বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছেলে বাচ্চা সবাই ছেলে আশা করে,ছেলে হলেই ভালো, সংসারের হাল ধরে। মেয়ে হতে তাই বলে মানা করছিনা,হোক,তবে দুই বা তিনটা ছেলের পর। এদের দিয়ে তো কোনো লাভ নাই,পরের ঘরের জন্য নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স নষ্ট করা ছাড়া। কিন্তু যেখানে বাঘের ভয়,সেখানেই রাত হয়। প্রথম বাচ্চাটাই মেয়ে হলো। আমি বা আমার পরিবার কেউ খুশি হতে পারলামনা। আমার মা, বাবার চেয়েও বেশি নাখোশ, মেয়েটার মুখ দেখলেও নাকি পুরোদিন তার খারাপ যায়।
মেয়ের মায়ের দেখি, মেয়েকে নিয়ে আহ্লাদের সীমা নাই। আমার তো ধরে দেখতেও ইচ্ছে করেনা। মেয়েটা বারবার বিছানায় আমাকে ছুতে চায়,কোলে আসতে চায়,ভালো লাগেনা। তুই ছেলে হয়ে জন্মাতে পারিস নি?
মেয়ে হয়ে জন্মে লাভ কি হলো! যাবি তো পরের বাড়ি, তাতে আমাদের কি থাকলো?
লিখিয়ে পড়িয়ে, সাজিয়ে এতো এতো খরচ করে অন্যের ঘর সাজাবি,তাও মানতাম,যদি আরো পরে আসতি।
আগে আসতো আমাদের বংশের প্রদীপ,বাতি,ঘরের আলো, মা বাবার সম্মান,ইজ্জত,বুড়া কালের লাঠি, আমাদের নয়নের মনি হয়ে যদি এক দুইজন পুত্র সন্তানের পর তোর আগমন ঘটতো, তবে তোকে অত অপছন্দ হতো না।
হুম তার একটা নাম আছে অবশ্য,সুবাহ। খুব ভোরে জন্ম তাই তার মা এই নাম রেখেছে,রাতে জন্ম হলে নিশ্চয় রাত্রি রাখতো, যতসব ঢঙ।
আমার মা তো তাদের এসব রঙ ঢঙ দেখে সারাদিন গজগজানির মধ্যে আছে। অতো আদর দিয়ে মাথায় তুলতে মানা করে এগারো মাস বয়সী সুবাহ কে,মা ঠিকই বলে,হয়তো। মেয়েদের অত আদর দিতে নাই।
আমি আবার ২য় সন্তানের চেষ্টা করতে লাগলাম,দেরি করে লাভ কি!
ডাক্তার, বৈদ্য,কবিরাজ,তাবিজ দোয়া,ফখির সব দেখিয়ে ক্ষান্ত দিলাম।কারো কোনো সমস্যা নেই,সময়ের অপেক্ষা নাকি। সময় তো যেতেই আছে,এক দুই,তিন করে চতুর্থ বছর পার হতেই আমার স্ত্রী রুবা কনসিভ করে। আমাদের পরিবারে খুশি যেন ফিরে আসে।
এবার নিশ্চয় পুত্র সন্তান আসবে।আমি বা আমার স্ত্রী কারো পরিবারে দুটি কন্যা সন্তান পর পর এমন রেকর্ড নেই। তো পুত্র আমার কনফার্ম। সে মতে প্রস্তুতি চলছে,হঠাত করেই রুবা'র দাম আমাদের সবার কাছে বেড়ে যায়, তবে সুবাহ'র নয়।
সে শুধু তার মায়ের কাছেই দামি। তবে আগের চেয়ে তার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা সামান্য একটু বেড়েছে। তার মায়ের কাছে কিছু চাইলে সে মায়ের হাত থেকে নিয়ে দৌড়ে আনে । আমার ভালোবাসা পাবার সবরকম চেষ্টা করে পিচ্চি মেয়েটা। আর আমার অপেক্ষা আমার সোনা ছেলের,নয়মাস দশদিন শেষ হতেই চায় না। নয়মাসকে আর শেষ হতে হয়নি,আট মাসেই রুবা'র তীব্রভাবে ব্যথা উঠে। হস্পিটাল নিয়ে যাই, ওখানে জীর্ণকায়, দূর্বল এক কন্যা শিশুর জন্ম দেয়। দুই দিনের দিন ইনকিউবেটরে রাখার পরও সে মারা যায়। আমরা সবাই সস্তির নিশ্বাস ফেলি,যাক বাচা গেলো......।
কিন্তু আমার পুত্র সন্তান! তাকে তো আমার,আমার পরিবারের চাই ই চাই।
রুবা'র উপর দিয়ে কি যাচ্ছে, তার মন মানসিকতা কেমন হচ্ছে,তা আমাদের ভেবে লাভ নেই,তার খুশির জন্যে তো সুবাহ আছেই। এখন তার দরকার আমাদের খুশি করা...ঠিক না?
আমার চেষ্টা অব্যাহত রইলো একটি পুত্র সন্তানের। মাও রুবাকে কথা শুনাতে আছে,অলক্ষি, কন্যাগর্ভা মা বলে।
এদিকে হঠাত সুবাহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমার মা বলে,বাচ্চাদের এমন অসুখ হয়েই থাকে,অত চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু রুবা অধৈর্য হয়ে পড়ে মেয়ের কষ্ট দেখে,তার জুরাজুরিতেই একসময় ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাই। একগাদা টেস্ট ধরায় দে,শুধু শুধুই এত্তোগুলো টাকা গচ্ছা যায়!
দুইদিন পরে রেজাল্ট আসে,মেয়ের ক্যন্সার!
ঘরে সবার মুখে শোকের ছায়া। না সুবাহ'র দু:খে নয়,অনেক অনেক টাকা খরচ হবে তাই,তাও একটি কন্যা সন্তানের জন্যে! তাও বাচে না বাচে তার গ্যারান্টি নাই এমন কন্যার জন্যে!
একমাত্র রুবা দিন রাত মেয়ের দু:খে কাঁদতে থাকে,মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে।
মাঝে মাঝে আমারও সুবাহ'র জন্যে কষ্ট হতে লাগলো, কষ্ট হওয়া পর্যন্তই। আর বিশেষ কিছু তার জন্যে করা হয়নি। আমার মা বাবা সাফ মানা করে দিয়েছিলো, মরে যাবে জেনেও টাকা খরচ করাটা বেকুবি ছাড়া আর কিছু নয়। তাই আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভিটামিন ওষুধ এনেই খাইয়েছি তাকে। যদিওবা আমার, আমার পরিবারের সামর্থ্য ছিলো সব রকম চেষ্টা করার। ছেলে হলে অবশ্যই চেষ্টা করতাম, পরিবারের বাতিটাকে শেষ রক্ষার,কিন্তু এতো খরচ করে, হয়তো সব জমা শেষ করে মেয়ে বাঁচিয়ে লাভ কি হবে.....এই চিন্তায় আমার পরিবার আমাকে বাধা দিয়েছে।
আমি ধুকে ধুকে কষ্ট পেয়ে সুবাহকে মরতে দেখলাম,আরো একটা জিনিশ দেখলাম, তা হলো আমাদের প্রতি তার মায়ের ঘৃণা......
মৃত্যুর আগে সুবাহ একটা ছবি এঁকেছিল, ঐ ছবিতে আমিও আছি,কিন্তু আমি ঐখানে থাকার যোগ্য নই। আমি কারোই বাবা হবার যোগ্য নই। তাইতো, সুবাহ চলে যাবার দশ বছর পরও আর কেউ আমাকে বাবা ডাকতে আসেনি...... আমাদের সব সম্পদ এখন কে ভোগ করবে,কে জ্বালাবে বাতি?
এখন আমার বাবা মায়ের দাবি,তাদের একমাত্র সন্তান আমার ২য় বিয়ে করা উচিত। কিন্তু আমি রাজি না,কিছুতেই না। একজন খুনি 'র বাপ হবার অধিকার নেই। আমার সব সম্পত্তি আমি এতিমখানায় দান করে দেবো,যদি তারা এই পাপীর দান গ্রহণ করে....।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now