বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এতোকিছুর পরেও যে মেয়েটাকে ভাবতাম হৃদয়বতী, সেও দেখি হৃদয়হীনা! আমাকে সহজ-সরল পেয়ে আজ সেও মাস্তানী করতে ছাড়লো না। কীই বা করেছিলাম আমি? আচ্ছা, পাঠক, দাঁড়ান, আপনাকে খুলেই বলি। আপনি হয়তো আমার দুঃখটা বুঝবেন।
.
আজ একটা ছবিতে হঠাৎ দেখি মেয়েটা মোটা হয়ে গেছে! ক'দিন আগেও যে মেয়েটাকে এতো সুন্দর লাগতো, আজ তাকে দেখে কেমন একটা লাগলো আমার। মনে হলো একটু খোঁজখবর করি, কিছু একটা সমস্যা হয়েছে হয়তো। আমি তাঁকে ডেকে বললাম, 'এতো মোটা হয়েছেন কেনো?'
সে বললো, 'ফুলে গেছি। শরীরে সমস্যা মনে হয়।'
'কী সমস্যা?'
'কী জানি কী সমস্যা! ফুলে গেছি। আর ওই ছবিতে একটু বেশিই মোটা লাগছে।'
'ও। যাহোক, মোটা হলে কমান। আগে এখনকার চেয়ে দেখতে সুন্দর লাগতো।'
'আরে ছবিতে যতোটা দেখাচ্ছে, অতোটা আমি নই। হই নি।'
'তাহলে তো ভালো। তাহলে শরীর পুরোপুরি সুস্থ তো?'
'সেটা শরীর জানে। শরীরের ভেতরের কী অবস্থা তা আমি কেমনে জানি! আমি ভালো আছি, এটাই শুধু জানি।'
'তাহলে ঠিক আছে। ম্যাডাম ভালো আছেন। এটাই আসল কথা।'
'ভালো আছি, আসল কথা। এবার তাহলে মিষ্টি খাওয়ান।'
সে থাকে রাজশাহী, আমি যশোর কিংবা খুলনা। মিষ্টি খাওয়াই কী করে? প্রস্তাব রাখলাম— 'খুলনা চলে আসেন। পেটের মধ্যে মিষ্টির পুরো একটা বড়সড়ো দোকান ঢুকিয়ে দেবো।'
বললো, 'আর মিষ্টির দোকানের কাষ্টমারগুলা আমার পেটের ভেতর কেয়ামত বাধিয়ে দিক আরকি!'
'ঢুকোনোর আগে কাস্টমারগুলোর চাকরি নট করে দেবো।'
'কাষ্টমাররা তো দোকানে চাকরী করে না! মিষ্টি খেতে আসে।'
তাই তো! সত্যিই তো— কাস্টমার কি দোকানে চাকরি করে? কাস্টমার তো মিষ্টি কিনতে আসে, খেতে আসে। এতো বড় ভুল করলাম কী করে? কাস্টমার মানে কর্মচারী— বাপ-মা-শিক্ষক-গুরুজন অ্যাদ্দিনে (এতোদিনে) আমাকে এই ইংলিশ শিখিয়েছেন! মান-সলেমান (মান-সম্মান) তো সব গেলো! মেয়েটা এতোদিন লেখক হিসেবে জানতো, আজ থেকে কী ভাববে কে জানে! আচ্ছা দেখি, মান-সলেমান বাঁচাতে পারি কিনা।
'হ্যাঁ, কাস্টমারেরই চাকরি নট ('নট' শব্দটার আবার ঠিকঠাক ব্যবহার হচ্ছে তো? আল্লাহ, সহায় হও। তুমি মহান।) করে দেবো। তাহলে তারা আর বেতন-টেতনই পাবে না। আর টাকা না থাকলে দোকানে মিষ্টি খেতে আসতেও পারবে না।'
'তাহলে ঠিক আছে।'
যাক, বুক থেকে একটা পাথর সরে গেলো। খুশি হয়ে বললাম, 'এবার একটা দিন দেখে চলে আসেন।'
মেয়েটা এবার উল্টো প্যাঁচ কষলো। আমার কথা ছিলো রাজশাহী যাবার। ভোলে নি দেখছি! বললো, 'আপনার তো রাজশাহীতে আসার কথা ছিলো। আপনি একদিন দিন-ক্ষণ দেখে চলে আসুন।'
বললাম, 'মিষ্টির দোকান মাথায় করে নিয়ে যেতে পারবো আমি? বোঝেন না কেনো?'
'আরে ছোটোখাটো একটা নিয়ে আসলেই হবে।'
'ছোটখাটো দোকানেরও ওজন কম হবে বলে মনে হয় না। আমি রোগা পটকা মানুষ। আপনার একটুও দয়া নেই দিলে।'
হায় আল্লা'! কী বলে ফেললাম! মেয়েটাকে রাগিয়েই দিলাম!
'না, নেই। আসতে বলছি— আসবেন। বেশি কথা বললে আপনাকে প্যাকিং করে...'
হঠাৎ কোত্থেকে যেনো বুকের ভেতর সাহসের বাপ এসে আমাকে কব্জা করে নিলো— অন্য সময় সাহসের নাতি-পুতিও আসে না! বললাম, 'সারাজীবন শুনে এসেছি নারী জাতি কোমল মনের। অথচ জীবনভর দেখে আসছি তার সম্পূর্ণ উল্টো! নারী জাতিই সবচাইতে নিষ্ঠুর। যেমন: আপনি।'
ও হ্যাঁ, একটা কথা বলা হয় নি, তা হলো: মেয়েটার নাম অরু (উচ্চারণ: ওরু)। আমি অরুর চোখ দেখতে পেলাম না। কিন্তু আমার মনে হলো রাগে অরুর টানা টানা সুন্দর চোখ দুটো গরুর মতো বড় বড় হয়ে গেছে। বললো, 'এতো সাহস! আবার আমাকে নিষ্ঠুর বলা হচ্ছে!'
আমার সাহস কমলো না। বললাম, 'আমি সত্যবাদি।'
'আবার বানানও ভুল করা হচ্ছে!'
এইবার জাত গেলো লেখক সাহেবের! কী করি? কী করি? বললাম, 'এটা আধুনিক বানান। এটাও বর্তমানে প্রচলিত।'
'একটা মিষ্টির দোকান মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন তাহলে। নইলে আপনাকেই প্যাকিং করব। মুহ হাহ্ হা...'
যাক, এবারও বাঁচলাম। মাথার উপর সত্যিই কেউ আছেন সহায় হয়ে। কিন্তু হুমকিটার কথা মনে পড়ে গিয়ে কেঁদেকেটে হলেও বললাম, 'আচ্ছা। আসছি।'
'গুড বয়। কথাটা মাথায় থাকে যেনো।'
.
মিষ্টির দোকান মাথায় করে রাজশাহী যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। একটা ছোটখাটো দোকান দেখে দড়ি দিয়ে গাড়ির পেছনে বেঁধে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা দেখতে হবে। যাই। বাজারে যাই। দড়ি কিনতে হবে। মিষ্টির দোকান যদি তা দিয়ে বেড় দিতে নাও পারি— গলায় বেড় দিয়ে মরতে তো পারবো।
নিষ্ঠুর এ নারী জাতির পৃথিবীতে নির্যাতিত হয়ে পুরুষের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই মনে হয় ভালো।
সুপণ শাহরিয়ার
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now