বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#এক.....
-আপনি আমাকে দেখতে এসেছেন, নাকি লজ্জা পেতে এসেছেন?এত লজ্জা পেতে হবেনা...কি কি জিগ্যেস করার করে ফেলুন...
-ওহ!! না মানে আগের এক্সপেরিমেন্ট নেই তো তাই একটু নার্ভাস লাগছে....
-তাহলে আপনি জেনেশুনেই এসেছেন,আমারতো অনেক এক্সপেরিমেন্ট, যেহেতু আমার আগে বিয়ে হয়েছে....
-আপনি ভুল বুঝছেন..আসলে সত্যিই আমার একটু নার্ভাস লাগছে.আপনাকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে..
-কমন কথা,পাড়ার বখাটেরাও দেখলে এটা বলে..
-প্রশংসাও ঠিক মত আমার ধারা হয়না...সবকিছুরই পূর্ব অবিজ্ঞতা লাগে..আমার এই অবিজ্ঞতাও নেই,তবে আপনি সুন্দর..
-জ্বি বুঝেছি.আপনি জেনেশুনেই বিয়েতে মত দিয়েছেন তো?বিয়ের রাতেই আমার স্বামী মারা গিয়েছিলো,ও বাড়ীর সবাই বলতো আমি নাকি এর জন্য দায়ী... আপনারও তো খারাপ কিছু হতে পারে...
-আমি এসবে বিশ্বাস করিনা....আর হ্যা,আপনাকে জেনেশুনেই বিয়ে করছি..আমার আপনাকে ভালো লেগেছে বলেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছি...
-এত মেয়ে থাকতে আমার মত বিধবাকে বিয়ে করে আপনি যে কি পাবেন,আপনিই ভালো জানেন...আপনি অনেক ভালো ছেলে,আমার থেকে বেটার কাউকে পেয়ে যাবেন..
-কি পাবো সেটা না হয় পরে দেখা যাবে..আপনার কাছে যেটা মূল্যহীন, আমার কাছে সেটাই মূল্যবান. আমার ভালো লাগার কথা আমি বলে দিয়েছি..আপনার যদি আমাকে ভালো না লাগে তাহলে আপনার ফ্যামিলিকে বলে দিবেন.
আজ তাহলে উঠা যাক..কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ায় ফারহান.রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আরেকবার প্রিয়ন্তির দিকে তাকায় ফারহান....
আপনার কোন আপত্তি না থাকলে চলুন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি....বলল ফারহান.
-না ঠিক আছে,আমি একাই যেতে পারবো..
-তাহলে একটা ঠিক করে দিই...রিক্সায় বসার পর প্রিয়ন্তি ফারহানের দিকে তাকিয়ে বলল,আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি আমার পূর্ব পরিচিত.. আপনাকে আগে কোথাও দেখেছি..
-শহরটা ছোট,দেখলে দেখতেও পারেন..
-তা ঠিক,আচ্ছা আসি ভালো থাকবেন,বলে রিক্সাওয়ালাকে রিক্সা চালাতে বলে প্রিয়ন্তি..রিক্সা চলে যাওয়া পথের দিকে একদৃষ্টিতে থাকিয়ে থাকে ফারহান...
-
#দুই...
মা, ও মা এই দিকে আসো.......
-কি হয়েছে এইভাবে চিৎকার করছিস কেন?
-তুমি না বললে সকালে বারান্দায় দিকে খেয়াল রেখেছো....তাহলে আজকেও দেখনি কে এসে এই ফুল আর বই দিয়ে গেছে...
-আমি তো তাকিয়ে ছিলাম,কাউকে তো আসতে দেখনি,কখন দিয়ে গেলো দেখলামি না...
-তোমাকে বলাই ভুল হয়েছে, উফফ আমি কেন দেখলাম না.....বলে রেগে বাসার বাহিরে দেখতে যায় প্রিয়ন্তি...না কাউকেই তো দেখা যায় না....
প্রিয়ন্তির কাছে জিনিসটা অদ্ভুত লাগে,গত দুমাস ধরেই কে যেন নিয়মিত বারান্দায় ফুল, কবিতা অথবা উপন্যাসের বই সাথে একটা চিঠি দিয়ে যাচ্ছে...সবচেয়ে বড় অদ্ভুত লাগে,বই গুলো তার সব প্রিয়ে লেখকদের..যে এইসব দিচ্ছে সে কি করে জানে আমার প্রিয় লেখকদের নাম...?!!
আচ্ছা ফুল বই দেওয়া মানুষটি তো অবশ্যই কোন ছেলে হবে,যে হয়তো আমাকে পছন্দ করে..মনে মনে ভাবে প্রিয়ন্তি.....
একেতো উত্তপ্ত রোদ,তারউপর খালি বাস পাওয়া যাচ্ছেনা,যেটা আসছে সেটাই এমন ভাবে বোঝাই করে আসছে,বাসে উঠার চিন্তাও করা যায়না,স্বভাবতই প্রচণ্ড বিরক্ত প্রিয়ন্তি...সামনে স্টপেজ থেকে উঠা যাবে ভেবে হাটা দেয় প্রিয়ন্তি..
অসাবধানতায় ফুটপাতে কলার খোসায় পা পিছলে পড়ে যায় প্রিয়ন্তি....উফফ অসহ্য, ঘুম থেকে উঠে যে কার মুখ দেখেছিলাম!!মনে মনে ভাবে প্রিয়ন্তি....
হঠাৎ পিছন থেকে কে হু হা হা হি হি হাসতে লাগলো,চরম বিরক্তি নিয়ে পিছনে তাকায় প্রিয়ন্তি,একটা ছেলে পড়ে যাওয়া দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসছে...ইচ্ছে করছে এক ধাক্কা দিয়ে ছেলেটাকেও ফেলে দেই,তাহলে বুঝবে পড়ে গিয়ে কেমন লাগে...!!
পড়ে গিয়ে এতটা খারাপ লাগেনি, যতটা খারাপ লাগছে ছোকরাটার হাসি দেখে.....
এত দাঁত কেলিয়ে হাসার কিছু নেই,কারো বিপদ দেখে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা অভদ্রতার কাজ..বলল প্রিয়ন্তি.
-আপনি এত বুড়ো মেয়ে হয়ে একটু দেখে চলতে পারেন না, বলেই ছেলেটি আবার হাসতে লাগলো.....
এবার আরো রাগ উঠে গেলো প্রিয়ন্তির,আপনাকে হাসলে দেখলে বানরেরদল তাদের হারিয়ে যাওয়া ভাই মনে করে ধরে নিয়ে যাবে,বলেই হনহন করে হাটা দেয় প্রিয়ন্তি.এইসব ছেলেদের সাথে যত কথা কম বলা যায় ততই ভালো...
#তিন....
-হ্যালো কে প্রিয়ন্তি?
-জ্বি আমি প্রিয়ন্তি,আপনি?
-আমি ফারহান...
-ওহ!!কেমন আছেন?
-হুম ভালো,আপনি ফ্রি আছেন?ফ্রি থাকলে একটু কথা বলতাম..
-জ্বি বলুন.....রাতে কি কারো কাজ থাকে!!
-তা ঠিক.. বিষয়টা নিয়ে কি কিছু ভাবলেন?সবকিছু আপনার উপর নির্ভর করছে?
-বিয়ের বিষয়টা নিয়ে?
-হুম
-আমাকে একটু সময় দিতে হবে..আপনি হয়তো যতটা সহজ ভাবে নিচ্ছেন বিষয়টা অত সহজ নয়.এই সমাজ বলুন,সমাজের মানুষ বলুন,কেউ বিয়ের রাতে বিধবা হওয়া নারীকে ভালো চোখে দেখেনা...
-আমার তো মনে হচ্ছে আপনি নিজেই নিজের উপর দোষ চাপাচ্ছেন,এক্সিডেন্টের উপর তো আর আপনার হাত নেই...!!
-সেটা আপনি মনে করছেন!!সমাজের অন্য মানুষ গুলো তো মনে করছেনা......কাল একবার দেখা করতে পারবেন?
-হুম পারবো..কোথায় আসতে হবে?
রেস্টুরেন্টে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দেরী হয়ে যায় ফারহানের,ভিতরে ঢুকে দেখলো প্রিয়ন্তি বসে আছে,
-স্যরি একটু দেরী হয়ে গেলো....হ্যা বলুন কেন এত জরুরি তলব....
-আপনাকে আসলে কথা গুলো আমার অনেক আগেই বলা উচিত ছিলো,আমি অনেক ভেবেছি,বার বার নিজের কাছেই হেরে গিয়েছি...
আমার বিয়ের পাঁচ-ছয় মাস আগ থেকে কেউ একজন রোজ আমার বারান্দায় ফুল-বই- আর একটা করে চিঠি দিয়ে যেতো...প্রথম প্রথম আমার কাছে বিরক্ত লাগতো,কিন্তু একটা সময় আমি সেই অচেনা মানুষটির প্রেমে পড়ে যাই....অনেক চেষ্টা করেও আমি তাকে খুজে বের করতে পারিনি,সে চিঠিতে বলেছিলো,সে আমার সামনে আসবে, যেদিন তাকে চিনতে পারবো সেদিন সে তার ভালোবাসার কথা আমাকে বলবে...
আমি তার জন্য আমার বিয়ের আগের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি,কিন্তু সে আসেনি...
আমি দুঃখীত ফারহান সাহেব,আপনি অনেক ভালো একজন মানুষ,এতটা ভালো মানুষকে হতে হয়না,আপনি আমার থেকে আরো ভালো কাউকে পাবেন.. আমি সেই অচেনা মানুষটির জন্য অপেক্ষা করতে চাই...
#চার.....
-আন্টি প্রিয়ন্তি কই?
-কই আবার!আমার সাথে আজকেও রাগারাগি করে ছাদের দিকে গিয়েছে ওই ছেলেটাকে দেখতে..মা তুমি বলো,কোন ছেলে এসে বারান্দায় ফুল টুল দিয়ে যায়,আমার বয়স হয়েছে,ঠিক মত কাছের জিনিসই দেখতে পাইনা দূরের জিনিস কিভাবে দেখবো.!!?
ছেলেটাকে দেখতে পাইনি বলে আমার সাথে রাগারাগি করে.....
-আচ্ছা আমি গিয়ে দেখছি বলে সুমি ছাদের দিকে যায়..সুমি প্রিয়ন্তির সবচেয়ে কাছের বন্ধু...
-কিরে আজকেও দিয়েছে?
-হুম...
-তুই আন্টির সাথে রাগারাগি কেন করিস?নিজেই তো ধরতে পারিস না....
-আরে আমি কিভাবে ধরবো!!এমন সময় এসে দিয়ে যায়,যখন আমি হয় ঘুমে থাকি,না হয় রান্না ঘরে থাকি...লোকটার মনে হয় আমার চব্বিশ ঘন্টার রুটিন মুখস্থ...
-তুই এটা নিয়ে এত ভাবছিস কেন?নাকি প্রেমে পড়েছিস?
-দূর প্রেমে পড়তে যাবো কেন!! এতদিন ধরে দিচ্ছে তাই দেখতে ইচ্ছে করছে...!!
-আচ্ছা চলতো এবার,ইমতিয়াজ স্যারের ক্লাস আছে,ভুলে গেছিস?
-উফফ একদম মনে নেই চল চল...
এই সুমি দাঁড়াও....
সুমি পিছনে তাকিয়ে দেখে লাবনীর বড় ভাই,লাবনী সুমিদের পাশের ফ্লাটে থাকে,সেই সুবাদে লাবনীর সাথে সুমির পরিচয়... সুমি প্রায় সময় লাবনীদের বাসায় গিয়ে আড্ডা দেয়..
-ভাইয়া কেমন আছেন?
-হ্যা ভালো..তোমার কি অবস্থা? কোথায় যাচ্ছো ভার্সিটিতে?
-হ্যা,একটা জরুরী ক্লাস আছে..
সুমির পাশে প্রিয়ন্তির দিকে তাকায় ছেলেটি,
-আপনাকে চিনা চিনা লাগছে,কোথায় যেন দেখেছি..
-ভাইয়া ও আমার বান্ধবী প্রিয়ন্তি...
-হুম মনে পড়েছে, আপনি না সেদিন পা পিছলে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলেন?
-আপনি সেই ছেলে!! স্যরি সেদিনের বিহেভের জন্য..আসলে মুড অনেক খারাপ ছিলো..
-না না ঠিক আছে,আমি কিছু মনে করিনি..আচ্ছা যাও...
#পাঁচ......
-কিরে ব্যাগ ঘোচাচ্ছিস কেন?
-মা কালকেই চলে যাবো...
-চলে যাবি মানে?দেশে আসলি বিয়ে করবি বলে,মেয়েও ঠিক করলি..মেয়ের মা এখন ফোন দিয়ে বলল তাদের কোন আপত্তি নেই,তাহলে চলে যাবি কেন?
-কি বলো!! প্রিয়ন্তির মা ফোন দিয়ে বলেছে আপত্তি নেই?
-হ্যা,তাইতো বলল..আমি কথা বলে দিনক্ষণও ঠিক করে ফেললাম...
ফারহান অবাক হলো,প্রয়ন্তি আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিয়েতে রাজি হলো কেন!!?
প্রিয়ন্তির মোবাইলে বেশ কয়েকবার ট্রাই করার পরও নাম্বার বন্ধ পেলো ফারহান....
এই মুহূর্তে বাসর ঘরে প্রিয়ন্তি বৌ সেজে বসে আছে,ফারহানের সাথেই তার বিয়ে হয়েছে...ফারহান রুমে আসার পর,প্রিয়ন্তি সালাম করলো......ফারহানের তখনো সবকিছু ঘোরের মত লাগছে,ভাবছে সব বুঝি স্বপ্ন, এই বুঝি ঘুমে ভেঙ্গে গেলেই সব শেষ.....
আপনি কি পরিমাণ খারাপ একটা মানুষ বুঝতে পারছেন?সেদিন আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে জানার পরও কাপুরুষের মত বিদেশে পালিয়ে গিয়িছেলেন কেন?
ফারহান অবাক হয় প্রিয়ন্তির কথা শুনে,তাহলে প্রিয়ন্তি সব জেনে গেছে,ভাবে ফারহান.
-হ্যা সেদিন সব জেনেও আমি আপনার সামানে দাঁড়াইনি...সুমি আপনাকে এতকিছু বলেছে এটা বলেনি? আপনার বিয়ে ঠিক হওয়ার পাঁচ দিন আগে বাবা মারা যায়...আমি তখনো কিছুই করতাম না... পুরো ফ্যামিলির সব দায়িত্ব আমার উপর এসে পড়লো...তখন আমি কি করতে পারতাম?
-স্যরি আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি,আপনি কেমন ছেলে...কাল আমার কথা শুনার পরও কেন একবারও বলেননি আপনি সেই ছেলে.
কাল যদি সুমি দেশে না আসতো তাহলে আমার কিছু জানা হতো না,আপনাকে আবার হারিয়ে ফেলতাম...
-সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো হারায় না....এই যে আমি আপনাকে ঠিকি পেয়েছি..
-হুম পেয়েছেন না ছাই!!...আমি না জানলে তো কখনই পাওয়া হতো না..
আমার বাসায় গিয়ে কখন সেফলি ফুল-বই দিয়ে আসা যাবে,আমি কখন কোথায় যেতাম,আমার প্রিয় লেখকদের নাম সব সুমি আপনাকে বলতো তাই না? ভ্রু কুচকে ফারহানকে জিগ্যেস করে প্রিয়ন্তি...
ফারহান হাসে...কেন বললে কি সুমিকে মারবেন?...
-না আমার সব কিছু আপনার কাছে পাচার করার জন্য ওকে পুরস্কৃত করতাম.......!
হাদারাম সাহেব কি আজকেও ভালোবাসার কথাটি বলবেন না?নাকি এটাও আমাকে বলতে হবে??
ফারহান হাত বাড়ায়,প্রিয়ন্তি ফারহানের বুকে আশ্রয় খুজে নেয়....এটাই আমার সবচেয়ে সুখের স্থান, যা আমি খুঁজেছি দিনের পর দিন.. মনে মনে ভাবে প্রিয়ন্তি........
Tarique Hasan
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now