বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যকের ধন ------ (পর্ব ১০)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " যকের ধন " হেমেন্দ্রকুমার রায় --------------- (পর্ব ১০) ▪▪▪এ চোর কে?▪▪▪ আমরা খাসিয়া পাহাড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি—সামনে বুদ্ধদেবেৰ এক পাথরের মূর্তি। গভীর রাত্রি, আকাশে চাঁদ নেই, সবদিকে অন্ধকার । মাথার অনেক উপরে তারাগুলো টিপ টপ করে জ্বলছে, তাদের আলোতে আশেপাশে ঝাপসা ঝাপসা দেখা যাচ্ছে অনেকগুলো পাহাড়ের মাথা—আমার মনে হল সেগুলো যেন বড় বড় দানবের কালে কালে মায়ামূৰ্তি। তারা যেন প্রেতপুরীর পাহারাওয়ালার মত ওৎ পেতে হুমড়ি খেয়ে রয়েছে। এখনি হুড়মুড় করে আমাদের ঘাড়ের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়বে! চারিদিক এত স্তব্ধ যে গায়ে কাঁটা দেয়, বুক ছাৎ ছাৎ করে! শুধু রাত করছে—ঝিম্ ঝিম্ ঝিম্ ঝিম্ আর ভয়ে কেঁপে গাছপালা করছে—সর সর সর সর। বিমল চুপিচুপি আমাকে বললে, এই বুদ্ধদেবের মূর্তি! এইখানেই যকের ধন আছে? হঠাৎ কে খল খল করে হেসে উঠল—সে বিকট হাসির প্রতিধ্বনি যেন পাহাড়ের মাথাগুলো টপকে লাফাতে লাফাতে কোথায় কতদূরে কোন চির-অন্ধকারের দেশের দিকে চলে গেল। আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলুম, রামহরি আঁতকে উঠে দু-হাতে মুখ ঢেকে ধুপ করে বসে পড়ল, বাঘা আকাশের দিকে মুখ তুলে ল্যাজ গুটিয়ে কেঁউ কেঁউ করে কাঁদতে লাগল। বিমল সাহসে ভর করে বললে, কে হাসলে? আবার সেই খল খল করে বিকট হাসি! কে যে হাসছে, কিছুই দেখা যাচ্ছে না, তবে সে হাসি নিশ্চয়ই মানুষের নয়। মানুষ কখনো এমন ভয়ানক হাসি হাসতে পারে না! বিমল আবার বললে, কে তুমি হাসছ? —আমি? উঃ, সে স্বর কি গম্ভীর! —কে তুমি? সাহস থাকে আমার সামনে এস? —আমি তোমার সামনেই আছি। —মিথ্যে কথা! আমার সামনে খালি বুদ্ধদেবের মূর্তি আছে? —হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ ! আমাকে বুদ্ধদেবের মূর্তি ভাবচ? চেয়ে দেখ ছোকরা, আমি যক! বুদ্ধদেবের সেই মূর্তিটা একটু একটু নড়তে লাগল, তার চোখ ছটো ধক ধক করে জ্বলে উঠল। বিমল বন্দুক তুললে। মূর্তিটা আবার খল খল করে হেসে বললে, তোমার বন্দুকের গুলিতে আমার কিছুই হবে না। বিমল বললে, কিছু হয় কিনা দেখাচ্ছি? সে বন্দুকের ঘোড়া টিপতে উদ্যত হল। আকাশ-কাঁপানো স্বরে মূর্তি চেঁচিয়ে বললে, 'খবৰ্দার! তোমার গুলি লাগলে আমার গায়ের পাথর চটে যাবে! বন্দুক ছুড়লে তোমারি বিপদ হবে।’. —‘হোকগে বিপদ-বিপদকে আমি ডরাই না! —জানো আমি আজ হাজার হাজার বছর ধরে এইখানে বসে আছি, আর তুমি কালকের ছোকরা হয়ে আমার শান্তিভঙ্গ করতে এসেছ? কি চাও তুমি? —গুপ্তধন। —হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ ! গুপ্তধন চাও,—ভারি আম্বা যে! এই গুপ্তধন নিতে এসে এখানে তোমার মত কত মানুষ মারা পড়েছে ত৷ জানো? ঐ দেখ তাদের শুকনো হাড়? মূর্তির চোখের আলোতে দেখলুম, একদিকে মস্তবড় হাড়ের ঢিপি —হাজার হাজার মানুষের হাড়ে সেই ঢিপি অনেকখানি উঁচু হয়ে উঠেছে! বিমল একটুও না দমে বললে, ও দেখে আমি ভয় পাই না— আমি গুপ্তধন চাই। —আমি গুপ্তধন দেব না? —দিতেই হবে।  —না, না, না? —তাহলে বন্দুকের গুলিতে তোমার আগুন-চোখ কানা করে দেব! গর্জন করে মূর্তি বললে, তার আগেই তোমাকে আমি বধ করব। —তুমি তো পাথর, এক পা এগুতে পার না, আমি তোমার নাগালের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, তুমি কি করবে? — হাঃ হাঃ হাঃ, চেয়ে দেখ এখানে চারিদিকেই আমার প্রহরীরা দাঁড়িয়ে আছে! আমার হুকুমে এখনি ওরা তোমাদের টিপে মেরে ফেলবে? —কোথায় তোমার প্রহরী? —প্রত্যেক পাহাড় আমার প্রহরী! —ওরাও তো পাথর, তোমার মত নড়তে পারে না। ওসব বাজে কথা রেখে হয় আমাকে গুপ্তধন দাও —নয় এই তোমাকে গুলি করলুম!—বিমল আবার বন্দুক তুললে। —তবে মর। প্রহরী! মূর্তির আগুন-চোখ নিবে গেল— সঙ্গে সঙ্গে পলক না যেতেই অন্ধকারের ভিতর অনেকগুলো পাহাড়ের মত মস্তবড় কি কতকগুলো লাফিয়ে উঠে আমাদের উপরে হুড়মুড় করে এসে পড়ল। বিষম এক ধাক্কায় মাটির উপর পড়ে অসহ্য যাতনায় চেঁচিয়ে আমি বললুম–বিমল –বিমল— আমার ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলে দেখলুম, রেলগাড়ীর বেঞ্চের উপর থেকে গড়িয়ে আমি নীচে পড়ে গেছি, আর বিমল আমার মুখের উপরে বুকে বলছে, ভয় কি কুমার, সে রাস্কেল পালিয়েছে? তখনো স্বপ্নের ঘোর আমার যায়নি,—আমি ভয়ে ভয়ে বললুম, যক আর নেই? বিমল আশ্চর্যভাবে বললে, যকের কথা কি বলছ কুমার? আমি উঠে বসে চোখ-কচলে অপ্রস্তুত হয়ে বললুম, বিমল, আমি এতক্ষণ একটা বিদঘুটে স্বপ্ন দেখছিলুম। শুনলে তুমি অবাক হবে? বিমল বললে, আর গাড়ীর ভিতরে এখনি যে কাণ্ডটা হয়ে গেল, তা মোটেই স্বপ্ন নয়! শুনলে তুমিও অবাক হবে। আমি হতভম্বর মত বললুম, গাড়ীর ভেতরে আবার কি কাণ্ড হল? বিমল বললে, একটা চোর এসেছিল। —চোর? বল কি? —হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি, একটা লোক আমাদের ব্যাগ হাতড়াচ্ছে! আমি তখনি উঠে তার রগে এক ঘুসি বসিয়ে দিলুম, সে ঠিকরে তোমার গায়ের উপরে গিয়ে পড়ল—সঙ্গে সঙ্গে তুমিও আঁতকে উঠে বেঞ্চির তলায় হলে চিৎপাত! লোকটা পড়েই আবার দাঁড়িয়ে উঠল, তারপর চোখের নিমেষে জানলা দিয়ে বাইরে একলাফ মেরে অদৃশ্য হয়ে গেল। —চলন্ত ট্রেন থেকে সে লাফ মারলে? তাহলে নিশ্চয়ই মারা পড়েছে!’ —বোধ হয় না। ট্রেন তখন একটা স্টেশনের কাছে আস্তে আস্তে চলছিল। —আমাদের কিছু চুরি গিয়েছে নাকি? —হুঁ। মড়ার মাথাটা। বলেই বিমল হাসতে লাগল। —বিমল, মড়ার মাথাটা আবার চুরি গেল, আর তোমাব মুখে তবু হাসি আসছে? —হাসব না কেন, চোর যে জাল মড়ার মাথা নিয়ে পালিয়েছে! —“জাল মড়ার মাথা! সে আবার কি? —তোমাকে তবে বলি শোনো। এ-রকম বিপদ যে পথে ঘটতে পারে, আমি তা আগেই জানতুম। তাই কলকাতা থেকে আসবার আগেই আমাদের পাড়ার এক ডাক্তারের কাছ থেকে আর একটা নতুন মড়ার মাথা জোগাড় করেছিলুম। নতুন মাথাটার উপরেও আসল মাথায় যেমন অঙ্ক আছে, তেমনি অঙ্ক ক্ষুদে দিয়েছি,— তবে এর মানে হচ্ছে একেবারে উল্টো ! এই নকল মাথাটাই ব্যাগের ভেতরে ছিল। আমি জানতুম মড়ার মাথা চুরি করতে আবার যদি চোর আসে, তবে নকলটাকে নিয়েই সে তুষ্ট হয়ে যাবে। হয়েছেও তাই? —‘বিমল, ধণ্যি তোমার বুদ্ধি! তুমি যে এত ভেবে কাজ কর, আমি তা জানতুম না। আসল মড়ার মাথা কোথায় রেখেছ? অনেকের বাড়ীতে যেমন চোর-কুঠুরি থাকে, আমার ব্যাগের ভেতরেও তেমনি একটা লুকানো ঘর আছে। এ ব্যাগ আমি অর্ডার দিয়ে তৈরি করিয়েছি । মড়ার মাথা তার ভেতরেই রেখেছি। —কিন্তু আমাদের পিছনে এ কোন নতুন শত্রু লাগল বল দেখি? —শত্রু আর কেউ নয়—এ করালীর কাজ! সে আমার চালাকিতে ভোলেনি, নিশ্চয় এই গাড়ীতেই কোথাও ঘুপটি মেরে লুকিয়ে আছে। —তবেই তো! —‘কুমার, আবার তোমার ভয় হচ্ছে নাকি? —ভয় হচ্ছে না, কিন্তু ভাবনা হচ্ছে বটে! এই দেখ না, করালীর চর যদি আজই ঘুমন্ত অবস্থায় আমাদের বুকে ছুরি বসিয়ে দিয়ে যেত? —করালী আমাদের সঙ্গে নেই, এই ভেবে আমরা অসাবধান হয়েছিলুম বলেই আজ এমন কাণ্ড ঘটল। এখন থেকে আবার সাবধান হব—রামহরি আর বাঘাকে সর্বদাই কাছে কাছে রাখব, আর সকলে মিলে একসঙ্গে ঘুমবও না। —‘করালী যখনি জানবে সে জাল মড়ার মাথা পেয়েছে, তখনি আবার আমাদের আক্রমণ করবে। —আমরাও প্রস্তুত। কিন্তু সে যদি সাঙ্কেতিক লেখা এখনো পড়তে না পেরে থাকে, তবে এ জাল ধরা তার কর্ম নয়? গাড়ী তখন উধ্বশ্বাসে ছুটছে আর আমাদের চোখের সুমুখ দিয়ে চাঁদের আলোয় উজ্জ্বল বন-জঙ্গল-মাঠের দৃশ্যের পর দৃশ্য ভেসে যাচ্ছে —ঠিক যেন বায়োস্কোপের ছবির পর ছবি! আমার আর ঘুমোবার ভরসা হল না—বাইরের দিকে চেয়ে, বসে বসে আকাশ-পাতাল ভাবতে লাগলুম। প্রতি মিনিটেই গাড়ী আমাদের দেশ থেকে দূরে —আরও দূরে নিয়ে গিয়ে ফেলছে, কত অজানা বিপদ আমাদের মাথার উপরে অদৃশ্যভাবে ঝুলছে ! জানি না, এই পথ দিয়ে এ জীবনে কখনো দেশে ফিরতে পারব কি না। (চলবে) -------- ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now