বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘটনাটি আমার মামার সাথে ঘটেছিল;মামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন;বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলের ২১৭ নম্বর রুমে মামা এবং মামার ২ টা বন্ধু মোট তিনজন থাকতেন।
ঘটনাটি যখন ঘটে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীষ্মের ছুটি পড়ে যায় এবং ছাত্ররা হল ছেড়ে সবাই বাড়ির দিকে চলে যায়,কিন্তু মামার একটু শরীর খারাপ থাকায় তিনি ঐদিন হল ছাড়েনি,
পরের দিন যাওয়ার কথা চিন্তা করে হলে সারাদিন রুমে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলেন।
সন্ধায় মামার ঘুম ভেংগে যায় তিনি বুঝতে পারেন শরীরটা আগের থেকে অনেক ভাল বোধ করছেন;সারাদিনের অসুস্থ ভাবটা আর নেই।
তো মামা ভাবলেন সারাদিন তো ঘুমালাম এখন একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসা যাক।
মামা ফ্রেশ হয়ে রাত ৮ টার দিকে হল থেকে বের হলেন,বিশ্ববিদ্য
ালয়ের মাঝখান দিয়ে বিশাল বড় সবুজ ঘাসে ঢাকা ক্যাম্পাস।
কিন্তু আজ কেউ নেই।
সব ফাঁকা;শুধু গেটে এসে দেখলেন দারোয়ান ঘুমে ঝিমুচ্ছে।
মামা রাস্তায় হাটতে হাটতে ভাবলেন কোথায় যাওয়া যায়?
তখন চোখ গেল একটা সিনেমার পোষ্টারের দিকে।
মামা ঠিক করলেন রাতটা সিনেমা হলেই কাটিয়ে দেবেন;
৯ টার শো ১২ টা পর্যন্ত আর ১২ টার শো রাত ৩ টা পর্যন্ত দুইটা শো দেখলেই রাত পার হয়ে যাবে,
তারপর সকালে হলে গিয়ে রেডি হয়ে বাড়ির দিকে বেরিয়ে পড়বেন।
যেই ভাবা সেই কাজ,মামা টিকিট নিয়ে সিনেমা দেখতে লাগলেন।
নাহ ঘুম ঘুম আসছে,
সিনেমা হলের গমগমে আওয়াজে মামার মাথা যন্ত্রনা শুরু হয়ে গেল।
কোন ভাবে প্রথম শো টা শেষ করেই সিনেমা হল ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন।
এখন কি করবেন?
রাত ১২ টা; সিনেমা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে মামা হাটা শুরু করলেন।
কিন্তু হাটতে ভাল লাগছিল না,
এত রাতে গাড়িও তো পাওয়া যাবেনা।
কি যে করা যায়?
হঠাত একটা রিক্সা এসে বেল বাজাল মামার পিছনে,
মামা বললেন "ভার্সিটি যাবেন?
রিক্সাওয়ালারা উপর নিচ মাথা ঝাঁকাল।
মামা রিক্সায় উঠে বসলেন।
রিক্সা চলতে শুরু করল,মামা বা রিক্সাওয়ালা কেউ কারো সাথে কথা বলছেনা।
মামা রিক্সাওয়ালাকে লক্ষ্য করতে থাকলেন, পুরো মাথা গামছা দিয়ে ঢাকা,ছিপছিপে গড়নের লোকটা।
মামা খেয়াল করলেন রিক্সা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত চলছে;কিন্তু প্যাডেল অনেক আস্তে মারছেন তিনি।
এটা কি ভাবে সম্ভব?
হঠাত চাঁদের উপর থেকে মেঘটা সরে জোস্নার আলো ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে।
মামা রিক্সার প্যাডেলের দিকে তাকালেন,
চিতকার দিতে গিয়েও থেমে গেলেন;
ভয়ে উনার জ্ঞান হারানোর অতিক্রম।
কি দেখলেন তিনি?
ভয়ে উনার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসল; নিশ্বাস ও নিতে পারছেন না।
লোকটির সমস্ত শরীর মানুষের মত অথচ পায়ের পাতা নেই,পায়ের বদলে সেখানে ঘোড়ার পা।
ওইভাবেই তিনি রিক্সা চালাচ্ছেন মামার বুঝতে বাকি রইল না কিসের পাল্লায় তিনি পড়েছেন।
মামা কোন কথা না বলে আল্লাহুকে মনে মনে ডাকতে লাগলেন।
এইতো ভার্সিটি এসে গেছে মামা লাফ দিয়ে রিক্সা থেকে নেমেই হলের দিকে দৌড়।
পিছনে ছুটে আসছে ঘোড়ার খুরের টগবগ শব্দ আর চিহি আওয়াজ।
ধুপ----
কিসের সাথে যেন ধাক্কা খেলেন মামা;তাকিয়ে দেখেন দারোয়ান,দারোয়ান
কে দেখে যেন মামা শরীরে প্রাণ ফিরে পেলেন।
দারোয়ান মামাকে জিজ্ঞাসা করলেন "কি ব্যাপার কি হয়েছে মামা? এভাবে অন্ধের মত দৌড়ে কোথায় যাচ্ছেন?
মামা বলল"দারোয়ান কাকা ওখানে রিক্সা ওয়ালা আমাকে তাড়া করেছে,উনি মানুষ না অন্যকিছু।
দারোয়ান তো অবাক।
মামাকে জিজ্ঞাসা করলেন " মানুষ না? কিভাবে বুঝলেন?
মামা বলল "উনার পায়ের পাতা নেই ওখানে ঘোড়ার পায়ের খুর।
দারোয়ান হেসে ফেলল,,
মামা বলল বিশ্বাস করেন কাকা আমি নিজের চোখে দেখেছি।
দারোয়ান তার পা দুটো দেখিয়ে বলল" পা দুটো কি এরকম?
মামা চমকে লাফ দিয়ে উঠল।
এটি তো দারোয়ান না,সেই রিক্সাওয়ালা দারোয়ানের রুপ ধরে এসেছে।
মামা দারোয়ানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দৌড়ে রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
ভয়ে তার জ্ঞান হারানোর জোগার।
এদিকে দরজায় জোরে জোরে কেউ ধাক্কা দিচ্ছে।
নাহ দরজা খোলা যাবেনা।
মামা ভয়ে জড়োসড় হয়ে বিছানায় আল্লাহকে ডাকতে লাগল।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত ৩ টা ৩৫ বাজে।
এইতো আরেকটু পর ফজরের আযান দেবে
তখন সব ঠিক হয়ে যাবে।
মামা ঘুমিয়ে পড়ল কাপতে কাপতেই
"এই রাজিব দরজা খোল;ঘুমিয়েছিস নাকি?
কেউ যেন মামাকে ডাকছে,
ডাক শুনে মামার ঘুম ভেংগে গেল-তারমানে মামা এতক্ষন স্বপ্ন দেখছিল।
দরজা ধাক্কাচ্ছে তার রুমমেট শফিক।
মামা দরজা খুলে দিলেন"শফিক মামা এসে মামাকে বলল "কিরে মরে গিয়েছিলি নাকি কখন থেকে দরজা ধাক্কাছি খুলছিস না?
মামা বলল আর বলিস না এত ভয়ের একটা স্বপ্ন দেখলাম না কি আর বলব"
শফিক মামা জিজ্ঞাসা করল কিসের স্বপ্ন?
মামা পুরো ঘটনা বলার পর শফিক মামা শুনে হো হো করে হেসে উঠল;
মামাকে বলল আরে ভীতুর ডিম এতে ভয় পাওয়ার কি আছে এই দ্যাখ আমার পাও তো ঐরকম।
বলে শফিক তার পা উচু করে মামাকে দেখাল।
মামার তখন মনে পড়ল হোস্টেলে তো কেউ নেই শফিক তো আরো দুইদিন আগে বাড়ি চলে গেছে।
মামার সামনে বসে তখনো হাসছে সেই জিনিসটা।
অদ্ভুত ভয়ংকর সেই হাসি।
চোখগুলা গর্তের মধ্যে ঢুকে গেছে -
মনিবিহীন চোখ দুইটা থেকে ঠিকরে পড়ছে সাদা আলো।
পুরো শরীর থেকে চুইয়ে পড়ছে রক্ত।
মুখ থেকে আসছে কাচা মাংসের বিশ্রি কটু গন্ধ।
গড় গড় আওয়াজ করে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে মামার দিকে-
মামার ব্রেন আর পেশার নিতে পারল না
জ্ঞান হারানোর পূর্বে দেওয়াল ঘড়িটার দিকে চোখ চলে গেল ৩ টা ৪০ মিনিট।
মাত্র ৫ মিনিটের ঘুম তাকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌছে দিচ্ছে,এই বুঝি তাকে মরণ কামড় দেবে জিনিসটা।
জ্ঞান হারালো মামা।
পরদিন রাতে জ্ঞান ফিরল মামার- হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন মামা।
একে একে রাতের সব কথা মনে পড়ল।
মামার পাশে বসে আছে শফিক মামা আর সেলিম মামা।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হল পরিস্কার করতে গিয়ে দেখেন মামা রুমে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে
তিনিই হাসপাতালে ভর্তি করে মামার রুম মেটদের খবর দেন।
মামা ওদের দুইজনকে সব ঘটনা খুলে বলেন।
তারপর মামার রুমমেটরা মামাকে জানাই গতকাল রাতে হলের দারোয়ানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
মামা শুনে অবাক হলেন না,কারণ তিনি জানেন গতরাতের ভয়াবহতা।
যাই হোক ডাক্তার রুমে এসে মামার বন্ধুদের বললেন আপনারা এখন বাইরে যান উনি ২ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাবেন।
মামার বন্ধুরা বাইরে চলে গেলেন পিছন পিছন ডাক্তারও।
মামার চোখ গেল ডাক্তারের পায়ের দিকে
ঘোড়ার খুরের পা।
মামা চোখ বড় বড় করে তাকালেন;ডাক্তার পিছনে ফিরে মামার দিকে অবজ্ঞার হাসি দিয়ে রুম বন্ধ করে দিলেন--------------সমাপ্ত।
ঘটনা ভাল লাগলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না; আপনার মতামত আমাদের পরবর্তী গল্পের অনুপ্রেরণা।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now