বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"
পরদিনের প্রভাতকাল। জলঝড়ের মাত্রা খানিক কমে এসেছে বটে, কিন্তু এখনও সূর্যহীন আকাশ হয়ে আছে মেঘে মেঘময়।
বিছানা থেকে ধড়মড় করে উঠে মহেন্দ্র ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দখেলে বেলা তখন সাড়ে সাতটা।
বাহির থেকে দরজায় করাঘাত হল। সঙ্গে সঙ্গে অমলেন্দুর গলায় শোনা গেল, মহেন্দ্রবাবু, মহেন্দ্রবাবু, এখনও ঘুমোচ্ছেন নাকি?
মহেন্দ্র ঘরের দরজা খুলে দিয়ে বললে, ব্যাপার কী, এত ডাকাডাকি কেন?
অমলেন্দু বললে, নিত্যানন্দ রোজ সকালে সাড়ে ছ-টার সময় আমাদের চা প্রস্তুত করে। কিন্তু আজ এখনও তার কোনো সাড়া বা পাত্তাই নেই। তার ঘরে গিয়েছিলুম, সেখানেও দেখতে পেলুম না তাকে।
ইতিমধ্যে আর-সকলেও নিজের নিজের ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে এল।
চন্দ্রবাবু বললেন, নিত্যানন্দ রান্নাঘরে গিয়ে বোধ হয় আমাদের প্রাতরাশের আয়োজনে ব্যস্ত আছে। চলুন, দেখে আসি।
সকলে নীচে নেমে এসে রান্নাঘরে গিয়ে ঢুকল। সেখানে টেবিলের উপরে চায়ের কেটলি, পেয়ালা ও খাবারের প্লেটগুলো সাজানো রয়েছে বটে, কিন্তু নিত্যানন্দ অদৃশ্য! এমনকি উনুনে আগুন পর্যন্ত জ্বলছে না। তারপর সকলে প্রবেশ করলে বৈঠকখানার মধ্যে। সে-ঘরও শূন্য।
আচম্বিতে স্বপ্নার মুখে ফুটল অস্ফুট এক আর্তস্বর! বিহ্বলের মতো সে চন্দ্রবাবুর একখানা হাত সজোরে চেপে বলে উঠল, দেখুন, দেখুন! টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখুন!
টেবিলের উপর থেকে অদৃশ্য হয়েছে আর-একটা হারাধনের ছেলে। সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাত্র ছয়টা পুতুল।
অল্পক্ষণ পরেই নিত্যানন্দের সন্ধান পাওয়া গেল। উঠানে নেমে উনুনে আগুন জ্বালাবার জন্যে সে জ্বালানি কাঠ কাটতে গিয়েছিল। সেইখানেই তার দেহটা মাটির উপরে পড়ে রয়েছে, হাতের মুঠোর ভিতরে তখনও সে চেপে ধরে আছে একখানা কাটারি!
তার কন্ঠের উপরে তীক্ষ্ণ অস্ত্রের আঘাত এবং একটু তফাতে পড়ে রয়েছে একখানা রক্তাক্ত ভোজালি!
ডাক্তার বললেন, গলার পিছন দিকে আঘাতের চিহ্ন। নিত্যানন্দ যখন হেট হয়ে কাঠ কাটছিল, ঠিক সেই সময় নিশ্চয়ই কেউ এসে তাকে আক্রমণ করেছে।
চন্দ্রবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, এভাবে অস্ত্রাঘাত করবার সময় কি খুব বেশি শক্তির দরকার হয়?
ডাক্তার গম্ভীর কণ্ঠে বললে, আপনি যা বলতে চান, বুঝেছি। হ্যাঁ, এ কাজ কোনো স্ত্রীলোকের দ্বারাও হতে পারে।’ বলেই তিনি পিছন দিকে ফিরে তাকালেন। সৌদামিনী ও স্বপ্না সেখানে নেই। তারা তখন গিয়েছিল রান্নাঘরের ভিতরে।
ভোজালির হাতলটা বিশেষ মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করতে করতে মহেন্দ্র বললে, উহু, আঙুলের দাগ নেই। হাতলটা যেন ভালো করে মুছে ফেলা হয়েছে।
হঠাৎ শোনা গেল খিলখিল করে হাসির শব্দ; সবাই ফিরে দাঁড়াল সচকিতে। উঠানের উপরে এসে দাঁড়িয়েছে স্বপ্না। খিলখিল করে হাসতে হাসতে থেমে থেমে সে বললে, হারাধনের ছেলে, হারাধনের ছেলে! বলতে পারো হারাধনের ছেলেগুলো যায় কোথায়? হা হা হা!
স্বপ্না কি হঠাৎ পাগল হয়ে গিয়েছে? সবাই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
স্বপ্না বলে উঠল অস্বাভাবিক উচ্চ কণ্ঠে ‘অমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে না। তোমরা কি ভাবছ আমি পাগল? আমি ঠিক কথাই বলছি। হারাধনের ছেলে, হারাধনের ছেলে! ও, তোমরা কি সেই ছেলে-ভুলানো ছড়াটা শোনোনি?—
‘হারাধনের নয়টি ছেলে কাটতে গেল কাঠ,
একটি মল দুখান হয়ে—’
হা হা হা! সে উদ্রান্তের মতো হাসতেই লাগল। ডাক্তার বললেন, হিস্টিরিয়া, এ যে স্পষ্ট হিস্টিরিয়ার লক্ষণ! সবুর করুন।
তিনি স্বপ্নার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তার গণ্ডদেশে করলেন সজোরে এক চপেটাঘাত। সে চমকে উঠল, দু-এক বার হেঁচকি তুললে এবং টোক গিললে।
আপনাকে ধন্যবাদ। এইবারে আমি সামলে নিয়েছি।
তারপর সে আবার রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে বললে, সৌদামিনী দেবী আর আমি চা-টা তৈরি করব। আমাদের দয়া করে উনুনে আগুন দেবার জন্যে কিছু কাঠ এনে দিন।
মহেন্দ্র বললে, ‘ডাক্তারবাবু, আপনার চিকিৎসা ফলপ্রদ হয়েছে।
ডাক্তার কাচুমাচু মুখে বললেন, বাধ্য হয়েই আমাকে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করতে হল। এত বিপদের ভিতরে আবার হিস্টিরিয়া নিয়ে জড়িয়ে পড়া চলে না?
অমলেন্দু বললে, স্বপ্না দেবীকে দেখলে তো মনে হয় না ওঁর হিস্টিরিয়া আছে।
ডাক্তার বললেন, না, না, স্বপ্না দেবী হচ্ছেন বুদ্ধিমতী আর স্বাস্থ্যবতী মেয়ে। কিন্তু এই আচমকা বিপদের ধাক্কা উনি সামলাতে পারেননি।
(চলবে)
---------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now