বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিগব (পর্ব-৫)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)



X আনোয়ার এবং স্বপন পাতাকাটা গ্রামে গিয়ে হাজির হলো। অন্য দশটা গ্রামের মতই একই রকম চেহারা পাতাকাটা গ্রামের। স্বপন গত কয়েক রাত ঠিকমত ঘুমতে পারে নি। মনের ভিতর সবসময় শংকা কাজ করছে শেষ পর্যন্ত কি শিগবের সাথে ওরা পারবে? তৃষা এখন শারীরিক ভাবে অনেক সুস্থ। তবে মানসিকভাবে অনেক অসুস্থ। কড়া ঘুমের ঔষধ ছাড়া ঘুম আসতে চায় না। ঘুমালে ভয়াবহ সব সপ্ন দেখে।তৃষা নারায়নগঞ্জে ওদের বাসায় চলে গেছে। স্বপন নিজেকে নিয়ে যতটা না চিন্তা করে তার চোখে বেশি চিন্তা করে তৃষাকে নিয়ে। শিগবটার কবর পাতাকাটা গ্রামে এই তথ্য শুনে স্বপন খুব অবাক হয়েছে। কারন তৃষার শৈশব এবং কৈশরের অনেকটা দিন কেটেছে পাতাকাটা গ্রামে। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত তৃষা এই গ্রামে তার দাদাবাড়ীতে থাকত। ক্লাস সেভেনে উঠার পর তৃষা নারায়নগঞ্জে তার বাবা মার কাছে ফিরে যায়। তৃষা পাতাকাটা গ্রামে বড় হলেও সে আসগর নামে কাউকে চেনে বলে মনে করতে পারে না। সবকিছু শুনে আনোয়ার বলে,“দেখেছিস সব মিলে যাচ্ছে । শিগবটা হয়ত অনেক আগে থেকেই তৃষাকে চেনে।” : হতে পারে। কিন্তু এখন আমাদের করণীয় কি? : আগে আমাদের জানতে হবে গ্রামে শিগবের কোন উৎপাত আছে কি না। যদি শিগবের উৎপাত থাকে তবে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শিগবটাকে ধ্বংশ করব।” আনোয়ার এবং স্বপন গ্রামের চেয়ারম্যানের বাড়ীতে থাকার সুযোগ পেল। চেয়ারম্যান কাশেম মোল্লা হাসিখুশি মানুষ। বয়স পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্নের মধ্যে। গ্রামের মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। আনোয়ার : চেয়ারম্যান সাহেব, আপনাদের গ্রামে কি কোন সমস্যা হচ্ছে? : সমস্যা মানে কি সমস্যা? : মানে, কোন রহস্যজনক কিছু? ভূত প্রেত? : না না আমরা খুব শান্তিতে আছি। আমাদেও এখানে ভূত প্রেতের কোন সমস্যা নেই। তবে বিদ্যুত না থাকায় অনেক সমস্যায় আছি। স্বপনঃ আমরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিভিন্ন জরিপের কাজ করি। এখানেও জরিপের কাজ নিয়ে এসেছি। : সে আপনারা যে কাজেই আসেন, কোন সমস্যা নেই। যত দিন ইচ্ছা থাকেন। : আচ্ছা, চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদেও গ্রামে আসগর নামে কাউকে চেনেন? : আসগর?!!! : আসগর নামে তো আগেও অনেকে ছিল, এখনও অনেকে আছে। এক আসগর ছিল ডাকাত এবং ভাড়াটে খুনী। একবার ডাকাতি করতে গিয়ে গন পিটুনিতে মারা পড়ল। ওর জানাজাও গ্রামবাসী পড়েনি। জানাজা ছাড়াই ওকে কবর দেওয়া হয়। আরেক অসগর ছিল কাপড়ের ব্যবসা করত।” আনোয়ার স্বপনকে ফিসফিস করে বলল, “সম্ভবত ওই খুনী ডাকাত আসগরই শিগব হয়েছে। স্বপন চেয়ারম্যানের দিকে তাকিয়ে বলল,“আচ্ছা চেয়ারম্যান সাহেব ওই ডাকাত আসগরের কবরটা কোথায়? : ওটা তে বটতলা কবরস্থানে। তা আসগরকে নিয়ে কোন সমস্যা নাকি? হঠাৎ আসগরকে নিয়ে এত প্রশ্ন?!! আমাকে বলতে পারেন।” স্বপন চেয়ারম্যানের হাত ধরে বলল,“ চেয়ারম্যান সাহেব, আপনার সাহায্য আমাদের দরকার। খুব বেশি দরকার।” :ছি: ছি: এভাবে বলছেন কেন? আপনাদের জন্য আমি সবকিছু করব। :আমরা খুবই দু:খিত, আমরা আপনাকে মিথ্যা বলেছি। আমরা আসলে জরিপের কাজে আসি নি। ঘটনাগুলো আপনাকে বলছি.................।” স্বপন এবং আনোয়ার চেয়ারম্যান সাহেবকে সব বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করে। ওদের ধারনা ছিল চেয়ারম্যান সাহেব হয়ত সব বিশ্বাস করবে না। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব সব বিশ্বাস করলেন। চেয়ারম্যান সাহেব বল্লেন,“ তৃষা মা কে তো আমি চিনি। জামিল সাহেবের নাতনী। আগে তো মেয়েটা গ্রামে অনেক আসত। কিন্তু দাদা দাদীর মৃত্যুর পর আর গ্রামে আসে না। আসগরের বাচ্চা মরে গিয়েও মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। আপনারা চিন্তা করবেন না এবার ওরে শেষ করবই।” আনোয়ারঃ প্রথমে আমাদের আসগারের কবরটা দেখতে হবে। আর আমাবস্যার বা পূর্নিমার দিনে কবর খুড়ে আগুন দিতে হবে। : আমাবস্যার তো দেরী নেই। আগামীকালই আমাবশ্যা।” স্বপন এবং আনোয়ার দুজনেই মাথা নাড়ায়্। কাল কি হবে কে জানে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...