বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পারমিতা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পারমিতা .. লিখা : ইরাবতী (ভূতের পেত্নী) ♥ . নিয়াজের বুকের ভেতরের হার্টবিটটা থামছেইনা ৷ গাড়ীর ভেতর পুরোদমে এসি চলছে কিন্তু সে দরদর করে ঘামছে ৷ -- স্যার! কিছু মনে করবেননা ৷ কোন সমস্যা? গাড়ী থামিয়ে একটা ঠান্ডা এনে দিবো খাবেন? -- না তুমি চলো যত তারাতাড়ী সম্ভব বাসায় চলো,আমি একটু রেস্ট করবো ৷ --আচ্ছা স্যার ৷ ফ্যান চলছে এসি চলছে সে এখনো ঘামছে ৷ আজ যা দেখলো এটাও কি দেখবার ছিলো তার????? পারমিতা???? কিভাবে!!!! কিভাবে সম্ভব???? নাহ ভুল দেখেছে হয়তো ৷ নাহ ভুল হবে কেন? স্পস্ট পারমিতা-ই ছিলো ৷ ওর কন্ঠস্বরটা আগের মতই একটু ভাঙ্গা ভাঙ্গা কিন্তু মিস্টি ৷ কিন্তু এসব কেন হলো? কিভাবে হলো?? নাহ ওকে একবার জিগেস করা উচিত ছিলো ৷ কি জানি বিবেকের তাড়নায় নাকি লজ্জায় জিগেস করা হলো না বুঝতে পারছেনা নিয়াজ ৷ সে ভাবছে তার এখন কি করা উচিত??? স্কুলের সেই ছোট্ট বন্ধুত্ব পারমিতা আর নিয়াজের ৷ পারমিতা ছোটবেলা থেকেই একটু একরোখা আবার চাপা স্বভাবের ৷ কিন্তু কোথায় কিভাবে চলতে হবে সেটা সে খুব ভালোভাবেই জানে ৷ পারমিতার ইচ্ছে সে টিচার হবে ৷ নিয়াজ তাই তাকে মাস্টারনি বলে ক্ষেপাতো ৷ পারমিতা চটে যাওয়ার ভান করতো কিন্তু নিয়াজ ঠিক বুঝে ফেলতো ও খুশিই হচ্ছে ৷ স্কুলের ৭ বছর তারা একসাথেই পার করলো ৷ এসএসসির পর পারমিতা শহরের বড় নাম করা এক কলেজে ভর্তি হলো নিয়াজ মফস্বলেই ভর্তি হলো ৷ তবে তাদের বন্ধুত্বের কোন চিড় ধরে নি ৷ কিন্তু নিয়াজ কিছুদিন হলো খেয়াল করছে পারমিতার বেখেয়ালীপনাগুলো ৷ কথাও বলে না সে ঠিক মতো ৷ জিগেস করলে হেসে উড়িয়ে দেয় ৷ তবে নিয়াজ বুঝতে পারছিল পারমিতা হয়তো অন্য কোথাও সময় দিচ্ছে আজকাল ৷ নিয়াজের সন্দেহ সত্যতা পেল এক বড় ভাই মারাফত তার বন্ধুর প্রেমিকা হিসেবে পারমিতার যুগলবন্দী ছবি তার ফোনে দেখে ৷ নিয়াজ পারমিতাকে বললে পারমিতা অস্বীকার করলেও পরে সত্যিটা অবশ্য বলেছিলো ৷ ---- এটা ঠিক না পারু ৷ --- কি?? --- তুই আমাকে জানালিনা জানলাম মানুষের কাছ থেকে ৷ ---- দোস্ত ভাবলাম কি ভাববি না ভাববি তাই ৷ কিন্তু আমি বলতাম তোকে ৷ --- হুম পিচ্চি মাইয়া বড় হয়ে চালাকি করো না??? ধরা তো পরলিই ৷ হেহেহেহে ???? নিয়াজ একটু দেখা কর আর্জেন্ট!!" ???? কি হইছে??? ???? বলবো ৷ ফ্রেন্ডস কফি শপে আয় ৪ টায় ৷ ???? ওকে ৷ ---- দোস্ত প্লিজ মাইন্ড করিস না ৷ তোর সাথে কথা চালাফেরা এসব শৈবাল পছন্দ করছেনা ৷ ---- হুম ৷ কি করতে হবে? ---- দোস্ত তুই আর আমাকে কল টেক্সট দিস না মিট ও করিস না ৷ ---- ওকে ৷ এটা নরমাল ব্যাপার ভালোবাসা ফ্রেন্ডশীপ নষ্ট করে ৷ ---- দোস্ত সরি!!! --- ইটস ওকে দোস্ত ৷ গুড লাক ৷ ওই ছিল বেষ্ট ফ্রেন্ডের সাথে নিয়াজের শেষ কথা ৷ আজ ৯ বছর পর পারমিতাকে দেখলো সে!!! কিন্তু........... পারু...... __ আমাকে বলছেন? __ চিনতে পেরেছিস? __ উম,,, না তো ৷ কিছু বলবেন? আমার তাড়া আছে ৷ __ নাটক করছিস পারু?? তুই ভালভাবেই চিনেছিস আমাকে ৷ __ আশ্চর্য! আপনি কি বলতে চান? আপনি যাবেন আমার সাথে? না হলে ফুটেন ৷ টাইম নাই ৷ __ এসব কি ভাষা পারু?? তোর মত একটা মেয়ের মুখে এ ধরনের কথা আশা করা যায় না ৷ __ অনেক্ষণ আপনার বকবকানি শুনছি ৷ ভাগেন প্লিজ ৷ পারমিতার হাত ধরে হেচকা টান দেয় নিয়াজ ৷ এর পর সজোড়ে একটা থাপ্পর বসিয়ে দেয় গালে ৷ পারমিতা কাদছে ৷ নিয়াজকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে !!! --- নিয়াজ! তোকে কিছু বলার মত মুখ আমার নেই ৷ তুই চলে যা প্লীজ ৷ --- পারু! কথা পেচাস না ৷ তোর এ অবস্থা কেন??? আমি তো নিজের চোখকেই বিশ্বাষ করতে পারছিনা ৷ --- আমার জীবনে আর কিছু নেই রে ৷ কি হবে সব জেনে?? --- জানতে হবে ৷ বল! --- শৈবালকে খুব ভালবাসতাম দোস্ত ৷ ছেলেটা আমি ছাড়া পাগল হয়ে যেতো ৷ ওর প্রতিটা কথায় আমার জন্য ভালোবাসা ঝড়ে পরতো ৷ জানিস যেদিন আমাদের সম্পর্কের ২ বছর পূর্ণ হলো সেদিন ও আমারে একটা লাল শাড়ী কিনে দিয়েছিলো ৷ বলেছিলো কিছুদিন পর বিয়ে করবে ৷ ও অন্য ছেলেদের মত ছিলোনা কখনো অন্যায় আবদার করেনি আমার কাছে ৷ ৫ ই জুন আমাদের বিয়ে ৷ লাল শাড়ী পরে গেলাম ৷ শৈবাল কালো একটা পান্জাবী পরে ছিলো ৷ খুব সুন্দর লাগছিলো ওকে ৷ বিয়ে করলাম ৷ সাক্ষী হলো ওর দুজন ফ্রেন্ড ৷ একটা হোটেল ভাড়া করা হয়েছিলো ৷ ফুল দিয়ে সাজানো ৷ একদম যেরক স্বপ্ন ছিলো সেরকম বাসর ঘর আমার ৷ আমি তখনো ঘোরের মধ্যে আমি ৷ যেন বিশ্বাষ ই হচ্ছে না ৷ শৈবাল খাবার আনতে বাইরে গেল ৷ আমি শুয়ে ছিলাম আর সুখের সাগরে ভাসছিলাম ৷ সকালে মাথাটা ভীষন ধরে ছিলো ৷ তাকিয়ে শৈবালকে ডাকলাম ৷ কিন্তু....... আমার পাশে অন্য কেউ!!! আমি চিৎকার করে উঠলাম ৷ এর পর আবিষ্কার করলাম আমি অপরিচিত কোন এক জায়গায় ৷ লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বীশ্রী করে হাসলো ৷ আমি জিগেস করলাম কোথায় আমি? আপনি কে? শৈবাল কোথায়? আপনি আমার পাশে কেন? লোকটা বলল এত প্রশ্ন করলে কোনটার উত্তর দিবো??? একটা উত্তর দেই? তাহলেই বুঝে যাবে ৷ এটা পতিতালয় ৷ আর তুমি একজন পতিতা ৷ আমি নির্বাক হয়ে বসে থাকলাম ৷ পৃথিবীটা অচেনা লাগছে ৷ নিয়াজ আমি দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম ৷ একটা ফোন করার কত চেষ্টা করেছি পারিনি ৷ আমি বার বার ওদের শৈবাৱোর কথা জিগেস করেছি কেউই কিছু বলতে পারেনা ৷ কি জানি ছেলেটা হয়তো পাগলের মত খুজছিলো আমাকে ৷ কোথা থে কি হল সব আমার অজানা ৷ আমাকে এর পর লাইনে দাড়াতে বলতো ৷ কিন্তু তুই তো আমাকে চিনিস! আমার জেদ অন্যরকম ৷ এরপর এরা আমাকে ড্রাগ দেয়া শুরু করলো ইনজেকশান দিয়ে ৷ --- চাঁদনী! ওই কিরে কয় ঘন্টা লাগে?? বাইর হ ৷ অন্য কাষ্টমার আছে ৷ --- নিয়াজ! তুই যা শেলী চাচী এসে গেছে ৷ আর কথা বলা যাবেনা এরা কোনভাবে বুঝতে পারলে আমাকে তো মারবেই তোকেও শেষ করে দিবে ৷ --- কিন্তু চাঁদনী কে? --- আমার নাম দিছে ওরাই ৷ তুই যা পরে কথা হবে ৷ --- কিন্তু তুই.... --- নিয়াজ প্লীজ ৷ তুই ২ দিন বাদে আসবি আমার কাস্টমীর হিসেবই ৷ ওরা যেন কোন ভাবে না বোঝে তুই আমার পরিচিত এখন যা প্লীজ ৷ নিয়াজের দিন কাটছেই না ৷ পারুর বাকী কথাগুলো শোনা হয়নি ৷ ২ দিন কবে পার হবে কবে শুনবো? এত খারাপভাবে কি করে ফেসে গেলো? এতগুলো বছর হারিয়ে ফেলেছে মেয়েটা ৷ নিয়াজের কান্না পাচ্ছে এখন ৷ কেন ও সেদিন ওখানে গেল?? না গেলে তো জানতে পারতো না ৷ না না গিয়ে তো ভালো হয়েছে ৷ পারু এত খারাপ আছে এটা তো জানাই হতো না ৷ --- তোমার কি কোন সমস্যা হয়েছে?? --- না তো ৷ কেন?? --- মুখটা শুকনো লাগছে ৷ এসেই চলে গেলে আবার এসে অস্থির হয়ে আছো ৷ --- রুবি ৷ আমার সাথে পারমিতার দেখা হয়েছে আজ ৷ --- ওয়াও! গ্রেইট তোমার সেই ফ্রেন্ড?? কেমন আছে? কোথায় দেখা হলো ?? বাসার এড্রেস দিয়েছো? নম্বর আনোনি? কবে আসবে? ওকে খুব দেখার ইচ্ছা তোমার থেকে এত শুনেছি এখন দেখতে ইচ্ছা হয় ৷ --- রুবি!! ও পতিতালয়ে ৷ --- হোয়াট??? আর ইউ ম্যাড নিয়াজ??? --- আর প্রশ্ন করোনা ৷ সব এখনো জানিনা আমি দুদিন পর সব জেনে তোমাকে জানাবো ৷ প্লীজ আর প্রশ্ন করোনা ৷ --- কিন্তু নিয়াজ.... --- প্লীজ রুবি ৷ দুটো দিন প্লিজ ৷ --- ওকে ওকে ৷ সব ঠিক হয়ে যাবে ৷ তুমি আপসেট হয়ো না ৷ --- এক্সকিউজ মী ৷ ভাই! --- কন --- আমি আসলে চাঁদনীর কাছে যেতে চাচ্ছিলাম ৷ --- আইচ্ছা ৷ অয় তো ব্যাস্ত বহেন তাইলে একটু ৷ --- আচ্ছা ৷ ২০ মিনিট পর নিয়াজ চাঁদনীর রুমে যেতে পারে ৷ --- তুই এসেছিস? --- কি ভেবেছিলি? আসবোনা ৷ --- সেটা ভাবা কি অস্বাভাবিক কিছু? --- চুপ কর ৷ বল এবার ৷ --- নিয়াজ এরা আমাকে ড্রাগ দিয়ে এমন অবস্থায় এনেছে এটা ছাড়া জীবন থেমে যায় আমার ৷ আমি যখন জেদ করতাম ড্রাগ দিয়ে তারপর আমার কাছে লোক পাঠাতো ৷ আমি জানতেও পারতাম না কি হতো আমার সাথে ৷ একদিন চেচামেচি শুনছিলাম ৷ মনযোগ দিয়ে বুঝলাম আমি মরার মত পরে থাকি তাই আমাকে নিয়ে নাকি লোকজন সন্তুষ্ট না ৷ ওদের লস হচ্ছে অনেক ৷ এবার শুরু হলো পাষবিক নির্যাতন ৷ আমাকে মেরে মেরে দাগ বসিয়ে দিতো ৷ গরম পানিতে হাত ডুবিয়ে দিতো ৷ ড্রাগ ছাড়া ছটফট করতাম এরা তখন আর দিতো না ৷ আমি যে সুইসাইড করবো সে উপায়ও বন্ধ ৷ আঠার মত পাহারা ৷ যেন আমি মরতেও না পারি ৷ আমি হার মেনে নিলাম! ওরা আমার মৃত্যুটাও যেখানে আটকে রেখেছে এই যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছিলাম না ৷ ওদের কথা শুনতে শুরু করলাম আর অপেক্ষায় থাকতে লাগলাম সুযোগের একবার যদি বের হতে পারি ৷ শৈবালকে একবার যদি ফোন দিতে পারি ৷ ছেলেটা মনে হয় পাগলই হয়ে গেছে ৷ আমি ছাড়া ও তো,ওকেই ভাবতে পারতো না ৷ বছর যেতে লাগলো ৷ ইচ্ছোগুলোও শেষ হতো লাগলো ৷ কারণ আমি তো নিষিদ্ধ!!!! এই তুই কাঁদছিস কেন? বোকা ছেলে ৷ --- পারু! চল ৷ --- কোথায়? --- এখান থেকে বের হয়ে ৷ --- পাগল হয়ে গেছিস? জানোয়ার এরা কেটে রেখে দিবে ৷ পাগলামো করিস না ৷ আর তুই আসিস না ওরা বুঝলে সর্বনাশ ৷ --- তোকে আমি বের করবোই পারু যত যাই হয়ে যাক ৷ --- নিয়াজ শোন প্লীজ ৷ নিয়াজ দাড়া শুনে যা নি...... নিয়াজের মাথায় এখন একটাই চিন্তা পারমিতাকে বের করতে হবে ৷ কিন্তু এরা অনেক খারাপ লোক সাবধানে এগুতে হবে ৷ সেলিমকে ফোন দিতে হবে ও তো পুলিশে আছে ৷ ইয়েস!!! --- সেলিম! আমি নিয়াজ ৷ --- সরি কোন নিয়াজ? --- পূর্বাশা কোচিংয়ে আলাপ হয়েছিল অনেক বছর আগে ৷ মনে পরেছে? --- ওহ ইয়েস ইয়েস ৷ এতদিন পর কি মনে করে? কেমন আছো? --- ফোনে না ৷ কাল বাসায় আসতে পারবে? খুব আর্জেন্ট ভাই প্লীজ ৷ --- ওকে ওকে ৷ অ্যাড্রেস বলো ৷ কাল ৪ টায় তাহলে --- থ্যাংক্স সেলিম ৷ পরদিন বিকেল ৪ টা ২৫ সেলিম আমি সবটাই বললাম তোমাকে ৷ ওকে বের করতে হবে ৷ --- বুঝলাম ৷ কিন্তু আমার উপর লেবেল থেকে একটা রেটিং এর নোটিশ লাগবে ৷ তা ছাড়া তো রেট করা যাবে না ৷ দেখছি ৷ আমাকে ৭ দিন সময় দাও ৷ --- প্লীজ ৷ যেভাবেই হোক কাজটা করে দাও সেলিম ৷ --- চিন্তা করোনা দেখছি ৷ আজ উঠি তবে ৷ ফোনে জানাবো তোমাকে ৷ ভাবি বাসায় আসবেন আসি ৷ --- জ্বী ভাই আবার আসবেন ৷ আর ব্যাপারটা ভাল করে দেখবেন প্লীজ ৷ --- আচ্ছা ৷ ৪ দিন হয়ে গেলো সেলিম কিছু জানালো না ৷ --- তুমি চিন্তা করো না ৷ ওনারও কত ঝামেলা সামলাতে হয় ৷ ঠিক দেখবে ব্যাপারটা দেখো ৷ --- রুবী আমার খুব খারাপ লাগছে ৷ ও শুধু আমার ফ্রেন্ড না আমার নিজের বোনের মত ৷ আমি স্থির থাকতে পারছি না ৷ --- আচ্ছা তুমি ওকে পেলে কিভাবে?? --- আমার কলিগ রশিদ কে তো চেনো?? ওর তো অনেক বাজে স্বভাব আছে ৷ খবর পেলাম ও নাকি নিষিদ্ধ পল্লীতে কি ঝামেলা করেছে ১০ হাজার টাকা ছাড়া ছাড়বেনা ওরা ৷ সুমনকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করছিলো ৷ সুমন প্রথমে আমাকে বলেনি কোথায় ঝামেলা শুধু বলল রশিদ সাহেব প্রবলেমে পরেছে চলুন ছাড়িয়ে আনতে হবে ৷ আমিও গেলাম ৷ গিয়ে যখন বুঝলাম তখন ফেরত আসতে চাইলাম আর সুমনকে ঝাড়ি দিলাম না জানিয়ে আনার জন্য ৷ খুব রাগ হচ্ছিলো ৷ তখন ফিরে আসার জন্য ঘুরেছি পেছন থেকে কেউ বলল, কই যান? আসেন মাত্র ৩০০ ৷ গলাটা শুনেই চমকে পেছন ফিরে আমি হতবাক ৷ পারুও প্রস্তুত ছিলনা এই পরিস্থিতির জন্য ৷ ও অবিশ্বাষের চোখে তাকিয়ে ছিল ৷ আমি সাথে সাথে চলে আসি ৷ কিন্তু পরে ভাবি এটা ঠিক না আমার কথা বলা উচিত ওর সাথে তার পরের সবই তো জানোই ৷ --- কিন্তু নিয়াজ আমি বুঝতে পারছিনা সেদিন রাতে আসলে কি ঘটেছিলো? কিভাবে পারমিতা এই লোকগুলোর হাতে পরলো? আর শৈবালই বা কোথায়? --- ঠিক বলেছো ৷ এটা আমিও ভেবেছি ৷ কিন্তু পারু তো কিছু জানেনা কারন ও ঘুমিয়ে ছিলো আর জেগে ও দেখে সব শেষ ৷ মাঝখানে কি হয়েছে ও কিছুই জানেনা ৷ --- আচ্ছা ৷ আগে ওকে বের কর ওখান থেকে এর পর এটা নিয়ে ভাববো আমরা ৷ --- নিয়াজ ৷ আমি সেলিম ৷ সরি লেটোর জন্য ৷ অামি রেটিং পারমিশান পেয়ে গেছি ৷ --- ওয়াও ৷ গ্রেইট ৷ আমরা কবে যাচ্ছি? --- কাল ৷ রাত ১২ টায় ৷ --- দিনে গেলে ভালো হতো না?? --- এসব জায়গায় রাতে রেট করলেই সবাইকে পাওয়া যাবে ৷ দিনে এরা আগেই খবর পেয়ে যেতে পারে ৷ --- ওরে ডান ৷ দেখা হচ্ছে ৷ সেলিম! --- বলো ৷ --- পারবো তো আমরা?? --- ভরসা রাখতে পারো ৷ এখন রাখছি তাহলে ৷ --- থ্যাংক্স ৷ ওকে ৷ পরদিন রাত ১২ টা --- আরে স্যার আহেন আহেন ৷ হঠাৎ কি মনে কইরা এইখানে?? ওই স্যার রে চা দে ৷ --- না চা লগবেনা ৷ আমরা একদনকে খুজছি ৷ তোমার এখানো সার্চ করা হবে ৷ কেউ এখান থেকে এক পা ও নড়বেনা ৷ --- স্যার কি যে কন ৷ আমগো এখানে সবাই নিজের ইচ্ছায় আইছে ৷ অন্য পল্লীতে পাইবেন ৷ এইহানে নাই ওমন কেউ ৷ --- না থাকলে তো ভালো ৷ আমাদের ডিউটি তো করতে হবে ৷ কোর্ট থেকে অর্ডার আছে ৷ তোমরা ওদিক দেখো ৷ নিয়াজ তুমি আমার সাথে এসো ৷ কোনদিকটায়?? এইযে এদিকে ৷ --- পারু! --- নিয়াজ!! --- ভয় পাবিনা ৷ যা বলবি সত্যি বলবি ৷ ওদের ভয়ে ওদের হয়ে কথা বলবি না ৷ চল ৷ --- নিয়াজ ওরা মেরে ফেলবে ৷ --- পারু চুপ ৷ আমাদের সাপোর্টে পুলিশ আছে তুই শুধু ওদের হয়ে কিছু বলবিনা তাহলে কিন্তু সব শেষ ৷ কারণ তোর স্টেটমেন্ট ছাড়া তোকে বের করা ইম্পসিবল ৷ চল এবার ৷ হ্যালো চাচী! এই মেয়েটাকে খুজছিলাম আমরা ৷ --- আরো কি কন? এ তো আমগো মাইয়া কত বছর ধইরা আছে ৷ ওরে জিগান ৷ ( চাচী চোখ গরম করে পারুর দিকে তাকালো,৷ সে বোঝালো যদি উল্টাপাল্টা বলে ওর আজ মরণ লেখা আছে) --- ম্যাডাম আপনি কি নিজ ইচ্ছায় এখানে এসেছেন??? ( পারু কাপছে কি বলবে ও? যদি সত্যি বলেও নিয়াজ ওকে না নিয়ে যায় তবে ও তো মারা পরবে আজ) ---- কাঁপা কঁপা কন্ঠো,পারু বলল, স্যার আমি জানিনা কিভাবে এসেছি ৷ এরা আমার ওপর অনেক টর্চার করেছে ৷ পারু কাঁদছে ৷ সে কোনদিন এই অন্ধকার জগৎ থেকে বের হতে পারবে ভাবতেও পারেনি ৷ --- নিয়াজ আমাকে শৈবালের কোন খবর দিতে পারবি?? না জানি এতদিনে কত কষ্টে আছে ও ৷ --- যদি ভালো থাকে? --- পাগল হয়েছিস?? আমি ছাড়া ওর জীবন অন্ধকার রে ৷ --- আচ্ছা আগে বাসায় চল ৷ দেখবো পরে ৷ নিয়াজের বাসা ৷ --- পারু খেয়ে নাও ৷ --- রুবি আমি শৈবালের খোজ না জানা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিনা এতদিন তো আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম কিন্তু আজ আবার আশা ফিরে পেয়েছি ৷ --- পাবে ৷ আমরা ওকে খুজবো ৷ আগে খেয়ে নাও প্লীজ ৷ --- পারু তুই শৈবালের এড্রেস আর ওর পরিচিত যাদার চিনতিস তাদের এড্রেস জানলে দে ৷ পারমিতার দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী খুজতে বের হয় নিয়াজ ৷ শৈবাল নাকি শহরে থাকে ৷ এটা জানতে পারলেও ওর ঠিকানা কেউ দিতে পারলো না ৷ অনেক খুজে শৈবালের এক ফ্রেন্ডকে পেলো নিয়াজ ৷ শৈবালের ফোন নম্বর পেলো ৷ --- শৈবাল? --- ইয়েস ৷ কে? --- আমি নিয়াজ ৷ চিনতে পেরেছেন?? --- সরি! --- পারমিতার ফ্রেন্ড ৷ --- নিয়াজ আপনি?? কেমন আছেন? পারমিতার কোন খোজ জানেন?? --- এটা বলতেই ফোন দিয়েছি ৷ পারমিতা আমার বাসায় আছে আপনি তলে আসুন কাল ৷ --- কি বলছেন?? সত্যি আমার পারু আপনার বাসায়?? আমি কালই আসছি ৷ বহু বছর পর আজ সামনাসামনি পারমিতা- শৈবাল ৷ --- আমাকে জড়িয়ে ধরার আগে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সব তোমার জানা উচিত শৈবাল ৷ --- আমি কিছু জানতে চাইনা পারমিতা ৷ --- কিন্তু জানতে হবে ৷ সব বলার পর.... --- তুমি এত কষ্টে ছিলে পারমিতা??? আমি পাগলের মত খুজেছি তোমাকে ৷ আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না তুমি কোথায় ছিলে ৷ --- জানি শৈবাল ৷ কিন্তু এর পরেও তুমি আমাকে মেনে নেবে??? --- অবশ্যই! তুমি কো কোন দোষ করো নি ৷ তোমার কোন ভুল ছিলো না ৷ চল আমার সাথে ৷ নিয়াজ তুমি জানোনা তুমি আমাকে কি ফিরিয়ে দিয়েছো ৷ একদিন এই আমি তোমার সাথে পারমিতাকে কন্টাক্ট করতে মানা করেছিলাম ৷ আমি লজ্জিত নিয়াজ ৷ --- আরে ছি ছি কি বলছো? তোমাদের এক করতে পেরেছি এটাই আমার বড় পাওয়া ৷ --- আসি তবে ৷ দেখা হবে আবার ৷ পরদিন ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলো পারমিতার লাশ ৷ শৈবাল নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে পারমিতার নিথর দেহের দিকে ৷ মেয়েটা কালও কত খুশি ছিল ৷ কি থেকে কি হয়ে গেল???? নিয়াজ বার বার শৈবালকে জিগেস করছিল কেন হল এটা কিন্তু শৈবাল নিশ্চুপ ৷ কিছু বলার ভাষা সে হারিয়ে ফেলেছে ৷ নিয়তি কতটা নিষ্ঠুর যে মেয়েটা এতবছর নরক যন্ত্রনা সহ্য করলো সে মুক্তি পেয়ে সুইসাইড করলো? নিয়াজ কিছুতেই মানতে পারছিলোনা ব্যাপারটা ৷ ওর কেবলি মনে হচ্ছিল জীবনের চরম কষ্টগুলো তো পারু পার করেই এসেছে এখন কি এমন কষ্ট থাকতে পারে যার জন্য ওকে সুইসাইড করতে হলো??? --- সোলিম! আরেকটু হেল্প লাগবে ৷ --- হ্যাঁ বলো ৷ --- একটা নম্বর দিচ্ছি এটার কল লিস্ট টা একটু লাগবে আর্জেন্ট ৷ --- ঠিক আছে নম্বরটা টেক্সট করো ৷ ৩ ঘন্টা পর ৷ --- নিয়াজ ৷ চেক লিস্ট তুলেছি তোমাকে মেইল করছি মেইল এড্রেসটা দাও ৷ --- niaz@hotmail.com ---ওকে পাঠাচ্ছি ৷ নিয়াজ বার বার ভাবছিলো,ওর ধারণাটা যেন ভুল হয় ৷ কিন্তু না যা ভেবেছিলো তাই হলো ৷ পরদিন শৈবালকে পুলিশ নিয়ে গেলো ৷ --- মেয়েটাকে মারলি কেন?? --- স্যার আমি মারিনি ৷ বিশ্বাষ করেন --- আবার গুটিবাজী?? কি ভাবিস খুব চালাক তুই? এখনো বল বললাম নইলে কি কি শাস্তি হবে যানা আছে?? --- স্যার আমি মারিনি সত্যি ৷ --- শরীফ ফুটানো গরম পানি আন ৷ একে গেলাবো দেখি জবান কতক্ষণ বন্ধ রাখে ৷ --- স্যার স্যার না প্লীজ বলছি ৷ --- গুড ৷ শরীফ রেকর্ড চালু কর ৷ বল ৷ --- স্যার আমি পারমিতার সাথে সম্পর্ক করেছিলামই পরিকল্পনা নিয়ে ৷ কিন্তু যখন দেখলাম ওর ফ্রেন্ড নিয়াজ ওকে চোখে চোখে রাখে তখন আমি পারমিতাকে নানানভাবে বলে ওদের ফ্রেন্ডশীপ নষ্ট করলাম ৷ কিনিতু পারমিতা অনেক কনসারভেটিভ এবং সচেতন মেয়ে ছিলো ৷ কখনোই দুরে বা পার্সনালি দেখা করতোনা ৷ এভাবে দু বছর চেষ্টা করেও হলোনা এরপর বিয়ের কথা বলায় ও রাজী হলো ৷ সব ঠিক করাই ছিল আগে থেকে ৷ বিয়ের কাজী, সাক্ষী সবই ফলস ছিলো ৷ হোটেলরুমের পানিতে ঘুমের কড়া ডোস মেশানো ছিলো ৷ সারাদিন পর গিয়ে পানি খাওয়াৃা স্বাভাবিক ৷ আমি ও পানি না খাওয়া পর্যনমত রুমেই ছিলাম ৷ ও যখন পানি খেল আমি খাবার আনি বলে চলে গেলাম ৷ একটুপর ও ঘুমিয়ে পড়লো ৷ আমি আমার টাকা বুঝে নিয়ে সরে পরলাম এবং ওরা ওরে নিয়ে গেলো ৷ --- মারলি কেন তাহলে?? --- আমি মারিনি স্যার ৷ --- আবার?? --- পুরোটা তো শুনুন?? --- বল ৷ --- কথা ছিল ও ওই নিষিদ্ধপল্লী থেকে কখনোই বের হতে পারবেনা ৷ কিন্তু এতবছর পর হঠাৎ নিয়াজ বলল ও নাকি ওর বাসায় ৷ আমি ফোন দিলাম ওই চাচী কে ৷ তখম জানলাম সব ৷ এরপর আমি প্ল্যান করলাম আবার ওকে ওগের কাছে বেচে দেয়ার ৷ কারণ আমি তো ওকে নিয়ে জীবন কাটাতে পারবোনা ও তো পতিতা ৷ ওকে বাসায় আনলাম ৷ আমি ছাদে গিয়ে চাচীকে ফোনে বলছিলাম যে এনেছি কাল এসে ওরে নিয়ে যাবা এবার যেন আর বের হতে না পারে ৷ ও যো পেছন থেকে সব শুনছিলো বুঝিনি হঠাৎ ও বলল এত বড় ছলনা করতে পারলে??? বলেই দৌড়ে চলে গিয়ে দরজা দিল এরপর সুইসাইড ৷ --- হারামজাদা!! পতিতার সাথে কিভাবে থাকবি না??? পতিতা বানালো কে??? কুত্তা ও তোর চেয়ে ভালো আছে ৷ হারামজাদা ৷ নিয়াজ আজো রুবিকে বলে, --- রুবি ও সত্যিটা জানার পর একবার আমাকে জানাতে পারলো না??? একবার ৷ --- নিয়াজ মেয়েটা বেচেই ছিলো ভালোবাসার স্মৃতিগুলোকে আকড়ে ৷ যখন জানলো সেটাই ভুল আবার তাকে সেখানে পাঠাতে চাইছে সেই মানুষটা যাকে কিনা ও অন্ধ বিশ্বাষ করে ৷ তখন মেয়েটার মনে কি হতে পারে তুমি বুঝবেনা ৷ হয়তো ভেবেছিল কি লাভ তোমাকে ঝামেলায় ফেলে! একদিন তো এই প্রতারকের জন্যই তোমার ফ্রেন্ডশীপকে অস্বীকার করেছিল ৷ --- তবুও রুবি ৷ আমি কখনো নিজেকে ক্ষমা করতে পারবোনা ৷ আমি যদি একটু খোজ খবর নিয়াম কোন ক্লু তো পেতাম ওই জানোয়ারের ব্যাপারে ৷ --- যা গেছে তা নিয়ে কষ্ট পেওনা নিয়াজ ৷ বরং প্রার্থনা করো মেয়েটা যেন পরকালে সুখী হয় ৷ এ জীবনে তো,আর পারলো,না ৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now