বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

খন্ড খন্ড মেঘ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আকাশের কালো খন্ড খন্ড মেঘ মাথার উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। একা একা নিঃসঙ্গভাবে অন্যমনস্ক হয়ে অভি হেঁটে চলছে। রাত তখন প্রায় ১০ টা পঁচিশ মিনিট। গাবতলি সুইচ গেইট-র পাশেই একটা বড় বটগাছ। বটগাছের নিচে একটা ছোট চায়ের দোকান। এই ছোট্ট দোকানটা সারারাত অবধি খোলাই থাকে। এখানের চা অভির কাছে একটু বেশিই ভালো লাগে। তাই দিনে বা রাতে একবার হলেও অভির এখানে আসা হয়। . সারাদিন রোজা থাকার কারণে এখানে দিনে আসা হয়নি। তাই রাতে তারাবীহ নামায শেষ করে মসজিদ থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে "কাউছার টি-স্টল"-এর উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলো। . হাঁটতে হাঁটতে অভি "কাউছার-টি-স্টল" পৌঁছে যায়। দোকানে তিনজন ক্রেতা বসে আছে। সবার দিকে একবার তাকিয়ে বেঞ্চের ফাঁকা যায়গায় বসে একটা চা দেওয়ার কথা বলে অভি চুপচাপ বসে রইল। . অভি যে ফাঁকা যায়গায় বসেছিল, ঠিক তার বাম পাশে একটা ছেলে ছিল। ছেলেটা বসে বসে সিগারেট টানছে। ছেলেটাকে দেখে অভির কাছে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো গাঁজাখোর মনে হলো। সিগারেটের ধোঁয়া, একবার ডানে একবার বামে গোলাকার করে ছাড়ছে। অভি ছেলেটার সিগারেট টানার দৃশ্য দেখেই যাচ্ছে! ছেলেটার এক হাতে সিগারেট অন্য হাতে চায়ের কাপ। দুইটাই সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে। . 'মামা আপনার চা নিন', দোকানদার অভিকে চা দিল। অভি দোকানদার থেকে চা নিলো। চা'তে প্রথম চুমুক দেওয়ার পর দ্বিতীয় চুমুক দিবে ঠিক এমন সময় একজন মহিলা দোকানে আসলো। মহিলার চোখেমুখে হতাশার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে! 'রাজিব, তোর মোবাইল বন্দ রাখছিস কেন? তোর আপু বারবার কল দিচ্ছে, আমি কল দিচ্ছি, তুই মোবাইল বন্দ রাখছিস কেন!' গাঁজাখোর ছেলেটার মা অনেকটা বিস্মিত কন্ঠে একদমে কথাগুলো বলতে থাকলেন।' এখান থেকে যেতে বলছি', ধমকের সাথে রাজিব তার মাকে জবাব দেয়।' তোর আপু হসপিটালে তোর জন্য অপেক্ষা করছে আর তুই এখানে কী বসে বসে তামাসা করিস? তারাতারি টাকাগুলো দে', রাজিবের মা বললেন। 'টাকা নেই, সব খরচ হয়েগেছে! আর মাত্র ২০টাকা পকেটে আছে!' রাজিব বললো। 'কি বলিস কুত্তার বাচ্ছা, ৬ হাজার টাকা জুয়া খেলে শেষ করেছিস? আজ তোর একদিন, কি আমার একদিন', কথাগুলো শেষ হতে না হতেই রাজিবের মা নিজ পায়ের জুতা খুলে রাজিবের দুই গালে আঘাত করতে থাকলো। তারপর রাজিব যা করলো তা দেখার জন্য অভি এবং অন্যান্য কেউ প্রস্তুত ছিলো না। . প্রথমে রাজিব তার হাতে রাখা চায়ের কাপ তার জন্মদাত্রী মায়ের মুখে ছুঁড়ে মারে। তারপর ডান পা তার মায়ের তলপেটে সিংহভাগ শক্তি দিয়ে আঘাত করে। রাজিবের মা মাটিতে পরে যায়। দোকানে অভি এবং অন্যান্য যারা ছিল সবাই রাজিবের এই নৃশংসতা দেখে চুপ থাকতে পারেনি। প্রথমেই একজন রাজিবের টি-শার্ট ধরলো,তারপর ডান গালে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দুইটা থাপ্পড় দিলো। থাপ্পড় খেয়ে রাজিবের রাগ দ্বিগুণ হয়ে যায়। রাজিব এবার এই লোককেও মারতে আরম্ভ করলো। অভি এবং অন্যান্য দুইজন এখন আর বসে থাকতে পারলো না। যে যার ইচ্ছে মতো রাজিবকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দোকানের চারদিক পথচারীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। . রাজিবের মা চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে, 'আপনারা আমার ছেলেকে মারবেন না। আমার ছেলে বুঝতে পারেনি, আপনারা দয়া করে আমার ছেলেকে ছেড়ে দিন!' . রাজিবের মায়ের কাকুতিমিনতি অভির কাছে বিরক্ত লাগলো। অভি রাজিবের মাকে কিছুটা উচ্চস্বরেই বললেন, 'যেই ছেলে আপনাকে এইভাবে মারলো, তার জন্য কাকুতিমিনতি করার মানেই হয়না। এমন ছেলের জন্য মা থাকতে পারেনা। এরা কখনও কোনো নারীকে 'মা' বলতে পারবে না। আমরা তাকে পুলিশে দিবো।' অভির মতামতের সাথে সবাই একসাথে, 'ঠিক বলেছে', 'ঠিক বলেছে' বলতে লাগলো। . রাজিবের মা তখন শরীরের সমস্ত শক্তি সঞ্চিত করে দাঁড়িয়ে যায় এবং অভির সামনে এগিয়ে গিয়ে ঠাস করে একটা থাপ্পড় অভির গালে বসিয়ে দিলো! . একটু আগে এখানে সবার মুখে মুখে, 'রাজিবকে আরো মারা উচিৎ, পুলিশে দেওয়া উচিৎ' ইত্যাদি বলেছিল। আর এখন সবাই রোবটের মতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। অভি বাম হাত তার ডান গালে জড়িয়ে রেখেছে। কেউ একটা টুঁশব্দ করতে পারলো না। অভি নিজেও থাপ্পড় খেয়ে কিছু বলতে পারলো না। পরিবেশ একম নীরব হয়ে গেলো। . নীরবতা ভেঙ্গে রাজিবের মা বলতে লাগলো, এটা আমার ছেলে, আমি রাজিবের মা, আমি তাকে শাসন করবো। আমার সন্তানের ভুল হয়েছে, সে যখন বুঝবে তখন নিশ্চই অনুশোচনা করবে! আপনারা আমার ছেলের গায়ে হাত দিলেন কেন? আমি আপনাদের পুলিশে দিবো।' রাজিবের মায়ের কথা শেষ হতে না হতেই একজন মধ্যবয়সী লোক চোখের জল মুছতে মুছতে বলা শুরু করলো, 'মা কি জিনিস আজ বুঝলাম! . . লিখাঃ অভি(পাগলির পঁচা)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now