বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কেটলিতে আগুন ধুয়া বেরুছে। পাশে একটা বিশাল কড়াইয়ে দুধ ফুটছে। চান মিয়া প্রবল গতিতে কড়াইয়ে দুধ নাড়ছে। তার পাশে তার পুত্র মুগ্ধ হয়ে পিতার কর্মকান্ড দেখছে। - বুঝলিরে চিন্টু ব্যাটা, মালাই চায়ের রহস্য দুধ নাড়াতে। যত নাড়বি ততো মালাই ভালা পড়বো। নাড়া বন্ধ করলেই খেল খতম। রহইস্য বন্ধ। চিন্টু তাকিয়ে আছে তার পিতার দিকে । কথা সত্যি। তার বাপের মালাই চায়ের সুনাম বহুদুর গ্রাম পর্যন্ত। সে ভেবে পায়না , এক কাপ চা'য়ে "এক হাত" মালাই ক্যামনে হয় ! চান মিয়া দার্শনিক টাইপ মানুশ। তার পুত্র তার সমস্ত দার্শনিক কথাবার্তার সঙ্গী। তিনি তার পুত্রের দিকে তাকিয়ে বলে চললেন- ব্যাটারে, মালাই তৈয়ারির সময় দুধের ভান্ড রাখবি ঢাইক্যা । মাইনশ্যে পছন্দ করে রহইস্য। রহইস্যের জন্যই আমার মালাই চা সবাই পসন্দ করে। তার পুত্র তার জ্ঞানের কথায় মুগ্ধ হয়েছে মনে হচ্ছে। তিনি আরাম বোধ করলেন। বিকেল হয়ে এসেছে। তার চায়ের দোকানে লোকজন আসার সময় হয়ে যাচ্ছে। তিনি তার পুত্রকে বললেন- বাপজান, এই খুন্তি দিয়া তুমি কড়াই নাড়তে থাকো, নাড়া বন্ধ করবা না। আমি একটা ডুব দিয়া আসি। বাপ ব্যাটা বইসা চাইট্যা ভাত খামু তারপর। চিন্টু মিয়া কড়াই নাড়তে চেষ্টা করছে। বিশেষ সুবিধা করতে পারছে না। নরম হাতে সব রহস্যময় কাজ হয় না। তবুও সে চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার কাছে মনে হচ্ছে কিছু একটা গড়বড় হচ্ছে। দুধে কিছু একটা দলা পাকায়ে উঠছে। সে আরো জোরে নাড়ার চেষ্টা করলো। অসময় হলেও দুই একজন লোক চলে এসেছে। কেঊ কেঊ পরন্ত দুপুরেও চা খেতে আসে। তারা চিন্টু মিয়ার দুধের কড়াই নাড়ানো দেখছে। এদের কেঊ একজন বলে উঠলো- কিরে চিন্টু , দুধের মইধ্যে কী ? চিন্টু ভয়ে ভয়ে দেখলো সত্যি সত্যি দুধের মধ্যে দলা পাকানো জিনিসগুলি বেশী মনে হচ্ছে। সে মনে মনে তার চারপাশে তার আব্বাকে খুজলো। চান মিয়ার আসার লক্ষন দেখা যাচ্ছে না । কেঊ একজন একটা চামুচ দিয়ে দুধের কড়াই থেকে কিছু একটা উঠিয়ে আনলো। চোখের কাছে নিয়ে সে অবাক বিস্ময়ে বলে উঠলো- করস কী চিন্টু, এইটা তো দেখি টিস্যু পেপার ! দুধের মধ্যে টিস্যু পেপার আইলো কইথ্যিকা ? চিন্টু হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছে। লোকগুলির চোখ কেমনে হিংস্র দেখাচ্ছে। তার ভয় ভয় করছে। সে আবার তার আব্বাকে খুজলো। কেঊ একজন ভিড়ের মধ্যে থেকে বলে উঠলো- অই পোলারে গাছের সাথে বান্ধ। মনে হইতাছে টিস্যু পেপার দিয়া মালাই বানাইসে । এতোদিন মালাই মনে কইরা আমরা টিস্যু পেপার খাইসি। বাজার লোকেলোকারন্য। চান মিয়া এবং চিন্টু মিয়া দুইজনকেই গাছের সাথে বাঁধা হয়েছে। চান মিয়া তার রহস্যের কথা স্বীকার করেছে। টিস্যু দিয়ে অনেকক্ষন দুধ নাড়তে থাকলে কিছুক্ষন পরে মালাই আর টিস্যু আলাদা করা যায় না। চিন্টু মিয়া অবাক হয়ে তার পিতার দিকে তাকিয়ে আছে । কেঊ একজন বলে ঊঠলো- ওই, চুলা থিক্যা কেটলি নিয়া আয় । চান মিয়া সবিস্ময়ে সেই লোকটির দিকে তাকালো। কারও কারও জীবন অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর থাকে, কারও কারও জীবনে একটি অলৌকিক ঘটনাও ঘটে না। এই চা কারিগর পিতা পুত্রের জীবনে কী ঘটবে কে জানে !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now