বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিগব (শেষ পর্ব)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)



X পরদিন রাতের বেলা আনোয়ার, স্বপন এবং চেয়ারম্যানের পাঁচজন লাঠিয়াল রওনা দেয় বটতলার কবর স্থানের দিকে। সবার হাতেই ছোট খাট অস্ত্র। আনোয়ারের হাতে বড় মশাল। আনোয়ার: “আমাদের সবার চেষ্টা থাকবে খুব সাবধানে কবর খুড়ে আগুন জালানো।” সবাই সম্মতির স্বরে মাথা নাড়ায়। কবরস্থানে এসে সকলের লোম খাড়া হয়ে যায়। ভয়টা বেশি ছড়িয়ে পড়ে লাঠিয়ালের মধ্যে। তারা হঠাৎ বলে ওঠে, “আমরা এসব ঝামেলার মধ্যে নেই। আমরা ফেরত যাবো। যা করার আপনারা করেন। কবর খোড়াখুড়ি, কবরে আগুন দেওয়া এসব কাজে আমরা নাই।” আনোয়ার খেপে উঠে বলল, “চেয়ারম্যান সাহেব না আপনাদের পাঠাল।” : আমরা আসতে চাইনি। আমাদের জোর করে পাঠিয়েছে। : আচ্ছা, আপনাদের থাকতে হবে না। জিনিসপত্রগুলো দিয়ে চলে যান।” সবাই আনোয়ার এবং স্বপনকে ফেলে চলে যায়। স্বপন: শুধু আমরা দুজন যাব!!! :হ্যাঁ, এতদূর এসে পিছিয়ে যাওয়া যায়না। চল কবরটার কাছে যাই।” আমাবশ্যার রাত। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ভালো করে কিছু দেখা যায় না। মশালের আরোতে কবরস্থানকে অপার্থিব কোন জায়গা মনে হয়। ধূর থেকে কুকুরের ক্রুদ্ধ গর্জন শোনা যায়। স্বপনের বুকটা কেপে ওঠে। আনোয়ারের হাতে শাবল, মশাল এবং কেরসিনের বোতল। আর স্বপনের হাতে কোদাল, দিয়াশলাই এবং বেশকিছু কাঠ। সকালবেলায় স্বপন এবং আনোয়ার আসগরের কবরটা খুঁজে বের করেছে। তবু এই অন্ধকারে কবরটা খুজেপেতে বেশ কষ্ট হলো ওদের। কবরটার সামনে দাঁড়িয়ে আনোয়ার বলল,“আমি কবর খুড়ছি। তুই মশাল ধরে দাঁড়িয়ে থাক।” আনোয়ার বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়তে থাকে। প্রচন্ড ঘাম হতে থাকে ওর। নি:শ্বাস দ্রুত হতে দ্রুততর হতে থাকে। আনোয়ারের মন্ত্র পড়ার গতি ও বেড়ে যেতে থাকে। আনোয়ার কবর খুড়তে শুরু করে। হঠাৎ চারিদিক কেমন যেন স্তদ্ধ হয়ে যায়। আনোয়ার বলশালী পুরুষ। দ্রুত কবর খুড়তে থাকে। গতকাল বৃষ্টি হওয়াতে মাটি বেশ নরম। বেশ কিছুক্ষন পর আনোয়ার বলল, “সাবধান, স্বপন। আমি টের পাচ্ছি শিগবটা কবরের মধ্যেই আছে।” কবরটা আরও অনেকটা খুঁড়তেই কিছু একটা যেন লাফিয়ে কবর থেকে বেরুল। জিনিসটা এক ঝাটকায় আনোয়ারকে কয়েকহাত দূরে ছিটকে ফেলল। স্বপন অসহায় বোধ করে। ওর ইচ্ছা কওে পালিয়ে যেতে। আনোয়ার উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করে। শিগবটা এবার স্বপনের দিকে আসতে থাকে। স্বপন জ্বলন্ত মশাল দিয়ে শিগবটাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। শিগবটা কযেক পা পিছিয়ে সরে যায়। হঠাৎই শিগবটা রক্ত হিম করা শব্দ করে ওঠে। আনোয়ার পেছন থেকে শাবল দিয়ে শিগবটাকে আঘাত করে। শিগবটা আনোয়ারকে শূন্যে তুলে নেয়। আনোয়ার চিৎকার করে বলে, “স্বপন, তুই কবরটার কাছে থাক। আগুন জ্বালা। শিগবটাকে কবরে ফিরতেই হবে। তাড়াতাড়ি কর। আমি ওকে ব্যস্ত রাখছি।” শিগবটা আনোয়ারকে নিচে ফেলে দেয়। আনোয়ার আবার শিগবটাকে পেছন থেকে অঘাত করে। এরপর দৌড়ানোর চেষ্টা করে। অন্ধকারে আন্দাজের উপর ভর করে দৌড়ানোর চেষ্টা করা খুব কঠিন ব্যপার। শিগবটা ওর পিছু নেয়। হঠাৎ একটা নতুন খোড়া কবরের মধ্যে পড়ে যায় আনোয়ার। শিগবটা হঠাৎ খুশি হওয়ার মত একটা আওয়াজ করল। শিগবটা দ্রুত মাটি ফেলতে শুরু করে। আনোয়ার বুঝতে পারে এই কবরটা শিগব খুড়েছে এবং শিগবটা চেষ্টা করছে তাকে জীবন্ত কবর দিতে। এদিকে উত্তেজনায় , ভয়ে স্বপনের হাত পা কাঁপতে থাকে। এবার আগুন দেওয়ার পালা। জ্বলন্ত মশাল দিয়ে কবরে রাখা কাঠে আগুন লাগিয়ে দেয় স্বপন। হঠাৎ শিগবটা থমকে দাড়ায়। কেমন যেন পাগলের মতো হয়ে যায়। গুলির বেগে কবরের দিকে আসতে থাকে। কবরের মধ্যে ঢুকে যায় শিগবটা। পোড়া গন্ধে চারিদিক ভারী হয়ে যায়। শিগবটা আর্তনাদের পর আর্তনাদ করতে থাকে। একবার বলে ওঠে, “মারিস না ......মারিস না.......আমারে বাচা........।” স্বপন আনোয়ারের কাছে ছুটে যায়। স্বপনের সহায়তায় হাতড়ে হাতড়ে কবর থেকে উঠে আসে আনোয়ার। হাতে পায়ে প্রচন্ড ব্যথা ওর। শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। স্বপনের কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়ায় আনোয়ার। আনোয়ার: বর্তমানে কবরটাই শিগবটার শক্তির উৎস। কবরটার কোন ক্ষতি হলে শিগবটা বাচতে পারবে না। এজন্য শিগবটা দ্রুত কবরের কাছে ফিরে আসে। আমরা পেরেছি স্বপন। আমরা পেরেছি।” ওরা দ্রুত কবর স্থান থেকে বেরিয়ে পড়ে। হঠাৎ কেউ যেন চিৎকার করে বলে উঠে, “আমি ফিরে আসব........। আসব.......।আসব। প্রতিশোধ নেব............। প্রতিশোধ।” প্রচন্ড আর্তনাদের শব্দে বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠে ওদের। পরিশিষ্ট: একটা ফোন কোম্পানীতে বেশ ভাল একটা চাকরি পেয়েছে স্বপন। স্বপন আর তৃষার বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে। স্বপন আর তৃষা এখন বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে খুব ব্যস্ত। একদিন আনোয়ারের সাথে বসুন্ধরা সিটিতে দেখা হয় স্বপন এবং তৃষার। দুএকটা ভদ্রতার কথা বলেই চলে যায় স্বপন আর তৃষা। যেন আনোয়ারকে ওরা ভালোভাবে চেনেই না। আনোয়ার বুঝতে পারে ওদের জীবনে তার কোন স্থান নেই। কিংবা অতীতের দুঃসপ্ন ওরা আর মনে করতে চায় না। আনোয়ারের মনটা একটু খারাপ হয়। জীবনে কিছুই পাওয়া হল না ওর। রহস্যের পেছনে পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবনটা শেষ হয়ে যাবে তার। আগামীকাল আনোয়ার কুয়াকাটা যাচ্ছে। সেখানে নাকি এক অদ্ভুত জন্তুর আগমন ঘটেছে। সত্য মিথ্যা যাই হোক আনোয়ার যাবেই। তবে স্বপন আর তৃষার আনোয়ারকে আবার প্রয়োজন হবে। কারন শিগবটা আবার ফিরে আসবে। ফিরে আসবে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। নির্মম প্রতিশোধ ! (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...