বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্বার্থপর

" ঈশপের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃ """স্বার্থপর""" • সারুয়ার নতুন কাপড় পড়ে সাজগোছ করতে থাকে।আমি মুচকি মুচকি হেসে তার ভাবসাব দেখতে থাকি।সে সব কিছু ঠিকঠাক করে আমাকে বলে- - তাওহীদ দেখ তো আমাকে কেমন লাগছে? আমি মজা করে বলি- - নতুন কাপড়ে তোকে তো পুরাই পাংখা লাগছে।এখন তো তোর কাছে সাল্লু ভাই, আমির ভাইও ফেল মারবে। - এভাবে বলিস না রে বন্ধু লজ্জা লাগে। - ওলে বাবা আমার বন্ধুটা কী বলে! তার বলি লজ্জা করে! - হু, তোকেও তো কত করে বললাম নতুন কাপড় পড়ে নিতে কিন্তু তুই পরলি না, শালা হারামী! আমাকে একাই নতুন কাপড়ে তৈরি করলি? আমি হাসতে হাসতে বলি- - হি হি হি গালি দে গালি দে বেশী করে গালি দে নতুন কাপড় পড়লে তো পুরান হয়ে যাবে! নতুন কি থাকবে? তাই তো পরলাম না, তোকে পরাইলাম।হা হা হা, আমার বন্ধু রাগে বলে- - কিহ! তুই বন্ধু হয়ে আমার সাথে এটা করতে পারলি? শালা তুই আর বড় হইলি না।এখনো ছোট বাচ্চা রয়ে গেলি। - কষ্ট নিস না ঈদে নতুন জামা পেয়ে যাবি আমি কিনে দিব তুই শুধু পড়বি। সে একটা মুচকি হাসি দেয়, জানে আমি তাকে কিনে দিব না।তার হাসির উত্তর দিতে, আমিও পাল্টা একট হাসি দেই। • তারপর রুম থেকে বের হয়ে দুই বন্ধু উদাস মনে হাঁটতে থাকি।কিন্তু আমরা ঠিকমত শ্বাস নিতে পারছিলাম না, কারণ-টা হল ডাস্টবিনের আবর্জনা।আমরা আধুনিক মানুষ হতে পারলাম! কিন্তু আধুনিক পরিবেশ বানাতে পারলাম না।যেখানে সেখানে ময়লা ফেলি; তারপর ঐগুলোর দূর্গন্ধই আবার শ্বাস টেনে গ্রহন করি।আমরা কি সত্যিই আধুনিক হতে পেরেছি? নাকি পোশাক আশাক আর চাল-চলনে আধুনিক হয়েছি? . এদিক ওদিন তাকাতেই মা বোনেরা চোখে পড়ে।কিন্তু তাদের পোশাক আশাক দেখে মাথা ঘুরাতে থাকে।কি আর বলব! বলার মত কোন ভাষা নেই।ওয়েস্টার্ন কালচার দেখে নিজেদের ধর্ম কর্ম সব ভুলে, ঐগুলো গ্রহন করছে।কেউ টাইট পিট জামা পড়ছে, কেউ ছোট ছোট জামা পড়ছে, আবার কেউ হিজাব পর্দা করে ইসলামের দূর্নাম করছে।আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটা দিন দিন কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে।আমরা কেউ কিছু বলি না, আবার দূর থেকে আড় চোখে তাদেরকে দেখে দেখে মজা না নিয়েও থাকতে পারিনা।এমন কিছু মা বোনদের জন্যই আজ সকল মা বোনদের খারাপ চোখে দেখি।ও মা বোনেরা! এভাবে চলাফেরা করে কি সারাজীবন বাঁচা যাবে? কাকে নিজের সৌন্দর্য দেখান? কয়জনকে বিয়ে করবেন? এক জনকে! নাকি বহু জনকে? একদিন যে মরতে হবে! সেটা মনে আছে? সেদিন কোন আমল নিয়ে যাওয়া হবে? ভাল আমল নাকি মন্দ আমল? হিসেবের খাতায় কোন আমল লিখা থাকবে? . আরও কিছুক্ষণ হাঁটার পর দেখি; একদল ভাল ভায়েরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আপুদের দেখে দেখে শিষ বাজাচ্ছে, বাজে কথা বলছে, হাসা-ঠাট্টা করছে।আপুরা অসহায়ের মত একবার চারদিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে চুপ-চাপ চলে যাচ্ছে।এতে তারা আরও বেশী আনন্দ পাচ্ছে।কিন্তু তাদেরকে একা একা কি বলবে? বললে যে আরও না না কথা শুনতে হবে।আমরা প্রতিদিনেই এসব দেখি; তারপর না দেখার ভাণ করে থাকি।তাদেরকে কিছু বলতে যাই না, কিন্তু আমরা কেন যাই না? হয়ত আমরা না না ধরণের কারণ দেখাব।এমন কিছু নরপশুর জন্যই আজ সকল পুরুষদেরকে খারাপ বলে।আমি আমার বন্ধু নীরবে চলে যায়।কিছু বলতে পারিনি, কিছু করতে পারিনি।কারণ তারা ছিল এলাকার বকাটে আর আমরা ছিলাম এলাকার ভাড়াটে।এখন নিজেকে কাপুরুষ বলে মনে হচ্ছে।যদি আমার মা বা বোনের সাথে হতো! তাহলে আমি কি করতাম? • আমরা স্ট্যাশনে আসার পর প্ল্যাটফর্মের একদিক থেকে অন্যদিকে হাঁটতে থাকি।কে কি করছে তা চুপচাপ দেখতে থাকি।কেউ বসার সিটে বসে আছে, কেউ মেঝেতে বসে আছে, আবার কেউ আমাদের মত হাঁটাহাঁটি করছে।কেউ ঝাঁল মুড়ি লাগবে ঝাঁল মুড়ি লাগবে বলে ডাকছে, কেউ আইসক্রীম লাগবে আইসক্রীম লাগবে বলে ডাকছে।আবার অনেকে আরও অনেক কিছু নিয়ে ডাকাডাকি করছে।কি অদ্ভুদ কান্ড কারখানা! তাই না? কিন্তু প্রত্যেকেই এসব পেটের জন্য করে যাচ্ছে।আমার বন্ধটা বিভিন্ন গল্প করতে থাকে।হঠাৎ ছবি তুলার জন্য পাগল হয়ে যায়।ছবি তুলার পর আরও কিছুক্ষণ ঘুরতে থাকি; স্ট্যাশনের অবস্থা ও ব্যবস্থা দেখতে থাকি।মনে মনে ভাবতে থাকি সবাই তো নিজের স্বার্থের জন্য করছে।কিন্তু কেউ কি কখনও শুধু শুধু করেছে? . পচন্ড গরমে শরীর বেয়ে বেয়ে গাম পরছে।তাই আমরা চলে গেলাম ঠান্ডা কিনতে; কিন্তু স্ট্যাশনে নির্দিষ্ট মূল্য ৩-৪ টাকা বেশী রাখতে চায়।আমার ঐ বন্ধু দোকান্দারের সাথে রাগারাগী করে।স্ট্যাশন ছেড়ে গেলাম আউট দোকানে সেখান থেকে ঠান্ডা কিনে খেতে খেতে আসতে থাকি।সারোয়ার বলে, দেখছোস বন্ধু সব স্বার্থপর।স্বার্থের জন্য কতকিছু করে, ২২ টাকার জিনিস ২৫ টাকা দিয়ে বেস্তে চায়।ঐ লোকটার সঠিক মূল্যে রাখলে কি এমন দোষ হতো? • আমি বোতলের মুখটা খুলে ফেলে দেই।কারণ বোতলের পানিটা শেষ হয়ে গেলে আমাদের তো আর কোন প্রয়োজন পরবে না।মুখটা ফেলে দেওয়ার পর, এক বৃদ্ধ মহিলা এক ছোট ছেলেকে বলছে, বাবা বোতলের মুখটা রাখ।উনাদের খাওয়া শেষ হলে বোতলটা নিয়ে নিবি; পরে এইটার মাঝে পানি রাখতে পারব।উনার কথা শুনে অবাক চোখে উনাকে দেখতে থাকলাম।মনে মনে ভাবতে থাকি একটা মানুষ কিভাবে এই কথা গুলো বলতে পারে? একটা মানুষ কোন পর্যায়ে যাওয়ার পর এই কথা গুলো বলে? . স্বার্থপরের মত আমি আমার বন্ধু বোতলের পানিটা খেতে থাকি।পাশে থাকা ছেলেটা এক দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।ছেলেটার তাকানো দেখে আমার মনের মাঝে খারাপ লাগতে থাকে।মনে মনে ভাবি একটা মানুষ কতটুকু দরিদ্র হলে এভাবে অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকতে পারে? সারোয়ার আমার হাতে ঠান্ডার বোতলটা দিয়ে অন্য পাশে হাঁটতে থাকে।আমি আর একবার ছেলেটার দিকে তাকিয়ে যতটুকু ছিল তা দিয়ে দেই। . ঐ ছেলে বোতলটা হাতে নিয়ে মন খুলে একটা হাসি দেয়।যে হাসিটা লাখ লাখ টাকা দিয়েও কিনা যাবে না।আমি তাকে না দিতে পারতাম! আবার আমি তাকে আর একটা বোতল কিনে দিতে পারতাম! কিন্তু নিজের স্বার্থের জন্য স্বার্থপরের মত চলে আসি।একবারও পিছনে ফিরে তাকাইনি। • যখন পিছনে ফিরলাম তখন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।দেখি যে, ঐ মহিলাটা মুখে হাসি নিয়ে কি সুন্দর করে বোতলের মুখটা দিয়ে একজন একজন করে সবাইকে ঠান্ডাটা খাইয়ে দিচ্ছে।উনার মুখে একটা হাসি লেগেই ছিল।ঐ ছেলে-মেয়ে গুলো উনার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে আর খেতে থাকে।আর একবার যখন মহিলাটার দিকে তাকাই তখন দেখি উনার চোখের কোণে পানি জমেছে।এই দৃশ্যটা দেখে আমার হৃদয়টা নড়ে উঠে।কিছুক্ষণের জন্য স্বদ্ধ হয়ে যায়।আমি ভাবতেই পারেনি; একটু সময়ের মধ্যে এরকম কিছু ঘটে যাবে।আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে নিশ্চয় কেঁদে ফেলতো।কিন্তু আমি তো হৃদয়হীন! আমি তো স্বার্থপর! তাহলে আমি কেন কাঁদব? ট্রেন আসলে আমার বন্ধ টেনে টেনে আমাকে ট্রেনে নিয়ে যেতে থাকে।আর আমি তাদের হাসি খুশি ভরা মুখটা এক মনে দেখতে থাকি। • ট্রেনে উঠার পর বারবার ঐ দৃশ্য গুলো চোখে ভাসতে থাকে।কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকি।তখন নিজেকে নিজের কাছে কেমন যেন মনে হচ্ছিল।আবার চোখ খুললেই ট্রেনের ঘটনাটা মনে হতে থাকে।মনে মনে বলতে থাকি, আর একটা বোতল কিনে দিলে কি এমন ক্ষতি হতো? কি এমন দোষ হতো? কিন্তু স্বার্থপরের মত চলে আসি।আর নিজের স্বার্থের জন্য তো সব কিছু করতে পারি।তারপর মন খারাপ করে বসে থাকি।কারণ নিজের কাছেই এখন খুব খারাপ লাগতে থাকে।ভাবতে থাকি, কিছু কিছু মানুষকে অনেক কিছু দিয়েও খুশি করা যায় না।আবার কিছু কিছু মানুষ একটু কিছু পেয়ে খুশি না হয়ে থাকতে পারে না। . আমরা কি অদ্ভুদ মানব জাতি! আমাদের স্বার্থ যেখানে আমরা চলি বা থাকি সেখানে।স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে চলে আসি আপন ঘরে।কিন্তু তারপরেও কিছু কিছু মানুষ ভিন্ন থাকে, যাদের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখা আছে।যারা সারাজীবন ইতিহাসের পাতায় লিখা থাকবে। • লিখাঃ MD Mahmudur Rahman Tauhid


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমরা সবাই স্বার্থপর হয়ে গেছি:(:(:(
→ স্বার্থপর
→ স্বার্থপর লোক
→ আমি স্বার্থপর নই..
→ স্বার্থপর প্রেম
→ স্বার্থপর মেয়ে
→ #স্বার্থপর দুনিয়া পর্বঃ২
→ #স্বার্থপর দুনিয়া পর্বঃ১
→ স্বার্থপর মেয়ে
→ গল্প স্বার্থপর প্রেমিক লেখক => রাসেল খান
→ এক স্বার্থপর লোকের ঘটনা
→ স্বার্থপর ২
→ স্বার্থপর
→ স্বার্থপর
→ স্বার্থপর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now