বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি খন্ডিত দুঃস্বপ্ন

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মাত্রই আমাকে হাসপাতালে আনা হলো। মানুষের মানবিকতা এখনো আছে বটে। যারা আমাকে নিয়ে এলো তাদের আমি চিনি না। ঢাকা মেডিকেল এর ইমার্জেন্সি তে নিয়ে যাবার পর কিছুক্ষণ দেরী হলো আমাকে ওটিতে নিয়ে যেতে। আমার জ্ঞান তখনো বিলুপ্ত হয়নি। আশে পাশের মানুষের কথা শুনতে পাচ্ছি। তবে মনে হচ্ছে সবকথা খুব দূর থেকে ভেসে আসছে। . ওটিতে ডিউটি ডক্টর আবার আমারই বন্ধু। কলেজ ফ্রেন্ড। আশা করেছিলাম আমাকে চিনবে ও। কিন্তু চিনতে পারে নি। অবশ্য ওকে দোষ দিব না। সরকারি হাসপাতালে ব্যাপক চাপ থাকে রোগীর। সেখানে খুব দ্রুত সব কাজ করা লাগে। দেখলাম ডাক্তার এসেই পালস দেখলো। চোখের মণিও দেখলো। ব্লিডিং হচ্ছিল খুব আর সেটা বন্ধ হচ্ছিল না। দ্রুত সেলাই করা হলো যেখানে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। কিন্তু না ব্লিডিং অফ হচ্ছে না। . নাহ আর থাকা গেল না। আমি মাত্রই মারা গেলাম। ডাক্তার প্রায় ঘন্টাখানেক চেষ্টা করলো মনে হলো। কিন্তু প্রচুর ব্লিডিং হবার কারণে বাচানো যায় নি। আমার মুখ টা ঢেকে দিয়ে ডাক্তার পুলিশ ইনফর্ম করলো। আর নার্সকে বলা হলো আমার সাথে কে এসেছে তাকে ডাকার জন্য। আমি তখন ডাক্তার এর সাথে বেরিয়ে এসেছি ওটি থেকে। বাইরে চেয়ারে বসলাম। এখন অবশ্য ব্যথা করছে না। . হাত দিয়ে দেখলাম রক্তগুলো জমাট বেধে গেছে। কয়েকজন পুলিশ হাসপাতাল এলাকাতেই দায়িত্বে থাকেন। তারা এলো খবর পেয়ে। পোস্টমর্টেম করার জন্য তারা ডাক্তার এর অনুমতি চাইলো। আর আমার কোন পরিচয় পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলো। আমি তাদের সামনে দাড়িয়ে বললাম আমার নাম রাহাত। পকেটে আই কার্ড আছে। মানিব্যাগ এ বাসার ফুল এড্রেস । কিন্তু তারা শুনতে পেল বলে মনে হলো না। যাই হোক তারা পুরো বডি তল্লাশি নিল, পকেটে আই কার্ড, মানিব্যাগ পেল। আমি তাদের পাশেই দাড়ানো। আমি সবাইকে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আমাকে তারা দেখছে না। ব্যাপারটা মজার মনে হলেও আমার কাছে কেন জানি না ভয় লাগছিল। . বাসায় ফোন করা হলো। পুলিশদের মধ্যে নেতা টাইপ লোকটাই ফোন করলো। কি কথা হলো আমি তা শুনি নি। আমি তখন আমার বডির কাছে এসে দাড়িয়েছি। আকাশী নীল শার্ট টার রং বুঝাই যাচ্ছে না। এত রক্ত থাকে মানুষের দেহে!! মেডিকেলে পড়াকালীন অবস্থাতে পরেছিলাম রক্ত ৫ লিটার এর মতো থাকে। কিন্তু আমাকে এখন দেখে মনে হচ্ছে রক্ত আরও বেশিই থাকে। . আমাকে এখন মর্গে রাখা হয়েছে। বাসা থেকে বলা হয়েছে তারা আসার আগ পর্যন্ত যেন কিচ্ছু করা না হয়। ১ ঘন্টা পর বাবা, মা আর ছোট বোন ছুটে এল। মা কেন জানি কথা বলছে না। সোজা মর্গে ঢুকে স্ট্রেচার এর সাম্নে বসে পরলো মা। আমি পাশে যেয়ে বসলাম। বললাম মা দেখো কোন ঝামেলা নাই। আমি এই তো তোমার পাশে। কথা শুনতে পাচ্ছে না দেখে আমি চিৎকার করে বললাম। নাহ তাও শুনতে পাচ্ছে না। পুলিশ এসে বাবার কাছে একটা ফর্মে সাক্ষর করতে বললো। পোস্টমর্টেম করার অনুমতি দেবার জন্য। . আমাকে এখন একটা আলাদা রুমে আনা হয়েছে। কেমন যেন বিকট গন্ধ । আর অনেক ছুরি, কাচি, বড় সুচ আর ও কত কি!! দেখলাম ৪ জন লোক আসলেন। একজনকে দেখে ডাক্তার মনে হল। আর ৩ জন ডোম। ডোমেদের প্রত্যেকের মাথায় তেল দেয়া আর সবার চোখ কেন জানি ঘোলাটে। আমাকে পোস্টমর্টেম করা হবে এখনি। অদ্ভুত ব্যাপার !! নিজের দেহকে এখন কাটতে দেখবো ভেবেই একটা শিহরণ সৃষ্টি হচ্ছে। ডোমেরা বডি কাটা শুরু করলো। নাহ, আমার মাথা ঘুরছে। আমি জোরে চিৎকার করে বললাম " আরে আস্তে আস্তে। পাগল নাকি!! " . কেউ শুনলো বলে মনে হলো না। কয়েকটা অর্গান ডাক্তার পরিক্ষা করে দেখলো । পোস্টমর্টেম আমি পুরাটা দেখতে পারি নি। বাইরে এসে দাড়িয়ে ছিলাম। দেখলাম ডাক্তার বাইরে বেরিয়ে এলেন। হাতে একটা রিপোর্ট। আমি পরে দেখলাম মৃত্যুর কারণ লেখা " স্ট্যাবিং এর কারণে ইনটেসটাইন ইঞ্জুরড আর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু " আমার কাহিনী শেষ । হঠাৎ মনে হলো আমার বৌ আসেনি হাসপাতালে। ছোট বোন কে জিজ্ঞেস করলাম " ভাবী কই রে তোর? " ছোট বোন কোন জবাব দিল না। মাকে দেখলাম বেশ কয়েকবার হাসপাতালেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। . একটা এম্বুলেন্স ঠিক করা হলো। ড্রাইভারকে অতিরিক্ত ২০০ টাকা দেয়া লাগবে নাহলে সে নিবে না লাশ। বাবাও আজ কোন তর্ক করে নি। আমার লাশ নিয়ে আমি বাবা, মা আর ছোট বোন রওনা।দিলাম বাসার উদ্দেশ্যে। বাসায় যখন পৌছালাম দেখলাম অনেক মানুষ চলে এসেছেন আমার মারা যাবার কথা শুনে। পাশের বাসার আন্টিও কাদছেন দেখলাম যিনি আমাকে লেখাপড়ার নামে প্রায়ই কথা শুনাতেন। যাক আমি ভাবতে লাগলাম মানুষ তো দেখি আমাকে ভালোই ভালোবাসে। . এবার হঠাৎ বৌ এর কথা মনে পরলো। বেচারীর আজকে আমার সাথে পাস্তা খেতে যাবার কথা ছিল। আর এর জন্য আমি সকালেই ওর পছন্দের আকাশী রং এর শার্ট পরে বেরিয়েছিলাম। আমি সবাইকে সাইড কাটিয়ে আমার রুমে যাবার জন্য হাটা শুরু করলাম। দোতলায় ঊঠে দেখি আমার রুমের দরজা ভিতর থেকে আটকানো। ভাবলাম বৌ হয়তো কাদছে। মন খারাপ তাই দরজা আটকানো। জানালা হাতড়ে দেখলাম সব আটকানো শুধু সাইডের একটা ছাড়া। হাত দিয়ে খুলে দিতেই আমার হাত পা মুহূর্তে ঠান্ডা হয়ে এল। বৌ গলায় ফাস দিয়েছে। আমি জোরে চিৎকার করতে লাগলাম। বাবা মা ছোট বোনকে ডাকলাম। না কেউ শুনতে পাচ্ছে না। আমি দরজাতে লাথি।দিচ্ছি কিন্তু সেটা ভাঙা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। আমি জোরে চিৎকার করেই যাচ্ছি ।হাত পা অবশ হয়ে আসছে। সব আস্তে আস্তে ঘোলা হয়ে আসছে। দাড়িয়ে থাকাও কষ্ট মনে হচ্ছে। . হঠাত ঘুম ভেঙে গেল। প্রচন্ড ঘাম হয়ে জ্বর ছেড়ে গেল মনে হয়। টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালালাম। দেখলাম বৌ ঘুমিয়ে আছে। আমি চাদরটা ভালোমতো জড়িয়ে দিলাম ওর গায়ে, আলতো করে চুমু খেলাম একটা তার কপালে। এখন শুয়ে থাকলেও ঘুম আসবে না। তাই উঠে জানালার পাশে দাড়ালাম। আজকে চাদঁ উঠেছে হয়তো পুর্নিমা....... . #একটি_খন্ডিত_দুঃস্বপ্ন . #২৪ই_অক্টোবর_২০১৬


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now