বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

" যকের ধন " ------- (পর্ব ১৩)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " যকের ধন " হেমেন্দ্রকুমার রায় --------------- (পর্ব ১৩) ▪▪▪খাসিয়া পাহাড়ে▪▪▪ চেরাপুঞ্জি পার হয়ে এগিয়ে এসেছি অনেকদূর। চেরাপুঞ্জি থেকে শিলং শহর প্রায় ষোলো ক্রোশ তফাতে। এই পথটা মোটর-গাড়ী করে যাওয়া যায়। আমরা কিন্তু ওমুখে আর হলুম না। কারণ জানা-পথ ধরলে শত্রুপক্ষের সঙ্গে দেখা হবার সম্ভাবন বেশ। পাহাড়ের পর পাহাড়-ছোট, বড়, মাঝারি। যেদিকে চাই কেবলি পাহাড়—কোন কোন পাহাড়ের শৃঙ্গের আকার বড় অদ্ভুত, দেখতে যেন হাতীর গুড়ের মত, উপরে উঠে তারা যেন নীলাকাশকে জড়িয়ে ধরে পায়ের তলায় আছড়ে ফেলতে চাইছে। পাহাড়গুলিকে দূর থেকে ভারি কঠোর দেখাচ্ছিল, কিন্তু কাছে এসে দেখছি সবুজ ঘাসের নরম মখমলে এদের গা কে যেন মুড়ে দিয়েছে। কত লতাকুঞ্জে কত যে ফুল ফুটে রয়েছে—হাজার হাজার চুণী-পান্না হীরাজহরতের মত তাদের ‘আহা-মরি’ রঙের বাহার—এ যে ফুলপরীদের নির্জন খেলাঘর। কোথাও ছোট ছোট ঝরনা ঝির ঝির ঝরে পড়ছে, তারপর পাথরের পর পাথরের উপরে লাফিয়ে পড়ে ঘুমপাড়ানি গান গাইতে গাইতে চোখের আড়ালে তলিয়ে গিয়েছে। কোথাও পথের দু’পাশে গভীর খাদ, তার মধ্যে শত শত ডালচিনির গাছ আর লতাপাতার জঙ্গল শীতের ঠাণ্ডা বাতাসে থেকে থেকে কেঁপে উঠছে,— সেসব খাদের পাশ দিয়ে চলতে গেলে প্রতিপদেই ভয় হয়—এই বুঝি টলে পা ফসকে অতল পাতালের ভিতরে অদৃশ্য হয়ে যাই। সবচেয়ে বিশেষ করে চোখে পড়ে সরল গাছের সার। এত সরল গাছ আমি আর কখনো দেখিনি—সমস্ত পাহাড়ই যেন তারা একেবারে দখল করে নিতে চায়। সেসব গাছে বেশী ডালপালাপাতার জাল নেই; মাটি থেকে তার ঠিক সোজ হয়ে উপরে উঠে যেন সদৰ্পে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। নির্জন পাহাড়, মাঝে মাঝে কখনো কেবল দু একজন কাঠুরের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কাঠুরেরা জাতে খাসিয়া, তাদের চেহারার সঙ্গে গুখাদের চেহারার অনেকট মিল আছে —নাক থ্যাবড়া, গালের হাড় উঁচু, চোখ বাঁকা বাঁকা, মাথা ছোট ছোট। এখানে এসে এক বিষয়ে আমরা নিশ্চিন্ত হয়েছি। এতদিনেও করালীর দলের আর কোন সাড়া-শব্দ পাইনি। আমরা যে পথ ছেড়ে এমন অপথ বা বিপথ ধরব, নিশ্চয় তারা সেট। কল্পনা করতে পারেনি। হয়তো তারা এখম আমাদের ধরবার জন্তে শিলং শহরে গিয়ে খুজে খুজে হয়রান হয়ে মরছে। কেমন জব্দ! বিমল আজ দুটো বুনো মোরগ শিকার করেছে। সেই মোরগের মাংস কত মিষ্টি লাগবে তাই ভাবতে ভাবতে খুসি হয়ে পথ চলছি। পশ্চিম আকাশে সিঁদুর ছড়িয়ে অস্ত গেল সূর্য। আমি বললুম, বিমল, সারাদিন পথ চলে পা টাটিয়ে উঠেছে, ক্ষিদে ও পেয়েছে খুব। আজকের মত বিশ্রাম করা যাক। বিমল বললে, ‘কেন কুমার, চারিদিকের দৃশ্য কি তোমার ভালো লাগছে না? —ভালো লাগছে না আবার। এত ভালো লাগছে যে, দেখে দেখে সাধ আর মিটছে না। কিন্তু এই ক্ষিদের মুখে রামপাখির গরম মাংস এরও চেয়ে ঢের ভালো লাগবে বলে মনে হচ্ছে? এই বলাবলি করতে করতে আমরা একটা ছোট ঝরনার কাছে এসে পড়লুম। ঝরনার ঠিক পাশেই পাহাড়ের বুকে একটা গুহার মত বড় গর্ত। বিমল বললে, বাঃ, বেশ আশ্রয় মিলেছে। এই গুহার ভিতরেই আজকের রাতটা দিব্যি আরামে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। রামহরি, মোটমাট এইখানেই রাখে।’ আমাদের প্রত্যেকের পিঠেই কম-বেশী মোট ছিল, সবাই সেগুলো একে একে গুহার ভিতরে নামিয়ে রাখলুম। গুহাটি বেশ বড়-সড়, আমাদের সঙ্গে আরো চার-পাচজন লোক এলেও তার মধ্যে থাকবার অসুবিধা হত না। গুহার ভিতরটা ঝেড়ে-ঝুড়ে পরিষ্কার করে রামহরি বললে, খোকাবাবু, এইবার রান্নার উদ্যোগ করি? বিমল বললে, হ্যাঁ—দাড়াও, আমি তোমাদের একটা মজা দ্যাখাচ্ছি, এখানে আগুনের জন্যে কিছু ভাবতে হবে না। এই বলে একটা কুড়ল নিয়ে বেরিয়ে গেল। আমি আর রামহরি ছুরি নিয়ে তখনি মোরগ দুটোকে রান্নার উপযোগী করে তুলতে বসে গেলুম। বাঘাও সামনের দুই পায়ে ভর দিয়ে বসে ল্যাজ নাড়তে নাড়তে লোলুপ চোখে,ঘাড় বেঁকিয়ে একমনে আমাদের কাজ দেখতে লাগল, তার হাব-ভাবে বেশ বোঝা গেল ; রামপাখির মাংসের প্রতি তারও লোভ আমাদের চেয়ে কিছুমাত্র কম নয়। খানিক পরেই বিমল একরাশ কাঠ ঘাড়ে করে ফিরে এল। আমি বললুম, এলে তো খালি কতকগুলো কাঠ নিয়ে। এর মধ্যে মজাটা তার কি আছে? —এই দ্যাখনা, বলেই বিমল কিছু শুকনো পাতা জড়ো করে দেশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বাললে, তারপর একখান কাঠ নিয়ে তার উপরে ধরতেই দপ করে তা জ্বলে উঠল। বিমল কাঠখানা উঁচু করে মাথার উপরে ধরলে, আর সেটা ঠিক মশালের মতই দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগল। আমি আশ্চর্য হয়ে বললুম, বাহ্‌ বেশ মজার ব্যাপার তো অত সহজে জন্সে, ওটা কি কাঠ? বিমল বললে, ‘সরল কাঠ। এ কাঠে একরকম তেলের মত রস আছে, তাই এমন সুন্দর জ্বলে। এর আর এক নাম-ধূপকাষ্ঠ। রামহরি সেদিন সরল কাঠেই উকুন ধরিয়ে রামপাখির মাংস চড়িয়ে দিলে। আমরা দুজনে গুহার ধারে বসে গল্প করতে লাগলুম।তখন সন্ধ্য উৎরে গেছে, একটা পাহাড়ের আড়াল থেকে চাঁদ মামার আধখানা হাসিমুখ উঁকি মারছে—সেই আবছায়া-মাখ জ্যোৎস্নার আলোতে সামনের পাহাড়, বন আর ঝরনাকে কেমন যেন অদ্ভূত দেখাতে লাগল। বিমল হঠাৎ বললে, কুমার, তুমি ভূত বিশ্বাস কর? আমি বললুম, কেন বল দেখি? বিমল বললে, আমরা যাদের দেশে আছি, এই খাসিয়ারা অনেকেই ভূতকে দেবতার মতো পুজো করে। ভূতকে খুসি রাখবার জন্যে খাসিয়ার মোরগ আর মুগীর ডিম বলি দেয়। যে মুলুকে ভূতের এত ভক্ত থাকে, সেখানে ভূতের সংখ্যাও নিশ্চয় খুব বেশী,— কি বল? আমি বললুম, না, আমি ভূত মানি না । বিমল বললে, কেন? —কারণ আমি কখনো ভূত দেখিনি। তুমি দেখেছ? —না, তবে আমি একটি ভূতের গল্প জানি। — সত্যি গল্প? —সত্যি-মিথ্যে জানি না, তবে যার মুখে গল্পটি শুনেছি, সে বলে এর আগাগোড়া সত্যি। —কে সে? —আমাদের বাড়ীর পাশে একজন লোক বাড়ী ভাড়া নিয়ে থাকত, এখন সে উঠে গেছে। তার নাম ঈশান। —বেশ তো, এখনো রান্না শেষ হতে দেরি আছে, ততক্ষণে তুমি গল্পটা শেষ করে ফেল-বিশ্বাস না হোক, সময়টা কেটে যাবে। একটা বেজায় ঠাণ্ডা বাতাসের দমকা এল। দু'জনেই ভালো করে র‌্যাপার মুড়ি দিয়ে বসলুম। বিমল এমনভাবে গল্প শুরু করলে, ঈশানই যেন তা নিজের মুখে বলছে। ▪▪▪মানুষ, না পিশাচ?▪▪▪ [ঈশানের গল্প] আমাদের বাড়ী যে গ্রামে, তার ক্রোশ-দুয়েক তফাতেই গঙ্গা। কাজেই গায়ে কোন লোক মারা গেলে, গঙ্গার ধারে নিয়ে গিয়েই মড়া পোড়ানো হত। সেবারে ভোলার ঠাকুরমা যখন মারা পড়ল—তখন আমরা পাড়ার জন-পাঁচেক লোক মিলে মড়া নিয়ে শ্মশানে চললুম। শ্মশানে পৌছোতে বেজে গেল রাত বারোটা। পাড়াগাঁয়ের শ্মশান যে কেমন ঠাঁই, শহরের বাসিন্দারা তা বুঝতে পারবে না। এখানে গ্যাসের আলোও নেই, লোকজন গোলমালও নেই। অনেক গাঁয়েই শ্মশানে কোন ঘরও থাকে না। খোলা, নির্জন জায়গা, চারিদিকে বন-জঙ্গল, প্রতিপদেই হয়তো মড়ার মাথা আর হাড় মাড়িয়ে চলতে হয়। রাতে সেখানে গেলে খুব সাহসীরও বুক রীতিমত দমে যায়। আমাদের গাঁয়ের শ্মশান-ঘাটে একখান হেলে পড়া দরজাভাঙা কোঠাঘর ছিল। তার মধ্যেই গিয়ে আমরা মড়া নামিয়ে রাখলুম। পাড়াগাঁয়ের শ্মশানে চিতার জ্বালানি কাঠ তো কিনতে পাওয়া যায় না, কাজেই আশপাশের বন-জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে আনতে হয়। ভোলা বললে, আমি মড়া আগলে থাকি, তোমরা সকলে কাঠ আনো গে যাও। আমি ৰললুম, একলা থাকতে পারবে তো? ভোলা যেমন ডানপিটে, তার গায়ে জোরও ছিল তেমনি বেশী। সে অবহেলার হাসি হেসে বললে, ভয় আবার কি? যাও, যাও — দেরি কোরো না। আমরা পাঁচজনে জঙ্গলে ঢুকে কাঠ কাটতে লাগলুম। একটা চিতা জ্বালাবার মত কাঠ সে তো বড় অল্প কথা নয়। কাঠ কাটতেই কেটে গেল প্রায় আড়াই ঘণ্টা; বুঝলুম, আজ ঘুমের দফায় ইতি,— মড়া পোড়াতেই ডেকে উঠবে ভোরের পাখি। সকলে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে শ্মশানের দিকে যাচ্ছি, এমন সময়ে আমাদের একজন বলে উঠল, ওহে দ্যাখো, দ্যাখো, শ্মশানের ঘরের মধ্যে কি রকম আগুন জ্বলছে! তাই তো, ঘরের ভিতরে সত্যিই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে যে! অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে আমরা তাড়াতাড়ি এগিয়ে চললুম। ঘরের কাছ বরাবর আসতেই লণ্ঠনের আলোতে দেখলুম, মাটির উপরে কে একজন উপুড় হয়ে পড়ে আছে। লোকটাকে উলটে ধরে লণ্ঠনট তার মুখের কাছে নামিয়ে দেখলুম, সে আর কেউ নয়— আমাদেরই ভোলা ! তার মুখ দিয়ে গ্যাজল উঠছে, সে একেবারে অজ্ঞান হয়ে গেছে। ভোলা এখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, আর ওখানে ঘরের ভিতরে আগুন জ্বলছে—এ কেমন ব্যাপার। সকলে হতভম্ব হয়ে ঘরের দিকটায় ছুটে গেলুম। কাছে গিয়ে দেখি, ঘরের দরজার কাছটায় কে তাল তাল মাটি এনে ঢিপির মত উঁচু করে তুলেছে, আরো খানিকট উঁচু হলেই দরজার পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যেত। এসব কি কাণ্ড কিছুই বুঝতে না পেরে আমরা ঘরের ভিতরে উঁকি মেরে দেখলুম, এককোণে একরাশ কাঠ দাউ-দাউ করে জ্বলছে, একটা কাঁচা মাংস-পোড়ার বিশ্ৰী গন্ধ উঠছে, আর কোথাও মড়ার কোন চিহ্নই নেই! ভয়, বিস্ময় আর দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে আমরা আবার ভোলার কাছে ফিরে এলুম। তার মুখে ও মাথায় অনেকক্ষণ ধরে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দেবার পর আস্তে আস্তে সে চোখ চাইলে। তারপর উঠে বসে যা বললে, তা হচ্ছে এই – ‘তোমরা তো কাঠ কাটতে চলে গেলে, আমি মড়া আগলে বসে রইলুম। খানিকক্ষণ এমনি চুপচাপ বসে থাকতে থাকতে আমার কেমন তন্দ্র এল। চোখ বুজে ঢুলচি, হঠাৎ থপ করে কি একটা শব্দ হল । চমকে জেগে উঠে চারিদিকে চেয়ে দেখলুম, কিন্তু কেউ কোথাও নেই। আমারই মনের ভ্রম ভেবে খাটের পায়াতে মাথা রেখে আবার আমি ঘুমোবার চেষ্টা করলুম।.খানিকক্ষণ পরে আবার সেই থপ করে শব্দ। এবার আমার সন্দেহ হল হয়তো মড়ার লোভে বাইরে শেয়াল-টেয়াল কিছু এসেছে। এই ভেবে আর চোখ খুললুম না—এমনিভাবে আরো খানিকটা সময় কেটে গেল। ওদিকে সেই ব্যাপারটা সমানই চলেছে—মাঝে মাঝে সব স্তব্ধ, আর মাঝে মাঝে থপ করে শব্দ। শেষটা জ্বালাতন হয়ে আমি আবার চোখ চাইতে বাধ্য হলুম। কিন্তু একি! ঘরের দরজার সামনেটা যে মাটিতে প্রায় ভরতি হয়ে উঠছে,—আর একটু পরেই আমার বাইরে যাবার পথ ও যে একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে! কে এ কাজ করলে, এ তো যেসে কথা নয়! আমার ঘুমের ঘোর চট করে কেটে গেল, সেই কাচা মাটির পাঁচিল টপ কে তখনই আমি বাইরে বেরিয়ে পড়লুম। চাঁদের আলোয় চারিদিক ধবধব করছে। ঘর আর গঙ্গার মাঝখানে চড়া। এদিক-ওদিক চাইতেই দেখলুম, খানিক তফাতে একটা ঝাকড়া-চুলে লোক হেঁট হয়ে একমনে দুই হাতে ভিজে মাটি খুড়ছে। বুঝলুম, তারই এই কাজ। কিন্তু এতে তার লাভ কি? লোকটা পাগল নয় তো? ভাবছি, এদিকে সে আবার একতাল মাটি নিয়ে ঘরের দিকে অগ্রসর হল। মস্ত লম্বা চেহারা, মস্ত লম্ব চুল আর দাড়ি, একরকম উলঙ্গ বললেই হয়—পরনে খালি একটুকরো কপনি। সে মাথা নীচু করে আসছিল, তাই আমাকে দেখতে পেলে না। কিন্তু সে কাছে আসবামাত্র আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালুম। সে তখন মুখ তুলে আমার দিকে চাইলে,—উঃ, কি ভয়ানক তার চোখ, ঠিক যেন দু’খানা বড় বড় কয়লা দপ দপ করে জ্বলছে ! এমন জ্বলন্ত চোখ আমি জীবনে কখনো দেখিনি। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলুম, কে তুমি? উত্তরে মাথার কাঁকড় চুলগুলো ঝাঁকুনি দিয়ে নেড়ে সে এমন এক ভূতুড়ে চীৎকার করে উঠল যে, আমার বুকের রক্ত যেন বরফ হয়ে গেল। মহা-আতঙ্কে প্রাণপণে আমি দৌড় দিলুম, কিন্তু বেশীদূর যেতে না-যেতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলুম । তারপর আর কিছু আমার মনে নেই? ভোলার কথা শুনে বুঝলুম, সে লোকটা পিশাচ ছাড়া আর কিছু নয়। দুষ্ট প্রেতাত্মারা সুবিধা পেলেই মানুষের মৃতদেহের ভিতরে ঢুকে তাকে জ্যান্ত করে তোলে। মরা মানুষ এইভাবে জ্যান্ত হলেই তাকে পিশাচ বলে। এই রকম কোন পিশাচই ভোলার ঠাকুমার দেহকে আগুন জেলে আধপোড়া করে খেয়ে গেছে; ভোলাকেও নিশ্চয় সে ফলার করবার ফিকিরে ছিল, কেবল আমর: ঠিক সময়ে এসে পড়তেই এ যাত্র। ভোলা বেঁচে গেল কোনগতিকে। সেবারে আমাদের আর মড়া পোড়াতে হল না। (চলবে) ---------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now