বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"
সকলের চা-পান ও জলখাবার খাওয়া হয়ে গেল।
এইবারে এইঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে বসা যাক।
সকলেই তার কথায় সায় দিলে। স্বপ্না বললে, আমি তাড়াতাড়ি প্লেটগুলো সাফ করে নিয়েই যাচ্ছি।
সৌদামিনী চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়েই আবার ধপাস করে বসে পড়ে বললেন, উঃ মাগো!
চন্দ্রবাবু চমকে শুধোলেন, ব্যাপার কী সৌদামিনী দেবী?
সৌদামিনী বললেন, আমার মাথাটা কেমন ঘুরছে। ডাক্তার বোস তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন, মাথা ঘুরছে? খুবই স্বাভাবিক! এখানে বিপদের উপরে বিপদ। দাঁড়ান, আমি আপনাকে একটা ওষুধ তৈরি করে দিচ্ছি।
—না! সৌদামিনী এমন চিৎকার করে শব্দটা বলে উঠলেন যে, সকলেই সবিস্ময়ে তার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেখলে। তার মুখের উপরে সন্দেহের স্পষ্ট চিহ্ন।
ডাক্তার আহত কণ্ঠে বললেন, বেশ, আপনার যা অভিরুচি।
সৌদামিনী বললেন, আমি কিছুই খাব না—আমি কিছুই খেতে চাই না। কিছুক্ষণ এখানে চুপ করে বসে থাকলেই আমার মাথা ঘোরা আপনিই সেরে যাবে।
আর-সকলেই বৈঠকখানায় বসে সৌদামিনীর জন্যে অপেক্ষা করছিল।
মহেন্দ্র বললেন, আমি সৌদামিনী দেবীকে সন্দেহ করি।
ডাক্তার বললেন,কেন?
—উনি আমাদের কাছে থেকেও কেমন ছাড়া ছাড়া হয়ে থাকেন।
স্বপ্না বললে, আমরা দুজনে যখন চা তৈরি করছিলুম, তখন সৌদামিনী দেবীর কথাগুলো কেমন যেন অসংলগ্ন বলে মনে হচ্ছিল।
অমলেন্দু বললে, তার দ্বারা কিছুই প্রমাণিত হয় না। আপাতত আমাদের সকলেরই মাথা অল্প-বিস্তর খারাপ হয়ে গিয়েছে।
চন্দ্রবাবু বললেন, প্রায় পনেরো মিনিট সময় কেটে গেল। এইবারে সৌদামিনী দেবীকে ডেকে আনা দরকার।
স্বপ্না উঠে পাশে খাবার ঘরে ঢুকেই তীব্ৰকণ্ঠে চিৎকার করে উঠল। সকলে সেখানে ছুটে গিয়ে দেখলে, সৌদামিনী চেয়ারের উপরে বসে আছেন বটে, কিন্তু ওঁর ওষ্ঠাধর নীলাভ এবং তার বিস্ফারিত দুই চক্ষে নেই জীবন্ত দৃষ্টি।
মহেন্দ্র সচকিত কণ্ঠে বলে উঠল, এ কী ব্যাপার? সৌদামিনী দেবী যে বেঁচে নেই!
চন্দ্রবাবু ধীরে ধীরে মৃদুস্বরে বললেন, আমাদের ভিতর থেকে আর-একজনও সকল সন্দেহ থেকে মুক্তিলাভ করলেন–কিন্তু অত্যন্ত অসময়ে।
ডাক্তার মৃতদেহের উপরে হেট হয়ে তার ওষ্ঠাধরের আঘ্ৰাণ নিলেন এবং দুই চোখের পাতা পরীক্ষা করতে লাগলেন।
অমলেন্দু বললে, মৃত্যুর কারণ কী ডাক্তার? আমরা তো একটু আগেই সৌদামিনী দেবীকে জীবন্ত অবস্থায় দেখে গিয়েছিলুম।
মৃতদেহের কন্ঠের দক্ষিণ দিকে একটি চিহ্নের প্রতি অঙ্গুলিনির্দেশ করে ডাক্তার বললেন, ওটা হচ্ছে হাইপোড়ামিক সিরিঞ্জের চিহ্ন।
চন্দ্রবাবু বললেন, কোনো বিষের জন্যে কি ওঁর মৃত্যু হয়েছে?
ডাক্তার বললে, মনে তো হচ্ছে সায়ানাইড। খুব সম্ভব পোটাসিয়াম সায়ানাইড। সৌদামিনী দেবীর মৃত্যু হয়েছে মুহুর্তের মধ্যে।
অমলেন্দু চিৎকার করে বললে, এ কোনো উন্মাদগ্রস্তের কীর্তি। পাগল হয়ে গিয়েছি আমরা সকলেই!
চন্দ্রবাবু প্রশান্ত কণ্ঠে বললেন, না, আমরা এখনও বিবেচনা করবার শক্তি হারাইনি। এই বাড়িতে কেউ কি সঙ্গে করে 'হাইপোডামিক সিরিঞ্জ’ এনেছে?
ডাক্তার যেন কিছু বিচলিত কণ্ঠে বললেন, হ্যাঁ, আমি এনেছি।’
চারজোড়া চক্ষু আকৃষ্ট হল ডাক্তারের দিকে। চারজোড়া বিজাতীয় সন্দেহপূর্ণ চক্ষু!
ডাক্তার বোস বললেন, ডাক্তারদের সঙ্গে সর্বদাই থাকে হাইপোডার্মিক সিরিঞ্জ।
চন্দ্রবাবু বললেন, ঠিক কথা। কিন্তু ডাক্তার, সেটা এখন কোথায় আছে বলতে পারেন কি?
—আমার ঘরে সুটকেসের ভিতরে।
চন্দ্রবাবু বললেন, চলুন—সেটা এখন সেখানে আছে কি না দেখে আসা যাক ৷
পাঁচ জন একসঙ্গে নীরবে দোতলায় গিয়ে উঠল।
ডাক্তারের সুটকেসের ভিতরটা তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখা হল।
হাইপোডামিক সিরিঞ্জ পাওয়া গেল না।
ডাক্তার ক্রুদ্ধকণ্ঠে বললেন, জিনিসটা কেউ তাহলে চুরি করেছে।
আবার চারজোড়া চক্ষু দারুণ সন্দেহে বিষাক্ত হয়ে উঠল!
চন্দ্রবাবু বললেন, এ-ঘরে আছি আমরা পাঁচ জন। এই পাঁচ জনের মধ্যে নিশ্চয়ই এক জন হচ্ছে হত্যাকারী! ডাক্তার আপনার সঙ্গে আছে কী ওষুধ?
ডাক্তার উত্তর দিলেন, আপনারা নিজেরাই অনায়াসে খুঁজে দেখতে পারেন।
চন্দ্রবাবু বললেন, অমলেন্দুবাবু, আপনার কাছে আছে একটা রিভলভার?
অমলেন্দু তপ্তস্বরে বললে, হ্যাঁ আছে, তাতে হয়েছে কী?
—বর্তমান অবস্থায় আমাদের কারুর কাছেই কোনো বিপজ্জনক জিনিস থাকা উচিত নয়। ওই রিভলভারটা এখন আমাদের জিন্মায় জমা রাখলেই ভালো হয়। আমরা ওটা কোনো নিরাপদ জায়গায় রেখে দেব।
অমলেন্দু বেগে মাথা নেড়ে বললে, মোটেই নয়! রিভলভারটা কিছুতেই আমি কাছছাড়া করব না।
বিরক্তিপূর্ণ কষ্ঠে চন্দ্রবাবু বললেন, অমলেন্দুবাবু, আমাদের এই ভূতপূর্ব ডিটেকটিভ মহেন্দ্রবাবুকে দেখলে মনে হয়ে, উনি আপনার চেয়ে বলবান ব্যক্তি। তার উপরে ওঁর সঙ্গে আছি আমরা আরও তিন জন। বুঝতেই পারছেন, আপনি এখন আমাদের বাধা দেবার চেষ্টা করলেও বিফল হবেন।
দাঁত-মুখ খিচিয়ে অমলেন্দু বললে, বেশ, এ-কথার উপরে আমার আর কিছু বলবার নেই।
চন্দ্রবাবু ঘাড় নেড়ে বললেন, এইবারে আপনি বুদ্ধিমানের মতন কথা বলছেন। রিভলভারটা কোথায় আছে?
—আমার ঘরে একটা টেবিলের দেরাজের ভিতরে।
—উত্তম!
—আমি সেটা এখুনি এনে দিচ্ছি।
—আপনি একলা কেন, আমরা সকলেই একসঙ্গে আপনার ঘরে যাব।
ভ্রুকুটি করে অমলেন্দু বললে, আপনি হচ্ছেন এক বিষম সন্দিগ্ধ ব্যক্তি। কারুর কথাতেই বিশ্বাস করেন না।
কিন্তু অমলেন্দুর ঘরে গিয়ে দেখা গেল তার টেবিলের দেরাজের ভিতর রিভলভার নেই।
অমলেন্দু বললে, তারপর?
চন্দ্রবাবু বললেন, এখন আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, অমলেন্দুবাবুর রিভলভারটা গেল কোথায়?
মহেন্দ্র বললে, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন একমাত্র রিভলভারের মালিকই?
অমলেন্দু উগ্রকণ্ঠে বললেন, নির্বোধ! রিভলভার কোথায় গেছে আমি তার কী জানি? নিশ্চয়ই কেউ সেটা চুরি করেছে।
চন্দ্রবাবু শুধোলেন, রিভলভারটা শেষ কখন আপনি দেরাজের ভিতরে দেখেছেন?
—কাল রাত্রে, শোবার আগে।
—তাহলে নিশ্চয়ই সেটা চুরি গিয়েছে আজ সকালে। হয়তো যখন আমরা নিত্যানন্দের মৃতদেহ নিয়ে ব্যস্ত হয়েছিলুম। সেই সময়েই।
(ক্রমশ)
----------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now