বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

" যকের ধন " ------ (পর্ব ২০)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " যকের ধন " হেমেন্দ্রকুমার রায় ---------------- (পর্ব ২০) ▪▪▪অদৃশ্য বিপদ▪▪▪ ঘরের ভিতর ঢুকে আমরা সাগ্রহে চারিদিকে চেয়ে দেখলুম। ঘরটা ছোট—ধুলো আর দুর্গন্ধে ভরা। আসবাবের মধ্যে রয়েছে খালি এককোণে একট পাথরের সিন্দুক—এ রকম সিন্দুক কলকাতার যাদুঘরে আমি একবার দেখেছিলুম। বিমল এগিয়ে গিয়ে সিন্দুকের ডালাটা তখনই খুলে ফেললে, আমরা সকলেই একসঙ্গে তার ভিতরে তাড়াতাড়ি হুমড়ি খেয়ে উঁকি মেরে দেখলুম-কিন্তু হা ভগবান, সিন্দুক একেবারে খালি। আমাদের এত কষ্ট, এত পরিশ্রম, এত আয়োজন –সমস্তই ব্যর্থ হল। কেউ আর কোন কথা কইতে পারলুম না, আমার তো ডাক ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছা করছিল। অনেকক্ষণ পরে বিমল একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললে,“আমাদের একূল-ওকুল হুকুল গেল! যকের ধনও পেলুম না, প্রাণেও বোধহয় বাঁচব না! আমি বললুম, বিমল, আগে যদি আমার মানা শুনতে। কতবার তোমাকে বলেছি ফিরে চল, যকের ধনে আর কাজ নেই। রামহরি বললে, ‘আগে থাকতেই মুষড়ে পড়ছ কেন? খুঁজে দেখ, হয়তো আর কোথাও যকের ধন লুকানো আছে? বিমল বললে, আর খোজাখুঁজি মিছে। দেখছ না, আমাদের আগেই এখানে অন্য লোক এসেছে, সে কি আর শুধু-হাতে ফিরে গেছে? আমি বললুম, এ কাজ করালী ছাড়া আর কারুর নয়। —হুঁ। —“কিন্তু সে কি করে খোঁজ পেলে? —খুব সহজেই। কুমার, আমরা বোকা-গাধার চেয়েও বোকা। করালী পালিয়েছে ভেবে আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে পথ চলছিলুম—সে কিন্তু নিশ্চয়ই লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের পিছু নিয়েছিল। তারপর কাল যখন আমরা সুড়ঙ্গের মুখ খুলেছিলুম, সে তখন কাছেই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে বসেছিল। কাল রাতেই সে কাজ হাসিল করেছে, আমরা যে কোনরকমে পিছু নিয়ে তাকে আবার ধরব, সে উপায়ও আর রেখে যায়নি। বুঝেছ কুমার, করালী গর্তের মুখ বন্ধ করে দিয়ে গেছে। —কিন্তু শম্ভুকে খুন করলে কে? —করালী নিজেই। —কেন সে তা করবে? —পাছে যকের ধনে শম্ভু ভাগ বসাতে চায়। হঠাৎ আমাদের কানের উপরে আবার সেই ভীষণ অট্টহাসি বেজে উঠল—‘হা-হা-হা-হা-হা’' আমি আর্তনাদ করে বলে উঠলুম, বিমল, শম্ভুকে খুন করেছে এই যক? আবার–আবার সেই হাসি! আমার হাত থেকে বিজলী-মশালটা কেড়ে নিয়ে বিমল-যেদিক থেকে হাসি আসছিল, সেইদিকে ঝড়ের মতন ছুটে গেল—তার পিছনে ছুটল রামহরি। ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে একল বসে আমি ভয়ে কাঁপতে লাগলুম—বিমল এত তাড়াতাড়ি চলে গেল যে, আমিও তার পিছু নিতে পারলুম না। উঃ, পৃথিবীর বুকের মধ্যেকার সে অন্ধকার যে কি জমাট, লেখায় তা প্রকাশ করা যায় না—অন্ধকারের চাপে আমার দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। হঠাৎ আমার পিঠের উপরে ফোঁস করে কে নিঃশ্বাস ফেললে। চেঁচিয়ে বিমলকে ডাকতে গেলুম, কিন্তু গলা দিয়ে আমার আওয়াজই বেরুল না। সামনের দিকে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করলুম, কিন্তু ঘরের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে মাটির উপরে পড়ে গেলুম। উঠে বসতে না বসতেই আমার পিঠের উপরে কে লাফিয়ে পড়ল এবং লোহার মতন শক্ত দুখান হাত আমাকে জড়িয়ে ধরলে। আমি তার হাত ছাড়াবার চেষ্টা করলুম—সে কিন্তু অনায়াসে আমাকে শিশুর মত ধরে ঘরের মেঝের উপর চিৎ করে ফেললে— প্রাণপণে আমি চেঁচিয়ে উঠলুম–বিমল, বিমল, বিমল, বাঁচাও— আমাকে বাচাও? আমার বুকের উপরে বসে সে হা-হা করে হাসতে লাগল – কিন্তু তার পরমুহূর্তেই সে হাসি আচম্বিতে বিকট এক আর্তনাদের মতন বেজে উঠল—সঙ্গে সঙ্গে আমার বুকের উপর থেকে সেই ভূত না মানুষটা—ভগবান জানেন কি—মাটির উপর ছিটকে পড়ল। তাড়াতাড়ি আমি উঠে বসলুম—অন্ধকারে কিছুই দেখতে পেলুম না বটে, কিন্তু শব্দ শুনে যেন বুঝলুম, ঘরের ভিতরে বিষম এক ঝটাপটি চলেছে। ভূত, না জন্তু, না মানুষ? কি যে করব, কিছুই বুঝতে না পেরে, দেওয়ালে পিঠ রেখে আড়ষ্ট হয়ে বসে রইলুম-ওদিকে ঘরের ভিতরে ঝাপটা-ঝাপটি সমানে চলতে লাগল। তারপরেই সব চুপচাপ। আলো নিয়ে বিমল তখনে ফিরল না, অন্ধকারে আমিও আর উঠতে ভরসা করলুম না। ঘরের ভিতরে যে খুব একটা ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছে, তাতে আর কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু সে কাণ্ডটা যে কি, অনেক ভেবেও আমি তা ঠাউরে উঠতে পারলুম না। হঠাৎ আমার গায়ের উপরে কে আবার ফোস করে নিঃশ্বাস ফেলে। আঁতকে উঠে একলাফে আমি পাঁচ হাত পিছনে গিয়ে দাঁড়ালুম। প্রাণপণে সামনের দিকে চেয়ে দেখলুম, অন্ধকারের মধ্যে দুটো জ্বলন্ত চোখ যেন আমার পানে তাকিয়ে আছে । খানিক পরেই চোখ দুটো ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল! এবারে প্রাণের আশা একেবারেই ছেড়ে দিলুম। পায়ে পায়ে আমি পিছনে হটতে লাগলুম—সেই জ্বলন্ত চোখ দুটোর উপরে স্থির দৃষ্টি রেখে । হঠাৎ কি একট। জিনিসে পা লেগে আমি দড়াম করে পড়ে গেলুম এবং প্রাণের ভয়ে যত-জোরে-পারি চেঁচিয়ে উঠলুম. তারপরেই কিন্তু বেশ বুঝতে পারলুম-আমি একটা মানুষের দেহের উপর কাৎ হয়ে পড়ে আছি ! সে দেহ কার, তা জীবিত না মৃত, এসব ভাববার কোন সময় নেই—কারণ গেলবারের মতন এবারেও হয়তো আবার কোন শয়তান আমার পিঠের উপরে লাফিয়ে পড়বে—সেই ভয়েই কাতর হয়ে তাড়াতাড়ি চোখ তুলতেই দেখি, সুড়ঙ্গের মধ্যে বিজলী-মশালের আলো দেখা যাচ্ছে। আঃ, এতক্ষণ পরে! আলো দেখে আমার ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে এল, তাড়াতাড়ি চেঁচিয়ে উঠলুম–বিমল, বিমল, শীগগির এস! —কি হয়েছে কুমার-ব্যাপার কি? বলতে বলতে বিমল ঝড়ের মতন ছুটে এল—তার পিছনে রামহরি। বিজলী-মশালের আলো ঘরের ভিতরে পড়তেই দেখলুম, ঠিক আমার সামনে, মাটির উপরে দুই থাবা পেতে বসে বাঘা জিভ বার করে অত্যন্ত হাঁপাচ্ছে। তার মুখে ও সর্বাঙ্গে টাটকা রক্তের দাগ। বুঝলুম, এই বাঘার চোখ দুটো দেখেই এবারে আমি মিছে ভয় পেয়েছি। কিন্তু তার মুখে আর গায়ে এত রক্ত কেন? হঠাৎ বিমল বিস্ময়ের স্বরে বললে, কুমার, কুমার, তুমি কিসের উপরে বসে আছ? তখন আমার হুস হল – আমার তলায় যে একটা মানুষের দেহ। একলাফে দাঁড়িয়ে উঠে যা দেখলুম, তা আর জীবনে কখনো ভুলব না ! ঘরের মেঝের উপর মস্ত লম্বা একটা কালো কুচকুচে মানুষের প্রায় উলঙ্গ দেহ চিৎ হয়ে সটান পড়ে আছে। লম্বা লম্বা জটপাকানো চুল আর গোঁফদাড়িতে তার মুখখানা প্রায় ঢাকা পড়েছে—তার চোখ দুটো ড্যাব-ডেবে, দেখলেই বুক চমকে ওঠে, হাঁ-করা মুখের ভিতর থেকে বড় বড় হিংস্ৰ দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছে—কে এ?...সেই অদ্ভুত মূর্তি দেখে সহজে বোঝা শক্ত যে, সে ভূত, না জন্তু, না মানুষ। বিমল হেঁট হয়ে দেখে বললে, ‘এর গলা দিয়ে যে হু-হু করে রক্ত বেরুচ্ছে। আমি শুদ্ধস্বরে বললুম, বিমল, একটু আগে এই লোকটা আমাকে খুন করবার চেষ্টা করেছিল। —বল কি, তারপর—তারপর? —তারপর ঠিক কি যে হল অন্ধকারে আমি তা বুঝতে পারিনি বটে, কিন্তু বোধহয় বাঘার জন্যই এ-যাত্রা আমি বেঁচে গেছি? —বাঘার জন্যে! —হ্যাঁ, সে-ই টুটি কামড়ে ধরে একে আমার বুকের উপর থেকে টেনে নামায়, বাঘার কামড়েই যে ওর এই দশা হয়েছে, এখন আমি বেশ বুঝতে পারছি। দেখ দেখি, ও বেঁচে আছে কিনা? বিমল পরীক্ষা করে দেখে বললে, না, একেবারে মরে গেছে। রামহরি বাঘার পিঠ চাপড়ে বললে, ‘সাবাস বাঘ, সাবাস বাঘা, সাবাস। বাঘ আহ্লাদে ল্যাজ নাড়তে লাগল; আমি আদর করে তাকে বুকে টেনে নিলুম। বিমল বললে,“কিন্তু এ লোকটা কে? রামহরি বললে, ‘উঁঃ, কি ভয়ানক চেহারা। দেখলেই ভয় হয়। আমি বললুম, আমার তো ওকে পাগল বলে মনে হচ্ছে।’ বিমল বললে, হতে পারে। নইলে অকারণে তোমাকে মারবার চেষ্টা করবে কেন? আমি বললুম, এতক্ষণে আর একটা ব্যাপার বুঝতে পারছি। শম্ভু বোধহয় এর হাতেই মারা পড়েছে। রামহরি বললে, কিন্তু এ সুড়ঙ্গের মধ্যে এল কি করে? বিমল চুপ করে ভাবতে লাগল। অনেকক্ষণ পরে সে বললে, দেখ কুমার, হাসি শুনে কে হাসছে খুঁজতে গিয়ে আমরা মুড়ঙ্গের এক জায়গায় কতকগুলো জ্বলন্ত কাঠ আর পোড়া মাংস দেখে এসেছি। এখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এ লোকটাই এই সুড়ঙ্গের মধ্যে বাস করত। আমাদের দেখে এ-ই এতক্ষণ হাসছিল—এ যে পাগল তাতে আর কোন সন্দেহ নেই। আমি বললুম, কিন্তু সুড়ঙ্গের চারিদিক যে বন্ধ? বিমল লাফ মেরে দাঁড়িয়ে আনন্দভরে বলে উঠল, কুমার, আমরা বেঁচে গেছি। এই অন্ধকূপের মধ্যে আমাদের আর অনাহারে মরতে হবে না। আমি আশ্চর্য হয়ে বললুম, হঠাৎ তোমার এতটা আহ্লাদের কারণ কি? বিমল বললে, কুমার, তুমি একটি নিরেট বোকা। এও বুঝছ না যে, এই পাগলাট যখন সুড়ঙ্গের মধ্যে বাসা বেঁধেছে, তখন কোথাও বাইরে যাবার একটা পথও আছে। সুড়ঙ্গের যে মুখ দিয়ে ঢুকেছি, সে মুখ তো বরাবরই বন্ধ ছিল, সুতরাং সেখান দিয়ে নিশ্চয়ই পাগলাটা আনাগোনা করত না। যদি বল সে বাইরে যেত না, তাহলে সুড়ঙ্গের মধ্যে জ্বালানি কাঠ আর মাংস এলো কোত্থেকে? আমি বললুম, কিন্তু অন্য পথ থাকলেও আমরা তো তার সন্ধান জানি না। বিমল বললে, সেইটেই আমাদের খুজে দেখা দরকার। মুড়ঙ্গের সবটা তো আমরা দেখিনি। আমি বললুম, তবে চল, আগে পথ খুঁজে বার করতে হবে। যকের ধন তো পেলুম না, এখন কোনগতিকে বাইরে বেরুতে পারলেই বাঁচি? বিমল বললে, যকের ধন এখনো আমাদের হাতছাড়া হয়নি। পথ যদি খুঁজে পাই, তাহলে এখনো করালীকে ধরতে পারব। এখানে আর দেরি করা নয়,-চলে এস। বিমল আরো এগিয়ে গেল, আমরা তার পিছনে পিছনে চললুম। সুড়ঙ্গটা যে কত বড়, তার মধ্যে যে এত অলিগলি আছে, আগে আমরা সেটা বুঝতে পারিনি। প্রায় দু-ঘণ্টা ধরে আমরা চারিদিকে আতিপাতি করে খুঁজে বেড়ালুম, কিন্তু পথ তবু পাওয়া গেল না। সেই চির-অন্ধকারের রাজ্যে আলো আর বাতাসের অভাবে প্রাণ আমাদের থেকে থেকে হাঁপিয়ে উঠছিল, কিন্তু উপায় নেই, কোন উপায় নেই! শেষটা হাল ছেড়ে দিয়ে আমি বললুম, বিমল, আর আমি ভাই পারছি না, পথ যখন পাওয়াই যাবে না, তখন এখানেই শুয়ে শুয়ে আমি শান্তিতে মরতে চাই। এই বলে আমি বসে পড়লুম। বিমল আমার হাত ধরে নরম গলায় বললে, ভাই কুমার, এত সহজে কাবু হয়ে পড়লে চলবে না। পথ আছেই, আমরা খুঁজে বার করবই? আমি সুড়ঙ্গের গায়ে হেলান দিয়ে বললুম, তোমার শক্তি থাকে তো পথ খুজে বার কর—আমার শরীর আর বইছে না? হঠাৎ বাঘা দাঁড়িয়ে উঠে কান খাড়া করে একদিকে চেয়ে রইল— বিমলও আলোটা তাড়াতাড়ি সেইদিকে ফেরালে। দেখলুম— খানিক তফাতে একটা শেয়াল থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে আমাদের পানে তাকিয়ে আছে। বাঘা তাকে রেগে ধমক দিয়ে তেড়ে গেল, শেয়ালটা তো ভয় পেয়ে ছুট দিলে— ব্যাপারটা কি হয় দেখবার জন্যে বিমল বিজলী-মশালের আলোটা সেইদিকে ঘুরিয়ে ধরলে। অল্পদুরে গিয়েই শেয়ালটা সুড়ঙ্গের উপরদিকে একটা লাফ মেরে একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেল। বাঘা হতভম্বর মত সেইখানে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। শেয়ালটা কি করে পালাল দেখবার জন্যে বিমল কৌতুহলী হয়ে এগিয়ে গেল। তারপর আলোটা মাথার উপর তুলে ধরে সেখানটা দেখেই মহা আহ্লাদে চেঁচিয়ে উঠল, পথ পেয়েছি কুমার, পথ পেয়েছি! বিমলের কথায় আমার দেহে যেন নূতন জীবন ফিরে এল, তাড়াতাড়ি উঠে সেইখানে ছুটে গিয়ে বললুম কৈ, কৈ? —এই যে। দেয়ালের একেবারে উপরদিকে ছোট একটা গর্তের মত, তার ভিতর দিয়ে বাইরের আলো রূপোর আভার মত দেখাচ্ছে। এতক্ষণ পরে পৃথিবীর আলো দেখে আমার চোখ আর মন যেন জুড়িয়ে গেল। বিমল বললে, ‘নিশ্চয় পাহাড় ধ্বসে এই পথের সৃষ্টি হয়েছে। কুমার, তুমি সকলের আগে বেরিয়ে যাও। রামহরি, তুমি আলোটা নাও, আমি কুমারকে গর্তের মুখে তুলে ধরি। বিমল আমাকে কোলে করে তুলে ধরলে, গর্ত দিয়ে মুখ বাড়াতেই নীলাকাশের সূর্য, স্নিগ্ধ-শীতল বাতাস আর ফলে-ফুলে ভরা সবুজ বন যেন আমাকে অভ্যর্থনা করলে চিরজন্মের মতন সাদরে! (ক্রমশ) ---------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now