জুটল। বিলের মাঝের রাস্তা দিয়ে চলছি। নানু বাড়ি আরো এক কিলো থাকতে একজন ডাইনে মোড় নিলেন। সামনেই খালপাড়ের বড় রাস্তা। একেকটা গাছ দৈত্যের মতো হাই তুলে দাড়িয়ে। তাকালে গা ছম ছম করে। ছোট একটা সাঁকো পড়ল। ভাটার কারণে খালে পানি নাই। আমরা দুজনে সাঁকো দিয়ে পার হলাম আর কুকুরটা কাদা মাড়িয়ে নিচ দিয়ে পার হলো। খালপাড়ের রাস্তা ধরে কিছু দূর এগোতেই সাথের ভদ্রলোকও বিদায় নিলেন। আমি শহুরে ইচড়ে পাকা কিন্তু গ্রাম্য পথে কখনোই এভাবে একা পথ চলিনি। তাই কিছু দূর যেতেই কেমন যেন ভয় ভয় করছিল। একটু দাঁড়ালাম, কুকুরটার সাথে কথা বলে ভয় দূর করার চেষ্টা করলাম। কুকুরটাও আপনের মতো সায় দিয়ে আহ্লাদে কুই কুই করতে লাগল। ও হয়তোবা বুঝাতে চেষ্টা করল ভয়ের কিছু নাই আমি আছি তোমার পাশে। ব্যাগ থেকে বিস্কুট বের করে ওকে খাওয়ালাম, আমিও একটা চাবালাম। একটু স্বাভাবিক লাগতেই আবার হাটা শুরু করলাম। ওমা! কিছু দূর আগাতেই চার দিকটা কেমন অন্ধকার হয়ে গেল! ভয়ে সিরদাড়া বেয়ে কি যেন নেমে গেল অনুভব করলাম। নিজের অজান্তেই হুজুরের শেখানো সব দোয়া-কালাম আওড়াতে লাগলাম। বুকে ফু দিয়ে সামনে ভাল করে খেয়াল করতেই বুঝলাম আমি মল্লিক বাড়ির ঘাটায়। সামনে মস্ত এক বাঁশ ঝাড়, রাস্তার এ পার হতে নুয়ে পড়ে ওপাড়ে গিয়ে পড়ার কারণে গুহার রূপ ধারণ করেছে। মনে পড়ে গেল এই সেই বাঁশ ঝাড় যাকে নিয়ে কতোই না মিথ প্রচলিত আছ! তাই একটু জোরেই লাইলাহা...ইল্লাহ আন্তা....পড়া শুরু করতেই দেখলাম কুকর সাইজের একটা বিড়াল আমার কয়েক গজ সামনে দিয়ে এক লাফে রাস্তার এপাড় ওপাড় করল। ভয়ে আমার সারা গায়ে কাটা দিয়ে উঠল, কুকুরটা আচমকাই দাড়িয়ে গেল, সাথে আমিও। আবারও ঐ প্রাণীটা এপাড় ওপাড় করতেই কুকুরটা সর্ব শক্তি দিয়ে ঘেউ ঘেউ শুরু করে দিল, এর পরই বাঁশ ঝাড়ে বিশাল একটা ছায়া ভেসে উঠল। আমার মনে হলো পেছন থেকে কেউ টর্চ লাইটের আলো জ্বেলেছে তাই আমার ছায়া বাঁশ ঝাড়ে পড়েছে। পেছন ফিরে তাকালাম, কোন আলো দেখতে পেলাম না। পরক্ষণেই দেখি কুকুরটা পাশে নেই, আশপাশ থেকে ওটার অস্ফুট গোঙানি ভেসে আসছে, বাঁশ ঝাড়ের ছায়াটা মিলিয়ে গিয়েই পুরো বাঁশ ঝাড়টা আমাকে গ্রাস করার জন্য সাঁই সাঁই শব্দ করে ঝাপিয়ে পড়ছে। সর্ব শক্তি দিয়ে চিৎকার দিলাম শব্দ হলো কি না বুঝলাম না, দৌড় দেয়ার চেষ্টা করলাম চারদিকে অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখলাম না! জ্ঞান ফেরার পর শুনেছি ছোট মামা চিৎকার শুনে এসে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করেণ আর কুকুরটার মাথা হতে দেহের অর্ধেকঅব্দি খালের কাদায় পোতা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now