বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীল ও ভয় পার্ট -2

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X জন্মের পর নাকি আমার দাদী আমার মুখ দেখতে চায় নি। পৃথিবীতে এসেই আমার মানুষের নিষ্ঠুরতার সাথে পরিচয় হয়ে যায়। আতুড়ঘরে আমার মায়ের সেই গগন বিদারি চিৎকার চার দেয়ালেই আটকে যায়। ছেলে চাওয়া মানুষ গুলির কর্ণ গুহরে পৌছে না সেই পাশবিক আর্তনাদ। আমার দাদীর আমাকে সেই দেখতে না চাওয়াটা আমার বড় হবার দিন গুলো তে কষ্ট দিয়েছে অনেক। আমার হাফ প্যান্ট পরার সময়টাতে আমি বুঝি নি মেয়ে হয়ে জন্মানোর যন্ত্রনাটা কি? আমি তখন বড় হওয়া শিখছি,শিখছি নিজেকে লুকাতে। ধীরে ধীরে শিখে যাই শরীর যেভাবে আড়াল করে রাখতে হয় অন্যের লোলুপ চাহনি থেকে, দুঃখ গুলিও ঢেকে রাখতে হয় মানুষ নামের আশেপাশের হায়না গুলির থাবা থেকে। যেদিন প্রথম বুঝতে শিখি আমার ব্যথা গুলি আমার চারপাশের প্রাণিকূলের বিনোদন মাত্র সেদিন থেকেই চোখের জল কাউকে দেখাতে মন চায় নি। আমার বয়স তখন সবে সাত দিন। হয়তো আমাকে নতুন মা উপহার দেবার জন্যে বিধাতা আমার পুরাতন মাকে নিয়ে যায়। আমার মা মারা যাবার নয় দিনের দিন আমার বাবা আমার জন্য নতুন মায়ের সন্ধানে নামে। পেয়েও যান তিনি নতুন বউ কিন্তু আমার যে আর মা পাওয়া হয়ে ওঠে না! অনেক না পাওয়ার মাঝেও আমি কিভাবে কিভাবে যেন টিকে যাই, আমাকে নিয়ে বিধাতার কাটাচেরা তখনও বোধয় ঢের বাকি ছিল। ............................ সামনে বসে থাকা মানুষটা আমার বর। নাম জাহিদ। সাদা পাঞ্জাবী গায়ে দেয়া লম্বা লোকটাকে নিয়ে আমি মুখোমুখি বসা। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ। শোঁ শোঁ করে বাতাস বইছে। মাঝে মাঝে শিল পড়ার শব্দ আমাদের দুজনার মাঝের নীরবতকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয়। সন্ধ্যায় আমার এত সাধের শিলা বৃষ্টি কে অপয়া মনে হয়ে ছিল কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটা ছাড়া বিয়ে হয় কিভাবে! পাশাপাশি বসে থাকাটা আমার জন্য একটু বিব্রতকরই হতো যদি না আমার অতি প্রিয় শিলা বৃষ্টির রিনিঝিনি থাকতো। আমাদের গ্রামটাকে ঠিক গ্রাম বলা যাবে না, শহর ও বলাটা মনে হয় অন্যায় হয়ে যাবে। এখানে পুকুর আছে,খাল আছে,নদী আছে,ঠিক তেমনি খাঁ বাড়ির মত বিশাল বিশাল দালান ও আছে। আমার জন্মের পর থেকেই আমি গ্রামে ইলেক্ট্রিসিটি দেখে আসছি। বৃষ্টির রাত গুলিতে সাধারনত বিদ্যুতের যাওয়া আসার খেলা চলতে থাকে। আজও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। ছোট্ট টেবিল টাতে দুইটা মোম বাতি নিজেকে মেলে ধরার খেলায় ব্যস্ত। হঠাৎ বাতাসের তীব্রতা তাদের এই খেলাতে নাক গলাতে চায় কিন্তু নেভাতে পারে না। সারা ঘর জুড়েই কেমন যেন এক আলো আধারির খেলা। "নীলা তুমি গল্প জানো? আমাদের পাশের বাসার খেদু চাচা অনেক অনেক গল্প জানে। ছোট কালে আমরা দল বেঁধে ওনার চারপাশে গোল হয়ে বসতাম। উনি আমাদের গল্প শোনাতেন।" ঝনঝনে কণ্ঠে আরও কি যেন বলে যায় আমার মানুষ টা। আমি আমার সামনের মানুষটাকে নিয়ে এই পৃথিবীর সেরা গল্প লিখবো। মানুষটা কি আমার গল্পের নায়ক হবে? ভাবতে ভাবতেই আমি ডানে বায়ে মাথা নাড়াই, না আমি গল্প জানি না। মানুষ টা তার দু' হাত দিয়ে আমার হাত টা ধরে, যেন কত জনমের নির্ভরতা এই দুটি হাতে। এমন সময় ঘরের আলো নিভে যায়। বাইরে ঝড় বৃষ্টি বাড়তেই থাকে। হঠাৎই আমার এই ছোট্ট ঘরটাতে আমি অনেক গুলো মানুষের নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাই। খুব ফিসফিসিয়ে কিন্তু আমি স্পষ্ট শুনতে পাই কেউ একজন আমার নাম ধরে ডাকছে। কে জাহিদ! না তো! আমার মানুষটা তো আমাকে এভাবে ডাকে না। কেমন যেন থমথমে গলায় বার বার ডাকতে থাকে,,,,,,,,, নী........লা,,,,, নী.....লা। আমি জাহিদের আরও কাছে চলে যাই। "আপনি কি কিছু শুনছেন?" আমার বরের সাথে সেই আমার প্রথম বাক্য বিনিময়। "কই নাতো।" জাহিদের কণ্ঠে কৌতুহল। একটু যেন হেসে ওঠে আমার মানুষটা। আমি ভেবে পাই না কবি সাহিত্যিক রা শুধু মেয়েদের হাসিই কাগজ বন্দি কেন করে!একটা ছেলের হাসি কি তারা কখনও দেখে নি,শুনেও নি? আমি আমার মানুষটার হাসি ছুঁয়ে দেখবো। ও যা ভাবে ভাবুক, আমি আমার ডান হাতটা বাড়িয়ে দেই। কিন্তু জাহিদ কই? ও তো একটু আগেও আমার সামনে বসা ছিল, নিশ্বাস দূরত্ব ছিল আমাদের দুজনার মাঝে। এতোক্ষণে চোখ দুটির অন্ধকার সয়ে যায়। আমি ঠিক বুঝতে পারছি না কি হচ্ছে আমাকে ঘিরে! আধাঁরের যে নিজস্ব আলো থাকে আমি তা দিয়েই প্রাণ পণে খুঁজি চলি আমার বরকে। মানুষ গুলির ফিসফিস এখন আর নাই। কিন্তু ভারি নিশ্বাস এর শব্দে আমার ঘরটা যেন থেকে থেকে দুলে উঠছে। এভাবে কতটা সময় কেটে যায় আমি জানি না। ///////////////////////////////////////// আমার পিঠে কে যেন হাত রাখে। এত হিম শীতল স্পর্শ আমি কখনও পাই নি। এটা নিশ্চই আমার মানুষটার হাত। জাহিদ বোধহয় পানি খেতে নিচে নেমেছে। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাই। কিন্তু একি! জাহিদ যে আমার সামনেই বসা!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now