বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"হারাধনের দ্বীপ" হেমেন্দ্রকুমার রায় ▪▪▪ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ▪▪▪

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পরদিনের প্রভাত। জানলা দিয়ে ঘরের ভিতরে এসে পড়েছে খানিকটা সূর্যালোক। ডাক্তার বোস বিছানার উপর উঠে বসেই শুনতে পেলেন, বাইরের থেকে সজোরে দরজা ঠেলতে ঠেলতে নিত্যাননন্দ ডাকছে, ডাক্তারবাবু, ডাক্তারবাবু! তাড়াতাড়ি খাট থেকে নেমে দরজা খুলে দিয়ে তিনি বললেন, ব্যাপার কী নিত্যানন্দ? নিত্যানন্দ কাঁপতে কাঁপতে বললে, ডাক্তারবাবু, আমার স্ত্রীর কী হয়েছে! আমি তাকে জাগাতে পারছি না। আমি তাকে কিছুতেই জাগাতে পারছি না। শীঘ্রহস্তে একটা জামা পরে নিয়ে নিত্যানন্দের সঙ্গে ডাক্তার তার ঘরে গিয়ে হাজির হলেন। বিছানায় শুয়ে আছে সত্যবালা । ডাক্তার তার মাথার উপরে হাত রাখলেন। অস্বাভাবিক কনকনে ঠান্ডা! মিনিটখানেক পরীক্ষার পর ডাক্তার ফিরে দাঁড়ালেন। ডাক্তার ঘাড় নেড়ে বললেন, হ্যাঁ। তোমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে? —তাহলে কি ওর হার্টফেল করেছে? —তোমার স্ত্রীর কি বুকের কোনো অসুখ ছিল? —কই, আমি তো কখনো শুনিনি। —কাল রাত্রে ঘুমোবার আগে তোমার স্ত্রী কী খেয়েছিল? —কিছু না। আপনি যে ওষুধ দিয়েছিলেন, তারপরে আর কিছুই খায়নি। বৈঠকখানায় আসন গ্রহণ করে চন্দ্রবাবু ও মেজর সেন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। অমলেন্দু, মহেন্দ্র ও স্বপ্না সকলেই উঠে গিয়েছিল বাড়ির বাইরে। ফিরে এসে তারা তিন জনেও গিয়ে বসল, বৈঠকখানায়। সৌদামিনী এতক্ষণ পরে উপরে থেকে নেমে এসে শুধোলেন, মোটরলাঞ্চখানা ফিরে এসেছে কি? স্বপ্না বললে, না। ডাক্তার ঘরের ভিতরে ঢুকে বললেন, চা আর খাবার তৈরি করে নিত্যানন্দ এখনই আপনাদের ডাকবে। আজ তার কাজে কিছু গলদ হলে আপনারা যেন কিছু মনে করবেন না। সৌদামিনী বললেন, তার মানে? —আগে আমাদের চা-টা খাওয়া হয়ে যাক, তারপর কারণ কী শুনবেন। কেউ আর কিছু বললে না। এমন সময়ে নিত্যানন্দ একটা দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল, আপনাদের চা প্রস্তুত। অনুগ্রহ করে খাবার ঘরে চলুন। তার মুখ সম্পূর্ণ ভাবহীন। চা-পানের পর সবাই আবার বৈঠকখানায় এসে আসন গ্রহণ করলে। ডাক্তার বললেন, এইবারে আপনাদের একটা কথা বলা দরকার। সত্যবালা কাল রাত্রে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই মারা পড়েছে। সকলেই চমকে অস্ফুট শব্দ করে উঠল। স্বপ্না আর্তকণ্ঠে বললে, কী ভয়ানক! আবার মৃত্যু? এক দিনে দুই জনের মৃত্যু? চন্দ্রবাবু বললেন, অসাধারণ ব্যাপার বটে। সত্যবালার মৃত্যুর কারণ কী? ডাক্তার বললেন, শবব্যবচ্ছেদ না করলে তা বলা সহজ নয়। স্বপ্না বললে, সত্যবালাকে দেখেই আমি বুঝেছিলুম, তার স্বাস্থ্য ভালো নয়। কালকেই সেই দুর্ঘটনার জন্যে হয়তো তার হার্টফেল করেছে। ডাক্তার বললেন, তার হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়েছে, কিন্তু কী জন্য তা বন্ধ হয়েছে সেইটেই এখন বিবেচ্য। সৌদামিনী বললেন, বিবেক! ডাক্তার তার দিকে ফিরে বললেন, আপনার কথার অর্থ কী সৌদামিনী দেবী? সৌদামিনী বললেন, আপনারা সবাই তো শুনেছেন! নিস্তরিণী দেবীর মৃত্যুর জন্যে দায়ী সে আর তার স্বামী। —আপনিও তাই মনে করেন নাকি? —হ্যাঁ। আমি এই অভিযোগ সত্য বলেই মনে করি। অভিযোগের কথা শুনেই সে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। সেই ভয় সামলাতে না পেরেই তার হার্ট ফেল করেছে। এ হচ্ছে ভগবানের বিচার। চন্দ্রবাবু বললেন, ভগবান বিচার করেন মানুষের সাহায্যেই। কিন্তু এখানে এমন কে মানুষ থাকতে পারে? মহেন্দ্র বললেন, ঘুমোবার আগে সত্যবালা কী খেয়েছে, আর কী পান করেছে? ডাক্তার বললেন, কিছু না। —কিছু না? এক পেয়ালা চা? এক গেলাস জল? নিশ্চয়ই সে কিছু না কিছু খেয়েছে? নিত্যানন্দ বলে, ঘুমোবার আগে কাল সে কিছুই খায়নি বা পান করেনি। কতকটা ব্যঙ্গের স্বরে মহেন্দ্র বললে, ওঃ নিত্যানন্দ! সে তো বলবেই এ কথা! অমলেন্দু বললে, মহেন্দ্রবাবু, আপনি কি নিত্যানন্দকেই সন্দেহ করেন? —কেন করব না? কাল আমরা সবাই শুনেছি সেই অভিযোগের কথা। হতে পারে তা অমূলক, হতে পারে তা পাগলের প্রলাপ! কিন্তু, হতেও পারে তা সত্য কথা। সত্যবালা স্ত্রীলোক, অভিযোগ শুনেই মূৰ্ছিত হয়ে পড়েছিল। নিত্যানন্দের মনে এই ভয় হওয়া স্বাভাবিক যে, শেষ পর্যন্ত সত্যবালা হয়তো সব কথা ফাঁস করে দেবে। তারপর—বুঝতেই পারছেন তো? নিজের গলা বাঁচাবার জন্যে সে তার স্ত্রীর মুখ চিরদিনের জন্যে বন্ধ করে দিয়েছে। এমন সময় ঘরের ভিতরে এসে দাঁড়াল নিত্যানন্দ। মেজর সেন বললেন, তোমার স্ত্রী মৃত্যুর কথা শুনে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছি! নিত্যানন্দ কেবল নিজের কপালে হাত দিয়ে বললে, অদৃষ্ট! আর সবাই চুপ করে রইল! বাড়ির বাইরেকার চত্বরে দাঁড়িয়েছিল অমলেন্দু ও মহেন্দ্র। অমলেন্দু বললে, এই মোটরলাঞ্চ— বলতে বলতে সে থেমে গেল। মহেন্দ্র বললে, আপনি কী ভাবছেন, আমি বুঝতে পেরেছি। আমারও মনে জেগেছে ওই প্রশ্ন। এতক্ষণে লাঞ্চখানার এখানে আসা উচিত ছিল। কিন্তু তা আসেনি। কেন? অমলেন্দু বললে, ওই প্রশ্নের কোনো উত্তর পেয়েছেন? —আমার মতে লাঞ্চখানা না-আসা কোনো দৈব ঘটনা নয়। —‘অর্থাৎ আপনি বলতে চান, লাঞ্চখানা আর আসবে না? পিছন থেকে অধীর কণ্ঠে শোন গেল—না, না। মোটরলাঞ্চ আর ফিরে আসবে না? দুজনেই একসঙ্গে ফিরে দাঁড়িয়ে দেখলে, মেজর সেন। মহেন্দ্র বললে, মেজরসাহেব, আপনারও তাই বিশ্বাস? মেজর সেন গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, নিশ্চয়ই তা আসবে না। আমরা সেখানাকে চাই এই দ্বীপ থেকে প্রস্থান করবার জন্যে। কেমন? কিন্তু এই দ্বীপ থেকে আর কোনোদিনই আমরা চলে যেতে পারব না। যতক্ষণ বেঁচে আছি, এই দ্বীপেই আমাদের থাকতে হবে।’ বলতে বলতে তিনি হনহন করে এগিয়ে চললেন একদিকে। সেই দিকে সিধে এগিয়ে গেলে পাওয়া যাবে সমুদ্রতীর। তার এলোমেলো গতি দেখলে মনে হয়, তিনি যেন অগ্রসর হচ্ছেন অর্ধজাগ্রত অবস্থায়। মহেন্দ্র খানিকক্ষণ সেইদিকে তাকিয়ে থেকে চিস্তিতমুখে বললে, আর একজনেরও মাথা খারাপ হবার উপক্রম হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো আমাদের সকলেরই অবস্থা হবে ওই রকম। অমলেন্দু বললে, কিন্তু আপনার মাথা ঠিকই থাকবে বলে মনে হচ্ছে। গোয়েন্দা বিভাগের ভূতপূর্ব কর্মচারী মহেন্দ্র আনন্দহীন হাস্য করে বললে, প্রচুর কাঠ-খড় না পুড়লে আমার মাথা খারাপ হবে না। আর আমার মনে হচ্ছে, আপনার সম্বন্ধেও যেন ওই-কথাই বলা যায়। অমলেন্দু বললে, অন্তত এখনও পর্যন্ত আমি পাগল হইনি। চত্বরে এসে দাঁড়ালেন ডাক্তার বোস—তার পিছনে পিছনে নতমস্তকে চন্দ্রবাবু। মহেন্দ্র ও অমলেন্দুর দিকে এগিয়ে ডাক্তার কী বলতে উদ্যত হয়েছেন, এমন সময়ে দ্রুতপদে সেখানে এসে নিত্যানন্দ বললেন, আমার একটা কথা শুনবেন কি? ডাক্তার ফিরে দাঁড়ালেন। কিন্তু নিত্যানন্দের মুখ দেখেই তার দৃষ্টি হয়ে উঠল সচকিত। সে মুখ মড়ার মতো সাদা, থরথর করে কাপছে আর সর্বাঙ্গ! নিত্যানন্দ বললে, আপনারা দয়া করে একবার বৈঠকখানায় চলুন। আপনাদের একটা ব্যাপার দেখাতে চাই। সকলে আবার বৈঠকখানায় গিয়ে দাঁড়াল। ডাক্তার বললেন, নিত্যানন্দ, তুমি অত কাঁপছ কেন? হয়েছে কী? নিত্যানন্দ ভয়ার্তস্বরে বললে, এই বাড়ির ভিতরে এমন সব ব্যাপার হচ্ছে, যার মানে আমি বুঝতে পারছি না! —ব্যাপার? কী ব্যাপার? —আপনারা হয়তো আমাকে পাগল বলে ভাববেন! কিন্তু এই ব্যাপারের কোনো অর্থই আমি খুঁজে পাচ্ছি না! —আরে বাপু, আসল কথা কী, তাই বলো? নিত্যানন্দ বললে, ওই টেবিলের মাঝখানে কালকে দশটা পুতুল দাঁড় করানো ছিল। আমি স্বচক্ষে দেখেছি। ঠিক দশটা! ডাক্তার বললেন, হ্যাঁ, দশটা পুতুলই ছিল বটে। কাল আমরাও তা গুনে দেখেছিলুম। নিত্যানন্দ বললেন, তাহলে শুনুন। কাল রাত্রে আপনারা উপরে যাবার পর আমি যখন ঘরের জানলা-দরজা বন্ধু করছিলুম, টেবিলের উপরে তখন দেখছিলুম মোটে নয়টা পুতুল। কিন্তু আবার এখন কী দেখছি জানেন? যদি বিশ্বাস না করেন, নিজেরাই গুনে দেখুন। —এখানে রয়েছে মাত্র আটটা পুতুল! মাত্র আটটা! এর কি কোনো মানে হয়? মাত্র আটটা? (ক্রমশ) ----------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now