বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়" মানবেন্দ্র পাল ---------------------- (পর্ব ১) ▪▪▪​দশ নম্বর ঘর▪▪▪ হোটেলর ম্যানেজার ভদ্রলোকটিকে প্রথম দর্শনেই আমার ভালো লেগেছিল। এক একটি মুখ আছে যেটা আগেভাগেই যেন জানিয়ে দেয় মানুষটি কেমন হবে৷ এ ক্ষেত্রেও তাই। হোটেলে ঘর বুক করার জন্যে কাউন্টারের সামনে দাড়াতেই অপরিচিত মানুষটি নিতান্ত চেনা মানষের মতো হেসে বললেন, নিশ্চয়ই কলকাতা থেকে আসছেন? একাই এসেছেন বুঝতে পারছি। আর নিশ্চয়ই ওপরে খােলামেলা একটা ঘর চাই যাতে চারদিকে প্রকৃতির শোভা দেখতে পান। তাই তো? আমি হেসে বললাম, একেবারে ঠিক ৷ ভদ্রলােক একটা লম্বা খাতা মেলে ধরে বললেন, নিন, এখানে নামধাম লিখুন ৷ ভালো ঘরই দিচ্ছি। নামধাম লিখতে লিখতে মনে মনে বললাম, ভালো ঘর যে সহজেই পাব তা বুঝতেই পারছি৷ কারণ ঘর নেবার জন্যে মোটেই ভিড় নেই৷ কদিনের জন্যে থাকবেন ভেবছেন ? বললাম, দেখি ৷ ভালো লাগার ওপর সব নির্ভর করছে। আপনি নিশ্চয় এখানে এসেছেন ছত্রিশ-গড়িয়াদের উৎসব দেখতে ? হেসে বললাম, হ্যাঁ, কিন্তু আলাপ হতে না হতেই কী করে আমার কারণ পর্যন্ত ধরে ফেললেন? গোয়েন্দা টোয়েন্দা নন তো ? ভদ্রলােক হেসেই বললেন, আরে না মশাই, ওসব কিছু নয়। আসলে দেখেছি কলকাতায় এক রকমের ঢিপিক্যাল বাঙালি আছেন যাঁরা প্যান্ট আর হাওয়াই শার্টের সঙ্গে কাধে একটা শান্তিনিকেতনী ব্যাগ ঝোলাতে ভোলেন না। এঁরা প্রায়ই হন কবি, শিল্পী কিংবা গবেষক। আপনার হাতে তাে আবার দেখছি এ অঞ্চলের আদিবাসীদের নাচগানের ওপর লেখা ইংরিজি বইও রয়েছে-‘ফোক ডান্স।' মনে মনে ভদ্রলোকের লক্ষ করার শক্তির প্রশংসা করলাম ৷ মুখে বললাম, হ্যাঁ , বইটা পড়তে পড়তে আসছিলাম, হাতেই থেকে গেছে। ভদ্রলােক বললেন, কদিনের জন্য থাকবেন? আপাতত এক সপ্তাহ না হয় লিখুন। আমি তাই লিখে টাকাপয়সা চুকিয়ে দিলাম। আপনার নামটা জানতে ইচ্ছে করছে। ভদ্রলােক তখনই ব্যাগ থেকে একটা কার্ড বের করে দিলেন। বললেন, নাম জানার ইচ্ছে বললে কম হয় মিস্টার বর্ধন, আমার নামটা জানতেই হবে৷ নইলে এই সাত দিন ধরে কি কেবল ‘মিস্টার মান্না’ ‘মিস্টার মান্না’ করবেন? হেসে বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন, সূরঞ্জনবাবু৷ ধন্যবাদ৷ সুরঞ্জনবাবু বললেন, দাড়ান, এবার আপনার ঘরের ব্যবস্থা করে দিই। লাগেজ তো বেশি নেই দেখছি। বলে টেবিলের ওপর রাখা পেতলের ঘন্টিটা বাজালেন ৷ একবার...দুবার...তিন বার। কিন্তু কেউ এল না৷ নাঃ, এদের একটাকেও পাবার উপায় নেই। আসলে হয়েছে কী, বোর্ডার কম তো, কাহাতক আর বসে বসে গামছা নেড়ে মাছি তাড়ায়। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একটু আড্ডা দিতে বেরিয়েছে আর কি। চলুন, আমিই আপনাকে ঘরটা দেখিয়ে দিই। বলে কী বোড থেকে চাবি নেবার জন্যে উঠতে যাবেন, একটা গাড়ি এসে থামল। কে এল রে বাবা? বলে সুরঞ্জনবাবু চেয়ার থেকে অর্ধেক উঠে উঁকি মারলেন। দেখলাম লম্বা চওড়া ৰিরাট বপু একজন ভদ্রলোক গাড়ি থেকে নেমে ঝকঝকে জুতােয় মস মস শব্দ তুলে এগিয়ে এলেন। ভদ্ৰলোকের গায়ের রং কালো ৷ পুরু গোঁফ। উজ্জ্বল দৃষ্টি ৷ পরনে দামী সুট। তিনি যে যথেষ্ট ধনী তা তার হাবভাব আর দু’হাতের ছটা আঙ্গুলে হিরে সমেত অন্য দামী পাথরের আংটির বহর দেখলেই বোঝা যায়। সুরঞ্জনবাবু অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললেন, উনি কী উদ্দেশ্যে এখানে থাকতে চান বলতে পারেন? মাথা নাড়লাম। বললেন, আমার ধারণা যদি ভুল না হয় তাহলে উনি হচ্ছেন একজন ঝানু ব্যবসাদার ৷ এখানে এসেছো নতুন কোনো ব্যবসার তাগিদে। বিপুল ঢেহারার লােকটি কাউন্টারের সামনে এসে সুরঞ্জনবাবুর দিকে ডান হাতটা বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে বললেন, I am Kurtik Virabagu from Ranchi. কার্তিক! চমকে উঠে বললেন সুরঞ্জনবাবু। বাঙালি ? মিস্টার ভিরাবাগু যেন অনেক কষ্টে একটু হাসলেন ৷ ক্ষণেকের জন্য ওপরের সারিতে তার সোনা বাধানাে দৃতটা দেখা গেল৷ বললেন, হ্যা, আমি বাঙ্গালি খৃস্টান আছি ৷ তবে বাঙ্গালা দেশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব কম আছে। আমার যা কিছু বিজনেস সব এদিকে ৷ যাই হোক, কয়েক দিনের জন্যে একটা ভালো ঘর দিন ৷ দোতলার দশ নম্বর ঘরটাই আমার পসন্দ ৷ সুরঞ্জনবাবু অবাক হয়ে বললেন, দশ নম্বর? যত দূর আমার মনে হচ্ছে এ হোটেলে এর আগে আপনি কখনও আসেননি। তাহলে দশ নম্বর ঘরটাই চাইছেন কেন? কোনো বিশেষত্ব আছে কি? মিস্টার ভিরাবাগুর চোয়ালটা শক্ত হল যেন। একটু ভেবে ভাঙাভাঙা বাংলায় বললেন, speciality আছে বিনা জানি না তবে আমার পরিচিতদের মধ্যে আগে যাঁরা এখানে থেকে গেছেন তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এখানে এলে যেন দশ নম্বর ঘরটা নেবার চেষ্টা করি। কারণ ও ঘরটা নাকি পয়া। অ্যান্ড ইউ নাে, আমি যখন নতুন ব্যবসার সন্ধানে এ অঞ্চলে এসেছি তখন ঐ ঘরটাই নেব ৷ But I am sorry, আমি খুবই দুঃখিত মিস্টার ভিরাবাগু, এ ঘরটা মাত্র ক’ মিনিট আগে বুকড্ হয়ে গেছে ৷ কিন্তু ঐ ঘরটাই যে আমি চাই। তার জন্যে যদি বেশি টাকা দিতে হয় দেব। বেশি টাকার কথায় অমন হাসিখুশি সুরঞ্জনবাবুর গলার স্বর বদলে গেল। বললেন, একবার একটা ঘর কাউকে অ্যালট করা হয়ে গেলে ডবল টাকা দিলেও তা আর কাউকে দেওয়া যাবে না। এররম স্পষ্ট কথায় মিস্টার ভিরাবাগুর দুই চোখ জ্বলে উঠল৷ তিনি শান্ত গভীর গলায় বললেন, ​একটা কথা জিগ্যেস করতে পারি ? করুন। এই হোটেলের মালিক কি আপনি? সুরঞ্জনবাবু বললেন, না৷ আমি কমচারী মাত্র। তা হলে মালিকের সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই। তিনি এখানে থাকেন না৷ কোথায় থাকেন ? দিল্লিতে। ব্যবসায়ী ভদ্রলোক যেন হতাশায় ভেঙে পড়লেন, My God! একটু ভেবে নরম গলায় বললেন, তা হলে কােনাে উপায়ই নেই? অত বড়ো লোকটার ঐ রকম হতাশ হয়ে পড়া অবস্থা দেখে আমার মনটাও ভিজে গেল। আমার কাছে পয়া অপয়ার কোনো ব্যাপার নেই৷ ছত্রিশগড়ের আদিবাসীদের নানারকম পরবের কথা শুনেছি, হাতে অঢেল সময়, তাই ছুটে এসেছি এখানে। আদিবাসীদের পরব দেখা ছাড়াও প্রকৃতির দৃশ্য, পুরনো গড় এসব দেখার লোভও আছে ৷ এসবের সঙ্গে পরা অপয়ার কোনো সম্পর্ক নেই৷ কাজেই দশ নম্বর ঘরটার বদলে যদি নয় নম্বর ঘর পাই তাতে আমার ক্ষতিবৃদ্ধি নেই৷ বরঞ্চ আর একজনের উপকার হবে৷ মনে মনে কথাগুলো আউড়ে মুখে প্রকাশ করতে যাচ্ছি, সুরঞ্জনবাবু তা বুঝতে পেরে আমার হাত টিপে নিরস্ত করলেন। ব্যবসায়ী বাবু তা বুঝতে পারলেন না৷ সুরঞ্জনবাবু বললেন, আমি খুবই দুঃখিত মিস্টার ভিরাবাগু, এখনই ঐ ঘরটা দিতে পারছি না। ভিরাবাগু বললেন, তা হলে দোতলায় নর্থ ফেসিং যে কোনো একটা ঘর দিন বলে পার্স খুলে একগােছা নোট বের করলেন। সুরঞ্জনবাবু হোটেলর খাতাটা বের করে সামনে ধরলেন৷ মিস্টার ভিরাবাগু নাম ঠিকানা ইত্যাদি লিখলেন৷ ঘর বুক করা রইল। মালপত্তর নিয়ে একটু পরে আমি আসছি৷ বলে চলে যাচ্ছিলেন… ফিরে দাঁড়িয়ে বললেন, হয়তো আরও জনা তিনেক আসতে পারেন। আমার নাম বললে অনুগ্রহ করে তাদেরও একটু জায়গার ব্যবস্থা করে দেবেন ৷ আচ্ছা। বলে সুরঞ্জনবাবু খাতাপত্তর তুলে রেখে কী বোর্ড থেকে চাবি নিয়ে আমাকে ডাকলেন, আসুন৷ (ক্রমশ) ----------- ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now