বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হারাধনের দ্বীপ" হেমেন্দ্রকুমার রায় ----------------- ▪▪▪দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ▪▪▪ (ক)

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ▪▪▪দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ▪▪▪ (ক) পোর্ট ক্যানিং! যাত্রীরা সব দাঁড়িয়ে আছেন—পরস্পরের কাছ থেকে খানিক খানিক তফাতে। প্রত্যেকের দৃষ্টি কৌতুহলী ও অনুসন্ধিৎসু। প্রত্যেকেই পরস্পরের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখছে। সেই সব দৃষ্টি দেখলে তারা কেউ কারুকে চেনে বলে মনে হয় না। চন্দ্রবাবু আস্তে আস্তে এগিয়ে সৌদামিনী দেবীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। ধীরে ধীরে বললেন, আজকের আকাশটা বেশ পরিষ্কার দেখছি। সৌদামিনী কাঠের পুতুলের মতন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, চন্দ্রবাবুর দিকে ফিরে বললেন, আজ্ঞে হ্যাঁ। —এটা ভালো লক্ষণ। জলপথে যেতে হবে, জলঝড়ের ভয় নেই। সৌদামিনীর মনে হল, একে দেখলে বোধ হয়, বিশিষ্ট কোনো ভদ্রলোক। চেহারায় আভিজাত্য আছে। যিনি আমাদের নিমন্ত্রণ করেছেন, নিশ্চয়ই তিনি উচ্চশ্রেণিতে ওঠা-বসা করেন। চন্দ্রবাবু শুধোলেন, আপনি এ-অঞ্চলে আগে কখনো এসেছেন কি? সৌদামিনী বললেন, আজ্ঞে না। —চারুশীলার সঙ্গে আপনার কত দিনের আলাপ? সৌদামিনী বিস্মিত স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, চারুশীলা দেবী কে? —যিনি আমাদের নিমন্ত্রণ করেছেন। —আমাকে তো চারুশীলা দেবী নিমন্ত্রণ করেননি! —তবে? —পুরো নামটাও আমি বলতে পারব না। আমি যে নিমন্ত্রণপত্র পেয়েছি, তার তলায় আছে একটা নামের দুটো আদ্য অক্ষর—কাঃ কুঃ। —বটে? বটে। চন্দ্রবাবু আর কিছু বললেন না, একেবারে গুম হয়ে রইলেন। তিনি ভূতপূর্ব জজসাহেব বটে, কিন্তু এখনও তার বুকের ভিতরে সজাগ হয়ে আছে বিচারকের মন। অমলেন্দু অগ্রসর হয়ে স্বপ্নার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বললে, আপনিও কি আমাদের সঙ্গে হারাধনের দ্বীপে যাবেন? স্বপ্না বললে, আজ্ঞে হ্যাঁ। অমলেন্দু বললে, আমরা কেউ কারুকে চিনি না, কিন্তু মনে হচ্ছে আমাদের বাস করতে হবে এক বাড়িতেই! আমার নাম অমলেন্দু সেন। স্বপ্না বললে, আমার নাম স্বপ্না সেন। অমলেন্দু বললে, আপনি কি এই দ্বীপে আগে কখনো এসেছিলেন? —জীবনে নয়। এমনকি যিনি আমাকে কাজে নিযুক্ত করেছেন, তাকেও কখনো চোখে দেখিনি। —ভারী আশ্চর্য কথা তো! কে আপনাকে কাজে নিযুক্ত করেছেন? —কাননকুন্তলা দেবী। অমলেন্দু মনে মনে ভাবতে লাগল, তবু একটা হদিস পাওয়া গেল। সেই সেয়ানা অ্যাটর্নি বিজন বোস আমার কাছে তার মক্কেলের নামও করেনি। এই মহিলা আর আমার অবস্থা দেখছি একই রকম—যার কাছে কাজ করতে যাচ্ছি তাকে আমরা কেউই চিনি না। এতক্ষণে বোঝা গেল তিনি হচ্ছেন স্ত্রীলোক। মেজর সেনের ভাব দেখলে মনে হয় যেন তিনি কিঞ্চিৎ অধীর হয়ে উঠেছেন! হাতের ছড়ি দিয়ে সামনের একটা ঝোপের উপর বারকয়েক আঘাত করে তিনি অমলেন্দু ও স্বপ্নার কাছে এসে বললেন, আপনারাও কি হারাধনের দ্বীপেই যাবেন? অমলেন্দু বললে, আজ্ঞে হ্যাঁ। —বলতে পারেন, কার জন্যে আমরা এখানে অপেক্ষা করছি? —কাননকুন্তলা দেবীর জন্যে। তিনিই সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছেন। কিন্তু তিনি এখনও পর্যন্ত এসে পৌঁছোননি। এমন সময়ে একটি নূতন লোক এলে সকলকে শুনিয়ে বললে, আপনারা এখন মোটরলাঞ্চে গিয়ে উঠতে পারেন। লোকটির মাথায় ফেজটুপি, গায়ে কোট, পরনে ইজের। ডাক্তার বোস এতক্ষণ স্তব্ধ হয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এখন তিনি বললেন, তুমি কে? —আমার নাম মহম্মদ ইব্রাহিম। আমি মোটরলাঞ্চের চালক। মহেন্দ্র বললেন, মনোতোষ চৌধুরিরও আমাদের সঙ্গে যাবার কথা। তিনি এখনও আসেননি। ইব্রাহিম বললে, তার জন্যে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে না। তিনি নিজের মোটরবোটে করেই দ্বীপে উঠবেন। ডাক্তার বোস বললেন, কিন্তু যিনি আমাদের নিমন্ত্রণ করেছেন তিনি কোথায়? ইব্রাহিম বললে, খবর পেলুম তিনি ট্রেন ফেল করেছেন। বোধ হয় পরের ট্রেনেই আসবেন। চন্দ্রবাবু বিরক্তিপূর্ণ স্বরে বললেন, গৃহকর্তা অনুপস্থিত। আমরা অতিথি হয়ে কার কাছে যাব? ইব্রাহিম বললে, সেজন্য আপনাদের কারুকে কিছু ভাবতে হবে না। দ্বীপের বাড়িতে নিত্যানন্দবাবু আর তার স্ত্রী আছেন, তিনিই আপনাদের দেখাশুনা করার ভার নেবেন। কিন্তু আমাদের আর এখানে অপেক্ষা করা চলবে না। সন্ধে হবার আগেই আমি মোটরলাঞ্চে স্টার্ট দিতে চাই। মহেন্দ্র নিজের মনে মনেই বলল, ব্যাপারটা যেন রহস্যময় হয়ে উঠছে! দেখছি আমার দৃষ্টিকে রীতিমতো সজাগ রাখতে হবে। সৌদামিনী বললেন, আমরা দ্বীপে কখন গিয়ে পৌঁছেব? ইব্রাহিম বললে, কাল সকালে। মেজর সেন শুধোলেন, রাত্রে আমাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা কী হবে? ইব্রাহিম বললে, খাবার-দাবার এর মধ্যেই লাঞ্চে এসে গিয়েছে। অমলেন্দু ভাবলে, গৃহকর্তা নেই, কিন্তু আর সব ঠিক আছে! এ যে কৃষ্ণ নেই, কৃষ্ণলীলার ব্যাপার! আমার কেমন খটকা লাগছে! একজন স্ত্রীলোকের কাছে চাকরি নিয়েছি, তাঁর নাম নাতি কাননকুন্তলা। পেয়েছি পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু কেন? আমায় কী করতে হবে? রাত্রের ব্যবস্থা ভালোই হয়েছিল। আহার ও শয়নের জন্যে কারুকেই কিছুমাত্র অসুবিধা ভোগ করতে হয়নি। রাত্রে আকাশে চাঁদ ওঠেনি, চারিদিক ঢাকা ছিল অন্ধকারের আবরণে। চাঁদের আরো ফুটলে যাত্রীরা হয়তো নদীর দুই তীরে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখবার জন্যে জেগে থাকতেন কিছুক্ষণ। স্তব্ধ রাত্রে নদীর জলকল্লোল শুনলেও মাধুর্য উপভোগ করা যায়। কিন্তু চলন্ত মোটরলাঞ্চে কর্কশ শব্দ তারও মিষ্টতাটুকু নষ্ট করে দিয়েছিল। কাজেই আহারাদির পরেই সকলে যে-যার শয্যায় গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। খুব ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠে স্বপ্না ভাবলে, আর-সবাই এখনও বোধ হয় ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে এসে দেখলে তার ধারণা ভ্রান্ত। লাঞ্চের ছাদের উপরে দাঁড়িয়ে আছে দুই মূর্তি—অমলেন্দু আর মহেন্দ্র। অমলেন্দু হেসে বললে, সুপ্রভাত, স্বপ্না দেবী! এত সকালে উঠেছেন? রাত্রে বুঝি ভালো ঘুম হয়নি? স্বপ্না বললে, না, আমি খুব ঘুমিয়েছি। একটা স্বপ্ন পর্ষন্ত দেখিনি। বাঃ, পূর্ব দিকে কী রামধনু-রঙের বাহার, চমৎকার! অমলেন্দু বললে, চমৎকার বলেই তো এত ভোরে বিছানার মায়া ছেড়ে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও চারিদিক রহস্যময় হয়ে আছে। কিন্তু এখনই সূর্য উঠবে, সমস্ত রহস্য মিলিয়ে যাবে তার স্পষ্ট আলোয়। স্বপ্না বললে, রহস্য আমি ভালোবাসি, অমলেন্দুবাবু! এই অল্প আলোছায়ামাখা পৃথিবীকে মনে হয় কেমন একটা মায়ালোকের মতো! সর্বত্র জেগে থাকে কেমন যেন কল্পনার খেলা—কেমন যেন সম্ভাবনার ইঙ্গিত? মহেন্দ্র মৃদু হাস্য করে বললে, তাহলে স্বপ্না দেবী, এই জলযাত্রা নিশ্চয়ই আপনার ভালো লেগেছে? স্বপ্না বললে, আপনি একথা বলছেন কেন? মহেন্দ্র বললে, এও তো একটা রহস্যময় ব্যাপার—’ —রহস্যময়? —নিশ্চয়। যে দ্বীপের দিকে যাচ্ছি, তার কথা আমরা কেউ কিছু জানি না। আমরা যার আতিথ্য গ্রহণ করব, তিনিও উপস্থিত নেই। আমরা এখানে আছি সাত জন। আরও একজন নতুন অতিথি নাকি আসবেন, কিন্তু আমরা কেউ কারুকেই চিনি না। সমগ্র ব্যাপারটাই কি রহস্যময় নয় স্বপ্না দেবী? স্বপ্না কোনো জবাব দিলে না। কিছুক্ষণ সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, দৃষ্টি রেখে পূর্ব আকাশের দিকে। প্রাতঃসূর্যের রক্তমুখ দেখা গেল ধীরে ধীরে। তার দীপ্তির তপ্ততায় গলে মিলিয়ে যাচ্ছে ইন্দ্ৰধনুর বর্ণ-বৈচিত্র্য! প্রভাত-সূর্যের কিরণ-হার নদীর জলে যখন চকমকিয়ে দুলে দুলে উঠছে, খানিক তফাত থেকে ভেসে এল একটা ধ্বনি। সকলেই উৎকর্ণ হয়ে শুনতে লাগল। মহেন্দ্র বললে, মোটরবোটের আওয়াজ! ওই যে, এইবারে দেখা যাচ্ছে বোটখানা। উঃ, ওখানা ছুটে আসছে কী ভীষণ বেগে! অমলেন্দু বললে, মনোতোষ চৌধুরি নামে এক ভদ্রলোকের মোটরবোটে আসবার কথা ছিল না? বোধহয় তিনি আসছেন। মহেন্দ্র বললেন, খুব সম্ভব তাই। সকলে সেই দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল কৌতূহল চোখে। বাস্তবিক, বোটখানা ছুটে আসছিল একেবারে চরম বেগে। নদী এখানে অত্যন্ত বেগবর্তী, যে-কোনো মুহুর্তে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, চালক যেন সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করতে রাজি নয়। দেখতে দেখতে দুই দিকে ক্রুদ্ধ ও শুভ্ৰ ফেনায়িত তরঙ্গমালাকে উদ্বেলিত করে তুলে মোটর-বোটখানা কাছে এসে পড়ল। চালকের আসনে আসীন যে যুবকের মূর্তি, দেখলে মনে হয় সে মূর্তি যেন পার্থিব নয়, স্বর্গ থেকে অবতীর্ণ যেন কোনো তরুণ দেবতা সারথি হয়ে বিদ্যুৎগতিতে চালনা করে নিয়ে যাচ্ছেন এই জলযানকে! দীর্ঘ, ঋজু, বলিষ্ঠ দেহ, তপ্ত-কাঞ্চননিভ বর্ণ, মাথার চুলগুলো পিছনে বিক্ষিপ্ত হয়ে উড়ছে প্রবল বাতাসে। বোটের হর্ন বেজে উঠল সজোরে, তারপর সেখানা লাঞ্চের পাশ দিয়ে এগিয়ে গেল তীব্র বেগে । লাঞ্চ চালাতে চালাতে বোটের দিকে তাকিয়ে মহম্মদ ইব্রাহিম নিজেকে শুনিয়ে নিজেই বললে, এতক্ষণ পরে একটা মানুষের মতো মানুষের দেখা পাওয়া গেল! ওই ভদ্রলোকই বোধহয় মনোতোষ চৌধুরি? চমৎকার চেহারা, চমৎকার বোট আর চমৎকার ওঁর চালাবার কায়দা! ভদ্রলোক নিশ্চয়ই অনেক টাকার মালিক। লাঞ্চের উপরে যতগুলো মূর্তি আছে, ওদের কারুকেই আমার পছন্দ হয় না। কারুর কারুর চেহারা অমনি এক-রকম ভব্যিযুক্ত বটে, কিন্তু সেই যেন-বা মাস্টারনি। এমন একটা দ্বীপ যিনি কিনে ফেলেছেন, নিশ্চয়ই তিনি খুব বড়োলোক আর বরেদী ঘরের ছেলে! কিন্তু যাদের তিনি নিমন্ত্রন করেছেন, তাদের চেহারা দেখলে ভক্তি হয় না কেন? কিন্তু ও-সবের চেয়েও মস্ত একটা আজব কথা এই যে, ওঁদের যিনি নিমন্ত্রণ করেছেন আর আমার হাতে দিয়েছেন এই লাঞ্চ চালাবার ভার, আমি এখনও পর্যন্ত তাকে একবার চোখেও দেখতে পেলুম না। এরকম কথা কে কবে শুনেছে! কলকাতার সেই অ্যাটনিবাবু মধ্যস্থ হয়ে আমাকে নিযুক্ত করেছেন, আমার উপরে হুকুম আছে যে অতিথিদের দ্বীপে নামিয়ে দিয়েই আমি যেন আবার ফিরে যাই। ভিতরের ব্যাপারটা যে কী, কিছুই বুঝতে পারছি না। তা বড়োলোকদের কথা বড়োলোকরাই জানে, খামোকা আমার মাথা ঘামাবার দরকার কী? আমার দরকার টাকা নিয়ে। আমি পাব দ্বিগুণ টাকাই! সামনের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ তার চিন্তাম্রোতে বাধা পড়ল। উচ্চকণ্ঠে সে বলে উঠল, হারাধনের দ্বীপ, হারাধনের দ্বীপ। দূরে ওই দেখা যাচ্ছে হারাধনের দ্বীপ! মোটরলাঞ্চ দ্বীপের কাছে তীর পর্যন্ত গেল না, কারণ জল সেখানে অগভীর। সকলে ছোটো একখানি নৌকোয় চড়ে একে একে দ্বীপের উপরে গিয়ে নামলেন। সামনেই অনেকখানি খোলা জমি, তার আশেপাশে জঙ্গল আর বন্য গাছপালার ভিড়। দেখলেই বোঝা যায়, জঙ্গল সাফ করে এই খোলা জমিটা প্রস্তুত করা হয়েছে। সবুজ ঘাসের আস্তরণে মোড়া জমি, কোথাও আগাছার চিহ্নটুকুও দেখা যায় না। তারই মাঝখান দিয়ে ছোটো একটি পাকা রাস্তা সিধে চলে গিয়েছে এবং রাস্তার শেষে দেখা যাচ্ছে বেশ একখানা বড়োসড়ো লাল রঙের দোতলা বাড়ি— তাকে অনায়াসেই অট্টালিকা বলে গণ্য করা চলে। একেবারে হালফ্যাশনের বাড়ি, এমন জায়গায় এরকম বাড়ি দেখলে মনে জাগে রীতিমতো বিস্ময়! (ক্রমশ) -----------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now