বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"
স্বপ্না খুব খুশিমুখে বলে উঠল, বাঃ, কী সুন্দর বাড়িখানি!! ঠিক যেন ছবির মতো!
ডাক্তার বোসের মনে হলো বাড়িখানা সুন্দর হলেও কেমন যেন রহস্যময়। অসাধারণ স্থানে অসাধারণ বাড়ি এবং অসাধারণ কোনো-কিছুই ডাক্তার বোস পছন্দ করেন না।
সৌদামিনী মনে মনে বললেন, এই নির্জন দ্বীপে লোকালয় থেকে বহুদূরে এসে বাড়িখানাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন হানাবাড়ি! কোথাও জনমানবের চিহ্ন পর্যন্ত নেই! এখানে কি মানুষ থাকতে পারে?
সকলে রাস্তা ধরে খোলা জমি পার হয়ে বাড়ির সামনে এসে পড়ল। তারপর গাড়িবারান্দার তলা দিয়ে বাড়ির সদরের কাছে আসতেই দেখা গেল, সেখানে নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি মূর্তি। বয়স তার ষাটের কাছাকাছি, মুখ সম্পূর্ণ ভাবহীন। জামাকাপড় অত্যন্ত সাদাসিধে।
চন্দ্রবাবু এগিয়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে শুধোলেন, কে তুমি?
লোকটি বললে, আজ্ঞে, আমার নাম শ্রীনিত্যানন্দ দাস। আমার উপরে হুকুম আছে, আপনাদের সমস্ত ব্যবস্থা করে দেবার জন্যে।
—কে তোমাকে হুকুম দিয়েছে?
—আমাদের মনিব।
—তার নাম কী?
—জানি না।
মহেন্দ্র তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে নিত্যানন্দের দিকে তাকিয়ে বললে, মিনিবের নাম জানো না।
স্বপ্না বললে, তার নাম বোধহয় কাননকুন্তলা দেবী?
চন্দ্রবাবু বললেন, কিন্তু আমাকে নিমন্ত্রণ করেছেন চারুশীলা দেবী।
নিত্যানন্দ বললে, আপনারা যাদের কথা বলছেন, তাদের নাম আমি শুনিনি। খালি এইটুকুই জানি যে, আমার মনিবের কথামতো অ্যাটর্নি বিজনবাবু আমাকে আর আমার স্ত্রীকে এখানকার কাজে নিযুক্ত করেছেন। আর এটাও আমাকে জানানো হয়েছিল, আজ সকালে আপনারা সবাই এখানে এসে পোঁছবেন।
মেজর সেন বললেন, তোমাদের মনিব ট্রেন ফেল করে আজ আমাদের সঙ্গে আসতে পারেননি। খুব সম্ভব তিনি কালকেই এসে পড়বেন। কিন্তু আপাতত আমরা কী করব? কে কোথায় থাকব? আহারাদির ব্যবস্থা কী হবে?
ঠিক সেই সময়ে বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে একটি যুবক বললে, কারুকে কোনোই দুশ্চিন্তা করতে হবে না! এর মধ্যেই বাড়ির সব জায়গায় আমি টহল দিয়ে এসেছি। মস্ত বাড়ি—একসঙ্গে পঞ্চাশ-ষাট জন মানুষ এখানে বাস করতে পারে।
প্রকাণ্ড ভাড়ার ঘর, রাশি রাশি খাবার জিনিস জমা করা আছে। রান্নাঘরে নিত্যানন্দের স্ত্রী সত্যবালা আগুন দিয়েছে তিনটে উনুনে। সুতরাং মাভৈঃ!
সকলেই যুবকদের দেখেই চিনতে পারলেম ভোরবেলায় মোটরবোটের চালকের আসনে বসে ছিল এই মূর্তিই।
মহেন্দ্র শুধোলে, আপনিই কি মনোতোষবাবু?
যুবক দুই ভুরু নাচিয়ে বললে, আরে, বাহবা কী বাহবা! এই মধ্যেই আমার নাম পর্যন্ত আদায় করে ফেলেছেন দেখছি! আজ্ঞে হ্যাঁ মশাই, পিতৃদেব ওই নামই রেখেছিলেন বটে।
সকলের পিছনে দাঁড়িয়ে সব কথা নীরবে শুনছিল অমলেন্দু। এইবারে সে অগ্রসর হয়ে বললে, নিতানন্দ, তোমার মনিবের বদলে তুমিই যখন আছ, আগে আমাদের সকলের মাথা গোঁজবার জায়গা ঠিক করে দাও দেখি! তারপর হাতমুখ ধুয়ে আমরা সকলেই চা-পান করতে চাই। কোনো অসুবিধা হবে না তো?
নিত্যানন্দ বললে, কিছু না, পাঁচ মিনিটের মধ্যে চা প্রস্তুত হয়ে যাবে। আসুন আমার সঙ্গে আসুন।
নিত্যানন্দ গলা তুলে বললে, সত্যবালা, মেয়েদের ঘর-দুটো দেখিয়ে দাও। তারপর ফিরে সৌদামিনী ও স্বপ্নার উদ্দেশ্যে বললে, আপনারা আগে অনুগ্রহ করে উপরে যান। ওইদিকে গেলেই সিঁড়ি পাবেন। বলে একদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলে।
স্বপ্না কার্পেটপাতা সুদৃশ্য পালিশ করা কাঠের সোপানশ্রেণি দিয়ে উপরে উঠে দেখতে পেলে, একটি প্রৌঢ়া স্ত্রীলোক সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।
সে বললে, আমার সঙ্গে আসুন।
—তোমার নামই সত্যবালা?
—হ্যাঁ। বাছা।
তার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে স্বপ্না একটি ঘরের ভিতর গিয়ে ঢুকল। চমৎকার সাজানো-গুছানো ঘর। ধবধপে বিছানা-পাতা খাট, ড্রেসিং টেবিল, চেয়ার, কৌচ ও সোফা প্রভৃতি কোনো আসবাবেরই অভাব নেই। মার্বেলপাথরের মেঝে, মাঝখানে নরম কাপেট বিছানো।
সত্যবালা বললে, ওই দরজা খুললে স্নানের ঘর পাবেন। আর যখনই আমাকে দরকার হবে, ঘণ্টা বাজালেই আমি শুনতে পাব। আপনার আর কিছু দরকার আছে?
—আমার সুটকেস এই ঘরে পাঠিয়ে দিতে হবে।
—এখনই দিচ্ছি, বলেই সত্যবালা প্রস্থানোদ্যত হল।
স্বপ্না বললে, দাঁড়াও, তোমরা স্বামী-স্ত্রী ছাড়া বাড়িতে আর-কেউ আছে?
—না?
-—আমরা আট জন লোক। তোমরা দুজনে আমাদের সামলাতে পারব কি?
—বোধহয় পারব। আর,আমাদের মনিব তো দু-এক দিনের মধ্যেই এসে পড়বেন। শুনলুম, তারও সঙ্গে নিশ্চয়ই দাস-দাসীরা আসবে। এই বলে সত্যবালা ঘরের ভিতর থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল।
স্বপ্না একবার জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ঘন অরণ্যে আচ্ছন্ন দ্বীপ, তার ওপারে দেখা যাচ্ছে সমুদ্রের অসীমতা। চারিদিকে একান্ত স্তব্ধতার বীণায় বেজে উঠছে মাঝে মাঝে গানের পাখিদের সুর। তারপরে ঘরের ভিতরে কিছুক্ষণ ধরে সে পায়চারি করলে, মুখে তার কিঞ্চিৎ উদ্বিগ্ন ভাব। সমস্ত ব্যাপারটাই তার কাছে কেমন খাপছাড়া বলে মনে হল। গৃহকর্তা অনুপস্থিত, অতিথিদেরও যেন কেমন ছাড়া ছাড়া ভাব! সবই অদ্ভুত!
হঠাৎ তার চোখ পড়ল দেওয়ালের এক জায়গায়। ড্রেসিং টেবিলের উপরে একখানি আয়না, ঠিক তার উপরেই কাচ ও ফ্রেম দিয়ে বাঁধানো একখানা কাগজের উপরে লেখা রয়েছে এই পদ্যটি—
‘হারাধনের দশটি ছেলে ঘোরে পাড়াময়,
একটি কোথা হারিয়ে গেল, রইল বাকি নয়।
হারাধনের নয়টি ছেলে কাটতে গেল কাঠ,
একটি কেটে দুখান হল, রইল বাকি আট।
হারাধনের আটটি ছেলে বসল খেতে ভাত,
একটির পেট ফেটে গেল, রইল বাকি সাত।
হারাধনের সাতটি ছেলে গেল জলাশয়,
একটি সেথা ডুবে মল, রইল বাকি ছয়।
হারাধনের ছয়টি ছেলে চড়তে গেল গাছ,
একটি মল পিছলে পড়ে, রইল বাকি পাঁচ।
হারাধনের পাঁচটি ছেলে গেল বনের ধার,
একটি গেল বাঘের পেটে, রইল বাকি চার।
হারাধনের চারটি ছেলে নাচে ধিনধিন
একটি মল আছাড় খেয়ে রইল বাকি তিন।
হারাধনের তিনটি ছেলে ধরতে গেল রুই,
একটি খেলে বোয়াল মাছে রইল বাকি দুই।
হারাধনের দুইটি ছেলে মারতে গেল ভেক,
একটি মল সাপের বিষে, রইল বাকি এক।
হারাধনের একটি ছেলে কাঁদে ভেউ ভেউ,
মনের দুঃখে বনে গেল, রইল না আর কেউ!’
স্বপ্না বললে, আরে, এ-ছড়াটা আমি তো ছেলেবেলায় পড়েছি! কিন্তু এই ছেলেভুলানো ছড়াটা এখানে ফ্রেমে বাঁধিয়ে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে কেন?
জিজ্ঞাসার কোনো জবাব পাওয়া গেল না। স্বপ্না আবার জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল, সামনে দেখা যাচ্ছে ওই সমুদ্ৰ—অসীম সমুদ্র। ওদিকে তাকালেই তার মনের পটে ফুটে ওঠে একটা দুঃস্বপ্নের দৃশ্য! সমুদ্রকে এখন দেখাচ্ছে বেশ শান্ত, কিন্তু সময়ে সে কী অধীর আর নিষ্ঠুর হয়েও ওঠে। সে তোমাকে টেনে নিয়ে যায় অতলে, তারপর মৃত্যুঘুমে ঘুমিয়ে পড়ে তরুণ ও জীবন্ত দেহ। মানুষ ডুবে যায়, তলিয়ে যায়, হারিয়ে যায় চিরকালের মতো।
স্বপ্না শিউরে উঠে বললে, না, না, আর সে কথা স্মরণ করব না, মুছে যাক অতীতের স্মৃতি—জেগে থাক বর্তমান।
ডাক্তার বোস বাড়ি থেকে বেরিয়ে আবার গিয়ে দাঁড়ালেন জলের ধারে। লাঞ্চখানা তখন একটু তফাতে নোঙর করা ছিল। ইব্রাহিম ডাঙা থেকে আবার নৌকায় উঠতে যাচ্ছে, ডাক্তার বোস জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি বাড়ির ভেতরে আসবে না?
ইব্রাহিম বললে, না হুজুর, আমাকে আবার এখনই ফিরে যেতে হবে।
—কেন?
—মনিব যদি পোর্ট ক্যানিং-এ এসে পৌঁছোন, তাকে তো আবার এখানে নিয়ে আসতে হবে?
—মনোতোষবাবুর মোটরবোটখানা কোথায় গেল?
—তার ড্রাইভার সেখানা নিয়ে চলে গেছে। সে ফিরে আসবে আবার এক মাস পরে।
—এক মাস পরে?
—আজ্ঞে হ্যাঁ। এই রকম হুকুমই সে পেয়েছে।
ডাক্তার বোস অবাক হয়ে ভাবতে লাগলেন, তাহলে মনোতোষবাবু এই দ্বীপে কিছুকালের জন্যে কায়েমি হয়ে বাস করতে চান? ভালো! কিন্তু আমার পক্ষে তা সম্ভব হবে না। তাহলে কলকাতায় রোগীমহলে হাহাকার পড়ে যাবে, আর আমারও ব্যাঙ্কের খাতায় জমার ঘরে বিরাজ করবে দারিদ্র্য। পায়ে পায়ে তিনি আবার বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন। খানিক পরেই শব্দ শুনেই বুঝতে পারলেন, মোটরলাঞ্চ আবার ছেড়ে দিলে। ডাক্তার বোসের মনে হল দেশের মাটির সঙ্গে যে শৃঙ্খলের যোগ ছিল, আবার তা ছিন্ন হয়ে গেল। এখন এই দ্বীপময় জগতে তারা ছাড়া আর কোনো প্রাণীর সাড়াশব্দ পাওয়া যাবে না।
বাড়ির সামনের চাতালে ইজিচেয়ারের উপরে অর্ধশয়ান হয়ে আছেন চন্দ্ৰকান্ত চৌধুরি। ওই মিশরের মমির মতো শুষ্ক শীর্ণ দেহ, ওই কচ্ছপের মতো গলদেশ, ওই ব্যাঙের মতো মুখ, ওই কুঁজোর মতো সামনে দুমড়ে-পড়া দেহ আগে তিনি কোথায় দেখেছিলেন, এতক্ষণ স্মরণে আসছিল না। এইবারে মনে পড়েছে! উনি হচ্ছেন হাইকোর্টের জজ চন্দ্রকান্ত। তাকে একবার ওর কোর্টে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হয়েছিল। অতিশয় হৃদয়হীন—লোকে ওঁর নাম রেখেছিল ফাসুড়ে জজ। প্রায় পৃথিবীর বাইরে এসে এমন জায়গায় আজ তার সঙ্গে দেখা!
চন্দ্রবাবু আপন মনে বললেন, ডাক্তার বোসকে দেখেই চিনেছি। লোকটা একবার আমার কোর্টে সাক্ষ্য দিতে এসেছিল। খুব সচেতন সাক্ষী, নির্ভুল উত্তর দিতে পারে। কিন্তু রাবিশ, ডাক্তার মাত্রই হচ্ছে নির্বোধ।
এ বাড়িতে আমরা সবাই পুরুষ, মেয়ে আছে কেবল দুজন। তাদের একজন হচ্ছে স্বল্পবাক, প্রাচীনা; আর-একজন একালের হাল-ফ্যাশনের মেয়ে। না, আরও একটি স্ত্রীলোক আছে, ওই সত্যবালা। অদ্ভুত জীব, সর্বদাই যেন ভয়ে তটস্থ।
গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে স্নানঘরে বসে স্নান করছে মনোতোষ। স্নান করতে ভারী ভালো লাগছিল তার। ধনীর ছেলে, যাপন করছে উৎসবময় জীবন, চন্দ্রলোক ছাড়া অন্ধকারের কোনো ধারই ধারে না!
হঠাৎ সে বলে উঠল, অবশেষে সামুদ্রিক দ্বীপে। এর মধ্যেই পৃথিবীকে আমি সব দিক দিয়ে উপভোগ করে নিয়েছি, কিন্তু এ অভিজ্ঞতা আমার পক্ষে নূতন! মোটরবোটকে আসতে বলে দিয়েছি এক মাস পরে। তার আগে এখান থেকে আমি ফেরবার নামও মুখে আনব না।
মহেন্দ্র নিজের ঘরে একখানা চেয়ারে বসে ভাবছে, আমার অভিনয়টা ঠিক হচ্ছে তো? মনে হয়, কেউই যেন আমাকে দেখে পছন্দ করছে না। কিন্তু কেবল আমি কেন, সকলেই সন্দেহ-ভরা চোখে তাকাচ্ছে সকলের দিকে। তবে আমি যে আসলে কে, সেটা বোধহয় কেউ ঠাহর করতে পারেনি। যাহোক আমার কাজ করতে হবে খুব সাবধানে।
তারও ঘরের দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে সেই ছেলেভুলানো ছড়াটি। সেই দিকে তাকিয়ে তার চোখ উঠল চমকে!
এর মানে কী?
চেয়ারের উপর উপবিষ্ট মেজর সেনের দুই ভুরু সঙ্কুচিত।
—রাবিশ! সবটাই যেন আজব কারখানা! অস্বাভাবিক অনুপস্থিত গৃহকর্তার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছে অতিথিরা! গৃহকর্তা যে কে, তারও হদিস কেউ দিতে পারছে না।
এ-রকমটা আমি আশা করিনি। যে-কোনো একটা ছুতো তুলে এখান থেকে সরে পড়তে হবে কোনোরকমে। কিন্তু এই ঘরে বসেই তো দেখতে পেয়েছি, মোটরবোট আর মোটরলাঞ্চ দ্বীপ ছেড়ে আবার চলে গিয়েছে। এখন ইচ্ছা করলেও আর পালাবার জো নেই। চারিদিকে সমুদ্র! আমরা বন্দি!
আর ওই অমলেন্দু লোকটা কে? নিশ্চয়ই ভালো লোক নয়। দেখলেই সন্দেহ হয়!
অমলেন্দু ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে এল পা টিপে টিপে। তাকে দেখলেই মনে হয়, শিকারের সন্ধান পেয়ে একটা চিতে বাঘ যেন চলছে-ফিরছে অত্যন্ত সন্তপর্ণে!
হঠাৎ মৃদু হেসে মনে মনে সে বললে, ‘অ্যাটর্নি বিজন বোসের মুখে শুনলুম, আমার মেয়াদ এখানে এক সপ্তাহের বেশি নয়।
উত্তম! আমি পরিপূর্ণমাত্রায় উপভোগ করব সেই এক সপ্তাহ?
সৌদামিনী সোজা মূর্তির মতন দাঁড়িয়ে আছেন ঘরের মাঝখানে। তাঁর মুখে বিরক্তির চিহ্ন, তার দৃষ্টি নিবন্ধ ঘরের দেওয়ালে টাঙানো সেই ছেলেভুলানো ছড়ার দিকে।
শুষ্ক কষ্ঠে ধীরে ধীরে তিনি বললেন, বোধহয় আমি কোনো পাগলাগারদে এসে পড়েছি!
(চলবে)
------------
।। রিয়েন।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now