বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অদ্ভুত সব মেহমান

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অদ্ভুত সব মেহমান ————Melon Gunguly হিমালয়ের উপত্যাকায় যখন কুয়াশা পরে তখন মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি যেন পাহাড়ে এসে ঝাড়ু দিয়ে যায়। সেই সময় বুনো জীব জন্তু তাদের আশ্রয় খোঁজার জন্য ব্যস্ত হয়ে পরে। সেটাই স্বাভাবিক। আমার বাড়িটা জঙ্গলের ধারেই। কাজেই অনেকেই সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করার জন্য চলে আসে। সন্দেহ নেই বাড়ির জানালা খুলে ওদের জন্য সুবিধে করে দেই এক রকম। জানালা খুলে রাখি। কারন টাটকা বাতাস আমার পছন্দ। আর জানালা দিয়ে যদি কোন পাখী, পোকা বা পশু কামরার ভেতরে ঢুকে পরে তবে আমার কোন আপত্তি নেই। কোন রকম উপদ্রব বা ঝামেলা না করলেই হল। ইদানিং বাঁশপোকাদের উপর মেজাজ সামলে রাখতে পারছি না। কারন গত রাতেই জগের পানির মধ্যে গিয়ে একটা পড়ছিল। আমিই ওটাকে জগের ভেতর থেকে তুলে উদ্বার করে জানালার বাইরে ছেড়ে দিয়েছিলাম। কি কাণ্ড! কয়েক মুহূর্ত পরেই ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনে দেখি ওটা ফিরে এসেছে। এবং আবার সেই জগের পানিতেই গিয়ে পড়েছে। আবার বাঁচালাম বোকাটাকে। নিয়ে গিয়ে বাইরে ছেড়ে দিলাম। সন্দেহ নেই উজ্জ্বল আলো আর কামরার ভেতরের আরামদায়ক পরিবেশ আবার ওকে নিয়ে এলো । হেলিকপ্তারের মত উড়ছে ওটা। নামার জন্য জায়গা খুঁজছে। জলদি গিয়ে জগের পানি ঢাকলাম। ওটা গিয়ে ফুলদানির বুনো ফুলের মধ্যে বসে রইল। থাকুক ওখানেই। মাঝে মাঝে দিনের বেলা একটা পাখী আসে। গাঢ় নীল রঙের । খুবই নার্ভাস ধরনের পাখী। বেশির ভাগ সময় ওটা জানালার পাশে বসে বাইরের বৃষ্টি দেখে। আমার সাথে আলাপচারিতার কোন আগ্রহ নেই পাখীটার। বৃষ্টি থামলেই ফুড়ুৎ করে উড়ে যায়। কোন ঠেকা পড়েছে যে আমার সাথে কথা বলবে ? একটা কাঠবিড়ালী আসে কখনও কখনও। ওর বাসা আসলে একটা ওক গাছে। কিন্তু এখনতো সেটা বৃষ্টিতে ভিজে জলমগ্ন। সম্ভবত সে অবিবাহিত। সাথে কাউকে দেখিনি। মোদ্দা কথা একাই থাকে। আমাকে ভাল করেই চেনে । এবং বেচারা বেশ ভালই সাহসী বলতে হবে। আমার সামনেই টেবিলের পায়া বেয়ে উপরে উঠে যায় মুখরোচক খাবারের লোভে। এবং পায়। কারণ আমিই জেনে শুনে ইচ্ছা করে কিছু খাবার রেখে দেই। প্রথম যখন কাঠবিড়ালীটাকে দেখেছিলাম তখন বেশ পিচ্চি ছিল। আমার হাত থেকেই খাবার নিত। এখন দেই না। মাত্র কিছু দিনের জন্য এসেছি। আমার আসলে পোষা কাঠবিড়ালির দরকার নেই। আমার দরকার মেহমান। ও মেহমান হয়ে থাকুক। গত সপ্তাহে আমি টেবিলে বসে ইয়া বড় একটা প্রবন্ধ লিখছিলাম। দেখি কাগজের দিস্তার মধ্যে পান্নার মত সবুজ একটা পোকা বসে আছে। দেখতে গঙ্গা ফড়িঙের মত । নাম - ম্যান্টিস ( mantis) , মনে হয় সামনের হাত দুটো জোড় করে প্রনাম করছে। ওর কাঁচের গোল্লার মত গুলটি মার্কা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।মাঝে মাঝেই পোকাটা নিরুদ্দেশ হয়ে যেত। আবার দেখতাম ফিরে এসে বসে আছে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার উপর। সবচেয়ে রহস্যময় আর আকর্ষণীয় মেহমানটা আসে রাতের বেলা। যখন কামরাতে আলো জ্বলে ।পিচ্চি একটা বাদুর দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। জানালা দিয়েও আসে যদি আর কোন উপায় না থাকে। বাল্বের আলোর চারিদিকে মথ উড়ে বেড়ায়। বাদুর মশায় ওদের জন্যই আসে। খাবে। সারা জীবনে যত বাদুর দেখেছি সবাইকে দেখেছি বেশ উঁচু দিয়েই উড়ে। কমপক্ষে সিলিঙের কাছাকাছি। কিন্তু এই বেচারাম বাদুরটা দেখি চেয়ারের পায়া বা টেবিলের তলা দিয়েও উড়ে বেড়ায়। একবার সিঁড়ির কাছাকাছি আমার পায়ের সাথেও টক্কর খেয়েছে। ওর রাডার কি কাজ করে না ? নাকি বেচারা পাগল হয়ে গেল ? আলমারি থেকে বই খুঁজে নিলাম। বইয়ের নাম- ন্যাচারাল হিস্ট্রি । বইতে অনেক আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও বাদুরের এমন অস্থির আচরণের কারন পেলাম না। শেষে অনেক পুরানো একটা বই পেলাম। স্তেনডেল ইনডিয়ান ম্যামেল - নাম বইটার । কোলকাতার ছাপা। ১৮৮৪ সালে ছাপা হয়েছিল । ওখানেই পেলাম যা খুঁজছিলাম। এক জায়গায় লেখা- ‘মিসউরির কাছাকাছি দক্ষিণ দিকের পাহাড়ে কাছে জারিপানি গ্রামে এক ধরনের বাদুর পেয়েছিলেন ক্যাপ্টেন হুটন । মাত্র তিন সেন্টিমিটার হয়। গায়ের রঙ মেটে। অন্য বাদুরের মত উঁচুতে উড়ে না। মাটির কাছাকাছি থাকে...।’ বই পড়ে যা বুঝলাম সেই ১৮৮৪ সালেই এই পিচ্চি বাদুর প্রায় বিলুপ্ত। আজকাল দেখা যায় না। অনুমান করলাম বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সেই বাদুরের কোন একটার দেখা পেয়েছি আমি। জারিপানি গ্রামটা এখান থেকে মাত্র ৩ কিলমিটার দূরে। আমি খুশি ওদের একজন আমার বাসায় আসে। ওরা বেঁচে আছে। বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। একদিন দেখি পিচ্চি সেই বাদুরটা আমার বিছানার রেলিঙ্গে পা উপরে দিয়ে মাথা নীচে দিয়ে ঝুলে আছে। বাদুরেরা যেমন করে। ভাল লাগল দেখে। থাকুক বেচারা ওখানে। নিঃসঙ্গ লেখকের সঙ্গী হয়ে। অদ্ভুত এই বাদুরটা যদি ওর বন্ধু বান্ধব বা ইয়ার দোস্তদের নিয়ে আসে তবেও আমি আপত্তি করব না। স্বাগতম আমার কাঠের বাড়িতে। ( রাস্কিন বন্ড এর- Visitors from the Forest এর অবলম্বনে )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now